অষ্টম শ্রেণি বাংলা – জেলখানার চিঠি – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘জেলখানার চিঠি’-এর কিছু ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

জেলখানার চিঠি - অষ্টম শ্রেণী - বাংলা - রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর
Contents Show

‘শুধু শাস্তি দেওয়া নয়, সংশোধনই হওয়া উচিত জেলের প্রকৃত উদ্দেশ্য।’ – তুমি কি এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

আমি এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত। দণ্ডাজ্ঞাপ্রাপ্ত অপরাধীদের অনেকেরই প্রবৃত্তিগুলি একপ্রকার মানসিক ব্যাধি। তাই সেরকমভাবেই কারাগারের মধ্যে তাদের ব্যবস্থা করা উচিত। কিন্তু ভারতে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠিত কারাশাসন ব্যবস্থায় বা প্রণালীতে একটা খারাপ আদর্শের অনুসরণ করা হয় মাত্র। তাই জেলখানার সমস্ত আবহাওয়াটাই যেন সাধারণ অপরাধীদের বিকৃত ও অমানুষ করে তোলারই উপযোগী বলে মনে হয়। এতে কারাবাসকালে এই আবাসিকদের নৈতিক উন্নতি তো হয়ই না, বরং তাতে তারা যেন আরও হীন হয়ে পড়ে। এই হীনমনের মানুষেরা কারাভ্যন্তরে বা মুক্তির পর সমাজজীবনে আর মানবিক আচরণ করতে পারে না। অতএব চাই সংস্কারমূলক নতুন দণ্ডবিধি, যা প্রতিষেধমূলক দণ্ডবিধির ঊর্ধ্বে অবস্থান করবে। কয়েদিদের সংশোধনের বা মানস পরিবর্তনের পথ পরিষ্কার করার উদ্যোগ কারাব্যবস্থায় না নিয়ে এলে কোনোদিনই অপরাধীর মন থেকে অপরাধবোধ দূর করা সম্ভব নয়।

‘আমাদের দেশের আর্টিস্ট বা সাহিত্যিকগণের যদি কিছু কিছু কারাজীবনের অভিজ্ঞতা থাকত তাহলে আমাদের শিল্প ও সাহিত্য অনেকাংশে সমৃদ্ধ হত।’ – এ প্রসঙ্গে কারাজীবন যাপন করা কয়েকজন সাহিত্যিকের নাম এবং তাঁদের রচিত গ্রন্থের নাম উল্লেখ করো।

