450°C ও 200 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে দুই বর্ণহীন গ্যাসের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন ঝাঁজালো গন্ধবিশিষ্ট গ্যাসটি কোনটি? (HCl-এ সিক্ত কাচদণ্ডে সাদা ধোঁয়া তৈরি হয়)

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “450°C উষ্ণতায় 200 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে দুটি বর্ণহীন গ্যাসের বিক্রিয়ায় একটি ঝাঁজালো গন্ধবিশিষ্ট গ্যাস উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন গ্যাসটি লঘু HCl -এ সিক্ত কাচদণ্ডের সংস্পর্শে সাদা ধোঁয়ার সৃষ্টি করে। গ্যাস তিনটিকে শনাক্ত করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের অষ্টম অধ্যায় “পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মসমূহ” -এর “পরীক্ষাগার ও রাসায়নিক শিল্পে অজৈব রসায়ন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

450°C উষ্ণতায় 200 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে দুটি বর্ণহীন গ্যাসের বিক্রিয়ায় একটি ঝাঁজালো গন্ধবিশিষ্ট গ্যাস উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন গ্যাসটি লঘু HCl -এ সিক্ত কাচদণ্ডের সংস্পর্শে সাদা ধোঁয়ার সৃষ্টি করে। গ্যাস তিনটিকে শনাক্ত করো।
Contents Show

450°C উষ্ণতায় 200 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে দুটি বর্ণহীন গ্যাসের বিক্রিয়ায় একটি ঝাঁজালো গন্ধবিশিষ্ট গ্যাস উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন গ্যাসটি লঘু HCl -এ সিক্ত কাচদণ্ডের সংস্পর্শে সাদা ধোঁয়ার সৃষ্টি করে। গ্যাস তিনটিকে শনাক্ত করো।

ঝাঁজালো গন্ধবিশিষ্ট গ্যাসটি লঘু HCl -এর সংস্পর্শে সাদা ধোঁয়ার সৃষ্টি করে। সুতরাং গ্যাসটি অ্যামোনিয়া (NH₃) যা HCl -এর সংস্পর্শে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের সাদা ধোঁয়া সৃষ্টি করে। 450°C উষ্ণতায় 200 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে বর্ণহীন গ্যাস নাইট্রোজেন (N₂) ও হাইড্রোজেন (H₂) পরস্পর বিক্রিয়া করে ঝাঁজালো গন্ধবিশিষ্ট অ্যামোনিয়া (NH₃) উৎপন্ন করে। বর্ণহীন গ্যাস দুটি হল যথাক্রমে নাইট্রোজেন (N₂) এবং হাইড্রোজেন (H₂) আর ঝাঁজালো গন্ধ বিশিষ্ট গ্যাসটি হল অ্যামোনিয়া (NH₃)।

N₂ + 3H₂ → 2NH₃; NH₃ + HCl → NH₄Cl (সাদা ধোঁয়া)

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

কোন পরীক্ষার মাধ্যমে অ্যামোনিয়া গ্যাস শনাক্ত করা যায়?

অ্যামোনিয়া গ্যাস (NH₃) একটি ঝাঁজালো গন্ধবিশিষ্ট গ্যাস। এটি সহজেই শনাক্ত করা যায় লঘু হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) -এর সাহায্যে। অ্যামোনিয়া গ্যাসকে HCl -এর সংস্পর্শে আনা হলে সাদা ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়, যা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH₄Cl) এর কঠিন কণা। এই পরীক্ষাটি অ্যামোনিয়া শনাক্তকরণের একটি নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা।

নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন গ্যাস থেকে অ্যামোনিয়া তৈরির প্রক্রিয়াটির নাম কী এবং এর শর্তাবলী কী?

নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন গ্যাস থেকে অ্যামোনিয়া তৈরির প্রক্রিয়াটিকে হেবার প্রক্রিয়া বলা হয়। এই বিক্রিয়াটি সংঘটিত হওয়ার জন্য বিশেষ শর্ত প্রয়োজন –
1. উচ্চ চাপ – প্রায় 200বায়ুমণ্ডলীয় চাপ।
2. উষ্ণতা – প্রায় 450°C.
3. উৎপ্রেরক – সাধারণত লোহার অক্সাইড (Fe₃O₄) ব্যবহৃত হয়।
4. রাসায়নিক সমীকরণ – N₂(g) + 3H₂(g) ⇌ 2NH₃(g)

হেবার প্রক্রিয়ায় উৎপ্রেরকের ভূমিকা কী?

