মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় – প্রাণীদের সাড়া প্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র – সুষুম্নাকাণ্ড,নিউরোন ও প্রতিবর্ত পথ – রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞানে সুষুম্নাকাণ্ড, নিউরোন এবং প্রতিবর্ত পথ স্নায়ুতন্ত্রের মৌলিক অংশ যা প্রাণীদের সাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং ভৌত সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ধরনের প্রশ্নগুলি শিক্ষার্থীদের স্নায়ুতন্ত্রের স্থান এবং কাজ সম্পর্কে আরও বেশি জ্ঞান অর্জন করতে সাহায্য করে।

Table of Contents

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান - জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় - প্রাণীদের সাড়া প্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র - সুষুম্নাকাণ্ড,নিউরোন ও  প্রতিবর্ত পথ - রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

সুষুম্নাকাণ্ডের গঠন সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো। সুষুম্নাকাণ্ডের অবস্থান ও কাজ লেখো।

সুষুম্নাকাণ্ড মানব শরীরের মৌলিক নাড়ী যা প্রাণবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে পরিচিত। এটি মধ্যনাড়ী যা শিরাসমূহ থেকে শ্বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।

সুষুম্নাকাণ্ড

সুষুম্নাশীর্ষকের পশ্চাদভাগ থেকে শুরু করে প্রথম বা দ্বিতীয় লাম্বার কশেরুক পর্যন্ত বিস্তৃত ও সেরিব্রো স্পাইনান ফ্লুইড বা CSF পূর্ণ যে কাঁপা স্নায়ুরজ্ব মেরুদণ্ডের দৈর্ঘ্য বরাবর অবস্থান করে, তাকে সুষুম্নাকাণ্ড বলে। সারভাইক্যাল, থোরাসিক, লাম্বার, স্যাক্রাল ও কব্জিজিয়াল অংশ থেকে সর্বমোট 31 জোড়া স্নায়ু বেরিয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি প্রায় 45 cm লম্বা ও প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি প্রায় 42 cm লম্বা হয়। এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অংশ। এই স্নায়ুতন্ত্রের অপর অংশটি হল মস্তিষ্ক। এই দুটি অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রটি গঠিত হয়।

সুষুম্নাকাণ্ডের অবস্থান ও কাজ লেখো।

সুষুম্নাকাণ্ডের অবস্থান ও কাজ

নীচে সুষুম্নাকাণ্ডের অবস্থান ও কাজ সংক্ষেপে আলোচনা করা হল।

  • অবস্থান – মানবমস্তিষ্কের সুষুম্নাশীর্ষকের নীচে এর উৎপত্তি, এটি ফোরামেন ম্যাগনাম ছিদ্র পথ দিয়ে তা মেরুদণ্ডের নিউরাল ক্যানেল বরাবর সাধারণত প্রথম লাম্বার কশেরুকা পর্যন্ত বিন্যস্ত থাকে। মেরুদণ্ডকে অবস্থান অনুসারে মোট পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা — সারভাইক্যাল থোরাসিক, লাম্বার, স্যাক্রাল এবং কক্সিজিয়াল অংশ। মেরুদণ্ডের মধ্যস্থ নিউ ক্যানেল দিয়ে সুষুম্নাকাণ্ড বিন্যস্ত হওয়ায় সুষুম্নাকাণ্ডকেও এই পাঁচটি অংশে ভাগ করা যায়।
  • কাজ – 1. সুষুম্নাকাণ্ড দেহের সংজ্ঞাবহ উদ্দীপনা মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। এবং মস্তিষ্ক থেকে স্নায়ু-উদ্দীপনা গ্রহণ করে পেশি ও আন্তরমন্ত্রীর অঙ্গ- প্রত্যঙ্গের কাজের মধ্যে সমন্বয়সাধন করে। 2. সুষুম্নাকাণ্ড বিভিন্ন ধরনের প্রতিবর্ত ক্রিয়াগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে। 3. পেশিটান নিয়ন্ত্রণ করে। 4. রক্তনালীর ব্যাসের হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে ও তার মাধ্যমে রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণ করে।

একটি আদর্শ নিউরোনের গঠন বর্ণনা করো।

আদর্শ নিউরোন একটি মডেল যা নিউরোনের গঠন বর্ণনা করে এবং কিভাবে নিউরোন কাজ করে তা ব্যাখ্যা করে। এটি নিউরসাইন্সে প্রযুক্তিগত স্বপ্নস্থানের সাথে জড়িত।

