আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের ষষ্ঠ পাঠের দ্বিতীয় অধ্যায়, ‘রাধারাণী’ -এর কিছু ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্ত নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নোত্তরগুলো নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নবম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

“মোকদ্দমাটি বিধবা হাইকোর্টে হারিল।” – কোন্ মোকদ্দমার কথা বলা হয়েছে? বিধবা বলে কার কথা বলা হয়েছে?
সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশ থেকে আলোচ্য উদ্ধৃতিটি গৃহীত।
যে মোকদ্দমা – রাধারাণী সম্ভ্রান্ত পরিবার তথা অবস্থাপন্ন ঘরের সন্তান। তার পিতা যতদিন জীবিত ছিলেন, ততদিন রাধারাণীরা রীতিমতো ধনী ছিল; কিন্তু পিতার মৃত্যুর পর তাদের প্রায় দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তির অধিকার নিয়ে এক জ্ঞাতির সঙ্গে মোকদ্দমা হয়। উদ্ধৃত অংশে উক্ত মোকদ্দমার কথাই বলা হয়েছে।
বিধবা বলে এখানে রাধারাণীর মাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
“রাধারাণীর বিবাহ দিতে পারিল না।” – কে, কেন রাধারাণীর বিবাহ দিতে পারেননি?
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘রাধারাণী’ গল্পাংশের অন্তর্গত আলোচ্য উদ্ধৃতিতে রাধারাণীর বিধবা মা রাধারাণীর বিবাহ দিতে পারেননি।
বিয়ে দিতে না পারার কারণ – প্রায় দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তির অধিকার নিয়ে রাধারাণীর মায়ের সঙ্গে তাদের এক জ্ঞাতির মামলা হয়। হাইকোর্টে সেই মামলার রায়ে রাধারাণীরা পরাজিত হলে আইনানুযায়ী রাধারাণী ও তার মাকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করা হয়। কিন্তু রাধারাণীর মা মামলার রায় নিয়ে প্রিবি কাউন্সিলে একটি আপিল করেন। এতদিন ধরে মামলা চালানোর জন্য তাদের যেটুকু নগদ অর্থ ছিল তার সবই খরচ হয়ে যায়। তার গয়না, অলংকারাদি যা ছিল সেগুলোও বিক্রি করতে রাধারাণীর মা বাধ্য হন। সেই কারণে সর্বস্বান্ত রাধারাণীর মা রাধারাণীর বিয়ে দিতে পারেননি।
“মালা কেহ কিনিল না।” – মালা না কেনার কারণ কী ছিল?
মালা না কেনার কারণ – রাধারাণী ভেবেছিল নিজের হাতে গাঁথা বনফুলের মালা মাহেশের রথের মেলায় বিক্রি করে অসুস্থ মায়ের পথ্যের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু রথের টান অর্ধেক হতে না হতে তুমুল বৃষ্টি শুরু হয় এবং মেলা ভেঙে যায়। রাধারাণী মনে করেছিল যে, বৃষ্টি কমলে আবার মেলা জমে উঠবে এবং তখন কেউ না কেউ তার মালা নিশ্চয় কিনবে। কিন্তু বৃষ্টি আর না কমায় মেলা জমল না এবং রাধারাণীর মালা কেউ কিনল না।
“লোক আর জমিল না।” – কোথায়, কেন লোক জমেনি?
যেখানে, যে কারণে – সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশে রাধারাণী নামে এগারো বছরের একটি মেয়ে রথের মেলায় মালা বিক্রি করতে গিয়েছিল, তার মায়ের পথ্যের জন্য টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্য নিয়ে। কিন্তু মাহেশের রথের মেলায় রথের টান অর্ধেক হতে না হতেই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছিল, আর সেই বৃষ্টি থামেনি। সেই কারণেই মেলায় পরে আর লোক জমেনি।
“কিন্তু কণ্ঠস্বর শুনিয়া রাধারাণীর রোদন বন্ধ হইল।” – এরূপ হওয়ার কারণ কী?
