অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ছোটোদের পথের পাঁচালী – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবইয়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নগুলি স্কুল স্তরের বাংলা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অষ্টম শ্রেণি বাংলা ছোটোদের পথের পাঁচালী অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর
Contents Show

পাঠ্যাংশে কোন স্থানের কথা বলা হয়েছে?

পাঠ্যাংশে নিশ্চিন্দিপুরের কথা বলা হয়েছে।

বালকটির বাবা ও মা -এর নাম কী?

বালকটির বাবার নাম হরিহর এবং মা -এর নাম সর্বজয়।

এখানে কোন্ বাগান জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে?

কলাবাগান জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বালক কার সঙ্গে নীলকণ্ঠ পাখি দেখতে গিয়েছিল?

বালকটি তার বাবা ও কয়েকজন প্রতিবেশীর সঙ্গে নীল পাখি দেখতে গিয়েছিল।

বালক কোথায় খরগোশের ছবি দেখেছিল?

বালক বর্ণপরিচয়ে খরগোশের ছবি দেখেছিল।

গ্রামের বাইরের নদীর ধারের মাঠটি কী নামে পরিচিত?

নদীর ধারের মাঠটি কুঠির মাঠ নামে পরিচিত।

বালক পথে কোন্ ফলে হাত দিতে গিয়েছিল?

বালক পথে ‘আলকুশি’ ফলে হাত দিতে গিয়েছিল।

হরিহর তার ছেলেকে নিয়ে কখন, কোথায় গিয়েছিল?

মাঘ মাসের শেষদিকে এক সরস্বতী পুজোর দিন বিকালে, হরিহর তার ছেলেকে নিয়ে নিশ্চিন্দিপুর গ্রামের বাইরে কুঠির মাঠে গিয়েছিল।

হরিহর প্রথমে বালকের প্রশ্নের উত্তর দেয়নি কেন?

পথে বেরোবার পর থেকেই বালকটি তার বাবা অর্থাৎ হরিহরকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করছিল। হরিহর নবীন পালিতের সঙ্গে মাছশিকার সম্পর্কে পরামর্শ করছিল। ফলে ছেলের প্রশ্নে সে বিরক্তিবোধ করছিল, তাই বালকের প্রশ্নে প্রথমে সে উত্তর দেয়নি।

ইটের পাঁজার মতো জিনিস নজরে পড়ে,’ – কারা, কোথায় জিনিসটি দেখেছিল?

হরিহর, তার ছেলে ও কয়েকজন প্রতিবেশী জিনিসটি দেখেছিল। সকলে যখন বনে ঘেরা সরু পথ ছাড়িয়ে কুঠির মাঠে পড়ল, তখন বাবলা ও জিওল গাছের আড়ালে ইটের পাঁজার মতো জিনিসটি দেখেছিল।

নবীন পালিত মাঠে বেড়াতে বেড়াতে কী কী গল্প করেছিলেন?

মাঠের মধ্যে বেড়াতে বেড়াতে নবীন পালিত সেই মাঠের উত্তর অংশের জমিতে শাঁখ আলুর চাষ করে কেমনভাবে লাভবান হয়েছিলেন, বর্তমান সময়ের দুর্মূল্যতা, আষাঢুর হাটে কুণ্ডুদের দোকান পুড়ে যাওয়ার ঘটনা, দীনু গাঙ্গুলির মেয়ের বিবাহের দিন কবে পড়েছে-ইত্যাকার বিবিধ বিষয়ে গল্প করেছিলেন।

‘এক্ষুনি হাত চুলকে ফোসকা হবে’ – কে, কাকে, কেন এ কথা বলেছিল?

প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিল হরিহর, তার ছেলের উদ্দেশে।
কুঠির মাঠ থেকে তারা যখন বাড়ি ফেরার পথ ধরে, তখন পথের ধারে একটি নীচু ঝোপে উজ্জ্বল এক প্রকার ফল দেখে বালকটি সেই ফলের দিকে হাত বাড়ায়। সেগুলি ছিল ‘আলকুশি’ ফল, তার গায়ে বিষযুক্ত শুঁয়ো থাকে-যা স্পর্শ করলে চামড়ায় ঢুকে যায় এবং জ্বলুনি সৃষ্টি করে; তাই বক্তা প্রশ্নকর্তাকে কথাটি ঐ বলেছেন।

দুর্গা কোথা থেকে অপুকে ডেকেছিল?

দুর্গা কাঁঠালতলা থেকে অপুকে ডেকেছিল।

দুর্গাকে কেমন দেখতে?

দুর্গার গড়ন পাতলা, গায়ের রং চাপা।

দুর্গার হাতে কী ছিল?

দুর্গার হাতে ছিল নারিকেলের মালা।

আমের কুসি জারাতে দুর্গা অপুর কাছে কী কী জিনিস চেয়েছিল?

আমের কুসি জারাতে দুর্গা অপুর কাছে নুন, তেল আর লঙ্কা চেয়েছিল।

দুর্গা কোথায় পেয়েছিল কচি আমগুলি?

কচি আমগুলি দুর্গা পটলিদের বাগানে সিঁদুরকোটো তলায় পেয়েছিল।

দুর্গার ডাক শুনে অপু কী করেছিল?

দুর্গার ডাক শুনে অপু তাড়াতাড়ি করে লক্ষ্মীর চুপড়ির কড়িগুলি লুকিয়ে ফেলেছিল।

অপু কী কী জিনিস দিতে পেরেছিল?

অপু দিদিকে নুন আর তেল দিতে পেরেছিল।

অপু দিদিকে কী দিতে পারেনি?

অপু দিদিকে লঙ্কা দিতে পারেনি।

অপু কেন দিদিকে লঙ্কা দিতে পারেনি?

