এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান (Class 10 Life Science) বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতি সংক্ষেপে আলোচনা করো এবং পুংলিঙ্গ নির্ধারণে Y ক্রোমোজোমের ভূমিকা বর্ণনা করো” — নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় “বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ”-এর অন্তর্গত। মাধ্যমিক বোর্ড পরীক্ষা (Madhyamik Exam) এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি টপিক।

মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতি (Sex Determination in Humans)
লিঙ্গ নির্ধারণ মূলত একটি জিন নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতি। প্রজাতিভেদে এই পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন হয়। মানুষের লিঙ্গ প্রধানত যৌন ক্রোমোজোম (Sex Chromosome)-এ অবস্থিত জিন দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।
মানুষের এই লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতিকে বিজ্ঞানের ভাষায় XX-XY পদ্ধতি বলা হয়। ভ্রূণ বা জাইগোটের (Zygote) পরিস্ফুটনের সময়ই মানুষের লিঙ্গ নির্ধারিত হয়ে যায়। সম্পূর্ণ পদ্ধতিটি দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয় –
প্রথম বা মুখ্য পর্যায় (Primary Stage)
প্রাথমিক পর্যায়ে যৌন ক্রোমোজোমের সংখ্যা, প্রকৃতি এবং এতে অবস্থিত জিনগুলি দ্বারা লিঙ্গ নির্ধারিত হয়।
- ক্রোমোজোমের বিন্যাস – মানুষের প্রতিটি দেহকোষে 46টি বা 23 জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। এর মধ্যে 22 জোড়া হলো অটোজোম (Autosome) এবং বাকি 1 জোড়া হলো যৌন ক্রোমোজোম বা সেক্স ক্রোমোজোম।
- পুরুষের ক্ষেত্রে (XY) – পুরুষদের 1টি X এবং 1টি Y ক্রোমোজোম থাকে। তাই এদের লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোমকে XY দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। পুরুষদের দু-প্রকারের শুক্রাণু উৎপন্ন হয়— একটি 22A + X এবং অপরটি 22A + Y। দুটি ভিন্ন প্রকারের গ্যামেট উৎপন্ন করার জন্য পুরুষদের হেটেরোগ্যামেটিক মেল (Heterogametic male) বলা হয়।
- মহিলাদের ক্ষেত্রে (XX) – মহিলাদের দেহে দুটি একই ধরনের ক্রোমোজোম থাকে, কোনো Y ক্রোমোজোম থাকে না। এদের ক্রোমোজোমকে XX দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। মহিলাদের কেবল এক ধরনেরই ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়, যার গঠন হলো 22A + X।
নিষেকের ফলাফল (Result of Fertilization) –
- 22A + X যুক্ত শুক্রাণুর সঙ্গে 22A + X যুক্ত ডিম্বাণু মিলিত হলে উৎপন্ন জাইগোট কন্যারূপে বিকাশলাভ করে। এর জিনোটাইপ হয় (44A + XX)।
- 22A + Y যুক্ত শুক্রাণুর সঙ্গে 22A + X যুক্ত ডিম্বাণু মিলিত হলে উৎপন্ন জাইগোট পুত্ররূপে বিকাশলাভ করে। এর জিনোটাইপ হয় (44A + XY)।
দ্বিতীয় বা গৌণ পর্যায় (Secondary Stage)
প্রথম পর্যায়ে জাইগোটের লিঙ্গ নির্ধারণের পর, পুরুষ ও মহিলাদের দেহে নির্দিষ্ট হরমোনের প্রভাবে বিভিন্ন গৌণ যৌন লক্ষণগুলি (Secondary Sexual Characters) পরিস্ফুটিত হয়। একে লিঙ্গ নির্ধারণের কোষীয় পর্যায়-ও বলা হয়ে থাকে।
মানুষের পুংলিঙ্গ নির্ধারণে Y ক্রোমোজোমের ভূমিকা
মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণের ক্ষেত্রে Y ক্রোমোজোম (Y Chromosome) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে এর কারণগুলো আলোচনা করা হলো –
- পুত্র সন্তান সৃষ্টি – একটি X ক্রোমোজোমবিশিষ্ট ডিম্বাণুর সঙ্গে যখন একটি Y ক্রোমোজোমবিশিষ্ট শুক্রাণুর মিলন ঘটে, তখনই পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। যেহেতু Y ক্রোমোজোম কেবল পুরুষদেরই থাকে, তাই বলা যায় Y ক্রোমোজোমই পুংলিঙ্গ নির্ধারণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকা – মহিলাদের দুটি X ক্রোমোজোমের মধ্যে যেকোনো একটি বংশগতির বিচারে (বারবডি) নিষ্ক্রিয় থাকে। মহিলাদের যেকোনো একটি X ক্রোমোজোমযুক্ত ডিম্বাণুর সঙ্গে, পুরুষের X ক্রোমোজোমযুক্ত শুক্রাণুর মিলনে কন্যাসন্তান জন্মায়। অর্থাৎ, সন্তানের লিঙ্গ কী হবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে পিতার শুক্রাণুর (X নাকি Y) ওপর। সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণের ব্যাপারে মহিলাদের কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই।
আশা করি, মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের “মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতি এবং Y ক্রোমোজোমের ভূমিকা” বিষয়টি আপনারা খুব সহজেই বুঝতে পেরেছেন। পরীক্ষার খাতায় পয়েন্ট করে এই উত্তরটি লিখলে পুরো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।
এই আর্টিকেলটি আপনাদের পড়াশোনায় সাহায্য করে থাকলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। মাধ্যমিকের আরও গুরুত্বপূর্ণ নোটস, প্রশ্ন-উত্তর এবং সাজেশনের জন্য আমাদের সাথে টেলিগ্রামে (Telegram) যুক্ত থাকুন!





মন্তব্য করুন