কারাবাস সবসময়ই যে অপরাধমূলক কাজকর্মের জন্য ঘটে তা নয়, দণ্ডবিধির অজস্র নিয়ম ও তার প্রতিফলনের কারণে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিভিন্ন সময়ে কারাবাস করতে হয়। তাঁদের শিল্পীসত্তা কখনো কখনো তাঁদের দিয়ে যে অসাধারণ গ্রন্থ লিখিয়ে নিয়েছে, তা অসামান্য। প্রখ্যাত সাহিত্যিক সতীনাথ ভাদুড়ী স্বাধীনতা আন্দোলনের শরিক হয়ে 1940 খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারিতে প্রথম কারাবরণ করেন। 1942 খ্রিস্টাব্দের আগস্ট আন্দোলনে জেলে দ্বিতীয়বার কারাবাস করার সময়ে তাঁকে ভাগলপুর সেন্ট্রাল জেলে বদলি করা হয়। তাঁর বিখ্যাত রাজনৈতিক উপন্যাস ‘জাগরী’ এখানেই রচিত হয়। ঋষি অরবিন্দ কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে বৎসরাধিককাল বন্দি থাকাকালে একটি ক্ষুদ্রকায় গ্রন্থ রচনা করেন, যাতে তাঁর অনন্য অভিজ্ঞতার কথা বর্ণিত হয়েছে। গ্রন্থটির নাম ‘কারাকাহিনি’। বিখ্যাত সাংবাদিক-সাহিত্যিক গৌরকিশোর ঘোষও রাজনৈতিকভাবে জেলে আটক হয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে রচনা করেন ‘আমাকে বলতে দাও’ নামের একটি ক্ষুদ্রকায় গ্রন্থ।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সম্পর্কে আরও জেনে ‘সুভাষচন্দ্রের স্বদেশপ্রেম’ বিষয়ে একটি প্রবন্ধ রচনা করো।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু হচ্ছেন সারা বিশ্বে দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যোগ্যতার সঙ্গে আইসিএস পাস করেও তিনি তৎকালের সরকারি চাকরি গ্রহণ না করে স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অগ্নিবিপ্লবে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তখনকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেশনেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন হলেন তাঁর রাজনৈতিক গুরু। জীবনীশক্তি, মেধা ও কর্মনিষ্ঠার তিনি অফুরন্ত ভাণ্ডার ছিলেন। ‘অসহযোগ’ কিংবা ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন তো বটেই, এমনকি তৎকালের সহিংস বিপ্লববাদও তাঁর অসামান্য নেতৃত্বের ভিতর চরম আশ্রয় খুঁজে নেয়। এজন্য ব্রিটিশ সরকার বারবার তাঁকে কারারুদ্ধ করে তাঁর নেতৃত্বকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রণদামামা বেজে উঠল সেইসময়। 1940 খ্রিস্টাব্দে তিনি পুনরায় রাজবন্দি হলে স্বাস্থ্যহানির কারণে তাঁকে গৃহেই বন্দি করে রাখা হল। কিন্তু সুভাষচন্দ্র তাঁর এলগিন রোডের বাড়িতে অন্তরীণ অবস্থায় ছদ্মবেশে উধাও হয়ে গেলেন। দেশমাতৃকার মুক্তিকল্পে 1941 খ্রিস্টাব্দের 17 জানুয়ারি তিনি ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের সংকীর্ণ গিরিপথ দিয়ে পৌঁছোলেন আফগানিস্তানে। সেখান থেকে জার্মানি। জার্মানিতে তখন হিটলারের রমরমা। তিনি তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন। উদ্দেশ্য তাঁর সাহায্যে ভারতকে ব্রিটিশমুক্ত করা। বলা বাহুল্য, তাঁর উদ্দেশ্য সফল হল না। এবার তিনি দীর্ঘ সমুদ্রপথে ডুবোজাহাজে পাড়ি জমালেন জাপানে। সেখানেও তাঁর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সফল হল না। কিন্তু রাসবিহারী বসুর একান্ত সহযোগিতায় তাঁর হাতে এল আজাদ হিন্দ ফৌজের দায়িত্বভার। এই সুশিক্ষিত মুক্তিবাহিনী নিয়ে ভারতের প্রান্তদেশে এসে ইংরেজ সৈন্যদের পরাজিত করে তিনি ইম্ফল ও কোহিমায় উড়িয়ে দেন ভারতের পতাকা। মুক্ত করেন আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। ‘জয় হিন্দ’ অর্থাৎ ‘স্বাধীন ভারতের জয়’ ছিল তাঁর প্রিয় স্লোগান।

