বিভিন্ন গতিতে নদীর কার্যের তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত বিবরণ

বিভিন্ন গতিতে নদীর কার্য – পার্বত্য প্রবাহ থেকে অপেক্ষাকৃত সমতল ভুমিতে আসার ফলে হঠাৎ ভূমি ঢালের পরিবর্তন ও নদীর বোঝা বৃদ্ধি হওয়ায় মধ্য ও নিম্নগতিতে নদীর ক্ষয় কাজ অপেক্ষা সঞ্চয় কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। সেই জন্য মধ্য ও নিম্ন গতিতে নদীতে সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ গঠনের প্রবণতা দেখা যায়।

বিভিন্ন গতিতে নদীর কার্য

উচ্চগতিতে নদীর স্রোতের বেগ সবচেয়ে বেশি। এ কারণে এই অংশে নদীর ক্ষয়কার্য সবচেয়ে বেশি হয়। নদীর স্রোত পাথর, বালি, কাদামাটি ইত্যাদি ক্ষয় করে নদীখাতকে গভীর ও সংকীর্ণ করে তোলে। এই অংশে নদীর তলদেশে নানা ধরনের ভূমিরূপ গঠিত হয়, যেমন – খাদ, গর্ত, খরস্রোত, মন্থকূপ, প্রভৃতি।

মধ্যগতিতে নদীর স্রোতের বেগ উচ্চগতির তুলনায় কম হয়। এ কারণে এই অংশে নদীর ক্ষয়কার্য কম হয় এবং সঞ্চয়কার্য বেশি হয়। নদীর স্রোত বাহিত পলিমাটি নদীখাতের তলদেশে সঞ্চিত হয়। এই অংশে নদীর তলদেশ প্রশস্ত ও অবতল হয়। এই অংশে নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্লাবনভূমি গঠিত হয়।

নিম্নগতিতে নদীর স্রোতের বেগ সবচেয়ে কম হয়। এ কারণে এই অংশে নদীর ক্ষয়কার্য প্রায় শূন্য হয় এবং সঞ্চয়কার্য সবচেয়ে বেশি হয়। নদীর বাহিত পলিমাটি নদীখাতের তলদেশে সঞ্চিত হয়ে সমতল পললভূমি গঠন করে। এই অংশে নদীর তলদেশ খুবই প্রশস্ত ও অগভীর হয়।

বিভিন্ন গতিতে নদীর কার্য – এর তুলনা – গতিপথের বিভিন্ন অংশে নদীর কার্যের মধ্যে যথেষ্ট বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়, যেমন –

তুলনার বিষয়উচ্চগতিমধ্যগতিনিম্নগতি
এলাকাপার্বত্য অঞ্চলে যেখানে নদীর উৎপত্তি হয় সেখান থেকে সমভূমিতে নেমে আসার আগে পর্যন্ত নদীর পার্বত্য প্রবাহ বা উচ্চগতি।পার্বত্য অঞ্চল ছেড়ে নদী যখন সমভূমির ওপর দিয়ে বয়ে যায়, তখন নদীর সেই প্রবাহ পথটি হল সমভূমি প্রবাহ বা মধ্যগতি।নদী প্রবাহপথে যখন সাগরের নিকটে এসে পড়ে, অর্থাৎ মোহানার কাছাকাছি অঞ্চলে নদীর প্রবাহের নাম বদ্বীপ প্রবাহ বা নিম্নগতি।
গতিবেগভূমির ঢাল খুব বেশি থাকে বলে নদী প্রবলবেগে নীচের দিকে বয়ে চলে, অর্থাৎ এই অংশে নদী খরস্রোতা।ভূমির ঢাল অপেক্ষাকৃত কম থাকে বলে স্রোতের বেগও কমে যায়। ভূমির ঢাল খুব কমে যায় বলে নদী  অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোয়।
কাজপ্রবল স্রোতের জন্য নদী এই অংশে প্রধানত ক্ষয়কার্য করে। পার্শ্বক্ষয়ের তুলনায় নিম্নক্ষয় খুব বেশি হয়। এ ছাড়া, এই অংশে নদী ক্ষয়জাত বড়ো বড়ো শিলাখন্ড বহন করে নিয়ে যায়।স্রোতের বেগ অপেক্ষাকৃত কম থাকে বলে মধ্যগতিতে নদীর প্রধান কাজ হয় বহন এবং বাহিত পদার্থের কিছু পরিমাণ অবক্ষেপণ। এই অংশে নদী কাজ ছোটো ছোটো শিলাখন্ড ও পলি বহন করে নিয়ে যায় এবং কিছু পরিমাণ সঞ্চয়। পার্শ্বক্ষয়ও করে।স্রোতের বেগ খুব সামান্য থাকে বলে নিম্নগতিতে নদীর ক্ষয়কার্যের ক্ষমতা প্রায় থাকে না এবং তাই তার প্রধান হয় বাহিত অতিসুক্ষ্ম কণাসমূহের নদীখাতে অবক্ষেপণ বা  সঞ্চয়।
খাতের আকৃতিনিম্নক্ষয় খুব বেশি হয় বলে নদীখাত খুব সংকীর্ণ ও গভীর হয়ে ইংরেজি  অক্ষর ‘I’ এবং ‘V’-আকৃতির হয়।নিম্নক্ষয়ের তুলনায় পার্শ্বক্ষয় বেশি হয় বলে কর্ম গভীরতাবিশিষ্ট চওড়া নদীখাতের সৃষ্টি হয়। ক্ষয়কার্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং  অবক্ষেপণ প্রাধান্য পাওয়ায় নদীখাত খুব প্রশস্ত এবং প্রকৃতই অগভীর হয়।
সৃষ্ট ভূমিরূপমন্থকূপ বা পটহোল, জলপ্রপাত, খরস্রোত, অন্তর্বদ্ধ শৈলশিরা প্রভৃতির সৃষ্টি হয়।পলল ব্যজনী বা ত্রিকোণ পললভূমি, নদীচর, প্লাবনভূমি, স্বাভাবিক বাঁধ, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ প্রভৃতি গঠিত হয়। বিস্তৃত প্লাবনভূমি, উঁচু স্বাভাবিক  বাঁধ, বৃহদাকার অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ, অসংখ্য বদ্বীপ প্রভৃতি গড়ে ওঠে।

বিভিন্ন গতিতে নদীর কার্য – এর চিত্র

উৎস-থেকে-মোহনা-পর্যন্ত-নদীর-উপত্যকার-বৈশিষ্ট্য

আরও পড়ুন – নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি বর্ণনা করো।

উপসংহারে বলা যায়, নদীর গতি তার কার্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। উচ্চগতিতে নদীর ক্ষয়কার্য বেশি হয়, মধ্যগতিতে সঞ্চয়কার্য বেশি হয় এবং নিম্নগতিতে সঞ্চয়কার্য সবচেয়ে বেশি হয়।

5/5 - (1 vote)


Join WhatsApp Channel For Free Study Meterial Join Now
Join Telegram Channel Free Study Meterial Join Now

মন্তব্য করুন