মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য – প্রবন্ধ রচনা

Souvick

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ‘মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য‘ প্রবন্ধ রচনাটি নিয়ে আলোচনা করব। মাধ্যমিক বা স্কুল পরীক্ষায় এই রচনাটি প্রায়ই আসে এবং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ রচনা। একবার ভালোভাবে আয়ত্ত করলে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি — যেকোনো ক্লাসের পরীক্ষাতেই তোমরা এই রচনার প্রশ্নের উত্তর সহজেই লিখতে পারবে!

মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য - প্রবন্ধ রচনা

মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য

“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কী ভুলিতে পারি?”

ভূমিকা – না, আমরা কোনোদিন ভুলতে পারব না। যাঁরা আমাদের মাতৃভাষা ও মাতৃমুক্তির জন্য স্বৈরাচারী নিষ্ঠুর শাসকের বন্দুক-কামান-বেয়নেটকে উপেক্ষা করে অকাতরে “মুক্তির মন্দির সোপানতলে” প্রাণত্যাগ করেছেন, তাঁদের অসীম অবদানের কথা আমরা কোনোদিন ভুলতে পারব না। মাতৃভাষার মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার্থে অমর ভাষাশহিদদের সুমহান কীর্তি ইতিহাসে রক্তাক্ষরে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। যতদিন বাংলা থাকবে, বাংলার মাটি থাকবে, মা তার সন্তানকে লালনপালন করবে, বাংলার আকাশে সূর্যের উদয়-অস্ত থাকবে, ততদিন মাতৃভাষাশহিদদের মহান ত্যাগের কথা বাংলার ঘরে ঘরে ধ্বনিত হবে।

মাতৃভাষা দিবসের ইতিহাস – 1947 খ্রিস্টাব্দে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ সরকারের নাগপাশ থেকে ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়েছিল দুটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের জন্ম দিয়ে। একটি ভারত এবং অন্যটি পাকিস্তান। ধর্মীয় সাদৃশ্যের অজুহাতে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান (অধুনা বাংলাদেশ)। পশ্চিম পাকিস্তানের ভাষা উর্দুকে পূর্ব পাকিস্তানেও রাষ্ট্রভাষারূপে প্রচলনের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ আলি জিন্না। বাংলাভাষী পূর্ববঙ্গের জনগণ এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। 1952 খ্রিস্টাব্দের 21 ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের নির্মম গুলিতে নিহত হন আবদুল, বরকত, সালাম ও রফিক। বাংলাদেশসহ সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবাদের আগুন। প্রধানমন্ত্রী জিন্না তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। বঙ্গবাসীর মাতৃভাষা বাংলা স্বমহিমায় অধিষ্ঠিত হয়।

ভাষা-আন্দোলনের ঐতিহাসিক মহিমা – মাতৃভাষার জন্য বরকত-সালাম – রফিকের আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তান সরকারের নাগপাশ থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। দু-দশকেরও বেশি সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের বিনিময়ে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর সহযোগিতায় এবং মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্বাধীন সূর্য উদিত হয়। এইখানেই মাতৃভাষা দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য। প্রথমে মাতৃভাষার মুক্তি, পরে মাতৃভূমির মুক্তি। তাই ভাষাশহিদদের উদ্দেশে আমাদের নিবেদন –

“উনিশ শো বাহান্নোর দারুণ রক্তিম পুষ্পাঞ্জলি
বুকে নিয়ে আছো সগৌরবে মহীয়সী।”

বৃহত্তর অর্থে মাতৃভাষা দিবস – ক্যালেন্ডারে 21 ফেব্রুয়ারি তারিখে মাতৃভাষাদিবসের কথা উল্লেখ আছে। বর্তমানে আমাদের কাছে 21 ফেব্রুয়ারির অর্থ মাতৃভাষাদিবস, ভাষাশহিদদের উদ্দেশে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং মাতৃভাষার জন্য শপথের দিন। রাষ্ট্রপুঞ্জ থেকে 21 ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ -এর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ওই দিন প্রতিটি রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিক আপন মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে।

উপসংহার – কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাতৃভাষাকে মাতৃদুগ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই উপমা অত্যন্ত সার্থক। কেননা, মাতৃভাষা ব্যতীত কোনো মানুষের শিক্ষাদীক্ষা, আত্মপ্রকাশ ও আত্মপ্রতিষ্ঠা একেবারেই অসম্ভব। এই তাৎপর্যেই 21 ফেব্রুয়ারি তারিখে পৃথিবীর সর্বত্র মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে বিবিধ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বিশেষ করে বঙ্গভূমিতে প্রভাতফেরি, আলোচনাসভা ও বিতর্কসভার আয়োজন করা হয়। আমাদের মধ্যে মতাদর্শগত যত পার্থক্যই থাক, মাতৃভাষার ক্ষেত্রে আমরা সকলেই সহমত পোষণ করে একত্রে উদাত্তকণ্ঠে উচ্চারণ করতে পারি – “বিনে স্বদেশিভাষা, মিটে কি আশা?”


আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ‘মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য‘ প্রবন্ধ রচনাটি নিয়ে আলোচনা করেছি। মাধ্যমিক বা স্কুল পরীক্ষায় ‘একটি অচল পয়সার আত্মকথা‘ রচনাটি প্রায়ই আসে এবং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ রচনা। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ঐতিহাসিক স্থানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা - প্রবন্ধ রচনা

ঐতিহাসিক স্থানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা – প্রবন্ধ রচনা

একটি নৌকাভ্রমণের অভিজ্ঞতা - প্রবন্ধ রচনা

একটি নৌকাভ্রমণের অভিজ্ঞতা – প্রবন্ধ রচনা

মঙ্গলের মাটিতে কিছুক্ষণ কাটানোর অভিজ্ঞতা - প্রবন্ধ রচনা

মঙ্গলের মাটিতে কিছুক্ষণ কাটানোর অভিজ্ঞতা – প্রবন্ধ রচনা

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – প্রাকৃতিক সম্পদ এবং তাদের টেকসই/স্থিতিশীল ব্যবহার – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – প্রাকৃতিক সম্পদ এবং তাদের টেকসই/স্থিতিশীল ব্যবহার – টীকা

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – প্রাকৃতিক সম্পদ এবং তাদের টেকসই/স্থিতিশীল ব্যবহার – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – প্রাকৃতিক সম্পদ এবং তাদের টেকসই/স্থিতিশীল ব্যবহার – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – প্রাকৃতিক সম্পদ এবং তাদের টেকসই/স্থিতিশীল ব্যবহার – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর