এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের পঞ্চম পাঠের অন্তর্গত ‘গাছের কথা’-এর কিছু ‘অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো
জগদীশচন্দ্র গাছ, পাখি, কীটপতঙ্গকে (কষ্ট দিতেন / ভালোবাসতেন / ঘৃণা করতেন)।
উত্তর – ভালোবাসতেন।
ডিমে জীবন (থাকে না / জেগে থাকে / ঘুমিয়ে থাকে)।
উত্তর – ঘুমিয়ে থাকে।
আম, লিচুর বীজ (বৈশাখ / শ্রাবণ / পৌষ) মাসে পাকে।
উত্তর – বৈশাখ।
অতি প্রকাণ্ড বটগাছ (মটর / সরিষা / ছোলা) অপেক্ষা ছোটো বীজ হইতে জন্মে।
উত্তর – সরিষা।
শূন্যস্থান পূরণ করো
ক্রমে এসব কথা __ বলিব।
উত্তর – ক্রমে এসব কথা তোমাদিগকে বলিব।
ডিমে জীবন __ থাকে।
উত্তর – ডিমে জীবন ঘুমাইয়া থাকে।
এই প্রকারে __ দ্বীপে গাছ জন্মিয়া থাকে।
উত্তর – এই প্রকারে জনমানবশূন্য দ্বীপে গাছ জন্মিয়া থাকে।
অঙ্কুর বাহির হইবার জন্য __ জল ও মাটি চাই।
উত্তর – অঙ্কুর বাহির হইবার জন্য উত্তাপ জল ও মাটি চাই।
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
জগদীশচন্দ্র বসুর লেখা একটি বইয়ের নাম লেখো।
জগদীশচন্দ্র বসুর লেখা একটি বইয়ের নাম হল ‘অব্যক্ত’।
জগদীশচন্দ্র বসু কী আবিষ্কার করেছিলেন?
জগদীশচন্দ্র বসু ‘ক্রেসকোগ্রাফ’ নামক একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন, যার সাহায্যে উদ্ভিদের ওপর বিদ্যুৎস্পর্শে জাগ্রত স্পন্দন পরিমাপ করা যায়। এছাড়াও ‘স্ফিগমোগ্রাফ’, ‘ফটোমিটার’, ‘ফটোসিন্থেটিক বাবলার’ প্রভৃতি স্বয়ংলেখ যন্ত্রও তিনি আবিষ্কার করেন। বিনা তারে বার্তা প্রেরণের পদ্ধতিও প্রকৃতপক্ষে তিনিই প্রথম আবিষ্কার করেন।
লেখক কবে থেকে গাছদের অনেক কথা বুঝতে পারেন?
লেখক যখন থেকে গাছদের ভালোবাসতে শিখলেন, তখন থেকেই তিনি তাদের অনেক কথা বুঝতে পারেন।
“ইহাদের মধ্যেও তাহার কিছু কিছু দেখা যায়।” – কী দেখা যায়?
মানুষের মধ্যে যেসব সদ্গুণ আছে, তার কিছু কিছু গাছদের মধ্যেও দেখা যায়।
জীবিতের লক্ষণ কী, তা লেখক অনুসরণে উল্লেখ করো।
জীবিতের একটি লক্ষণ হল বৃদ্ধি এবং আর-একটি লক্ষণ হল এই যে, তার গতি আছে।
‘বৃক্ষশিশু নিরাপদে নিদ্রা যায়’ – বৃক্ষশিশু কোথায় নিদ্রা যায়?
কঠিন ঢাকনাযুক্ত বীজের মধ্যে বৃক্ষশিশু নিদ্রা যায়।
অঙ্কুর বের হওয়ার জন্য কী কী প্রয়োজন?
অঙ্কুর বের হওয়ার জন্য উত্তাপ, মাটি ও জল প্রয়োজন।
মানুষের কোন্ গুণটি গাছের মধ্যেও দেখা যায়?
মানুষের সর্বোচ্চ গুণ ‘স্বার্থত্যাগ’ গাছের মধ্যেও দেখা যায়।
বীজ থেকে অঙ্কুর বের হওয়ার জন্য কী কী দরকার?
বীজ থেকে অঙ্কুর বের হওয়ার জন্য উত্তাপ, জল ও মাটি দরকার।
শিমুল ফল ফেটে গেলে কী হয়?
শিমুল ফল রৌদ্রে ফেটে গেলে তার বীজ তুলোর সঙ্গে বাতাসে উড়তে থাকে।
ধান, যব ইত্যাদি কোন্ সময় পাকে?
ধান, যব ইত্যাদি আশ্বিন-কার্তিক মাসে পাকে।
জনমানবশূন্য দ্বীপে গাছ কেমন করে জন্মায়?
জনমানবশূন্য দ্বীপে গাছের বীজ প্রধানত পাখিদের মাধ্যমে পৌঁছোয়। পাখিরা ফল খেয়ে তার বীজ অনেক দূর-দূর দেশেও নিয়ে যায়। এইভাবেই যখন কোনো নির্জন দ্বীপে সেই বীজ পড়ে, তখন তার থেকে সেখানে গাছ জন্মায়।
গাছ ও মরা ডালের কী প্রভেদ লেখক দেখিয়েছেন?
