মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ডের সংজ্ঞা দাও। মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ডের সংজ্ঞা দাও। মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ডের সংজ্ঞা দাও। মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ডের সংজ্ঞা দাও।

মস্তিষ্ক –

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সবথেকে বড়ো, স্ফীত অংশ যা ত্রিস্তরীয় মেনিনজেস পর্দা দ্বারা আবৃত, করোটির মধ্যে উপস্থিত এবং যা দেহের যাবতীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে মস্তিষ্ক বলে।

সুষুম্নাকাণ্ড –

সুষুম্নাশীর্ষক থেকে উৎপন্ন হয়ে মেরুদণ্ডের নিউরাল ক্যানেলের মধ্য দিয়ে প্রথম কটিদেশীয় কশেরুকার (L1) প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে অংশ স্তম্ভের ন্যায় অংশ গঠন করে এবং প্রতিবর্ত ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে সুষুম্নাকাণ্ড বলে।

মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য –

মস্তিষ্কসুষুম্নাকাণ্ড
মস্তিষ্ক করোটির ভিতরে অবস্থিত।সুষুম্নাকাণ্ড মেরুদণ্ড গহ্বরে অবস্থিত।
মস্তিষ্কের প্রধান তিনটি অংশ হল – অগ্র মস্তিষ্ক, মধ্য মস্তিষ্ক এবং পশ্চাদ্‌ মস্তিষ্ক।সুষুম্নাকাণ্ডের প্রধান তিনটি অংশ হল – সারভাইকাল, থোরাসিক, লাম্বার, স্যাক্রাল এবং কক্সিজিয়াল।
মস্তিষ্কে উপস্থিত গহ্বরকে প্রকোষ্ঠ বা নিলয় বলে।সুষুম্নাকাণ্ডে উপস্থিত গহ্বরকে কেন্দ্রীয় নালি বা সেন্ট্রাল ক্যানাল সিস্টেম বলে।
মস্তিষ্কে করোটি স্নায়ুর সংখ্যা 12 জোড়া।সুষুম্নাকাণ্ডে সুষুম্নাস্নায়ুর সংখ্যা 31 জোড়া।
মস্তিষ্কের বাইরে থাকে ধূসর বস্তু এবং ভিতরে থাকে শ্বেতবস্তু।সুষুম্নাকাণ্ডের বাইরে থাকে শ্বেতবস্তু এবং ভিতরে থাকে ধূসর বস্তু।
মস্তিষ্ক দেহের যাবতীয় কার্যাবলি যেমন – বুদ্ধি, বিবেচনা, স্মৃতিশক্তি ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে।মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করা। এছাড়াও প্রতিবর্ত ক্রিয়ার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ডের সংজ্ঞা দাও। মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।

Please Share This Article

Related Posts

অসম্পূর্ণ প্রকটতা কাকে বলে? অসম্পূর্ণ প্রকটতার একটি উদাহরণ ও সহজ ক্রসের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করো। অথবা, অসম্পূর্ণ প্রকটতা কাকে বলে? একটি পরীক্ষার মাধ্যমে মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ব্যতিক্রম দেখাও।

অসম্পূর্ণ প্রকটতা কাকে বলে? মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ব্যতিক্রম

একটি সংকর কালো লোমবিশিষ্ট গিনিপিগের সঙ্গে সাদা লোমবিশিষ্ট গিনিপিগের সংকরায়ণ ঘটালে প্রথম অপত্য F1 জনুর ফিনোটাইপ চেকার বোর্ডের সাহায্যে যুক্তিসহ বোঝাও।

সংকর কালো ও সাদা গিনিপিগের সংকরায়ণ: F1 জনুর ফিনোটাইপ ও চেকার বোর্ড | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতি সংক্ষেপে আলোচনা করো। মানুষের পুংলিঙ্গ নির্ধারণে Y ক্রোমোজোমের ভূমিকা বর্ণনা করো।

মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতি সংক্ষেপে আলোচনা করো। মানুষের পুংলিঙ্গ নির্ধারণে Y ক্রোমোজোমের ভূমিকা

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অসম্পূর্ণ প্রকটতা কাকে বলে? মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ব্যতিক্রম

সংকর কালো ও সাদা গিনিপিগের সংকরায়ণ: F1 জনুর ফিনোটাইপ ও চেকার বোর্ড | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতি সংক্ষেপে আলোচনা করো। মানুষের পুংলিঙ্গ নির্ধারণে Y ক্রোমোজোমের ভূমিকা

মেন্ডেল তার পরীক্ষায় মটর গাছ নির্বাচন করেছিলেন কেন?

মেন্ডেলকে ‘সুপ্রজননবিদ্যার জনক’ বলা হয় কেন? সংকরায়ণ পরীক্ষাটিতে মেন্ডেলের সাফল্যলাভের কারণ