উৎপ্রেরক (Catalyst) বিক্রিয়াটির গতি বৃদ্ধি করে। এটি বিক্রিয়ক অণুগুলিকে দুর্বল করে এবং বিক্রিয়াটি কম শক্তিতে ও দ্রুত সংঘটিত হতে সাহায্য করে। হেবার প্রক্রিয়ায় লোহার অক্সাইড উৎপ্রেরক ব্যবহার না করলে, কক্ষ তাপমাত্রায় নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন গ্যাসের মধ্যে কোনও বিক্রিয়া ঘটে না বললেই চলে।

সাদা ধোঁয়া কী এবং এটি কীভাবে তৈরি হয়?

এখানে ‘সাদা ধোঁয়া’ বলতে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH₄Cl) এর অতি সূক্ষ্ম কঠিন কণাকে বোঝায়, যা বাতাসে ভাসমান অবস্থায় থাকে। এটি তৈরি হয় যখন বাষ্পশীল অ্যামোনিয়া গ্যাস (NH₃) এবং হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস (HCl) পরস্পরের সংস্পর্শে আসে। বিক্রিয়াটি হল –
NH₃(g) + HCl(g) → NH₄Cl(s)
এই সাদা কঠিন কণাগুলোই ধোঁয়ার আকারে দেখা যায়।

অ্যামোনিয়া গ্যাসকে লঘু HCl-এ সিক্ত কাচদণ্ড দিয়ে শনাক্ত করা হয় কেন? শুষ্ক কাচদণ্ড দিয়ে নয় কেন?

লঘু HCl -এ সিক্ত কাচদণ্ড থেকে ধীরে ধীরে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড (HCl) গ্যাস বের হয়। এই গ্যাসীয় HCl বাতাসে থাকা অ্যামোনিয়া গ্যাসের (NH₃) সাথে মিলিত হয়ে সরাসরি কঠিন অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের সাদা ধোঁয়া তৈরি করে। অন্যদিকে, শুষ্ক কাচদণ্ড থেকে কোনও HCl গ্যাস নির্গত হয় না, তাই কোনও বিক্রিয়া ঘটে না এবং সাদা ধোঁয়া তৈরি হয় না।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “450°C উষ্ণতায় 200 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে দুটি বর্ণহীন গ্যাসের বিক্রিয়ায় একটি ঝাঁজালো গন্ধবিশিষ্ট গ্যাস উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন গ্যাসটি লঘু HCl -এ সিক্ত কাচদণ্ডের সংস্পর্শে সাদা ধোঁয়ার সৃষ্টি করে। গ্যাস তিনটিকে শনাক্ত করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের অষ্টম অধ্যায় “পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মসমূহ” -এর “পরীক্ষাগার ও রাসায়নিক শিল্পে অজৈব রসায়ন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ব্রোমিনের সঙ্গে অ্যাসিটিলিনের যুত বিক্রিয়াটি উল্লেখ করো।

ব্রোমিনের সঙ্গে অ্যাসিটিলিনের যুত বিক্রিয়াটি উল্লেখ করো।

কার্যকরী মূলক বা ক্রিয়াশীল গ্রুপ কাকে বলে? কার্যকরী মূলক ও জৈব মূলকের পার্থক্য বুঝিয়ে দাও।

কার্যকরী মূলক বা ক্রিয়াশীল গ্রুপ কাকে বলে? কার্যকরী মূলক ও জৈব মূলকের পার্থক্য বুঝিয়ে দাও।

একটি জৈব যৌগের আণবিক সংকেত C₂H₄O₂। যৌগটি জলে দ্রাব্য এবং যৌগটির জলীয় দ্রবণে NaHCO₃ যোগ করলে CO₂ নির্গত হয়। জৈব যৌগটিকে শনাক্ত করো। জৈব যৌগটির সঙ্গে ইথানলের বিক্রিয়া শর্ত ও সমিত রাসায়নিক সমীকরণসহ লেখো।

C₂H₄O₂ সংকেতের একটি জৈব যৌগ NaHCO₃-এর সাথে CO₂ গ্যাস দেয়। যৌগটি শনাক্ত করো ও ইথানলের সাথে এর বিক্রিয়ার শর্তসহ সমীকরণ দাও।

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

Madhyamik Mathematics Suggestion 2026

Madhyamik Mathematics Suggestion 2026 – Mark 5

Madhyamik Mathematics Suggestion 2026 – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

Madhyamik Mathematics Suggestion 2026 – সত্য মিথ্যা

Madhyamik Mathematics Suggestion 2026 – শূন্যস্থান পূরণ