অপু দিদিকে লঙ্কা দিতে পারেনি কারণ তার মা লঙ্কা তস্তার উপর রেখে দেয়, যেখানে সে নাগাল পায় না।

তাদের মা কোথায় গিয়েছিল?

তাদের মা ক্ষার কাচতে গিয়েছিল।

মা -এর ডাকে দুর্গা উত্তর দিতে পারছিল না কেন?

দুর্গার মুখ কাচা আম মাখায় ভরতি থাকার জন্য দুর্গা কোনো উত্তর দিতে পারছিল না।

দুর্গা নারকেলের মালাটি কোথায় ফেলেছিল?

দুর্গা নারকেলের মালাটি ভেরেন্ডাকচার বেড়া পার করে নীলমণি রায়ের ভিটার দিকে জঙ্গলের মধ্যে ছুঁড়ে ফেলেছিল।

হরিহর কোথায় কাজ করে?

হরিহর অন্নদা রায়ের বাড়িতে গোমস্তার কাজ করে।

অপুদের বাড়ির পাশে কার ভিটা জঙ্গলে পরিণত হয়েছে?

অপুদের বাড়ির পাশে নীলমণি রায়ের ভিটা জঙ্গলে পরিণত হয়েছে।

অপুর টিনের বাক্সে কী কী সম্পত্তি ছিল?

অপুর টিনের বাক্সে একটি রং ওঠা কাঠের ঘোড়া, একটা টিনের ভেঁপুর্বাঁশি, গোটাকতক কড়ি, দু-পয়সা দামের পিস্তল, কতকগুলো শুকনো নাটা ফল, খানকতক খাপরার কুচি ইত্যাদি সম্পত্তি ছিল।

‘কাজেই পাশের এ ভিটাও জঙ্গলাবৃত হইয়া পড়িয়া আছে।’ – কোন্ ভিটার কথা বলা হয়েছে? তা জঙ্গলে আবৃত কেন?

অপুদের পাশের নীলমণি রায়ের ভিটার কথা বলা হয়েছে।
এক বছর হল নীলমণি রায় গত হয়েছেন, তাই তার পরিবার পুত্রকন্যা নিয়ে পিত্রালয়ে বাস করছেন। এই কারণেই উক্ত ভিটা জঙ্গলে আবৃত হয়ে আছে।

মায়ের ডাক শুনে কীভাবে অপু ও দুর্গা আম খাওয়া শেষ করল?

অপু ও দুর্গা যখন আমের কুসি খাচ্ছিল তখন হঠাৎ তাদের মা এসে পড়ায় তাড়াহুড়ো করে তারা খাওয়া শেষ করে। দুর্গার মুখে আমের চাকলা ভরতি ছিল। সে সেগুলি গোগ্রাসে গিলতে থাকে। অন্যদিকে অপু তার অংশ চিবিয়ে খাওয়ার সময় নেই দেখে গিলতে থাকে।

দুর্গা অপুর পিঠে কিল বসিয়েছিল কেন?

মা যখন ঘাটে ক্ষার কাচতে গিয়েছিল, তখন অপু আর দুর্গা আমের কুসি তেল-নুন দিয়ে খেয়েছিল। অপু অসাবধানে আম খাওয়ার কথা মা-র কাছে প্রকাশ করে ফেলেছিল। তাই দুর্গা অপুর পিঠে কিল বসিয়েছিল।

হরিহরের বাড়ি ও তার চারপাশের পরিবেশের বর্ণনা দাও।

হরিহরের বাড়ির চারদিকেই জঙ্গল, কাছাকাছি আর কোনো লোকের বাড়ি নেই। হরিহরের বাড়িটা অনেকদিন মেরামত হয়নি, সামনের দিকের রোয়াক ভাঙা, ফাটলে বনবিছুটি ও কালমেঘ গাছের বন গজিয়েছে। ঘরের দরজা-জানলার কপাট সব ভাঙা এবং নারকেলের দড়ি দিয়ে গরাদের সঙ্গে বাঁধা।

‘অপুদের বাড়ি হইতে কিছু দূরে একটি খুব বড়ো অশ্বত্থ গাছ ছিল’। – গাছটির দিকে তাকিয়ে অপু কী ভাবত?

বড়ো অশ্বত্থ গাছটার দিকে চেয়ে অপু অনেক অনেক দূরের কোনো দেশের কথা ভাবত, যে দেশের রাজপুত্তুরদের কথা সে মায়ের মুখে শোনে।

আকাশের বুকে কী দেখতে পেত অপু?

আকাশের বুকে উড়ন্ত চিলকে দেখতে পেত অপু।

আহারাদির পরে অপুর মা কী করতেন?

আহারাদির পরে অপুর মা জানালার ধারে আঁচল পেতে শুয়ে সুর করে কাশীদাসী মহাভারত পড়তেন।

খাওয়াদাওয়ার পর দুপুরবেলা অপু কী করত?

খাওয়াদাওয়ার পর দুপুরবেলা অপু হাতের লেখা লিখতে লিখতে মন দিয়ে মায়ের মুখের মহাভারত পড়া শুনত।

মহাভারতের কোন্ কাহিনি অপুর শুনতে ভালো লাগত?

মহাভারতের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের কাহিনি অপুর শুনতে ভালো লাগত।

কর্ণকে কে তীর ছুঁড়ে মেরে ফেলেন?

কর্ণকে অর্জুন তীর ছুঁড়ে মেরে ফেলেন।

‘মহাবীর, কিন্তু চিরদিনের কৃপার পাত্র কর্ণ!’ – অপু কর্ণকে চিরদিনের কৃপার পাত্র মনে করেছে কেন?

