এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের ষষ্ঠ পাঠের অন্তর্গত ‘স্বাদেশিকতা’-এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করব। এখানে লেখকের পরিচিতি, গল্পের উৎস, গল্পের পাঠপ্রসঙ্গ, গল্পের সারসংক্ষেপ, গল্পের নামকরণ এবং এর প্রধান বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এই আর্টিকেলটি আপনাদের ‘স্বাদেশিকতা’ গল্প সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দেবে এবং গল্পটি ভালোভাবে বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। এছাড়া, অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে লেখক ও গল্পের সারসংক্ষেপ সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে, তাই এই তথ্যগুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক পরিচিতি
1861 খ্রিস্টাব্দের 7 মে, 1268 বঙ্গাব্দের 25 বৈশাখ, কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে রবীন্দ্রনাথের জন্ম। মাত্র সাত-আট বছর বয়স থেকেই কবিতা লিখতে শুরু করেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কবিতা রচনার পাশাপাশি প্রবন্ধ, ছোটগল্প, নাটক, উপন্যাস, গান ইত্যাদি ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিভার বিকাশ ঘটে। বাংলা ছোটগল্পের যথার্থ রূপটি গড়ে উঠেছিল রবীন্দ্রনাথের হাতেই। ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত ‘ভারতী’ ও ‘বালক’ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। ‘কথা ও কাহিনি’, ‘সহজ পাঠ’, ‘রাজর্ষি’, ‘ছেলেবেলা’, ‘শিশু’, ‘শিশু ভোলানাথ’, ‘হাস্যকৌতুক’, ‘ডাকঘর’ প্রভৃতি রচনা শিশু ও কিশোরমনকে আলোড়িত করে। দীর্ঘজীবনে অজস্র কবিতা, গান, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ লিখেছেন। তাঁর গল্পগুলি ‘গল্পগুচ্ছ’-এর বিভিন্ন খণ্ডে আছে। 1913 খ্রিস্টাব্দে ‘Song Offerings’-এর জন্য এশিয়ায় তিনিই প্রথম নোবেল পুরস্কার পান। দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত তাঁর রচনা। 1941 খ্রিস্টাব্দের 7 আগস্ট, 1348 বঙ্গাব্দের 22 শ্রাবণ এই মহান মানুষের দেহাবসান হয়।
বিষয়সংক্ষেপ
‘স্বাদেশিকতা’ নামক পাঠ্যাংশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জ্যোতিদাদা অর্থাৎ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে গড়ে ওঠা স্বাদেশিক সভার পরিচয় দিয়েছেন। সে সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজনারায়ণ বসু। কলকাতার এক গলির এক পোড়োবাড়িতে গঠিত সেই সভার মূল বিষয়ই ছিল গোপনীয়তা। প্রাবন্ধিক বলেছেন, এই সভা সাধারণ মানুষ বা শাসকশক্তি কারোর মধ্যেই কোনো ভীতি আনতে পারেনি। কিন্তু এ যেন ছিল এক অসীম রহস্যে আবৃত। এখানে যেন তাঁরা সমস্ত সংকোচ ত্যাগ করে স্বাদেশিকতার এক উত্তেজনার তাপ পোহাতেন। কিন্তু কোনো বীরধর্ম তার ভিতর রক্ষিত হয়নি এবং শাসকশক্তিও অত্যধিক সন্দেহবশত তার উপর কোনো আঘাতও হানেনি।
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ এই সভায় স্বাদেশিকতার নমুনা প্রদর্শন করতেন। এমনই একটি হলো ভারতবর্ষের সর্বজনীন পোশাক নির্বাচন। ধুতি যেহেতু কাজের ক্ষেত্রে খুব সুবিধার নয় এবং পায়জামা যেহেতু বিজাতীয়, তাই তিনি এখানে এক নতুন পোশাকের নমুনা পেশ করলেন। পায়জামার উপর একখণ্ড কাপড় পাট করে একটা মালকোঁচা জুড়ে দিলেন এবং সেই পোশাক মানুষের মধ্যে প্রচলিত হওয়ার আগে নিজেই তা ব্যবহার করতে শুরু করলেন। চারপাশের মানুষ তাতে কতটা বিস্মিত হতো, সে-বিষয়ে তাঁর কোনো ভ্রুক্ষেপই থাকত না। দেশের জন্য প্রাণ দেওয়ার মানুষ অনেক থাকলেও, স্বাদেশিকতার জন্য এমন অদ্ভুত সর্বজনীন পোশাক পরে সর্বসমক্ষে নিজেকে প্রকাশ করার ক্ষমতা একমাত্র জ্যোতিরিন্দ্রনাথের ছিল বলে রবীন্দ্রনাথ এখানে মন্তব্য করেছেন।
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ স্বাদেশিকতার নেশায় উৎসাহিত হয়ে নানারকম নতুন নতুন পন্থা গ্রহণ করতেন এবং কিছুকাল সেই বিষয় নিয়ে প্রবল উদ্যোগে কার্যে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। শেষপর্যন্ত তিনি হয়তো সাফল্যের মুখ দেখতে পেতেন না। কিন্তু ব্যর্থ হয়েও তিনি কখনও সম্পূর্ণরূপে হাল ছেড়ে দিতেন না। তাঁর স্বাদেশিকতার এই নেশায় সমগ্র ঠাকুর পরিবারেই যেন উৎসাহের ঝড় বইত। আলোচ্য প্রবন্ধে জ্যোতিরিন্দ্রনাথের এমনই এক স্বাদেশিকতার উদাহরণ তুলে ধরেছেন প্রাবন্ধিক। সেই যুগে দাঁড়িয়ে সফল না হলেও জ্যোতিরিন্দ্রনাথের এই চেষ্টা প্রশংসার দাবি রাখে। পরিকল্পনা তেমন কিছু না থাকলেও তিনি কিন্তু সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে দেশের উন্নতির চেষ্টাতেই এই কাজে জড়িয়ে পড়তেন।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের ষষ্ঠ পাঠের অন্তর্গত ‘স্বাদেশিকতা’-এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করব। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।





Leave a Comment