আদর্শ নিউরোনের গঠন

একটি আদর্শ নিউরোনের প্রধানত তিনটি গঠনগত অংশ — 1. সেল বড়ি বা কোশদেহ, 2. অ্যাক্সন এবং 3. ডেনড্রন

একটি আদর্শ নিউরোনের গঠন বর্ণনা করো।
  • কোশদেহ বা সেলবড়ি বা সোমা – 1. নিউরোনের প্রোটোপ্লাজম সমন্বিত সর্বাপেক্ষা স্ফীত গোলাকার বা ডিম্বাকার বা তারকাকার অংশটিকে কোশদেহ বলে। 2. কোশদেহের কেন্দ্রে সুগঠিত আদর্শ নিউক্লিয়াস থাকে। 3. কোশদেহের সাইটোপ্লাজমকে নিউরোপ্লাজম বলা হয়। 4. নিউরোপ্লাজমে অবস্থিত নিউক্লিওপ্রোটিন নির্মিত দানাগুলিকে নিল দানা বলে। 5. কোশদেহের মধ্যে সূক্ষ্ম তন্তুর মতো নিউরোফাইব্রল উপস্থিত। 6. অন্যান্য কোশ- অঙ্গাণুর মধ্যে মাইটোকনড্রিয়া ও গলগি বডি উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। তবে সেন্ট্রোজোম উপস্থিত থাকলেও তা নিষ্ক্রিয় হয়। তাই নিউরোন বিভাজিত হতে পারে না।
  •  ডেনড্রন – 1. যে ক্ষুদ্র প্রোটোপ্লাজমীয় শাখান্বিত সূত্র নিউরোনের কোশদেহ থেকে নির্গত হয় তাকে ডেনড্রন বলে। ডেনড্রন সাধারণত গোড়ার দিকে চওড়া হয় এবং ক্রমশ সরু হয়ে শাখান্বিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। 2. ডেনড্রনে মায়েলিন সিদ্ এবং সোয়ান কোশ থাকে না। 3. এতে নিউরোপ্লাজম, নিউরোফাইব্রিল এবং নিল দানা থাকে।
  • অ্যাক্সন – 1. নিউরোনের যে দীর্ঘ ও সাধারণত শাখাহীন অংশ কোশদেহ থেকে নির্গত হয় তাকে অ্যাক্সন বলে। 2. অ্যাক্সনের অভ্যন্তরে যে অর্ধতরল সাইটোপ্লাজম থাকে তাকে অ্যাক্সোপ্লাজম বলে। 3. কোশদেহের যে শাঙ্কর অংশ থেকে অ্যাক্সন উৎপন্ন হয় তাকে অ্যাক্সন হিলক বলে। 4. অ্যাক্সোপ্লাজম যে পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে তাকে অ্যাক্সোলেমা বলে। 5. অ্যাক্সোলেমার বাইরে স্নেহজাতীয় পদার্থ সঞ্চিত হয়ে একটি বিশেষ ধরনের আবরণ তৈরি করে, একে মায়েলিন সিদ বলা হয়। 6. মায়েলিন সিদ স্থানে স্থানে বিচ্ছিন্ন হয়ে লয়ে ছোটো ছোটো পর্বের সৃষ্টি করে তাদের র‍্যানভিয়ারের পর্ব বলে। 7. মায়েলিন সিদযুক্ত স্নায়ুতন্তুকে মায়েলিনেটেড স্নায়ু বা মেডুলেটেড স্নায়ু বলে। যেসব স্নায়ুতন্তুর মায়েলিন সিদ্ থাকে না সেগুলিকে নন্-মায়েলিনেটেড স্নায়ু বা নন্-মেডুলেটেড স্নায়ু বলে। 8. অ্যাক্সনের শেষ প্রান্ত সূক্ষ্ম শাখান্বিত হয়ে এন্ড ব্রাশ বা প্রান্তবুরুশ গঠন করে। 9. প্রান্তবুরুশের প্রতিটি শাখাপ্রান্ত স্ফীত হয়ে প্রান্তীয় নব্ বা প্রান্তস্ফীতি গঠন করে।

নিউরোনের কার্যগত শ্রেণিবিন্যাস বর্ণনা করো। অ্যাক্সন ও ডেনড্রন-এর প্রধান কাজ লেখো।

নিউরোন স্বচ্ছতার কাজ করে এবং জ্ঞান সংগ্রহ করে। এটি নিউরসাইন্সে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য প্রক্রিয়াত্মক সংস্থান।

