এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেক পদ্ধতির সচিত্র বিবরণ দাও।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা”-এর “সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেক পদ্ধতি
পরাগরেণু উৎপাদন – ফুলের পুংকেশরের পরাগধানীতে উপস্থিত ডিপ্লয়েড প্রকৃতির পরাগরেণু মাতৃকোশ থেকে পরাগরেণু উৎপন্ন হয়।
গ্যামেট উৎপাদন – পরিণত পরাগরেণু দুটি কোশ নিয়ে গঠিত। যথা – ভেজিটেটিভ কোশ এবং জেনারেটিভ কোশ। পরিণত পরাগরেণু ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হলে, ভেজিটেটিভ কোশ পরাগনালি সৃষ্টি করে যার ভেতরে নালিকা নিউক্লিয়াস উপস্থিত থাকে এবং জেনারেটিভ কোশে উপস্থিত নিউক্লিয়াস মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুটি পুংগ্যামেট সৃষ্টি করে। ফুলের গর্ভাশয়ে অবস্থিত ডিম্বকের ভেতরে ডিম্বাণুর সংখ্যা এক বা একাধিক হয়। ভ্রূণস্থলীর হ্যাপ্লয়েড নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস কোশ বিভাজন পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়ে আটটি হ্যাপ্লয়েড (n) নিউক্লিয়াস গঠন করে। আটটি নিউক্লিয়াসের মধ্যে তিনটি নিউক্লিয়াস থেকে দুটি সহকারী কোশ এবং একটি ডিম্বাণু গঠিত হয়। তিনটি নিউক্লিয়াস ভ্রূণস্থলীর মেরুতে মিলিত হয়ে প্রতিপাদ কোশসমষ্টি (n) গঠন করে। শেষ দুটি নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে নির্ণীত নিউক্লিয়াস (2n) গঠন করে।

নিষেক – পরাগনালিকায় উপস্থিত দুটি পুংগ্যামেট এবং একটি নালিকা নিউক্লিয়াস গর্ভদণ্ডের মধ্য দিয়ে গিয়ে ডিম্বকের দিকে অগ্রসর হয় এবং বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরাগনালি ডিম্বকরন্ধ্রের মাধ্যমে (পোরোগ্যামি) অথবা ডিম্বকমূলের মধ্য দিয়ে (চ্যালাজোগ্যামি) অথবা ডিম্বকত্বকের মধ্য দিয়ে (মেসোগ্যামি) ভ্রূণস্থলীতে প্রবেশ করে। পরাগনালির অগ্রভাগটি ফেটে যায়, ফলে পুংগ্যামেট দুটি ভ্রূণস্থলীতে মুক্ত হয়। অন্যদিকে নালিকা নিউক্লিয়াসটি বিনষ্ট হয়ে যায়। ভ্রূণস্থলীতে একটি পুংগ্যামেট এবং ডিম্বাণু একত্রিত হয়ে নিষেক সম্পন্ন হয়, যা ডিপ্লয়েড জাইগোট গঠন করে।
ভ্রূণ গঠন ও নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি – মাইটোসিস কোশ বিভাজন পদ্ধতিতে জাইগোটটি বিভাজিত হয়ে অসংখ্য কোশবিশিষ্ট ভ্রূণ গঠন করে। নিষেকের পরে ডিম্বকটি ভ্রূণসহ বীজে পরিণত হয় এবং ডিম্বাশয়টি ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে ফলে পরিণত হয়। বীজের মধ্যে ভ্রূণ অবস্থান করে। অনুকূল পরিবেশে বীজের অঙ্কুরোদ্গম ঘটে এবং নতুন চারাগাছের জন্ম হয়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেক পদ্ধতির সচিত্র বিবরণ দাও।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা”-এর “সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





মন্তব্য করুন