এমন অবস্থার কারণ – সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশে রাধারাণী নামে এগারো বছরের একটি মেয়ে তার মায়ের পথ্যের জন্য টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্য নিয়ে রথের মেলায় মালা বিক্রি করতে গিয়েছিল। হঠাৎই প্রবল ঝড়বৃষ্টিতে মেলা ভেঙে যায়। ফলে মালা বিক্রয়ে ব্যর্থ হয়ে রাধারাণী বৃষ্টির মধ্যে অন্ধকার রাতে যখন বাড়ি ফিরছিল, তখন অকস্মাৎ এক অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে সংঘর্ষে রাধারাণী উচ্চৈঃস্বরে কাঁদতে থাকে। কিন্তু ব্যক্তিটির কণ্ঠস্বর শুনে রাধারাণীর মনে হয়েছিল অচেনা লোক হলেও সে বড়ো দয়ালু। তাই রাধারাণীর রোদন নিমেষেই বন্ধ হয়ে যায়।
“রাধারাণীর ক্ষুদ্র বুদ্ধিটুকুতে ইহা বুঝিতে পারিল।” – ‘ক্ষুদ্র বুদ্ধিটুকু’ বলা হয়েছে কেন? কোন্ বিষয় বোঝার কথা বলা হয়েছে?
ক্ষুদ্র বুদ্ধি – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘রাধারাণী’ উপন্যাসের অন্তর্গত ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশে রাধারাণী নিতান্তই এক বালিকা, তার বয়স একাদশ পূর্ণ হয়নি। একজন পরিণত বিচক্ষণ মানুষের সচেতনতাবোধ এই এগারো বছর বয়সী বালিকার যে থাকা সম্ভব নয় তার ইঙ্গিত দেওয়ার জন্যই লেখক ‘ক্ষুদ্র বুদ্ধিটুকু’ বলেছেন।
বিষয় – বৃষ্টিভেজা অন্ধকার রাতে অকস্মাৎ এক অচেনা, অজানা লোক রাধারাণীর ঘাড়ের উপর পড়ায় রাধারাণী ভয় পেয়ে উচ্চৈঃস্বরে কাঁদতে শুরু করে। কিন্তু পরে কণ্ঠস্বর শুনে সে অনুধাবন করে লোকটির কোনো মন্দ উদ্দেশ্য নেই, বরং লোকটি দয়ালু। কাহিনির পরবর্তী পর্যায়গুলিতে আমরা আগন্তুকের দরদি মনের প্রকাশ পাই।
“তুমি মালা বেচো তো আমি কিনি।” – বক্তা কে? কার উদ্দেশে কথাটি বলা হয়েছে? কোন্ মালার কথা বলা হয়েছে?
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশ থেকে নেওয়া প্রশ্নোদ্ধৃত অংশের বক্তা রাধারাণীর সঙ্গে মাহেশের রথের মেলায় অকস্মাৎ সাক্ষাৎ হওয়া অচেনা ব্যক্তি তথা রুক্মিণীকুমার রায়।
রাধারাণীর উদ্দেশে আলোচ্য কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্ধৃতাংশে রাধারাণীর গাঁথা বনফুলের মালার কথা বলা হয়েছে।
“তা নহিলে, আমার মা খেতে পাবে না। তা নিই।” – বক্তা কে? বক্তার মনের এরূপ দ্বিধার কারণ কী?
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশের বক্তা হল কাহিনির মূল চরিত্র রাধারাণী নামের একাদশ বর্ষীয়া এক বালিকা।
দ্বিধার কারণ – মায়ের অসুস্থতার কারণে পথ্য জোগাড় করার জন্য রাধারাণী বনফুলের মালা গেঁথে মাহেশের রথের মেলায় বিক্রি করতে গিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে মেলা তেমন জমে না ওঠায় তার বনফুলের মালা বিক্রি হয়নি। বৃষ্টির রাতে অন্ধকারে পথ চিনে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ এক অপরিচিতের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। সেই ব্যক্তি রাধারাণীকে নিরাপদে বাড়ি ফেরার কাজে সাহায্য করেছিল। তাই সেই আগন্তুক রাধারাণীর বনফুলের মালা কিনে নিতে চাইলেন রাধারাণী দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। কারণ উপকারী ব্যক্তির কাছে মালা বিক্রির পয়সা নিতে তার সংকোচ হয়। আবার পয়সা না নিলে পীড়িতা মায়ের জন্য পথ্য জোগাড় করাও অসম্ভব। এইরূপ পরিস্থিতিতে রাধারাণীর মনে দ্বিধা দেখা দেয়।
“তোমাকে সেখানে একটু দাঁড়াইতে হইবে।” – বক্তা কে? ‘তোমাকে’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? ‘সেখানে’ বলতে কোন্ স্থানকে নির্দেশ করা হয়েছে?
সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘রাধারাণী’ গদ্যাংশ থেকে গৃহীত আলোচ্য উক্তিটির বক্তা রাধারাণী স্বয়ং।
‘তোমাকে’ বলতে মাহেশের রথ দেখতে গিয়ে হঠাৎই রাধারাণীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়া অচেনা লোক তথা আগন্তুককে বোঝানো হয়েছে।
‘সেখানে’ বলতে রাধারাণীর কুটিরকে নির্দেশ করা হয়েছে।
“ঘরে তৈল ছিল না,” – কারণ কী?
কারণ – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘রাধারাণী’ গল্পাংশে রাধারাণীর পিতা জীবিত থাকাকালে তাদের অবস্থা খুবই ভালো ছিল। কিন্তু পিতার মৃত্যুর পর জ্ঞাতির সঙ্গে পরাজিত সম্পত্তি নিয়ে মামলা মোকদ্দমায় সর্বস্বান্ত হয়ে রাধারাণীরা অত্যন্ত দরিদ্র হয়ে পড়ে। রাধারাণীর মা অনেক পরিশ্রম করে দু-পয়সা রোজগার করে সংসার চালাতেন। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাদের অবস্থা আরও খারাপ হয়। অভাবে উপবাসও চলে। তাই তেল কেনার মতো পয়সাটুকুও তাদের ছিল না।
“আমরাও ভিখারি হইয়াছি, দান গ্রহণ করিয়া খরচ করি।” – ‘আমরা’ কারা? দান কীভাবে খরচ হয়েছিল?
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশে উদ্ধৃত উক্তিতে ‘আমরা’ বলতে রাধারাণী ও তার বিধবা মায়ের কথা বলা হয়েছে।
যেভাবে খরচ হল – অচেনা ব্যক্তি তথা আগন্তুকের যে দান রাধারাণী ও তার মা গ্রহণ করেছিলেন, রাধারাণী তা খরচ করেছিল মায়ের জন্য পথ্য কিনে। আর বাকি টাকায় বাড়িতে আলো জ্বালানোর জন্য তেল কিনেছিল সে।
“মনে করিয়াছিল যে, সেই তিনিই বুঝি আবার ফিরিয়া আসিয়াছেন।” – কে, কেন এইরূপ মনে করেছিল?
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বিরচিত ‘রাধারাণী’ গদ্যাংশে রাধারাণী এইরূপ মনে করেছিল।
এমন মনে হওয়ার কারণ – রাধারাণী মনে করেছিল যে, অন্ধকারে বুঝতে না পেরে অচেনা লোকটি পয়সার বদলে টাকা দিয়েছিল। পরে সেটা বুঝতে পেরে টাকা ফেরত নিয়ে পয়সা দেওয়ার জন্যই বুঝি তিনি ফিরে এসেছেন।
‘রাধারাণীর কথা শুনিয়া কিছু বিস্মিত হইল;’ – কে, কেন বিস্মিত হয়েছিল?
সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘রাধারাণী’ নামক গদ্যাংশ থেকে প্রশ্নে প্রদত্ত অংশটি নেওয়া হয়েছে। এই গদ্যাংশে কাপড় ব্যবসায়ী পদ্মলোচন সাহা রাধারাণীর কথা শুনে বিস্মিত হয়েছিল।
যে, যে কারণে বিস্মিত হল – দোকানে নগদ পয়সা দিয়ে রাধারাণীর জন্য আগন্তুকের কেনা শাড়িটি যখন পদ্মলোচন সাহা রাধারাণীকে পৌঁছে দিতে এসেছিল। তখনই সে জানতে পেরেছিল এই বিষয়টি রাধারাণীদের অজানা এবং সে বিস্মিত হয়েছিল।
“তিনিই কাপড় কিনে পাঠিয়ে দিয়েছেন।” – কাপড় কিনে দেওয়ার কারণ কী?
কারণ – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘রাধারাণী’ গদ্যাংশে রাধারাণীর সঙ্গে কথাপ্রসঙ্গে অচেনা লোক অর্থাৎ রুক্মিণীকুমার রায় অনুধাবন করেছিলেন তাদের আর্থিক দুরবস্থার কথা। প্রসঙ্গক্রমে তিনি যখন জেনেছিলেন যে রাধারাণীর বাড়িতে আর কোনো কাপড় নেই, যা বদলে রাধারাণী ভেজা কাপড় শুকোতে দিতে পারবে; তখনই তিনি দয়াপরবশ হয়ে রাধারাণীকে দুটি কাপড় কিনে দিয়েছিলেন।
‘তোমরা চেন না?’ – বক্তা কাকে চেনার কথা বলেছে? তাকে চেনার প্রয়োজন ছিল কেন?
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশের অন্তর্গত আলোচ্য উক্তির বক্তা হলেন এক কাপড় বিক্রেতা পদ্মলোচন সাহা। রথের মেলা থেকে ফেরার পথে যে অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে রাধারাণীর সাক্ষাৎ হয়েছিল, তাকে চেনার কথা বলা হয়েছে।
কারণ – সেই অচেনা ব্যক্তি রাধারাণীর বনফুলের মালা কিনে পয়সার বদলে টাকা দিয়ে তাদের উপকার করেছিলেন, তিনিই আবার পদ্মলোচন সাহার কাপড়ের দোকানে গিয়ে নগদ মূল্যে রাধারাণীর জন্য কাপড় কিনে পাঠিয়েছিলেন। পদ্মলোচন সাহা প্রথমে মনে করেছিল উদ্দিষ্ট ব্যক্তি হয়তো রাধারাণীর পরিচিত। কিন্তু কাপড় দিতে এসে সে জানতে পারে যে, সেই ব্যক্তিকে রাধারাণীরা কেউই চেনে না।
“প্রসন্নমনে দোকানে ফিরিয়া গেলেন।” – কে, কেন প্রসন্নমনে দোকানে ফিরে গিয়েছিল?
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘রাধারাণী’ গদ্যাংশে পদ্মলোচন সাহা প্রসন্নমনে দোকানে ফিরে গিয়েছিল।
কারণ – পদ্মলোচন আগন্তুক অর্থাৎ রুক্মিণীকুমারকে রাধারাণীদের আত্মীয় মনে করে চার টাকার কাপড় আট টাকা সাড়ে চোদ্দো আনা মুনাফায় বিক্রি করেছিল। কিন্তু যখন সে জানতে পারল যে, সেই কুটুম্বকে রাধারাণীরাও চেনে না তখন সে আর বেশি চিন্তা না করে নিজের লাভের কারণে খুশি হয়ে দোকানে ফিরে গিয়েছিল।
“এ কী মা!” – কোন্ প্রসঙ্গে এ কথা বলা হয়েছে?
প্রসঙ্গ – মাহেশের রথের মেলায় বনফুলের মালা বিক্রি করে অসুস্থ মায়ের জন্য পথ্য জোগাড় করবার উদ্দেশে রাধারাণীর মেলায় যাওয়া এবং পরবর্তী পর্যায়ে অচেনা আগন্তুকের কাছে মালা বিক্রি করা ও সেই সূত্র ধরে আগন্তুকের কাছ থেকে সহযোগিতা লাভে রাধারাণী ও তার মা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিল। শেষপর্যন্ত যখন পদ্মলোচন সাহা এসে রাধারাণীকে একখানা নতুন কাপড় দিয়ে গেল, তখন আর বুঝতে বাকি থাকল না যে আগন্তুক রাধারাণীদের উপকার করতেই চেয়েছিলেন। রাধারাণী তার মা-কে খাবার দেওয়ার আগে ঘর ঝাঁট দিতে গিয়ে একটি কাগজ কুড়িয়ে পায়। মায়ের কাছে সেটা কী তা জানতে চেয়ে রাধারাণী উক্ত উক্তিটি করেছিল।
আগন্তুকের পরিচয় কীভাবে উন্মোচিত হয়েছিল?
