এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “জীবদেহের বৃদ্ধি প্রক্রিয়ায় বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ শর্তগুলির ভূমিকা কী?” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “বৃদ্ধি ও বিকাশ” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বৃদ্ধি কাকে বলে?
শিশুদের দেহের পরিমাণগত পরিবর্তন অর্থাৎ দেহের আয়তন (দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা) ও ওজন বাড়ানোকে বৃদ্ধি বলে।
এই প্রসঙ্গে মনোবিদ Arnold Gessel বলেছেন— “growth is a function of the organism rather than of the environment as such” অর্থাৎ বৃদ্ধি হল দেহ যন্ত্রের ক্রিয়া যা পরিবেশের ক্রিয়া দ্বারা সম্পূর্ণভাবে নির্ধারিত হয় না।
বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Growth)
জন্মের পর শিশুর বৃদ্ধি কিভাবে ঘটে সে সম্পর্কে বিভিন্ন গবেষণা থেকে মনোবিজ্ঞানীরা বৃদ্ধির যে বৈশিষ্ট্যগুলো নির্ণয় করেছেন সেগুলি হল—
- বংশগতি ও পরিবেশগত মিথষ্ক্রিয়ার ফলে শিশুর বৃদ্ধি ঘটে।
- জন্মের পর থেকে শিশুর দৈহিক বৃদ্ধির হার বিভিন্ন বয়সে কখনো বাড়ে আবার কখনো কমে।
- জন্ম থেকে আড়াই বছর বয়স পর্যন্ত দৈহিক বৃদ্ধির হার খুব দ্রুত হয়।
- আড়াই বছর বয়স থেকে 12 কিংবা 13 বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর দৈহিক বৃদ্ধির হার কমে যায়।
- 15-16 বছর বয়সে অর্থাৎ কৈশোরে দৈহিক বৃদ্ধির হার আবার বেড়ে যায়।
বৃদ্ধি ও বিকাশের মধ্যে পার্থক্য
| বৃদ্ধি (Growth) | বিকাশ (Development) |
| আকার ও আয়তনে বেড়ে যাওয়াকেই বৃদ্ধি বলে। | আকার ও আয়তন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয়তা এবং কার্যসম্পাদনের উৎকর্ষতা বিকাশের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। |
| বৃদ্ধি হল কারণ। | বিকাশ তার ফল। |
| বৃদ্ধি একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত ঘটে। | বিকাশ আমৃত্যু ঘটে। |
| বৃদ্ধি পরিমাপযোগ্য। | বিকাশ পর্যবেক্ষণসাপেক্ষ। |
| বৃদ্ধি পরিমাণগত। | বিকাশ গুণগত। |
| বৃদ্ধির ধারণা কেবল দৈহিক বা শরীরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। | বিকাশের ধারণায় দৈহিক, মানসিক, সামাজিক, প্রাক্ষোভিক সবই অন্তর্ভুক্ত। |
| বৃদ্ধির অনুশীলন ‘বিশেষ’ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট। যেমন, হাতের পেশির ব্যায়াম করলে হাতের পেশির বৃদ্ধি হবে, পায়ের পেশির ওপর এর প্রভাব নেই। | বিকাশ সামগ্রিক। মানসিক বিকাশের চর্চা করলে তার প্রতিফলন সামাজিক, প্রাক্ষোভিক বিকাশের ওপরেও দেখা যায়। |
জীবদেহের বৃদ্ধি প্রক্রিয়ায় বাহ্যিক শর্তগুলির ভূমিকা –
আলো – জীবদেহে মূলত উদ্ভিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি আলোর তীব্রতার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
জল – জীবদেহে প্রোটোপ্লাজমের ক্রিয়াশীলতা জলের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে, তাই জীবদেহের বৃদ্ধিতে জলের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
জীবদেহের বৃদ্ধি প্রক্রিয়ায় অভ্যন্তরীণ শর্তগুলির ভূমিকা –
হরমোন – জীবদেহের বৃদ্ধি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যেমন- উদ্ভিদদেহে অক্সিন, সাইটোকাইনিন এবং প্রাণীদেহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন গ্রোথ হরমোন, এ ছাড়াও থাইরক্সিন প্রভৃতি বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।
DNA (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) – DNA মূলত বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে ও প্রোটিন সংশ্লেষের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজনের সময় নির্ভুল প্রতিলিপি গঠনে সাহায্য করে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “জীবদেহের বৃদ্ধি প্রক্রিয়ায় বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ শর্তগুলির ভূমিকা কী?” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “বৃদ্ধি ও বিকাশ” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





মন্তব্য করুন