নিউরোনের কার্যগত প্রকারভেদ

কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী নিউরোন তিন ধরনের। যেমন —

  1. সংজ্ঞাবহ নিউরোন – যে নিউরোন গ্রাহক থেকে স্নায়ুস্পন্দনকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পরিবহণ করে তাকে সংজ্ঞাবহ নিউরোন বলে। এই ধরনের নিউরোন বাইরে থেকে ভিতরে উদ্দীপনা বহন করে বলে এদের অন্তর্বাহী বা অ্যাফারেন্ট নিউরোনও বলা হয়।
  2. আজ্ঞাবহ নিউরোন – যে নিউরোন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে উদ্দীপনা কারকে (ইফেকটর-এ) বহন করে তাকে আজ্ঞাবহ নিউরোন বলে। এইপ্রকার নিউরোন দেহের অভ্যন্তর থেকে বাইরের দিকে স্নায়ুস্পন্দন বহন করে বলে এদের বহির্বাহী বা ইফারেন্ট নিউরোনও বলা হয়ে থাকে।
  3. সহযোগী বা নিউরোন – যে নিউরোন সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ নিউরোনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে তাকে সহযোগী নিউরোন বলে। এই নিউরোনগুলির অপর নাম রিলে নিউরোন

ডেনড্রন ও অ্যাক্সন-এর কাজ

  1. ডেনড্রন – কোনো পেশি, গ্রাহক অঙ্গ বা অন্য কোনো নিউরোন থেকে স্নায়ুস্পন্দন গ্রহণ করে তা কোশদেহে প্রেরণ করা।
  2. অ্যাক্সন – একটি নিউরোনে কোশদেহ থেকে স্নায়ুস্পন্দন গ্রহণ করে তা পরবর্তী নিউরোন বা কারক অঙ্গে প্রেরণ করা।

প্রতিবর্ত পথ কাকে বলে? প্রতিবর্ত পথের পাঁচটি অংশের নাম লেখো এবং তাদের কাজ সংক্ষেপে আলোচনা করো।

প্রতিবর্ত চাপ হল কোন বস্তুর উপর প্রযুক্ত বলের সামঞ্জস্যে উত্তল করা চাপ। এটি বস্তুর আকার এবং মান পরিবর্তন করে এবং বস্তুকে আকর্ষণশীল বা সংকোচনশীল করতে পারে।

প্রতিবর্ত পথ বা প্রতিবর্ত চাপ

যে নির্দিষ্ট স্নায়ুপথে স্নায়ুস্পন্দন আবর্তনের দ্বারা প্রতিবর্ত ক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাকে প্রতিবর্ত পথ বা প্রতিবর্ত চাপ বলে।

প্রতিবর্ত পথ বা প্রতিবর্ত চাপ

প্রতিবর্ত পথের অংশ ও তার কাজ

প্রতিবর্ত পথের পাঁচটি অংশ। নীচে এদের সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল।

  1. গ্রাহক – এর মাধ্যমে পরিবেশ থেকে আগত উদ্দীপনা গৃহীত হয় এবং স্নায়বিক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।
  2.  অন্তর্বাহী নিউরোন – এর মাধ্যমে উদ্দীপনা গ্রাহক থেকে স্নায়ুকেন্দ্রে পৌঁছোয়।
  3. স্নায়ুকেন্দ্র – এটি সুষুম্নাকাণ্ডের ধূসর বস্তুতে অবস্থিত। এখানে সংজ্ঞাবহ উদ্দীপনা চেষ্টীয় উদ্দীপনায় রূপান্তরিত হয়।
  4.  বহির্বাহী নিউরোন – এটি মোটর নিউরোন দিয়ে গঠিত। এর মাধ্যমে চেষ্টীয় উদ্দীপনা কারকে বাহিত হয়।
  5. কারক – পেশি, গ্রন্থি ইত্যাদি হল কারক। এরা উদ্দীপনার প্রভাবে উদ্দীপিত হলে সাড়া দেয়।

উদাহরণসহ একটি সরল প্রতিবর্ত পথের কার্যপ্রণালী সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

সরল প্রতিবর্ত পথে চালক কোন বস্তু উপর প্রযুক্ত বল প্রযুক্ত করে আগের স্থান হতে বর্তমান স্থানে আনতে পারে। এটি উদাহরণ হিসাবে একটি গাড়ির মাধ্যমে চলন্ত ট্রেন বা আকাশযানের গতিশীল পদক্ষেপের কার্যপ্রণালী হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে।