মায়ের মুখে শোনা মহাভারতের যুদ্ধে কর্ণের রথের চাকা মাটিতে পুঁতে যাওয়ায় তা তোলার চেষ্টায় রত থাকা অবস্থায় অর্জুন যেভাবে তাকে হত্যা করে, তাতে অপুর কর্ণের উপর এক করুনা জন্মায় আর অর্জুনের প্রতি ঘৃণা জন্মায়। সে মনে করে কর্ণ যেন রোজই রথের চাকা মাটি থেকে প্রাণপণে তোলার চেষ্টা করছে।

‘মহাভারত’-এ কোন জিনিসটা কম আছে বলে অপুর মনে হত?

‘মহাভারত’-এ যুদ্ধ জিনিসটা কম আছে বলে অপুর মনে হত।

দুর্গা আঁকশি দিয়ে কী পেড়েছিল?

দুর্গা আঁকশি দিয়ে নোনাফল পেড়েছিল।

অপু ও দুর্গা মিলে কটা ফল পেড়েছিল?

অপু ও দুর্গা মিলে পাঁচটা ফল পেড়েছিল।

‘ও মা। ও আবার কে রে? – কে চিনতে পারচি নে?’ – সর্বজয়া অপুকে দেখে এ কথা বলেছেন কেন?

অপু নাকে ওড়কলমি ফুলের নোলক পরে দিদিকে আড়াল করে দাঁড়িয়ে ছিল – সেই নোলক-পরা অবস্থায় অপুকে দেখে চিনতে না পেরে সর্বজয়া এ কথা বলেছিলেন।

‘বাবার কাছ থেকে দেখিস রথের সময় চারটে পয়সা নেব-‘ দুর্গা অপুকে সঙ্গে নিয়ে এমন পরিকল্পনা করেছে কেন?

দশহরা পুজো উপলক্ষ্যে দুর্গা তার ভাই অপুকে নিয়ে ভুবন মুখুজ্যের বাড়িতে উপস্থিত হলে, সেই বাড়ির বিধবা কর্ত্রী সেজো বউ তাদের দুই ভাই-বোনকে লক্ষ্য করে কটু-কথা বললে, দুর্গা রথের সময় বাবার কাছ থেকে চারটে পয়সা নিয়ে মেলা থেকে মুড়কি কিনে খাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

‘অপু মাঝে মাঝে সেইদিকে চাহিয়া দেখিত।’ – অপু কোন্ দিকে দেখত?

অপুদের বাড়ি থেকে কিছু দূরে একটা খুব বড়ো অশ্বত্থ গাছ ছিল। অপুদের দালানের জানালা কী রোয়াক থেকে সেই গাছটির মাথা দেখা যেত। অপু মাঝে মাঝে সেই গাছটির মাথাটার দিকেই চেয়ে দেখত।

মার মুখে কোন্ দেশের রাজপুত্তুরদের কথা শোনে অপু?

অশ্বত্থ গাছের মাথার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে অপুর অনেক দূরের কোনো দেশের কথা মনে হত। সে ঠিক মনে করতে পারত না যে কোন্ দেশ। ওইসব দেশের রাজপুত্তুরদের কথা সে মায়ের মুখে শুনেছে।

অপু কখন মা-র মুখে মহাভারতের কথা শুনত?

দুপুরের আহারাদির পরে অপুর মা সর্বজয়া কখনো-কখনো জানালার ধারে আঁচল পেতে শুয়ে ছেঁড়া কাশীদাসী মহাভারতখানা সুর করে পড়ত। বাড়ির ধারের নারকেল গাছটাতে শঙ্খচিল ডাকত। সেই সময় অপু মা-র কাছে বসে ক-খ লিখতে লিখতে একমনে মা-র মুখের মহাভারতের কথা শুনত।

‘রোজই তোলে’ – কার, কী তোলার কথা বলা হয়েছে?

এখানে মহাবীর কর্ণের কথা বলা হয়েছে। অপুর মনে হয় অশ্বত্থ গাছের ওপারে কোথাও কর্ণের রথের চাকা মাটিতে বসে গেছে আর কর্ণ দুই হাত দিয়ে প্রাণপণে মাটি থেকে সেই চাকা টেনে তোলার চেষ্টা করছে অর্থাৎ এখানে কর্ণের রথের চাকা তোলার কথা বলা হয়েছে।

কখন অপুর মায়ের জন্য মন কেমন করে উঠত?

অনেক দূরের কথায় অপুর মনে বিস্ময় মাখানো আনন্দ সৃষ্টি হত। নীলাকাশ, কুঠির মাঠ, ঘুড়ি-তার মনকে অনেক দূরে টেনে নিয়ে যেত। সেই সময়েই অপুর মন মায়ের জন্য কেমন করে উঠত।

যুদ্ধ জিনিসটা উপভোগ করার জন্য অপু কী করত?

যুদ্ধ জিনিসটা উপভোগ করার জন্য অপু একটা উপায় বের করেছিল। সে একটা বাখারি বা হালকা কোনো গাছের ডালকে অস্ত্ররূপে হাতে নিয়ে বাড়ির পিছনের বাঁশবাগানের পথে বা বাইরের উঠোনে ঘুরে ঘুরে বেড়ায় আর আপন মনে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলে।

সেজোঠাকুরণ দুর্গাদের বাড়িতে কেন এসেছিল?

সেজোঠাকুরণ টুনুর হারিয়ে যাওয়া পুঁতির মালা খুঁজতে দুর্গাদের বাড়িতে এসেছিল।

দুর্গার টিনের বাক্স থেকে তারা কী কী জিনিস উদ্ধার করেছিল?

দুর্গার টিনের বাক্স থেকে তারা একছড়া পুঁতির মালা ও সোনামুখী আমের গুটি উদ্ধার করেছিল।

সেজোঠাকুরণের সঙ্গে দুর্গাদের বাড়িতে আর কে কে এসেছিল?

