এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মানব বিকাশের বিভিন্ন দশাগুলির বিবরণ দাও। অথবা, মানব বিকাশের দশায় সংঘটিত পরিবর্তনগুলির বিবরণ দাও।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা”-এর “বৃদ্ধি ও বিকাশ” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মানব বিকাশের বিভিন্ন দশাগুলির বিবরণ দাও।
অথবা, মানব বিকাশের দশায় সংঘটিত পরিবর্তনগুলির বিবরণ দাও।
মানব বিকাশের বিভিন্ন দশা – মানব বিকাশের পাঁচটি দশা –
- সদ্যোজাত
- শৈশবকাল
- বয়ঃসন্ধিকাল
- পরিণত দশা
- বার্ধক্য দশা

সদ্যোজাত –
শিশুর জন্মের দিন থেকে 2 বছর অবধি সময়কালকে সদ্যোজাত অবস্থা বলে।
- এই দশায় শিশুদের দুগ্ধপানের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
- শিশুর বিপাকীয় হার বৃদ্ধি পায়।
- শিশুর মস্তিষ্ক দেহের অন্য অংশগুলির তুলনায় বেশি বৃদ্ধি পায়।
- এই দশায় শিশু মুখ দেখে লোক চেনার চেষ্টা করে।
- মুখ দিয়ে নানারকম শব্দ করে।
শৈশব –
শৈশবকাল 2 বছর থেকে 11 বছর পর্যন্ত চলতে থাকে।
- এই দশায় দেহের সমগ্র অংশে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি ঘটে।
- হাতের ও পায়ের দৈর্ঘ্য ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।
- মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ডের বৃদ্ধি ঘটে।
- শিশুর মানসিক ও বৌদ্ধিক ক্রমবিকাশের পাশাপাশি সামাজিক সংযোগস্থাপন হয়।
- এই দশায় শিশুদের ‘দুধের দাঁত’ পড়ে গিয়ে নতুন এবং স্থায়ী দাঁত গজায়।
- বিভিন্ন খেলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
বয়ঃসন্ধিকাল –
শৈশবের পরবর্তী দশাটি হল বয়ঃসন্ধিকাল। বয়ঃসন্ধিকাল 11 বছর থেকে 18 বা 19 বছর পর্যন্ত চলতে থাকে। বয়ঃসন্ধিকালটিকে ‘ঝড়ঝঞ্ঝার কাল’-ও বলা হয়।
- এই দশায় বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনগুলি পরিলক্ষিত হয়।
- যৌন জননাঙ্গগুলি সক্রিয়ভাবে কাজ করতে শুরু করে। জননাঙ্গগুলি থেকে বিভিন্ন যৌন হরমোন যেমন – টেস্টোস্টেরন (পুরুষের ক্ষেত্রে), প্রোজেস্টেরন ও ইস্ট্রোজেন (মহিলাদের ক্ষেত্রে) ক্ষরিত হয়।
- এই সময় দেহের বিভিন্ন অংশে চুল বা রোম গজায়, মুখে ব্রণের আবির্ভাব হয়, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন হয়।
- এই সময় পেশি এবং অস্থিগুলিও বৃদ্ধিলাভ করে।
পরিণত দশা –
পরিণত দশা 20-60 বছর পর্যন্ত চলতে থাকে।
- এই সময় দেহের বৃদ্ধি ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে।
- এই দশায় সৃজনশীলতা, সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব দান, বিশ্লেষণী ক্ষমতা বৃদ্ধি ইত্যাদি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
বার্ধক্য দশা –
পরিণত দশা অতিবাহিত হওয়ার পর বার্ধক্য ঘনিয়ে আসে। বার্ধক্য দশা 60 বছর বয়সের পরবর্তী সময়কাল পর্যন্ত চলতে থাকে।
- এই সময় দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়।
- দেহে বিভিন্ন রোগ দেখা যায়।
- দৈহিক কার্যক্ষমতা লোপ পায়।
- হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ায় অস্টিওপোরোসিস দেখা যায়।
- অস্থিসন্ধির ক্ষয় হওয়ায় স্বাভাবিক চলাফেরা করতে সমস্যা হয়।
- দৈহিক ওজন ক্রমাগত কমতে থাকে।
- ব্যক্তির শারীরবৃত্তীয় এবং জৈবনিক পদ্ধতির অবনতি ঘটে, ফলস্বরূপ দেখা দেয় মৃত্যু।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মানব বিকাশের বিভিন্ন দশাগুলির বিবরণ দাও। অথবা, মানব বিকাশের দশায় সংঘটিত পরিবর্তনগুলির বিবরণ দাও।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা”-এর “বৃদ্ধি ও বিকাশ” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





মন্তব্য করুন