উদহারণসহ একটি সরল প্রতিবর্ত পথের কার্যপ্রণালী

রাস্তায় ইাঁটার সময়ে কাঁটা বিধলে পা তৎক্ষণাৎ রাস্তা থেকে সরে যায়। এটি একটি প্রতিবর্ত ক্লিয়ার উদাহরণ। নীচে এই প্রতিবর্ত ক্রিয়ার প্রণালীটি আলোচিত হল —

  1. পায়ের নীচের চামড়ায় অবস্থিত গ্রাহক বা রিসেপটর কাঁটা বেঁধার অনুভূতি গ্রহণ করে।
  2. এই অনুভূতি গ্রাহক থেকে অন্তর্বাহী নিউরোন মাধ্যমে বাহিত হয়ে সুযুন্না- কাণ্ডে পৌঁছোয়।
  3. প্রতিবর্ত ক্রিয়ার ফলে সংজ্ঞাবহ সংবেদ সুষুম্নাকাণ্ডেই আজ্ঞাবহ সংবেদে রূপান্তরিত হয়। 
  4. সুষুম্নাকাণ্ড থেকে বহির্বাহী নিউরোনের মাধ্যমে কারক বা ইফেকটরে, অর্থাৎ পায়ের পেশিতে বার্তা পৌঁছোয়।
  5. এর ফলে পায়ের পেশি সংকুচিত হয় এবং পা তৎক্ষণাৎ মাটি থেকে উঠে আসে।
উদাহরণসহ একটি সরল প্রতিবর্ত পথের কার্যপ্রণালী সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার গুরুত্ব কী? উদাহরণের সাহায্যে বোঝাও। স্নায়ুতন্ত্রে প্রাপ্তসন্নিকর্ষ বলতে কী বোঝ?

প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিবর্ত ক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যার মাধ্যমে জীবনযাপন এবং বাস্তবতার সাথে সমন্বয় বজায় রাখা যায়।

প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার গুরুত্ব

আমাদের দেহের অধিকাংশ ক্রিয়াই মস্তিষ্কের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু বহুক্ষেত্রে দ্রুত ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এই সকল ক্ষেত্রে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। মস্তিষ্কের সাহায্য ছাড়াই দ্রুত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় প্রতিবর্তের মাধ্যমে। একটি উদাহরণের সাহায্যে ঘটনাটি বোঝা যায়। শ্বাসনালীতে কোনো অবাঞ্ছিত বস্তু, যেমন বিষাক্ত গ্যাস, জল, খাদ্যের কণা প্রভৃতি প্রবেশ করলে তৎক্ষণাৎ কাশির উদ্রেক হয়। এই কাশির ফলে ফুসফুসীয় বায়ুর মাধ্যমে ওই বস্তুর নির্গমন ঘটে। এটি একপ্রকার প্রতিবর্ত ক্রিয়া। এক্ষেত্রে কোনোরূপ চিন্তাভাবনা ছাড়াই কাশির উদ্রেক হয়, অর্থাৎ এক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কোনো ভূমিকা থাকে না। এইভাবে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মাধ্যমে শ্বাসনালী থেকে অবাঞ্ছিত বস্তু নির্গমন হয় ও দেহের স্বাভাবিক ক্রিয়া চলতে থাকে। এ ছাড়াও চোখে হঠাৎ আলো বা ধূলো পরলে দ্রুত আমাদের চোখের পলক পড়ে। ধূলিকণার সংস্পর্শে আমরা হাঁচি। এগুলোও আমাদের দৈহিক প্রতিরক্ষায় সাহায্য করে।

প্রান্তসন্নিকর্ষ

দুটি নিউরোনের ফাকবিশিষ্ট যে সংযোগস্থলে একটি নিউরোন থেকে পরবর্তী নিউরোনে উদ্দীপনা বা স্নায়ুস্পন্দন প্রেরিত হয়, তাকে স্নায়ুসন্নিধি বা সাইন্যাপস্ বলে। এই সংযোগস্থল একটি নিউরোনের অ্যাক্সন ও পরবর্তী নিউরোনের ডেনড্রন বা কোশদেহের মধ্যে সাধারণত গঠিত হতে পারে।

সমগ্র জীবজগত পরস্পর সম্পর্কিত প্রণালী যা স্নায়ুতন্ত্র, সুষুম্নাকাণ্ড, নিউরোন এবং প্রতিবর্ত পথের মাধ্যমে কাজ করে। প্রাণীদের সাড়া প্রদান এবং প্রতিবর্ত ক্রিয়ার গুরুত্ব বিশেষভাবে জীবজগতের নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয় সাধনে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

Rate this post


Join WhatsApp Channel For Free Study Meterial Join Now
Join Telegram Channel Free Study Meterial Join Now

মন্তব্য করুন