মান্দালয় জেল থেকে লেখা এই চিঠিটি সাহিত্য হিসেবে কতটা সার্থক, তা আলোচনা করো।

কোনো লেখাকে সার্থক হতে গেলে তার একটা গভীর ও বহুমাত্রিক আবেদন থাকতে হবে, যা পাঠককুলকে এক চিরন্তন সত্যে পৌঁছে দিতে পারবে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কেবল এক মহৎ স্বাধীনতা সংগ্রামী, দেশনেতা বা সেনাপ্রধান নন, তিনি একজন চিন্তানায়কও। তাই রাজনৈতিক কারণে যখন তাঁকে অকারণ জেলবন্দি হয়ে থাকতে হয়েছে, তখন তাঁর চিন্তার রাজ্যে প্রবেশ করে গভীর ভাবনায় ডুবে যেতে কোনোপ্রকার বাধা থাকেনি। এদিক থেকে বিচার করলে তাঁর 2/5/25 তারিখে মান্দালয় জেল থেকে লেখা এই চিঠিতে ব্যক্তিগত, মননশীল, চিন্তাবিদ এক অন্য সুভাষচন্দ্রকে আমরা আবিষ্কার করতে পারি। এ পত্রে জেলখানা, জেলবন্দি, কারা প্রশাসন ইত্যাদি বিষয়েই তাঁর মুক্ত মনের বিচ্ছুরণ ঘটতে দেখা যায়। সুভাষচন্দ্র অত্যন্ত দরদি ভাষায় তাঁর বন্ধুকে নিজের বন্দি থাকাকালীন মন ও মনন, সাধারণ বন্দিদের জন্য তাঁর অকপট সহানুভূতি ও বিদগ্ধ অনুভব এবং কারা প্রশাসনের দোষ-ত্রুটি বিষয়ে নিজ ভাবনার কথা জানিয়েছেন। এ আলোচনা এত আন্তরিক ও মানবিক যে, পত্রের মারফত এক মানুষের হৃদয় যেন গভীরভাবে এক নিমেষে পাঠকমনকে ছুঁয়ে যায়। বিশেষত বক্তার নিজস্ব ভাবোচ্ছ্বাস এখানে মন্ময় হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাই এ পত্র যে নিঃসন্দেহে সাহিত্য হিসেবে সার্থক হতে পেরেছে এবং তার আবেদন যে চিরকালীন, এ বিষয়টি সুনিশ্চিত।

‘জেলখানার চিঠি’ পত্রখানির মধ্য দিয়ে ব্যক্তি সুভাষচন্দ্রের যে ছবি খুঁজে পাওয়া যায়, তা আলোচনা করো।

ব্যক্তি হিসেবে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নতুন করে চেনানোর আর কোনো অবকাশ নেই। কারণ তিনি আজ সূর্যের মতো ভাস্বর প্রবাদপ্রতিম এমন এক ব্যক্তিত্ব, যাঁকে কখনও ভোলা যায় না। কিন্তু আপন রচনারাজিতে তাঁর যে নিজস্ব উপস্থাপনা, তা তাঁর মন ও মনন, কর্ম ও স্বপ্নকে আমাদের কাছে অন্যভাবে চিনিয়ে দেয়। তাঁর এই পত্রটির মধ্যে একান্ত ব্যক্তিগতরূপে তিনি ধরা পড়েছেন। বন্ধু সুভাষচন্দ্র – এ পত্র সুভাষচন্দ্র তাঁর অভিন্নহৃদয় বন্ধু দিলীপ রায়কে লিখেছিলেন, যাঁর চিঠি পেয়ে তাঁর হৃদয় আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। তিনি তাই অকপটে জানাচ্ছেন – “তোমার চিঠি হৃদয়তন্ত্রীকে এমনই কোমল ভাবে স্পর্শ করে চিন্তা ও অনুভূতিকে অনুপ্রাণিত করেছে যে, আমার পক্ষে এর উত্তর দেওয়া সুকঠিন।” বন্ধুর পাঠানো বই পেয়ে তিনি যারপরনাই খুশি। সেগুলি তিনি আর ফেরত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বন্ধুর পছন্দ যে অত্যন্ত সুন্দর, তা জানিয়ে তিনি আরও বই প্রত্যাশা করেছেন। মানুষ সুভাষচন্দ্র – জেলে বন্দি থেকে সাধারণত মানুষ নিজেকে নিয়ে ভীষণ বিব্রত হয়ে পড়ে। কিন্তু সুভাষচন্দ্র রাজবন্দি। তিনি নিজেকে নিয়ে অকারণ বিব্রত হননি। সাধারণ জেলবন্দিদের নিয়ে তাঁর চিন্তাভাবনায় বোঝা যায়, তাঁর হৃদয়বোধ কত মহৎ। তিনি কারাশাসন প্রণালীর প্রতি নিতান্ত ক্ষোভে বলেন – ‘এতদিন জেলে বাস করার পর কারা-শাসনের একটা আমূল সংস্কারের একান্ত প্রয়োজনের দিকে আমার চোখ খুলে গেছে এবং ভবিষ্যতে কারা-সংস্কার আমার একটা কর্তব্য হবে।’ আবার অন্যত্র বলেছেন – “আমার মনে হয় না, আমি যদি স্বয়ং কারাবাস না করতাম, তাহলে একজন কারাবাসী বা অপরাধীকে ঠিক সহানুভূতির চোখে দেখতে পারতাম।” এককথায় তিনি জেলে বসে কেবল নিজের পছন্দ বা মুক্তির কথা না ভেবে, দেশের সাধারণ মানুষ হিসেবে জেলবন্দি মানুষদের মানসমুক্তির কথাও ভেবেছেন নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে, এখানেই তাঁর সার্থকতা।

‘জেলখানার চিঠি’ পত্রটির মধ্যে জেলের সাধারণ অপরাধীদের প্রতি সুভাষচন্দ্রের সহানুভূতির যে পরিচয় পাওয়া যায়, তা আলোচনা করো।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন প্রকৃতার্থেই একজন দেশভক্ত। জেলে যারা সাধারণ কয়েদি, তাদের সুভাষচন্দ্র খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন। তাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে তাঁর মন কেঁদেছিল বলেই তিনি তাদের জন্য একটি কারাশাসন প্রণালী আশা করেছিলেন। অপরাধীদের প্রবৃত্তিগুলিকে মানসিক ব্যাধি বলেই ধরা উচিত বলে তিনি মনে করেছিলেন। প্রতিষেধকমূলক দণ্ডবিধিকে সংস্কারমূলক নতুন দণ্ডবিধির জন্য পথ করে দেওয়ার ভাবনাও তাঁর মনে উদিত হয়েছিল। দীর্ঘ কারাবাসে কীভাবে মানুষ আস্তে আস্তে অকালবৃদ্ধ হয়ে যায়, তা লক্ষ করে তিনি দরদের সঙ্গে তার কারণ খুঁজতে চেষ্টা করেছেন। কী পেলে তাদের ভালো হয়, কী অভাববোধ পূর্ণ হলে তারা ভালো থাকে, তা তাঁকে ভাবিয়েছে। সাধারণ অপরাধীদের মনকে বিশ্লেষণ করে তিনি দেখেছেন, তাদের মনের উপর গভীর চাপ এই জন্য থাকে যে, সে জানে মুক্তির পর নিজের বাড়ি ছাড়া আর কোথাও কোনো সহানুভূতি তারা আশা করতে পারে না। আর সেজন্যই তারা সাধারণের কাছে মুখ দেখাতে ভয় পায়। এমনও কয়েদি আছে, যাদের বাড়ির লোকেরা জানেই না, তারা জেলবন্দি। এজন্য তাদের অকুণ্ঠ সহানুভূতি দেওয়া কর্তব্য বলে লেখক মনে করেছেন।

সুভাষচন্দ্র বসুর ‘জেলখানার চিঠি’ রচনায় কারা-প্রশাসনের বিভিন্ন দিক কীভাবে ফুটে উঠেছে?

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ‘জেলখানার চিঠি’ রচনাটিতে কারা-প্রশাসন বা জেলের অভ্যন্তরীণ শাসনপ্রণালী সম্পর্কে একটি গভীর পর্যালোচনার দিক ধরা পড়েছে। একজন সাধারণ অপরাধী ও রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে তাঁর মধ্যে যে তফাত, তাও এ রচনায় সুস্পষ্ট। বিশেষত ভারতের তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, দেশের পরাধীন অবস্থায়, জেলের অভ্যন্তরীণ দিকগুলির প্রতিও এই রচনায় আমাদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। পত্রের প্রথমেই লেখক জানাচ্ছেন যে, বন্দির চিঠি সেন্সরের (censor) হাত অতিক্রম করে অন্তরের গভীর প্রবাহগুলি দিনের মুক্ত আলোয় প্রকাশিত হোক—এটা কেউ চায় না। তাই তাঁর বন্দিদিনের ভাবনাগুলি বুঝি পাথরের দেয়ালে ও লৌহকপাটের অন্তরালেই বদ্ধ থেকে যাবে। জেলখানার তৎকালীন আবহাওয়া বন্দি মানুষকে বিকৃত ও অমানুষ করে তোলারই উপযোগী বলে তাঁর মনে হয়েছে। কারণ কারাবাসে মানুষের নৈতিক উন্নতি তো হয়ই কাম, বরং তারা আরও হীন হয়ে পড়ে। তাই তিনি ভেবেছেন ‘ভবিষ্যতে কারা-সংস্কার আমার একটা কর্তব্য হবে’। কারায় ব্রিটিশ-প্রণালীর অনুসরণের বদলে আমেরিকার মতো উন্নত দেশের ব্যবস্থাই গ্রহণযোগ্য বলে তাঁর মনে হয়েছে। অপরাধীদের প্রবৃত্তিগুলিকে মানসিক ব্যাধি ধরে কারাশাসন প্রক্রিয়ায় প্রতিষেধমূলক দণ্ডবিধির পরিবর্তে সংস্কারমূলক নতুন দণ্ডবিধির প্রয়োগ চেয়েছেন তিনি। সাধারণ অপরাধীদের কারাযাপনকে সহজতর করার জন্য তিনি অনেক বিনোদনমূলক ব্যবস্থা প্রতিস্থাপনের কথাও বলেছেন। তার মধ্যে একটা হল মুক্ত ও বদ্ধ জীবনের ফারাককে কমিয়ে আনা। আর সবচেয়ে বড়ো কথা, অপরাধী বলে নির্দয় কঠোরতা না দেখিয়ে সর্বস্তরে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার পরামর্শ রেখেছেন তিনি কারা-প্রশাসনে।


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘জেলখানার চিঠি’-এর কিছু ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

নির্মিতি ব্যাকরণ - এক শব্দের একাধিক অর্থে প্রয়োগ - অষ্টম শ্রেণি - বাংলা

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – নির্মিতি ব্যাকরণ – এক শব্দের একাধিক অর্থে প্রয়োগ

নির্মিতি ব্যাকরণ - বাংলা প্রবাদ - অষ্টম শ্রেণি - বাংলা

অষ্টম শ্রেণি – বাংলা – নির্মিতি ব্যাকরণ – বাংলা প্রবাদ

অষ্টম শ্রেণি বাংলা - ছোটোদের পথের পাঁচালী - সঠিক উত্তর নির্বাচন করো

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ছোটোদের পথের পাঁচালী – সঠিক উত্তর নির্বাচন করো

About The Author

Souvick

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

বায়ুদূষণ কাকে বলে? বায়ুদূষণের ক্ষতিকারক প্রভাবগুলি লেখো।

অ্যাজমা বা হাঁপানি কী? অ্যাজমা রোগের সৃষ্টিতে পরিবেশগত ভূমিকাগুলি উল্লেখ করো।

ব্রংকাইটিস কী? ব্রংকাইটিস রোগের সৃষ্টিতে পরিবেশের ভূমিকা উল্লেখ করো।

ক্যানসার রোগের জন্য দায়ী পরিবেশগত কারণগুলি সম্পর্কে লেখো।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে দূষণের সম্পর্ক লেখো।