সেজোঠাকুরণের সঙ্গে দুর্গাদের বাড়িতে সতু, টুনু ও আরও পাঁচটি ছেলেমেয়ে এসেছিল।

অপুর মায়ের উপর রাগ হয়েছিল কেন?

অপুর মা রাগে দুর্গাকে মেরেছিল এবং তার মাথার চুল ছিঁড়ে দিয়েছিল। তাই অপুর মায়ের উপর রাগ হয়েছিল।

বাড়ি ফেরার পথে অপু কোন গাছের তলায় এসে থমকে দাঁড়িয়েছিল?

সন্ধ্যার পূর্বে বাঁশঝাড়ের কঞ্চির উপর লেজঝোলা হলদে পাখি এসে বসে।

সন্ধ্যার পূর্বে বাঁশঝাড়ের কঞ্চির উপর কোন্ পাখি এসে বসে?

বাড়ি ফেরার পথে অপু গাব গাছের তলায় এসে থমকে দাঁড়িয়েছিল।

পটলির বোনের নাম কী?

পটলির বোনের নাম রাজী।

সে কোন্ খেলার নতুন ঘর কেটেছিল?

সে গঙ্গা-যমুনা খেলার নতুন ঘর কেটেছিল।

গ্রামের শ্মশানটি কোথায় অবস্থিত?

গ্রামের শ্মশানটি ছাতিম তলায় অবস্থিত।

সন্ধ্যার সময় পটলির ঠাকুমা কী করছিল?

সন্ধ্যার সময় পটলির ঠাকুমা বাড়ির রোয়াকে বসে ছেলেপিলেদের নিয়ে গল্প করছিলেন।

অপুর বইয়ের দফতরে কী কী বই আছে?

অপুর বইয়ের দফতরে দুটি মোটা ইংরেজি বই, কবিরাজি ওষুধের তালিকা, একটি পাতাছেঁড়া দাশুরায়ের পাঁচালি ও একটি 1303 সালের পুরাতন পাঁজি আছে।

অপুর বইয়ের দফতরে কোন্ সালের পাঁজি ছিল?

অপুর বইয়ের দপ্তরে 1303 সালের পাঁজি ছিল।

অপু ও দুর্গা কোন্ দিকের ঘরে শুয়েছিল?

অপু ও দুর্গা উত্তর দিকের ঘরে শুয়েছিল।

তারা কীসের উপর শুয়েছিল?

তারা একটি তক্তাপোশের উপর শুয়েছিল।

অপুদের বাড়িতে কারা এসেছিল? তারা কী করেছিল?

অপুদের বাড়িতে এসেছিল সেজোঠাকুরণ, সতু, টুনু ও আরও পাঁচটি ছেলেমেয়ে।
তারা দুর্গার পুতুলের বাক্স বের করে তার মধ্য থেকে টুনুর পুঁতির মালাটি খুঁজে বের করেছিল।

‘যুগপৎ দুই চুরির অতর্কিততায় আড়ষ্ট হইয়া দুর্গা….।’ – এখানে দুই চুরি বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

আলোচ্য অংশে যে দুটি চুরির কথার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তা হল –
1. অপুর দিদি দুর্গা টুনুর পুঁতির মালা চুরি করেছে।
2. মুখুজ্যেদের বাগানের আমের গুটি চুরির কথা বলা হয়েছে, যদিও দুর্গা আমগুলি সেখান থেকে চুরি করেনি।

সর্বজয়া দুর্গাকে কীভাবে চুরির শাস্তি দিয়েছিল?

সর্বজয়া দুর্গার নামে চুরির অভিযোগে প্রথমে অবাক হয়ে যায়। সে দুর্গার রুক্ষ চুলের গোছা টেনে তাকে মারতে থাকে এবং বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

অপু দুর্গাকে কোথায় কোথায় খুঁজেছিল?

অপু দুর্গাকে টুনু, পটলি ও নেড়াদের বাড়িতে খুঁজেছিল। এ ছাড়াও বকুলতলা, গাবতলা-এসব জায়গাতেও সে দুর্গাকে খুঁজতে বেরিয়েছিল।

‘অপু দ্বিরুক্তি না করিয়া বাটি উঠাইয়া দুধ চুমুক দিয়া খাইতে লাগিল।’ – অপু দ্বিরুক্তি করল না কেন?

যেদিন দিদি মায়ের হাতে মার খেয়েছিল, সেদিন অপু দুধ খেতে দ্বিরুক্তি করল না। সে এমনিতে সহজে দুধ খেতে চায় না, কিন্তু সেদিন মায়ের ভয়ে সে দুধ খেতে রাজি হল।

‘দিদির জন্যে বড্ড মন কেমন করছে!’ – এখানে কার মনখারাপ করছে? কার জন্য মনখারাপ করছে? মন খারাপের কারণ কী?

আলোচ্য অংশে অপুর মনখারাপের কথা বলা হয়েছে।
অপুর তার দিদি দুর্গার জন্য মনখারাপ করছিল।
অপুর দিদিকে তার মা মেরে বাড়ি থেকে বার করে দিয়েছে। দুর্গা একবার ফিরে এলেও তার মা আবার মারধর করায় সে পালিয়ে গেছে। রাত হয়ে গেলেও দিদি না ফেরায় অপুর দিদির জন্য মন খারাপ করছে।

‘কম দুষ্টু মেয়ে নাকি?’ – কে, কোন্ দুষ্টু মেয়ের কথা বলেছে?

আলোচ্য অংশে সর্বজয়া দুর্গার কথা বলেছে। দুর্গার চুরি করার কথা জানতে পেরে সে রাগে দুর্গাকে দুষ্টু মেয়ে বলেছে।

‘একটু পিদিমের তেল লাগিয়ে দেব দিদি?’ – বক্তা কে? সে কখন এ কথা বলেছে?

প্রশ্নোক্ত উক্তিটির বক্তা হল অপু।
অপুর দিদি দুর্গা। টুনুর পুঁতির মালা চুরি করেছিল, তার শাস্তি হিসেবে সর্বজয়া দুর্গাকে প্রহার করায় দুর্গার কানের পাশে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং সেখান থেকে রক্ত বেরোয়। রাতে দিদির পাশে শুয়ে অপু সেই ক্ষত দেখে কষ্ট পায় এবং তখনই সে উক্ত কথাটি বলে।

অপু তালপাতায় কী লিখেছিল?

অপু তালপাতায় হাতের লেখা লিখছিল।

অপু কার আদেশে হাতের লেখা লিখছিল?

অপু তার বাবার আদেশে হাতের লেখা লিখছিল।

দুর্গা কোথায় ব্রত করছিল?

দুর্গা ভিতরের উঠোনের পেঁপেতলায় ব্রত করছিল।

দুর্গা কী ব্রতপালন করছিল?

দুর্গা পুণ্যিপুকুরের ব্রতপালন করছিল।

দুর্গা কী দিয়ে আলপনা দিচ্ছিল?

দুর্গা পিটুলিগোলা দিয়ে আলপনা দিচ্ছিল।

গড়ের পুকুরের পানফলের কথা কে বলেছিল?

গড়ের পুকুরের পানফলের কথা ভোঁদার মা বলেছিল।

অপুর মতে শেওড়াফল খেলে কী হয়?

অপুর মতে শেওড়াফল খেলে লোকে নাকি পাগল হয়ে যায়।

অপু মাটি খুঁড়ে যে দ্রব্যটি পেয়েছিল সেটাকে দুর্গা কী ভেবেছিল?

অপুর মাটি খুঁড়ে প্রাপ্ত দ্রব্যটিকে হিরে বলে ভেবেছিল দুর্গা।

হিরা-মুক্তার গল্প অপু-দুর্গা কোথায় শুনেছে?

হিরা-মুক্তার গল্প অপু-দুর্গা মার মুখে শুনেছে।

মজুমদারেরা কেমন লোক ছিল?

মজুমদারেরা বড়োলোক ছিল।

মজুমদারদের মোহর কুড়িয়ে পাওয়ার গল্প কে করত?

মজুমদারদের মোহর কুড়িয়ে পাওয়ার গল্প পিসি করত।

হরিহর হিরে পরীক্ষা করতে কোথায় গিয়েছিল?

হরিহর হিরে পরীক্ষা করতে গাঙ্গুলিবাড়ি গিয়েছিল।

চকচকে জিনিসটি আসলে কী ছিল?

চকচকে জিনিসটি আসলে ছিল বেলোয়ারি কাচ।

সত্যবাবু কে?

সত্যবাবু হলেন গাঙ্গুলিমশায়ের জামাই।

পুণ্যিপুকুরের ব্রতের জন্য কেমন আয়োজন করা হয়েছিল?

বাড়ির ভিতরের উঠোনের পেঁপেতলায় ছোটো চৌকোনা গর্ত করে, তার চারদিকে ছোলা ও মটর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল – ভিজা মাটিতে সেগুলির অঙ্কুর বের হয়েছিল। চারদিকে কলার ছোটো বোগ পুঁতে দুর্গা সেখানে পিটুলিপোলা দিয়ে পদ্মলতা, পাখি, ধানের শিষ, নতুন ওঠা সূর্য প্রভৃতি চিত্র আলপনা দিয়েছিল; তারপরে দুর্গা মন্ত্র পড়ে। এভাবেই পুণ্যিপুকুরের ব্রতের আয়োজন করা হয়েছিল।

‘সে এক নিশ্বাসে আবৃত্তি করিতে লাগিল’ – কে, কী আবৃত্তি করেছিল সেটি লেখো।

দুর্গা পুণ্যিপুকুরের ব্রতপালন করতে গিয়ে মন্ত্র আবৃত্তি করেছিল তা হল –
‘পুণ্যিপুকুর পুষ্পমালা কে পূজে রে দুপুরবেলা?
আমি সতী লীলাবতী ভায়ের বোন ভাগ্যবতী -।’

‘মিষ্টি যেন গুড়’ – এই কথাটি কে, কখন বলেছিল?

আলোচ্য উক্তিটি দুর্গা বলেছিল যখন পুকুরধারের ঝোপ থেকে সে পাকা শেওড়াফল তুলে খেয়েছিল।

‘পরে সে খাইয়া মুখ একটু কাঁচুমাচু করিয়া বলিল’ – সে কী বলেছিল? যাকে বলেছিল সে কী উত্তর দিয়েছিল?

একটি শেওড়াফল খেয়ে অপু কাঁচুমাচু মুখ করে দিদিকে বলেছিল যে ফলটা একটু একটু তেতো।
অপুর কথা শুনে দিদি অর্থাৎ দুর্গা উত্তরে বলেছিল যে একটু তেতো তো থাকবেই, তবে খুব মিষ্টি।

‘সন্দেশ মিঠাই কিনিয়া সে পরিতৃপ্তি লাভ করিবার সুযোগ ইহাদের ঘটে না’ – কাদের কথা বলা হয়েছে? তাদের সম্পর্কে এ কথা বলার কারণ কী?

আলোচ্য অংশে অপু ও দুর্গার কথা বলা হয়েছে।
অপু ও দুর্গা ছোটোবেলা থেকেই অভাবে মানুষ হয়েছে। ভালো জামা, ভালো খাবার-এসব কোনোদিনই তাদের কপালে জোটেনি। ভালো ভালো খাবার খেতে ইচ্ছা করলেও তাদের কপালে কখনও তা জোটেনি। তাই তাদের সম্পর্কে এই উক্তি।

দিদি দ্যাখ কী এখানে।’ – বক্তা কে? সে কী দেখতে বলেছে দিদিকে?

প্রশ্নোক্ত উক্তিটির বস্তা হল অপু।
গড়পুকুরে পানফল তুলতে গিয়ে, পুকুর প্রান্তের শেওড়া গাছের সংলগ্ন জমিতে অপু একটি চকচকে বস্তুকে দেখতে পায়। সে ছুটে গিয়ে মাটি খুঁড়ে জিনিসটি তুলে আনে-সেই জিনিসটি সে দিদিকে দেখতে বলেছিল।

‘অপুনা বুঝিয়া বোকার মতো হিহি করিয়া হাসিল।’ – কী শুনে অপু হেসেছিল?

অপু মাটি খুঁড়ে একটি চকচকে পদার্থ বের করে দিদি দুর্গার হাতে দিলে, দুর্গা সেটি হিরে মনে করে মা-এর কাছে দেয়। পরে দুর্গা উঠোনে এসে আহ্লাদের সঙ্গে ভাইকে বলে যে-দ্রব্যটা যদি সত্যি সত্যি হিরে হয় তবে তারা বড়োমানুষ হয়ে যাবে। দিদির মুখে এমন কথা শুনে কিছু না বুঝেই অপু হি হি করে হেসেছিল।

ঝড়ের মধ্যে অপু-দুর্গা কী করতে বেরোয়?

ঝড়ের মধ্যে অপু-দুর্গা আম কুড়োতে বেরোয়।

অপু-দুর্গাকে কে বাগান থেকে তাড়িয়ে দেয়?

অপু-দুর্গাকে সতু বাগান থেকে তাড়িয়ে দেয়।

কে অপু-দুর্গাকে তাড়াতে বারণ করে?

রাণু অপু-দুর্গাকে তাড়াতে বারণ করে।

বৃষ্টি যাতে বন্ধ হয়ে যায়, তাই অপু-দুর্গা কী বলছিল?

বৃষ্টি যাতে বন্ধ হয়ে যায়, তাই অপু-দুর্গা বলছিল – “নেবুর পাতায় করমচা, হে বৃষ্টি ধরে যা-।”

দুর্গা রামনাম করছিল কেন?

প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ভয় পেয়ে দুর্গা রামনাম করছিল।

রাজকৃষ্ণ পালিতের মেয়ের নাম কী?

রাজকৃষ্ণ পালিতের মেয়ের নাম আশালতা।

আশালতা কোথায় যাচ্ছিল?

আশালতা পুকুরঘাটে যাচ্ছিল।

রাজকৃষ্ণ পালিতের মেয়ে সর্বজয়াকে কী বলে সম্বোধন করেছিল?

রাজকৃষ্ণ পালিতের মেয়ে সর্বজয়াকে ‘খুড়িমা’ বলে সম্বোধন করেছিল।

দুর্গা আর অপু কী কী জিনিস হাতে বাড়ি ঢুকেছিল?

দুর্গা একটা ঝুনো নারকেল ও অপু একটা নারকেলের বাগলো হাতে বাড়ি ঢুকেছিল।

অপু নারকেলের কী খেতে চেয়েছিল?

অপু নারকেলের বড়া খেতে চেয়েছিল।

সর্বজয়া জল তুলতে কোথায় গিয়েছিল?

সর্বজয়া জল তুলতে ভুবন মুখুজ্যের বাড়ি গিয়েছিল।

ভুবন মুখুজ্যের বাড়িতে কে চিৎকার করছিল?

ভুবন মুখুজ্যের বাড়িতে সেজোঠাকুরণ চিৎকার করছিল।

সর্বজয়া কেন অপু-দুর্গাকে নারকেলটা ফেরত দিতে বলল?

সেজোঠাকুরণের অভিশাপ যেন অপু-দুর্গার না লাগে, সেই উদ্দেশ্যেই সর্বজয়া নারকেলটা ফেরত দিতে বলেছিল।

অপু ও দুর্গা অবাক হয়ে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল কেন?

দুর্গার কুড়িয়ে আনা নারকেলটি মা সতুদের বাড়িতে ফিরিয়ে দিতে বলায় অপু ও দুর্গা অবাক হয়ে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল।

সর্বজয়া কোথায় প্রদীপ দিয়েছিল?

সর্বজয়া তুলসীতলায় প্রদীপ দিয়েছিল।

‘তুই বরং সিঁদুরকৌটা-তলায় থাক,’ – এ কথা কে, কাকে বলেছিল? বক্তা নিজে কোথায় গিয়েছিল?

প্রশ্নে উদ্ধৃত উক্তিটি দুর্গা অপুকে করেছিল।
দুর্গা অপুকে সিঁদুরকৌটা-তলায় আম কুড়োতে বলে এবং নিজে আম কুড়োতে যায় সোনামুখী-তলায়।

‘অন্য সময় হইলে দুর্গা হয়তো সহজে পরাজয় স্বীকার করিত না’ – এইবার দুর্গা পরাজয় স্বীকার করল কেন? কার কাছে সে পরাজয় স্বীকার করল?

