এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “জিনের সংজ্ঞা দাও। জিনের যে-কোনো দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

জিনের সংজ্ঞা দাও।
ক্রোমোজোমে অবস্থিত বিশেষ নিউক্লিয়োটাইড সমন্বিত DNA -এর কার্যকরী অংশ যা নির্দিষ্ট প্রোটিন সংকেত বহন করে এবং জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে প্রকাশ করে, তাকে জিন বলে। জিনকে বংশগতির আণবিক এককও বলা হয়।
জিনের যে-কোনো দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
জিনের বৈশিষ্ট্যগুলি হল –
- জিন প্রোটিন সংশ্লেষ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোনো জীবের চারিত্রিক প্রকাশ নিয়ন্ত্রণ করে।
- জিন পুনঃসংযুক্তি ও পরিব্যক্তির মাধ্যমে তার বহুরূপতা প্রদর্শন করে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
জিন কী?
জিন হল জীবদেহের বংশগতির ক্ষুদ্রতম একক ও কার্যকরী একক। এটি DNA -এর একটি নির্দিষ্ট অংশ যা নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরির তথ্য বহন করে। এই প্রোটিনই জীবের চেহারা, শারীরিক গঠন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে এবং সন্তানদের মধ্যে সেটি প্রবাহিত হয়।
DNA, জিন ও ক্রোমোজোমের মধ্যে সম্পর্ক কী?
DNA, জিন ও ক্রোমোজোমের মধ্যে সম্পর্ক –
1. DNA (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) হল বংশগতির মূল রাসায়নিক পদার্থ, যা দীর্ঘ শৃঙ্খলাকার অণু। এতে জীবের সমস্ত জেনেটিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে।
2. জিন হল DNA -এর একটি নির্দিষ্ট কার্যকরী অংশ বা সেগমেন্ট। প্রতিটি জিন একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বা প্রোটিনের জন্য দায়ী।
3. ক্রোমোজোম হল সুতা-সদৃশ গঠন যাতে ডিএনএ ও প্রোটিন পেঁচিয়ে থাকে। প্রতিটি ক্রোমোজোমে অনেকগুলি জিন অবস্থান করে।
জিন কিভাবে আমাদের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে?
জিন DNA -তে সাজানো নির্দিষ্ট নিউক্লিওটাইডের ক্রম বা সিকোয়েন্সের মাধ্যমে কাজ করে। এই সিকোয়েন্সই mRNA তৈরির মাধ্যমে প্রোটিন সংশ্লেষণ (Protein Synthesis) নির্দেশ করে। এই প্রোটিনগুলো এনজাইম, হরমোন বা গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য (যেমন – চোখের রং, রক্তের গ্রুপ) প্রকাশ করে।
‘জিন বংশগতির আণবিক একক’ – কথাটির অর্থ কী?
এটি বলার কারণ হল, জিনই একমাত্র একক যা –
1. বংশগতির ধারক ও বাহক (প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হয়)।
2. নির্দিষ্ট একটি কার্য (একটি প্রোটিন সংশ্লেষণ) নিয়ন্ত্রণ করে।
3. পরিব্যক্তি (Mutation) ও পুনঃসংযুক্তি (Recombination) এর মাধ্যমে বিবর্তনে ভূমিকা রাখে।
জিনের “পুনঃসংযুক্তি (Recombination)” বলতে কী বোঝায়?
যৌন জননের সময়, মাতা ও পিতার ক্রোমোজোমের জিনগুলির মধ্যে বিনিময় (Crossing Over) ঘটে। এর ফলে নতুন জিন সংমিশ্রণ তৈরি হয়, যা সন্তানদের মধ্যে অভিনব বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটায়। এই প্রক্রিয়াকেই জিনের পুনঃসংযুক্তি বলে।
জিনের “পরিব্যক্তি (Mutation)” কী? এর গুরুত্ব কি?
পরিব্যক্তি হল DNA সিকোয়েন্স বা জিনের গঠনে আকস্মিক ও স্থায়ী পরিবর্তন। এটি প্রাকৃতিকভাবে বা রাসায়নিক/বিকিরণ দ্বারা ঘটতে পারে।
গুরুত্ব – এটি জিনের নতুন রূপ (অ্যালিল) তৈরি করে। এই বিবর্তনের চালিকাশক্তি। কিছু পরিব্যক্তি ক্ষতিকর, কিছু নিরপেক্ষ এবং কিছু উপকারীও হতে পারে (যেমন – নতুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা)।
একটি জিন কি শুধু একটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে?
প্রধানত একটি জিন একটি নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরি করতে নির্দেশ দেয়। তবে, অনেক ক্ষেত্রে একটি বৈশিষ্ট্য একাধিক জিনের মিথস্ক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রিত হয় (পলিজেনিক ইনহেরিট্যান্স)। আবার কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে, একটি জিন একাধিক প্রোটিন তৈরির মাধ্যমে একাধিক বৈশিষ্ট্যকেও প্রভাবিত করতে পারে (প্লেইওট্রপি)।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “জিনের সংজ্ঞা দাও। জিনের যে-কোনো দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন