আজকের আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়, ‘আঞ্চলিক শক্তির উত্থান’-এর ‘বিষয়সংক্ষেপ’ নিয়ে আলোচনা করব। এই অংশটি পড়ার ফলে অধ্যায়টির মূল কাঠামো ও প্রধান বিষয়াবলি বুঝতে সুবিধা হবে, যা তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা তোমাদের প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করতে সাহায্য করবে।

মোগল সাম্রাজ্যের অবনতি
1707 খ্রিস্টাব্দে মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেব মারা যাওয়ার পরে খুব দ্রুত মোগল সাম্রাজ্যের শক্তি হ্রাস পায়। এই অবনতির জন্য ঔরঙ্গজেবের পরবর্তী মোগল শাসকদের দুর্বলতা ও অযোগ্যতা, নাদির শাহ (1739 খ্রিস্টাব্দ) ও আহমদ শাহ আবদালির (1756 খ্রিস্টাব্দ) মতো বিদেশিদের আক্রমণ, জায়গিরদারি ও মনসবদারি ব্যবস্থার সংকট, মোগল দরবারের অভিজাতদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, আঞ্চলিক শাসকদের স্বাধীন প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রভৃতি দায়ী ছিল। মোগল শাসন কাঠামোর দুর্বলতার সুযোগে ভারতে বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির উত্থান ঘটেছিল। এই আঞ্চলিক শক্তিগুলি মোগল কর্তৃত্ব স্বীকার করে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছিল।
বাংলার উত্থান
মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেব মুর্শিদকুলি খানকে সুবা বাংলার দেওয়ান হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। পরে 1717 খ্রিস্টাব্দে একইসঙ্গে তিনি দেওয়ান ও নাজিম হওয়ার ফলে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে বাংলার উত্থান ঘটে।
- মোগল রাজকোষাগারের অর্থের অন্যতম প্রধান জোগানদার ছিল বাংলা।
- বাংলার বিখ্যাত মূলধন বিনিয়োগকারী ছিল জগৎশেঠ, যার পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণে বাংলার কোষাগার ও টাকশাল চলত। মোগল সম্রাটের কাছ থেকে প্রথম জগৎশেঠ উপাধি পান ফতেহচাঁদ। এই উপাধি ছিল নির্দিষ্ট একটি বণিক পরিবারের।
- নবাব আলিবর্দি খানের আমলে মোগল কর্তৃত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়; যদিও নিয়মিত রাজস্ব পাঠানোর ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়।
- আলিবর্দির আমলে বাংলায় মারাঠা বা বর্গি আক্রমণ ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
হায়দ্রাবাদের উত্থান –
মোগল দরবারের শক্তিশালী অভিজাত মির কামার উদ্দীন খান সিদ্দিকি, যিনি নিজাম উল-মুলক, আসফ ঝাঁ প্রভৃতি উপাধি পেয়েছিলেন, তিনি 1724 খ্রিস্টাব্দে হায়দ্রাবাদ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। 1740 খ্রিস্টাব্দ থেকে নিজামের শাসনে স্বাধীন হায়দ্রাবাদ রাজ্য আত্মপ্রকাশ করেছিল। হায়দ্রাবাদে আনুষ্ঠানিকভাবে মোগল কাঠামো বজায় থাকলেও প্রশাসনের কোনো খবরাখবর দিল্লিতে পৌঁছাত না।
অযোধ্যার উত্থান –
1722 খ্রিস্টাব্দে সাদাৎ খানের নেতৃত্বে অযোধ্যা একটি স্বশাসিত আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তিনি অযোধ্যার দেওয়ানের দপ্তরকে দিল্লির নিয়ন্ত্রণ থেকে সরিয়ে ফেলেন এবং কোনো খবরাখবর মোগল বাদশাহকে পাঠাতেন না। তবে তিনি মোগল দরবারের সঙ্গে অযোধ্যার সম্পর্ক শেষ করে দেননি। সাদাৎ খানের পরে সফদরজং ও সুজা উদ্-দৌলা যথাক্রমে অযোধ্যার নবাব হন।
এই তিনটি আঞ্চলিক শক্তির উত্থানের সূত্র ধরে ভারতবর্ষে ক্রমে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বিভিন্ন ঘটনার ঘাত প্রতিঘাতে ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।

আজকের আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়, “আঞ্চলিক শক্তির উত্থান”-এর “বিষয়সংক্ষেপ” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই আলোচনাটি অধ্যায়টির মূল কাঠামো ও প্রধান বিষয়গুলো সহজে বুঝতে সাহায্য করবে, যা তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কিছুটা হলেও সহায়ক হয়েছে। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, মতামত জানাতে চাও বা আরও সহায়তার প্রয়োজন হয়, তাহলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারো কিংবা আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারো—তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত।





মন্তব্য করুন