এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ কী কৃষক বিদ্রোহ ছিল?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ কী কৃষক বিদ্রোহ ছিল?“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের তৃতীয় অধ্যায় “প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ – বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ কী কৃষক বিদ্রোহ ছিল?
স্বৈরাচারী ইংরেজ শাসন, শোষণ ও ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ভারতবাসীর প্রথম প্রত্যাঘাত ছিল সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ। মুঘল যুগের শেষ তথা ইংরেজ শাসনের প্রথম থেকেই ভ্রাম্যমান সন্ন্যাসী ও ফকির সম্প্রদায় নানা স্থানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে কৃষিজীবিতে পরিণত হয়। তবে কোম্পানির স্বৈরাচারী নীতি অচিরেই তাদের বিদ্রোহের পথে ঠেলে দেয় এবং ক্রমে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলার অত্যাচারীত কৃষক সম্প্রদায় ও মোগল বাহিনীর কর্মচ্যুত সেনারা।
অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে কোম্পানি বাংলা সুবায় উচ্চ হারে রাজস্ব ধার্য করলে কৃষিজীবি সন্ন্যাসী-ফকিররা কর ভারে জর্জরিত হয়ে পড়ে। জমিদার, ইজারাদার, দর-ইজারাদার প্রমুখ মধ্যস্বত্বভোগীদের পর্যায়ক্রমিক খাজনা বৃদ্ধি, উৎখাত, ব্রিটিশের তীর্থকর আরোপ, তীর্থ যাত্রার উপর নিষেধাজ্ঞা এবং সর্বোপরি 1771 খ্রিস্টাব্দে অন্তত 150 জন ফকিরকে হত্যা সন্ন্যাসী-ফকির সম্প্রদায়কে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় কোম্পানির পৈশাচিক শোষণ ও অত্যাচার ইংরেজের প্রকৃত স্বরূপ সন্ন্যাসী-ফকিরদের সম্মুখে উন্মোচন করে দেয় এবং তারা বিদ্রোহের পথে পরিচালিত হয়।
1763 খ্রিস্টাব্দে বিদ্রোহের সূচনা হয়। উত্তরবঙ্গের ফকির এবং পূর্ববঙ্গ ও ময়মনসিংহের ‘গিরি-গোঁসাই’ ও নাগা সন্ন্যাসীদের নেতৃত্বে বিদ্রোহ বগুড়া, মালদহ, রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কোচবিহার প্রভৃতি জেলায় সম্প্রসারিত হয়। প্রায় 50 হাজার কৃষক এই বিদ্রোহে শামিল হয়।
ভবানী পাঠক, দেবী চৌধুরানি, মজনু শাহ, মুসা শাহ, চিরাগ আলি প্রমুখ বিভিন্ন পর্যায়ে আন্দোলনের নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন।
1763 – 1800 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে বিদ্রোহ পরিচালিত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশের চণ্ডনীতি এবং নেতৃবর্গের গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ডের মধ্য দিয়ে বিদ্রোহের বেদনার্ত পরিসমাপ্তি ঘটে।
ওয়ারেন হেস্টিংস প্রমুখ ব্রিটিশ প্রশাসক এই বিদ্রোহকে ‘পেশাদার ডাকাতদের উপদ্রব’ হিসেবে চিহ্নিত করলেও বস্তুতপক্ষে তা ছিল কোম্পানির অপশাসনের বিরুদ্ধে কৃষিজীবি ভারতবাসীর প্রথম প্রতিবাদ। সন্ন্যাসী বা ফকিরদের ধর্মীয় পোশাকের অন্তরালে তাঁরা ছিলেন নির্ভেজাল কৃষিজীবি সম্প্রদায় এবং গৃহী কৃষিজীবি সম্প্রদায়ের উপর তাদের প্রভাব ছিল সুগভীর। এই দিক থেকে সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ যথার্থই একটি কৃষক বিদ্রোহ। ঋষি বঙ্কিমের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে এই বিদ্রোহের বাস্তবচিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ কী কৃষক বিদ্রোহ ছিল?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ কী কৃষক বিদ্রোহ ছিল?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের তৃতীয় অধ্যায় “প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ – বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





মন্তব্য করুন