এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “নিষেক ও দ্বিনিষেক কী? নিষেক ও দ্বিনিষেকের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা”-র “সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
নিষেক ও দ্বিনিষেক কী?
দ্বিনিষেক
গুপ্তবীজী উদ্ভিদের ভ্রূণস্থলীর অভ্যন্তরে থাকা দুটি পুংগ্যামেটের মধ্যে একটি পুংগ্যামেট ( \(n\)) ও নির্ণীত নিউক্লিয়াসের ( \(2n\)) মিলনে সস্য নিউক্লিয়াস ( \(3n\)) গঠিত হয় এবং অপর একটি পুংগ্যামেট ( \(n\)) ও ডিম্বাণুর ( \(n\)) মিলনে জাইগোট ( \(2n\)) গঠিত হয়। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে উদ্ভিদদেহে দুবার নিষেক প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাই একে দ্বিনিষেক বলে।

দ্বিনিষেকের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Double Fertilization)
- কেবলমাত্র গুপ্তবীজীতে উপস্থিত – এটি শুধুমাত্র গুপ্তবীজী (Angiosperms) উদ্ভিদের একটি অনন্য (unique) বৈশিষ্ট্য। অন্য কোনো শ্রেণির উদ্ভিদ বা প্রাণীতে দ্বিনিষেক দেখা যায় না।
- দুটি পুংগ্যামেটের সক্রিয় অংশগ্রহণ – পরাগনালি থেকে ভ্রূণস্থলীতে নির্গত হওয়া দুটি পুংগ্যামেটই এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।
- দুবার মিলন বা নিষেক – একই ভ্রূণস্থলীর (Embryo sac) ভেতরে প্রায় একই সময়ে দুবার নিষেকের ঘটনা ঘটে। একটি পুংগ্যামেট ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে এবং অপর পুংগ্যামেটটি নির্ণীত নিউক্লিয়াসকে (Definitive nucleus) নিষিক্ত করে।
- সস্য ও ভ্রূণ গঠন – এই প্রক্রিয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—এর ফলে একদিকে যেমন ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট তৈরি হয় (যা থেকে ভবিষ্যৎ উদ্ভিদ বা ভ্রূণ গঠিত হয়), তেমনি অন্যদিকে ট্রিপ্লয়েড (3n) সস্য বা এন্ডোস্পার্ম তৈরি হয়। এই সস্যই বীজের অঙ্কুরোদ্গমের সময় এবং ভ্রূণের বৃদ্ধিতে পুষ্টি জোগায়।
নিষেক
যে প্রক্রিয়ায় হ্যাপ্লয়েড ( \(n\)) পুং-জননকোশ বা পুংগ্যামেট এবং হ্যাপ্লয়েড ( \(n\)) স্ত্রী-জননকোশ (ডিম্বাণু) মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড ( \(2n\)) জাইগোট সৃষ্টি করে, তাকে নিষেক বলে।

নিষেকের বৈশিষ্ট্য
- গ্যামেটের মিলন – এই প্রক্রিয়ায় দুটি ভিন্নধর্মী জননকোশ, অর্থাৎ একটি পুংগ্যামেট (শুক্রাণু) এবং একটি স্ত্রীগ্যামেটের (ডিম্বাণু) সরাসরি মিলন ঘটে।
- জাইগোট সৃষ্টি – দুটি হ্যাপ্লয়েড (n) গ্যামেটের মিলনের ফলে সর্বদা একটি ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট বা ভ্রূণাণু সৃষ্টি হয়।
- প্রকৃতি – এটি যৌন জনন প্রক্রিয়ার একটি অপরিহার্য এবং প্রধান ধাপ। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জীবের বংশগতি বজায় থাকে।
- সংঘটনস্থল – যৌন জনন সম্পন্নকারী সকল উন্নত উদ্ভিদ (যেমন – ফার্ন, ব্যক্তবীজী, গুপ্তবীজী) এবং প্রাণীর দেহে এই প্রক্রিয়াটি দেখা যায়।
নিষেক ও দ্বিনিষেক -এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।
নিষেক ও দ্বিনিষেক -এর মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | নিষেক | দ্বিনিষেক |
| প্রক্রিয়ার সংঘটনস্থল | নিষেক প্রক্রিয়াটি সকল উন্নতশ্রেণির উদ্ভিদ এবং প্রাণীদেহে সংঘটিত হয় যারা যৌন জনন সম্পন্ন করে। | দ্বিনিষেক প্রক্রিয়াটি কেবলমাত্র গুপ্তবীজী উদ্ভিদেই সম্পন্ন হয়। |
| নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়া | নিষেক প্রক্রিয়ায় শুক্রাণু বা পুংগ্যামেট, ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে। | দ্বিনিষেক প্রক্রিয়ায় একটি পুংগ্যামেট একটি ডিম্বাণুকে এবং অপর একটি পুংগ্যামেট নির্ণীত নিউক্লিয়াসকে নিষিক্ত করে। |
| সস্য (3n) এবং জাইগোট (2n)। | জাইগোট (2n)। | সস্য (3n) এবং জাইগোট (2n)। |
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “নিষেক ও দ্বিনিষেক কী? নিষেক ও দ্বিনিষেক -এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





মন্তব্য করুন