লেখক জগদীশচন্দ্র বসু বলেছেন যে, গাছে জীবন আছে, কিন্তু মরা ডালে জীবন নেই। জীবের জীবনধর্ম হল বৃদ্ধি, তাই গাছটি ক্রমশ বাড়ে। কিন্তু মৃত্যু কেবল লয়, ক্ষয় এবং বিলীন হওয়া, তাই মরা ডালটির ক্রমশ ক্ষয় হয়ে যায়।
ব্যাকরণ
নির্দেশ অনুসারে বাক্য পরিবর্তন করো –
আগে যখন একা মাঠে কিংবা পাহাড়ে বেড়াইতে যাইতাম, তখন সব খালি-খালি লাগিত। (সরল বাক্যে)
উত্তর – আগে একা মাঠে কিংবা পাহাড়ে বেড়াইতে গেলে সব খালি-খালি লাগিত।
তাদের অনেক কথা বুঝিতে পারি, আগে যাহা পারিতাম না। (হ্যাঁ-সূচক বাক্যে)
উত্তর – আগে না-বোঝা তাদের অনেক কথা এখন বুঝিতে পারি।
ইহাদের মধ্যেও আমাদের মতো অভাব, দুঃখ-কষ্ট দেখিতে পাই। (জটিল বাক্যে)
উত্তর – আমাদের মধ্যে যেমন অভাব, দুঃখ-কষ্ট আছে, ইহাদের মধ্যেও তেমন দেখিতে পাই।
তোমরা শুষ্ক গাছের ডাল সকলেই দেখিয়াছ। (না-সূচক বাক্যে)
উত্তর – শুষ্ক গাছের ডাল তোমরা কেউ দেখ নাই, তা নয়।
প্রবল বাতাসের বেগে কোথায় উড়িয়া যায়, কে বলিতে পারে? (প্রশ্ন পরিহার করো)
উত্তর – প্রবল বাতাসের বেগে কোথায় উড়িয়া যায়, কেহই বলিতে পারে না।
নীচের শব্দগুলির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো –
কীটপতঙ্গ, স্বার্থত্যাগ, বৃক্ষশিশু, বনজঙ্গল, জনমানবশূন্য, দিনরাত্রি, দেশান্তরে, নিরাপদ।
| প্রদত্ত শব্দ | ব্যাসবাক্য | সমাসের নাম |
| কীটপতঙ্গ | কীট ও পতঙ্গ | দ্বন্দ্ব সমাস |
| স্বার্থত্যাগ | স্বার্থকে ত্যাগ | কর্ম তৎপুরুষ |
| বৃক্ষশিশু | বৃক্ষের শিশু | সম্বন্ধ তৎপুরুষ |
| বনজঙ্গল | বন ও জঙ্গল | দ্বন্দ্ব সমাস |
| জনমানবশূন্য | জনমানব দ্বারা শূন্য | করণ তৎপুরুষ |
| দিনরাত্রি | দিন ও রাত্রি | দ্বন্দ্ব সমাস |
| দেশান্তরে | অন্য দেশে (দেশান্তর) | নিত্য সমাস |
| নিরাপদ | নেই আপদ | নঞ তৎপুরুষ |
নিম্নরেখাঙ্কিত অংশের কারক-বিভক্তি নির্দেশ করো –
- ইহাদের মধ্যে একের সহিত অপরের বন্ধুত্ব হয়।
- আর কিছুকাল পরে ইহার চিহ্নও থাকিবে না।
- বীজ দেখিয়া গাছ কত বড়ো হইবে বলা যায় না।
- মানুষের সর্বোচ্চ গুণ যে স্বার্থত্যাগ, গাছে তাহাও দেখা যায়।
| রেখাঙ্কিত শব্দ | কারক ও বিভক্তি |
| বন্ধুত্ব | কর্মকারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি। |
| ইহার | সম্বন্ধ পদে ‘র’ বিভক্তি। |
| বীজ | কর্মকারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি। |
| গাছে | অধিকরণ কারকে ‘এ’ বিভক্তি। |
সন্ধিবদ্ধ পদগুলি খুঁজে নিয়ে সন্ধি বিচ্ছেদ করো –
- তাহার মধ্যে বৃক্ষশিশু নিরাপদে নিদ্রা যায়।
- অতি প্রকাণ্ড বটগাছ, সরিষা অপেক্ষা ছোটো বীজ হইতে জন্মে।
- এই প্রকারে দিনরাত্রি দেশদেশান্তরে বীজ ছড়াইয়া পড়িতেছে।
| সন্ধিবদ্ধ পদ | সন্ধিবিচ্ছেদ |
| নিরাপদে | নিঃ + আপদে (নিঃ + আপদ) |
| অপেক্ষা | অপ + ঈক্ষা |
| দেশান্তরে | দেশ + অন্তরে (দেশ + অন্তর) |
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের পঞ্চম পাঠের অন্তর্গত ‘গাছের কথা’-এর কিছু ‘অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





Leave a Comment