এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘শিকল-পরার গান’-এর কিছু ‘অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো
কবি নজরুল ইসলামকে বলা হয় – (কিশোর / দুঃখবাদী / বিদ্রোহী) কবি।
উত্তর – বিদ্রোহী।
‘বিষের বাঁশি’ কাব্যের রচয়িতা হলেন – (রবীন্দ্রনাথ / সত্যেন্দ্রনাথ / নজরুল ইসলাম)।
উত্তর – নজরুল ইসলাম।
নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন – (চুরুলিয়া / পুরুলিয়া / শিমুলিয়া) গ্রামে।
উত্তর – চুরুলিয়া।
কবি নজরুল – (প্রাচীন / মধ্য / আধুনিক) যুগের কবি।
উত্তর – আধুনিক।
‘শিকল-পরার গান’ কবিতাটি লিখেছেন – (নজরুল ইসলাম / জীবনানন্দ দাশ / সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত)।
উত্তর – নজরুল ইসলাম।
শূন্যস্থান পূরণ করো
শিকল পরেই ___ তোদের করব রে বিকল।
উত্তর – শিকল পরেই শিকল তোদের করব রে বিকল।
শিকলবাঁধা পা নয় এ ___ কল।
উত্তর – শিকলবাঁধা পা নয় এ শিকল-ভাঙা কল।
ভয়-দেখানো ___ মোরা করব সর্বনাশ।
উত্তর – ভয়-দেখানো ভূতের মোরা করব সর্বনাশ।
আনব মাভৈঃ-বিজয়মন্ত্র ___ বল।
উত্তর – আনব মাভৈঃ-বিজয়মন্ত্র বলহীনের বল।
ফাঁসি পরে আনব হাসি ___ ফল।
উত্তর – ফাঁসি পরে আনব হাসি মৃত্যু-জয়ের ফল।
মুক্তি-পথের ___ চরণ-বন্দনা।
উত্তর – মুক্তি-পথের অগ্রদূতের চরণ-বন্দনা।
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
কবি কাজী নজরুল ইসলাম কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে কবি কাজী নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি কী কী ধরনের গানের রচয়িতা?
কাজী নজরুল ইসলাম শ্যামাসংগীত, গজল, দেশাত্মবোধক, ইসলামি প্রভৃতি গানের রচয়িতা।
‘শিকল-পরা ছল’ বলতে কবি প্রকৃতপক্ষে কী বোঝাতে চেয়েছেন?
‘শিকল-পরা ছল’ বলতে কবি এক সংগ্রামকৌশলকে বুঝিয়েছেন, যেখানে ব্রিটিশের তৈরি শিকল পরেই ভারতীয়রা পরাধীনতার শিকলকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলবে।
‘ক্ষয় করতে আসা মোদের সবার বাঁধন-ভয়।’ – ‘বাঁধন-ভয়’ ক্ষয় করতে কারা, কোথায় এসেছেন?
‘বাঁধন-ভয়’ ক্ষয় করতে পরাধীন ভারতবাসীরাই ইংরেজের তৈরি বাঁধন বন্ধ করাতে (বা ছিন্ন করতে) এসেছেন।
‘মুক্তি-পথের অগ্রদূতের চরণ-বন্দনা’ কীভাবে রচিত হয়?
শিকল-ঝনঝনার মাধ্যমে মুক্তিপথের অগ্রদূতের চরণ-বন্দনা রচিত হয়।
‘মোদের অস্থি দিয়েই জ্বলবে দেশে আবার বজ্রানল।’ – পঙ্ক্তিটিতে ‘আবার’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে কেন?
স্বর্গকে বৃত্রাসুরের শোষণের হাত থেকে মুক্ত করার কারণে দধীচি মুনির অস্থি দিয়ে বজ্র তৈরি করা হয়েছিল। ভারতকে ইংরেজের শোষণের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য দেশবাসীর অস্থি দিয়েও বজ্রানল প্রজ্বলিত করা হবে বলে কবি মনে করেছেন – এই কারণেই ‘শিকল-পরার গান’ কবিতাটিতে ‘আবার’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
নজরুল ইসলামের পিতার নাম কী?
নজরুল ইসলামের পিতার নাম হলো ফকির আহমেদ।
নজরুলের কোন্ কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল?
নজরুলের ‘মুক্তি’ কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
কবি নজরুলের লেখা একটি কাব্যের নাম লেখো।
কবি নজরুলের লেখা একটি কাব্য হলো ‘অগ্নিবীণা’।
‘শিকল পরেই শিকল তোদের করব রে বিকল’। – এখানে ‘তোদের’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
প্রশ্নে প্রদত্ত অংশে ‘তোদের’ বলতে শাসক ইংরেজদের বোঝানো হয়েছে।
‘করব তারে লয়’। – কাকে ‘লয়’ করতে চান কবি?
ভয়ের শাসনকে কবি ‘লয়’ করতে চেয়েছেন।
‘মোরা করব সর্বনাশ।’ – কীসের সর্বনাশ করতে চান কবি?
ভয়-দেখানো ভূতের সর্বনাশ করতে চান কবি নজরুল ইসলাম।
কবি নজরুল ইসলামের লেখা তিনটি কাব্যের নাম লেখো। এই প্রসঙ্গে পাঠ্য কবিতাটির উৎস কী লেখো।
কবি নজরুল ইসলামের লেখা তিনটি কাব্য হলো – ‘সর্বহারা’, ‘অগ্নিবীণা’ ও ‘বিষের বাঁশি’। আমাদের পাঠ্য ‘শিকল-পরার গান’ কবিতাটির উৎস হলো ‘বিষের বাঁশি’ কাব্যগ্রন্থ।
‘বন্ধ কারায় আসা মোদের বন্দি হতে নয়,’ – ‘মোদের’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? তারা কী করবে?
‘মোদের’ বলতে কবি পরাধীন ভারতবাসীকেই বুঝিয়েছেন। এই ভারতীয়রা সকলের বাঁধন-ভয়কে ক্ষয় বা নাশ করবে।
বিদেশি সরকার কীভাবে এ দেশ শাসন করছে বলে কবি মনে করেছেন?
বিদেশি সরকার ভারতবর্ষের বুকে ত্রাসের শাসন শুরু করেছে। তারা ভয়ভীতির মাধ্যমে এ দেশের জনগণকে শাসনের নামে শোষণ করছে বলে কবি মনে করেছেন।
‘ওরে ক্রন্দন নয়,’ – উদ্ধৃতিটির উৎস কী? ‘ওরে’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে?
প্রশ্নোক্ত অংশটির উৎস হলো কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘শিকল-পরার গান’ নামক কবিতা। ‘ওরে’ বলতে লাঞ্ছিত, পরাধীন ভারতবাসীদের কথা বলা হয়েছে।
কোন্ কবিতাটি নজরুলকে বাংলা কাব্যজগতে পরিচিতি দান করেছে? কবিতাটির প্রকাশকাল লেখো।
‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কবি নজরুলকে বাংলা কাব্যজগতে পরিচিতি দান করেছে। এই কবিতাটির প্রথম প্রকাশকাল হলো 1921 খ্রিস্টাব্দ।
ব্যাকরণ
দল বিশ্লেষণ করো –
(বন্ধনী, বঝঞ্ঝনা, বজ্রানল, সর্বনাশ, অস্থি)
| শব্দ | দল বিশ্লেষণ | মুক্ত দল / রুদ্ধ দল |
| বন্ধনী | বন্ – ধ – নী | বন্ (রুদ্ধ দল), ধ (মুক্ত দল), নী (মুক্ত দল) |
| ঝঞ্ঝনা | ঝন্ – ঝ – না | ঝন্ (রুদ্ধ দল), ঝ (মুক্ত দল), না (মুক্ত দল) |
| বজ্রানল | বজ্ – রা – নল্ | বজ্ (রুদ্ধ দল), রা (মুক্ত দল), নল্ (রুদ্ধ দল) |
| সর্বনাশ | সর্ – ব – নাশ্ | সর্ (রুদ্ধ দল), ব (মুক্ত দল), নাশ্ (রুদ্ধ দল) |
| অস্থি | অস্ – থি | অস্ (রুদ্ধ দল), থি (মুক্ত দল) |
ধ্বনি পরিবর্তনের কোন্ নিয়ম এখানে কাজ করেছে দেখাও –
বাঁধন, পরে।
- বাঁধন – বন্ধন > বাঁধন (নাসিক্যীভবন)।
- পরে – পরিয়া > পইর্যা > পরে (অভিশ্রুতি)।
বাক্য রূপান্তর করো –
ভয়-দেখানো ভূতের মোরা করব সর্বনাশ। (জটিল বাক্যে)
উত্তর – ভয়-দেখানো যে ভূত মোরা তার সর্বনাশ করব।
মোরা ফাঁসি পরে আনব হাসি মৃত্যু জয়ের ফল। (যৌগিক বাক্যে)
উত্তর – মোরা ফাঁসি পরব এবং হেসে মৃত্যুজয়ের ফল আনব।
তোদের বন্ধ কারায় আসা মোদের বন্দী হতে নয়। (চলিত গদ্যে)
উত্তর – তোদের বন্ধ কারায় বন্দি হবার জন্য আমাদের আসা নয়।
পদ চিহ্নিত করো –
তোমরা বন্ধ ঘরের বন্ধনীতে করছ বিশ্বগ্রাস।
উত্তর – তোমরা – সর্বনাম; বন্ধ, ঘর, বন্ধনী, বিশ্বগ্রাস – বিশেষ্য; করছ – ক্রিয়া।
মোরা ফাঁসি পরে আনব হাসি মৃত্যু-জয়ের ফল।
উত্তর – মোরা – সর্বনাম; পরে, আনব – ক্রিয়া; ফাঁসি, হাসি, মৃত্যুজয়, ফল – বিশেষ্য।
এবার আনব মাভৈঃ-বিজয়-মন্ত্র বলহীনের বল।
উত্তর – মাভৈঃ-বিজয়-মন্ত্র – বিশেষ্য; বলহীন – বিশেষণ; আনব – ক্রিয়া; বল – বিশেষ্য।
ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো –
(শিকল-ঝঞ্ঝনা, চরণ-বন্দনা, বজ্রানল, মৃত্যুজয়)
| সমস্ত পদ | ব্যাসবাক্য | সমাসের শ্রেণি |
| শিকল-ঝনঝনা | শিকলের ঝনঝনা | সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস |
| চরণ-বন্দনা | চরণকে বন্দনা | কর্ম তৎপুরুষ সমাস |
| বজ্রানল | বজ্ররূপ অনল | রূপক কর্মধারয় সমাস |
| মৃত্যুঞ্জয় | মৃত্যুকে জয় করেছে যে | উপপদ তৎপুরুষ সমাস (অথবা মৃত্যুকে জয় – কর্ম তৎপুরুষ) |
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘শিকল-পরার গান’-এর কিছু ‘অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





Leave a Comment