যেভাবে পরিচয় উন্মোচিত হল – বনফুলের মালা বিক্রি করার উদ্দেশে রাধারাণী মাহেশের রথের মেলায় গিয়েছিল, কিন্তু বৃষ্টির কারণে রথের মেলা তেমন জমে না ওঠায় তার মালা বিক্রি হয় না। বাড়ি ফেরার পথে যখন রাধারাণী নানান চিন্তায়-কান্নায় কাতর তখন হঠাৎ তার ঘাড়ের ওপর এক ব্যক্তি এসে পড়েন, ভয়ে রাধারাণী তখন তীব্র স্বরে কান্না শুরু করে। কিন্তু দরদি পুরুষের কণ্ঠস্বর শুনে সে কিছুটা আশ্বস্ত হয়। এরপর সেই ব্যক্তি রাধারাণীদের অসহায় অবস্থার কথা শুনে নানাভাবে তাদের সাহায্য করেন, কিন্তু কোনোভাবেই নিজের নামপরিচয় প্রকাশ করেননি। সবশেষে রাধারাণী ঘর ঝাঁট দিতে গিয়ে কাগজ মনে করে যা কুড়িয়ে পেয়েছিল তা আসলে একটা নোট, আর সেই নোটেই আগন্তুকের নাম রুক্মিণীকুমার রায় বলে লেখা ছিল। এইভাবেই আগন্তুকের পরিচয় উন্মোচিত হয়েছিল।
শ্রীরামপুর বা তার নিকটবর্তী স্থানে রাধারাণী ও তার মা রুক্মিণীকুমার রায়ের সন্ধান করেছিল কেন?
যে কারণে সন্ধান করেছিল – মাহেশের রথের মেলা থেকে ফেরার পথে রাধারাণীর সঙ্গে রুক্মিণীকুমার নামে এক ব্যক্তির পরিচয় হলে, সেই ব্যক্তির জিজ্ঞাসাবাদে রাধারাণী জানায় তার বাড়ি শ্রীরামপুর। প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে সেই ব্যক্তি রাধারাণীকে সাহায্য করতে চেয়েছিল। কিন্তু আদর্শবাদী রাধারাণী ও তার মা তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা খরচ না করে তুলে রেখেছিল। তারা সেই অর্থ ব্যক্তিকে ফেরত দিতে চেয়েছিল। কথাপ্রসঙ্গে রাধারাণীকে ব্যক্তিটি জানিয়েছিলেন তিনিও শ্রীরামপুরে যাচ্ছেন। সেই কারণে উক্ত ব্যক্তির বাড়ি শ্রীরামপুর বা নিকটবর্তী কোনো স্থান – এমন মনে করে রাধারাণী ও তার মা রুক্মিনীকুমারের অনুসন্ধান করেছিল।
“নোটখানি তাহারা ভাঙাইল না – তুলিয়া রাখিল” – এমন করার কারণ কী ছিল?
কারণ – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশে রাধারাণী ও তার মায়ের নির্লোভ মনের পরিচয় পাওয়া যায়। অসুস্থ মায়ের পথ্য জোগাড় করতে রাধারাণী বনফুলের মালার দামস্বরূপ আগন্তুকের কাছে অর্থ গ্রহণে বাধ্য হয়েছিল এবং সেটি খরচ করেছিল। কিন্তু অচেনা আগন্তুক তথা রুক্মিনীকুমার রায় তাদের জন্য প্রয়োজন-অতিরিক্ত একটি নোট রেখে গেলে নোটটি ফেরত দেওয়ার অভিপ্রায়ে তারা সেটি তুলে রাখে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ নিতে তাদের আদর্শে বেধেছিল।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের ষষ্ঠ পাঠের দ্বিতীয় অধ্যায়, ‘রাধারাণী’ -এর কিছু ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্ত নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নোত্তরগুলো নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নবম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে এসেছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।
মন্তব্য করুন