এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “ক্রোমোজোম, DNA এবং জিনের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক কী?” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রোমোজোম, DNA এবং জিনের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক কী?
সজীব ইউক্যারিয়োটিক কোশে নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে DNA ক্ষারীয় হিস্টোন প্রোটিন অণুর সঙ্গে দৃঢ়ভাবে পেঁচিয়ে থাকে। কোশ যখন বিভাজিত হয় না অর্থাৎ ইন্টারফেজ নিউক্লিয়াসে DNA কুণ্ডলীকৃত অথবা আংশিক উন্মুক্তভাবে থেকে জালকের মতো আকার ধারণ করে, একে ক্রোমাটিন জালিকা বা নিউক্লিয় জালিকা বলে। কোশ বিভাজনের সময় ক্রোমাটিন জালিকা দৃঢ় কুণ্ডলীকরণ এবং ঘনীভবনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট আকার ও আকৃতিবিশিষ্ট ক্রোমোজোম গঠন করে। তাই বলা যেতে পারে যে, ক্রোমাটিন জালিকা ও ক্রোমোজোম প্রকৃতপক্ষে DNA অণুর কুণ্ডলীকরণের পৃথক পৃথক অবস্থা, আলাদা কোনো গঠন নয় এবং জিন হল DNA -এর একটি বহু নিউক্লিয়োটাইড সমন্বিত অংশ যা কোনো একটি প্রোটিন সংশ্লেষের সংকেত বহন করে ও জীবের নানা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশে সাহায্য করে।
ইউক্যারিয়োটিক কোশের মধ্যে জিনের অবস্থান –
কোশ → নিউক্লিয়াস → নিউক্লিয় জালিকা → জিন → DNA → ক্রোমোজোম
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
DNA, ক্রোমোজোম ও জিনের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
DNA, ক্রোমোজোম ও জিনের মধ্যে মূল পার্থক্য –
1. DNA – জীবের বংশগতিক নির্দেশাবলী ধারণকারী রাসায়নিক অণু (ডি-অক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড)।
2. ক্রোমোজোম – DNA এবং হিস্টোন প্রোটিনের সংমিশ্রণে গঠিত সুগঠিত, ঘনীভূত গঠন, যা কোশ বিভাজনের সময় দৃশ্যমান হয়।
3. জিন – DNA-এর একটি নির্দিষ্ট অংশ যা নির্দিষ্ট প্রোটিন বা RNA সংশ্লেষের তথ্য বহন করে এবং জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।
ক্রোমাটিন জালিকা ও ক্রোমোজোম একই না আলাদা?
একই DNA -এর দুটি ভিন্ন অবস্থা। ইন্টারফেজে DNA ও প্রোটিনের মিশ্রণে তন্তুময় অবস্থায় থাকে (ক্রোমাটিন জালিকা), আর কোশ বিভাজনের সময় ঘনীভূত হয়ে দৃশ্যমান ক্রোমোজোম গঠন করে।
জিন কোথায় অবস্থিত?
জিন DNA -এর উপর অবস্থিত। DNA ক্রোমোজোমের গঠনগত উপাদান, তাই জিন মূলত ক্রোমোজোমের অংশবিশেষ। ইউক্যারিয়োটিক কোশে এটি নিউক্লিয়াসের ভিতরে ক্রোমোজোমে অবস্থান করে।
ক্রোমোজোম শুধু কোশ বিভাজনের সময়ই দেখা যায় কেন?
কোশ বিভাজনের সময় DNA অত্যন্ত ঘনীভূত হয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম গঠন করে, যা মাইক্রোস্কোপে দেখা যায়। ইন্টারফেজে DNA অপেক্ষাকৃত আলগা অবস্থায় থাকে বলে তখন ক্রোমোজোম আকারে দৃশ্যমান হয় না।
মানুষের ক্রোমোজোমে কতগুলি জিন থাকে?
মানবদেহে 23 জোড়া ক্রোমোজোমে প্রায় 20,000–25,000 জিন অবস্থিত, যা সমগ্র DNA -এর মাত্র 1–2% অংশ জুড়ে থাকে।
DNA, ক্রোমোজোম ও জিনের মধ্যে সম্পর্ক কী?
DNA, ক্রোমোজোম ও জিনের মধ্যে সম্পর্ক –
1. DNA হলো মূল বংশগতিক পদার্থ।
2. একাধিক DNA অণু প্রোটিনের সাহায্যে পেঁচিয়ে ক্রোমোজোম গঠন করে।
3. DNA -এর যে অংশ কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে জিন বলে।
সুতরাং – জিন (DNA -এর অংশ) → DNA + প্রোটিন → ক্রোমোজোম → নিউক্লিয়াস → কোশ।
ক্রোমোজোমের প্রধান কাজ কী?
DNA -কে সুসংগঠিতভাবে বিন্যস্ত করা, কোশ বিভাজনের সময় DNA -এর সঠিক বন্টন নিশ্চিত করা এবং জিনের তথ্য সুরক্ষিত রাখা।
প্রোক্যারিয়োটিক কোশে ক্রোমোজোম থাকে কি?
থাকে, তবে তাদের নিউক্লিয়াস নেই। DNA একটি বৃত্তাকার ক্রোমোজোম আকারে সাইটোপ্লাজমে অবস্থান করে এবং হিস্টোন প্রোটিন সহ ঘনীভূত হয় না।
একটি ক্রোমোজোমে কয়টি DNA অণু থাকে?
ইউক্যারিয়োটিক ক্রোমোজোমে সাধারণত একটি দীর্ঘ, অবিচ্ছিন্ন DNA অণু থাকে যা দুইবার পেঁচিয়ে ও প্রোটিনের সাথে সংযুক্ত থাকে।
জিন ও DNA -এর মধ্যে সম্পর্ক কী?
DNA হলো সম্পূর্ণ রাসায়নিক অণু, আর জিন হলো DNA -এর সেই নির্দিষ্ট সিকোয়েন্স যা কোনো নির্দিষ্ট কাজ (যেমন – চোখের রং নির্ধারণ) করে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “ক্রোমোজোম, DNA এবং জিনের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক কী?” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন