অষ্টম শ্রেণি বাংলা – লোকটা জানলই না – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের নবম পাঠের অন্তর্গত ‘লোকটা জানলই না’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

লোকটা জানলই না - অষ্টম শ্রেণি - বাংলা - সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

‘লোকটা জানলই না’ পঙক্তিটি দুবার কবিতায় আছে। এই পঙক্তিটি একাধিকবার ব্যবহারের কারণ কী?

কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘লোকটা জানলই না’ কবিতাটির মধ্যে ‘লোকটা জানলই না’ পঙক্তিটি দুবার ব্যবহৃত হয়েছে। উক্ত পঙক্তিটির একাধিকবার ব্যবহারের যৌক্তিকতা রয়েছে। প্রথমত, কবি বলেছেন লোকটি গচ্ছিত সম্পদ সামলাতে সামলাতেই ইহকাল ও পরকাল কাটিয়েছে। অস্থিমজ্জার নীচে সযত্নে রক্ষিত হৃদয়ের উপস্থিতির কথা সে বিন্দুমাত্র জানলই না। দ্বিতীয়ত, কবি বলেছেন গোগ্রাসে অর্থ উদরসাৎ করার মাঝেই অন্তর্হিত হয়েছে তার হৃদয়। হৃদয়ের উপস্থিতির কথা যেমন লোকটি জানলই না, তেমনই জানল না হৃদয়ের অন্তর্ধানের কথাও। লোকটার জীবনের এই দুটি মূল সত্যকে প্রকাশ করার জন্যই কবি পঙক্তিটি একাধিকবার ব্যবহার করেছেন এবং যার ফলে বক্তব্য জোরালো হয়ে উঠেছে।

কবি ‘হায়-হায়’ কোন্ প্রসঙ্গে বলেছেন? কেন বলেছেন?

কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘লোকটা জানলই না’ কবিতাটির মধ্যে এক হৃদয়হীন, অর্থসর্বস্ব মানুষের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি লোকটির গচ্ছিত সম্পদ রক্ষা করতে করতেই যে-সমস্ত জীবন চলে গেল সেই প্রসঙ্গেই ‘হায়-হায়’ শব্দদ্বয় ব্যবহার করেছেন।

মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড়ো সম্পদ হল হৃদয়। কিন্তু কবিতায় বর্ণিত লোকটি সেই হৃদয়ের উপস্থিতি তথা গুরুত্বের কথা অনুধাবনই করতে পারল না। সারাজীবনকালই সে ছুটে চলল ধনসম্পদ সঞ্চয় করার জন্য। সঞ্চিত ধনসম্পদ আগলে রাখতে রাখতেই তার জীবনকাল অতিবাহিত হয়ে গেল, মৃত্যুও উপস্থিত হল। একারণেই কবি ‘হায় হায়’ শব্দদ্বয় ব্যবহার করেছেন।

কবিতাটির নামকরণ যদি হত ‘হৃদয়’ বা ‘আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ’ তাহলে তা কতটা সার্থক হত?

কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় ‘লোকটা জানলই না’ কবিতায় একজন হৃদয়হীন মানুষের কথা বলেছেন, যে মানুষটি সারাটা জীবন নিজের বুকপকেটটাই সামলে চলেছে; কারণ ওই পকেটেই গচ্ছিত রেখেছে তার অর্থসম্পদ, আর সেই সম্পদের পিছনে ছুটতে ছুটতে কখন যে জীবনটা শেষ হয়ে গেছে, তার খোঁজ তার রাখা হয়নি বা জানা হয়নি। তাই কবিতার নামকরণ ‘লোকটা জানলই না’ সার্থক হয়েছে।

যদি কবিতার নামকরণ ‘হৃদয়’ রাখা হত, সেক্ষেত্রে হয়তো নামকরণ সার্থক হত না। বাঁ-দিকের পকেটের নীচেই থাকে মানুষের অন্তর বা হৃদয়, যে অন্তরের ঐশ্বর্য অর্থের তুলনায় অনেক মহার্ঘ। অথচ মানুষটি সেই হৃদয়কে চিনতে পারেনি, জানতে পারেনি, অর্থাৎ আলোচ্য কবিতায় হৃদয়ের কোনো গুরুত্ব লোকটির আচরণে ধরা পড়েনি। তাই ‘হৃদয়’ নামকরণটি সার্থক হত না বলে আমার মনে হয়।

আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলত। মানুষের হৃদয়ের সেই ক্ষমতা অবশ্যই আছে। কিন্তু আলোচ্য কবিতায় বর্ণিত লোকটি সেই প্রদীপসদৃশ হৃদয়ের খোঁজ পায়নি কখনও। ফলে হৃদয়ও হয়ে ওঠেনি সেই প্রদীপের মতো আশ্চর্যের বস্তু। তাই কবিতাটির নামকরণ যদি ‘আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ’ হত, তা আমার মতে সার্থক হত না বলে মনে করি।

‘তার কড়িগাছে কড়ি হলো’ – বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

প্রশ্নোক্ত অংশটি কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘লোকটা জানলই না’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোচ্য কবিতায় কবি হৃদয়হীন, অর্থসর্বস্ব একজন মানুষের চিত্র অঙ্কন করেছেন। লোকটি আজীবন অর্থের পিছনে ছুটেছে এবং তার ফলস্বরূপ লক্ষ্মীদেবী অধিষ্ঠাত্রী হয়েছেন তার গৃহে। অর্থাৎ তার ধনসম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে ক্রমে ক্রমে। প্রসঙ্গত বলা যায় যে, ‘কড়ি’-কে পূর্বে বিনিময়ের মুদ্রারূপে ব্যবহার করা হত এদেশে। তাই ‘কড়িগাছ’ বলতে ধন বা সম্পদের কথাই বলেছেন কবি।

‘লোকটা জানলই না’ কবিতায় হৃদয়কে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে? কেন করা হয়েছে?

কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘লোকটা জানলই না’ কবিতায় আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের সঙ্গে হৃদয়ের তুলনা করা হয়েছে।

আরব্য রজনী উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র আলাদিনের একটি প্রদীপ ছিল, যাকে ঘর্ষণ করলে তা থেকে অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন এক দৈত্য বেরিয়ে আসত এবং আলাদিনের নির্দেশ মতো সে অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলতে পারত। কবি মনে করেন মানুষের অন্তর বা হৃদয় হল তেমনই অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার ক্ষমতাসম্পন্ন বস্তু বা শক্তি। হৃদয়ের মতো ঐশ্বর্যশালী বস্তু আর কিছুই নয়। প্রদীপ যেমন আলাদিনকে প্রভূত ঐশ্বর্য দিতে পারত, হৃদয়ও তেমনই দিতে পারে মানুষকে। তাই কবি হৃদয়কে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

‘লোকটার হইকাল পরকাল গেল।’ – উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য আলোচনা করো।

প্রশ্নোক্ত অংশটি কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘লোকটা জানলই না’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোচ্য কবিতায় কবি একজন অর্থসর্বস্ব মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। লোকটা সারাজীবন অর্থ-উপার্জন আর তা সঞ্চয়ের নেশায় ছুটে বেরিয়েছে। প্রচুর অর্থ সে সঞ্চয় করেছে। লক্ষ্মী দেবী তার গৃহে অধিষ্ঠান করে আছেন কিন্তু এই অর্থের পিছনে ছুটতে গিয়ে কখন যে জীবনটা শেষ হয়ে গেছে তা তার অনুভূতিতেও আসেনি। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সময় অর্থাৎ ইহকালে সে খোঁজ পেল না আসল সম্পদ হৃদয়ের, আর মৃত্যুর পরে যে কী আছে তা তো কারও জানাই নেই। এভাবে সমগ্র জীবনটাই তার অতিবাহিত হয়ে গেছে নিজের অজান্তেই।

‘খসে পড়ল তার জীবন’ – উক্তিটির তাৎপর্য লেখো।

সারাজীবন অর্থের পিছনে ছুটেছে লোকটা, সঞ্চয় করেছে প্রচুর সম্পদ। কিন্তু সকল সম্পদের সেরা যে হৃদয় তার খোঁজই জানল না লোকটা। আবার অর্থের পিছনে ছুটতে ছুটতে এবং গচ্ছিত অর্থকে সামলাতে সামলাতে একসময় জীবনটাই তার খসে পড়ল অর্থাৎ মৃত্যুর মাঝে হারিয়ে গেল সে। কখন যে ঝরে গেল জীবন-সেটাও সে বুঝতে পারেনি। প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতাংশের মাধ্যমে কবি এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের নবম পাঠের অন্তর্গত ‘লোকটা জানলই না’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - টীকা

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল – ‘চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ’ (চতুর্থ অধ্যায়) – গুরুত্বপূর্ণ টীকা

চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Souvick

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল – ‘চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ’ (চতুর্থ অধ্যায়) – গুরুত্বপূর্ণ টীকা

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – শিলা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – শিলা – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর