এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “অসম্পূর্ণ প্রকটতা কাকে বলে? অসম্পূর্ণ প্রকটতার একটি উদাহরণ ও সহজ ক্রসের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করো।” অথবা, “অসম্পূর্ণ প্রকটতা কাকে বলে? একটি পরীক্ষার মাধ্যমে মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ব্যতিক্রম দেখাও।” — নিয়ে আলোচনা করব।
এই প্রশ্নটি দশম শ্রেণির জীবনবিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় “বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ” -এর অন্তর্গত। মাধ্যমিক ফাইনাল পরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অসম্পূর্ণ প্রকটতা কাকে বলে? অসম্পূর্ণ প্রকটতার একটি উদাহরণ ও সহজ ক্রসের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করো।
অসম্পূর্ণ প্রকটতা কাকে বলে?
পরস্পর বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন দুটি বিশুদ্ধ জীবের মধ্যে সংকরায়ণের ফলে সৃষ্ট অপত্য সংকর জীবে যখন প্রকট জিনটি তার ফিনোটাইপ সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করতে পারে না এবং জীবে প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের মধ্যবর্তী একটি মিশ্র ফিনোটাইপের প্রকাশ ঘটে, তখন প্রকট জিনটির ওই প্রকার ধর্মকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা (Incomplete Dominance) বলে।
উদাহরণ: সন্ধ্যামালতী বা Mirabilis jalapa কিংবা স্ন্যাপড্রাগন বা Antirrhinum majus উদ্ভিদে এই ঘটনাটি লক্ষ করা যায়।
মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ব্যতিক্রম: একটি পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যাখ্যা
অসম্পূর্ণ প্রকটতা হলো মেন্ডেলের প্রথম সূত্র বা পৃথকীভবন সূত্রের একটি উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম। নিচে সন্ধ্যামালতী উদ্ভিদের উদাহরণ দিয়ে এটি ব্যাখ্যা করা হলো –
- প্রথম অপত্য জনু (F1) – একটি বিশুদ্ধ লাল ফুলযুক্ত সন্ধ্যামালতী গাছের (RR) সঙ্গে বিশুদ্ধ সাদা ফুলযুক্ত (rr) গাছের ইতর পরাগযোগ ঘটালে, F1 জনুতে সংকর গাছগুলি লাল বর্ণের বদলে সকলেই (100%) গোলাপি বর্ণযুক্ত হয়।
- মিশ্র বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ – এ ক্ষেত্রে লাল বর্ণের জন্য দায়ী প্রকট জিন (R) তার সম্পূর্ণ প্রকটতা প্রকাশ করতে পারে না, অন্যদিকে প্রচ্ছন্ন অ্যালিলও (r) তার গুণ প্রকাশ করার চেষ্টা করে। ফলে লাল ও সাদা বর্ণের মাঝামাঝি গোলাপি বর্ণ প্রকাশিত হয়। (ধরি, লাল বর্ণের জন্য দায়ী প্রকট বা বন্য অ্যালিল R ও সাদা বর্ণের জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন বা মিউট্যান্ট অ্যালিল r)।
- দ্বিতীয় অপত্য জনু (F2) – এরপর F1 জনুর গোলাপি ফুলযুক্ত গাছগুলির মধ্যে স্বপরাগযোগ ঘটানোর ফলে দ্বিতীয় অপত্য জনুতে (F2) উৎপন্ন উদ্ভিদগুলিতে 25% লাল, 50% গোলাপি এবং 25% সাদা ফুলযুক্ত গাছ জন্মায়।
- অনুপাত – এই গাছগুলি বহিঃলক্ষণগতভাবে এবং অন্তঃলক্ষণগতভাবে একই অনুপাত দেখায়। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে ফিনোটাইপগত ও জিনোটাইপগত অনুপাত একই – 1 : 2 : 1।
আশা করি, এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা অসম্পূর্ণ প্রকটতা কাকে বলে এবং কেন এটি মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ব্যতিক্রম, তা খুব সহজেই বুঝতে পেরেছেন। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই উত্তরটি খাতায় লিখে অনুশীলন করতে পারেন।
আপনাদের জীবনবিজ্ঞান বা অন্য কোনো বিষয়ের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যুক্ত হয়ে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।





মন্তব্য করুন