ঝড়ের সময় সতুদের বাগানে আম কুড়োতে গিয়েছিল অপু ও দুর্গা। কিন্তু সতু এসে তাদেরকে সেখান থেকে চলে যেতে বলে। দুর্গা অন্যসময়ে খুব সহজে এই নির্দেশ মেনে নিত না, অবশ্যই প্রতিবাদ করত। কিন্তু কিছুদিন আগেই সে সতুদের কাছে চুরির দায়ে ধরা পড়েছে এবং মার কাছে অত্যন্ত মারও খেয়েছে। তাই আজ সে আর ঝগড়া না করে সহজেই সেখান থেকে চলে যায় এবং পরাজয় স্বীকার করে।
সে সতুর কাছে পরাজয় স্বীকার করল।

‘সেজোঠাকুরণ বাড়ির মধ্যে চীৎকার করিয়া বাড়ি মাথায় করিতেছেন।’ – সেজোঠাকুরণ চিৎকার করছিলেন কেন?

বৃষ্টি থামার পরে সেজোঠাকুরণ বাগানে গিয়েছিলেন। তখন তিনি দেখতে পান অপু-দুর্গা তাদের বাগান থেকে নারকেল কুড়িয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে। এই ঘটনায় তিনি প্রচন্ড রেগে যান এবং চিৎকার করতে থাকেন।

‘অপু মহা-উৎসাহে চিৎকার করিতে করিতে লাফাইয়া এদিক-ওদিক ছুটিতে লাগিল’ – কোথায়, কেন অপু এঘন করেছিল?

অপু-দুর্গা যখন আম কুড়োনোর জন্য ঝড়ের মধ্যে সোনামুখী তলায় পৌঁছোল তখন অপু এমন করছিল।
ঝড়ের ফলে আম মাটিতে পড়ছিল, শিশু অপুর মনে এক অনাস্বাদিত আনন্দ জন্ম নিয়েছিল। সে বেশি আম সংগ্রহ করতে পারছিল না, কিন্তু আনন্দ পেয়েছিল খুব-তাই সে চিৎকার সহকারে লাফিয়ে লাফিয়ে ছোটাছুটি করছিল।

‘দুর্গার চোখের চাহনি বড়ো ঘা দিল।’ – কাকে ঘা দিয়েছিল? কেন দিয়েছিল?

দুর্গার চাহনি রাণুকে ঘা দিয়েছিল।
সতু দুর্গাকে তাদের বাগান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল, এমনকি দুর্গা-অপু যে আমগুলি কুড়িয়েছিল সেগুলিও সেখানে রেখে যেতে বাধ্য করে দুর্গাকে। সাধের আমগুলি এমনভাবে হাতছাড়া হওয়ায় দুর্গার মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে বেদনায়, সেই বেদনাকাতর চোখের দৃষ্টি রাণুর হৃদয়কে আঘাত করেছিল।

‘দুজনে চেঁচাইয়া বলিতে লাগিল’ – দুইজন কে কে? তারা কী বলেছিল?

প্রশ্নে প্রদত্ত অংশে দুইজন বলতে দুর্গা আর তার ভাই অপুর কথা বলা হয়েছে।
বৃষ্টি যেন শীঘ্র কমে যায়, সেই কামনা করে দুই ভাই-বোন বলছিল –
“নেবুর পাতায় করমচা,
হে বিষ্টি ধরে যা-“।

‘অপু ভয়ে চোখ বুজিল।’ – অপু ভয় পেয়েছিল কেন?

দুর্গা তার ভাই অপুকে নিয়ে পঢ়দের সলতে-খাগি তলায় আম কুড়োতে গেলে প্রবল ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে পড়ে। চারদিকে মুষলধারে বৃষ্টিপতনের একটানা শব্দ, মেঘের গম্ভীর গর্জন কানে তালা লাগাচ্ছে-যেন মড়-মড় করে সমস্ত বাগানখানাই ভেঙে পড়ছে-এমন ভয়ানক পরিস্থিতিতেই অপু ভয় পেয়েছিল।

‘সর্বজয়া খিড়কির বাহিরে কাঠ হইয়া দাঁড়াইয়া রহিল।’ – সর্বজয়া কেন এমন করেছিল?

অপু-দুর্গা সোনামুখীতলা থেকে একটি নারকেল কুড়িয়ে এনেছিল, তা দেখতে পেয়েছিল মুখুজ্যেদের সেজোঠাকুরণ, তাই সে ভরসন্ধেবেলা দুর্গাকে অভিসম্পাত করেছিল যেন দুর্গা উচ্ছন্নে যায়-ছাতিমতলায় ঠাঁই হয়। সর্বজয়া সেই অভিসম্পাত শুনতে পায় এবং সন্তানদের অমঙ্গলের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে ওইরূপ আচরণ করেছিল।

গুরুমহাশয়ের নাম কী?

গুরুমহাশয়ের নাম প্রসন্ন।

গুরুমহাশয় কীসের দোকান করতেন?

প্রসন্ন গুরুমহাশয় মুদির দোকান করতেন।

গুরুমহাশয়ের পাঠশালা কোথায় বসত?

গুরুমহাশয়ের পাঠশালা বসত তাঁর মুদির দোকানের পাশে।

পাঠশালায় শিক্ষাদানের জন্য উপকরণ হিসেবে শুধু কী ছিল?

পাঠশালায় শিক্ষাদানের জন্য উপকরণ হিসেবে শুধু বেত ছিল।

অপু প্রথমদিন কার সঙ্গে পাঠশালায় এসেছিল?

অপু প্রথমদিন তার বাবার সঙ্গে পাঠশালায় এসেছিল।

ফনে কী করছিল?

ফনে স্লেটে দাগ কেটে খেলছিল।

‘হাসচো কেন খোকা, এটা কি নাট্যশালা?’ – কার উক্তি?

প্রশ্নে উদ্ধৃত উক্তিটি হল প্রসন্ন গুরুমহাশয়ের।

সতেকে কোথা থেকে ইট আনতে বলা হয়েছিল?

সতেকে তেঁতুলতলা থেকে ইট আনতে বলা হয়েছিল।

ইটের ব্যবস্থা কাদের জন্য ছিল?

ইটের ব্যবস্থা ছিল ছেলে দুটির জন্য, যারা স্লেটে দাগ কেটে খেলা করছিল।

পাঠশালা কখন বসত?

পাঠশালা বসত বিকেলে।

পাঠশালায় কতজন ছেলেমেয়ে পড়তে আসত?

পাঠশালায় সবসুদ্ধ আট-দশটি ছেলেমেয়ে পড়তে আসত।

পাঠশালায় অপু কীসের উপর বসত?

পাঠশালায় অপু জীর্ণ কার্পেটের উপর বসত।

পাঠশালায় গুরুমহাশয় কোথায় বসেন?

পাঠশালায় গুরুমহাশয় একটা খুঁটিতে হেলান দিয়ে একটি তালপাতার চাটাই -এর উপর বসেন।

বিকেলবেলা কে কে পাঠশালায় গল্প করতে আসেন?

বিকেলবেলা দীনু পালিত, রাজু রায়, রাজকৃষ্ণ সান্যাল মহাশয় পাঠশালায় গল্প করতে আসেন।

সান্যাল মহাশয় কোন্ বিশেষ খাবারের নাম উল্লেখ করেছিলেন?

সান্যাল মহাশয় প্যাঁড়া নামে এক বিশেষ খাবারের নাম উল্লেখ করেছিলেন।

বুধো কে ছিল?

বুধো ছিল গাড়োয়ান, সে গোরুর গাড়ি চালাত।

পাঠশালা সম্পর্কে অপুর কী ধারণা ছিল?

অপুর ধারণা ছিল যে, যেসব ছেলেরা দুষ্টু, যারা মায়ের কথা শোনে না, ভাইবোনের সঙ্গে মারামারি করে, তাদেরকেই পাঠশালায় পড়তে পাঠানো হয়। কিন্তু যেহেতু সে এগুলো কোনোটাই করে না, তাই পাঠশালায় যেতে হবে শুনে সে প্রথমে অবাক হয়ে যায়।

‘তাহার চোখে জল আসিতেছিল,’ – কার চোখে, কেন জল আসছিল?

অপুর চোখে জল আসছিল। অপু মায়ের কথা শোনে আবার সে দুষ্টুমিও করে না, অথচ মা তাকে পাঠশালায় পাঠাতে চাইছেন। সেই দুঃখে-অভিমানে অপুর চোখে জল আসছিল।

‘দুষ্টুমি কোরো না যেন!’ – এ কথা কে, কখন বলেছিল?

প্রশ্নে উদ্ধৃত উক্তিটি অপুর বাবা হরিহর করেছিল।
হরিহর যখন তার ছেলে অপুকে প্রথমদিন পাঠশালায় ছাড়তে এসেছিল তখন অপুকে এ কথা বলেছিল।

‘সে ফিক করিয়া হাসিয়া ফেলিল।’ – কে হেসে ফেলল? সে কেন হাসল?

আলোচ্য অংশে অপুর হাসির কথা বলা হয়েছে।
পাঠশালায় দুটি ছেলে স্লেটে দাগ কেটে খেলা করছিল। গুরুমহাশয় তাদের ধরে ফেলেন এবং সতেকে বলেন তাদের কান ধরে তার কাছে নিয়ে আসতে। ধরা পড়ে যাওয়া ছেলে দুটি ভয়ে যেভাবে একটু একটু করে গুরুমহাশয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তা দেখে অপুর হাসি পেয়ে যায়।

‘অপু ভয়ে আড়ষ্ট হইয়া উঠিল’ – কেন?

পাঠশালায় পড়া না করে দুটি ছেলে ঢ্যারা-গোল্লা খেলছিল, তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য গুরুমশাই সতেকে তেঁতুলতলা থেকে বড়ো ইট আনতে বলেছিল। এর ঠিক পূর্বে শিশু অপু ফিক করে হেসে ফেলেছিল, তাই অপুর মনে হয়েছিল বুঝি তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্যই ইটের ব্যবস্থা হচ্ছে। এই কারণেই সে ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

‘বেলডাঙার বুধো গাড়োয়ানকে তোমরা দেখেচো কেউ?’ – কার উক্তি? কে বুধো গাড়োয়ানকে দেখেছে আর কে দেখেনি?

উদ্ধৃত উক্তিটি প্রসন্ন গুরুমহাশয়ের বন্ধু দীনু পালিতের।
দীনু পালিতের মতে বুধো গাড়োয়ানকে রাজু রায় দেখেননি, কিন্তু রাজকৃষ্ণ সান্যাল অবশ্যই দেখেছেন।

অপরাহ্ণবেলায় পাঠশালার চারপাশে যে দৃশ্য অপুর চোখে পড়ত, তার বর্ণনা করো।

অপরাহ্ণবেলায় পাঠশালার চারপাশের বনজঙ্গলে রাঙা আলো এসে পড়ত। কাঁঠাল গাছের ডালে, জগডুমুর গাছের ডালে বা ঝোলা গুলঞ্চলতায় টুনটুনি পাখি মুখ উঁচু করে দোল খেত। চারপাশে লতাপাতার চাটাই, বই-দপ্তর, মাটির মেঝে ও তামাকের ধোঁয়া মিলে এক জটিল গন্ধের সৃষ্টি হত। কোনো কিছুই অপুর দৃষ্টি এড়িয়ে যেত না।

‘সবসুদ্ধ মিলিয়া এক জটিল গন্ধের সৃষ্টি করিত।’ – কেমনভাবে এমন অবস্থা তৈরি হত লেখো।

পাঠশালার চারপাশের বনজঙ্গলে অপরাহ্নের রাঙা আলো বাঁকাভাবে এসে পড়ত। কাঁঠালগাছ জগডুমুর গাছের ডালে ঝোলা গুলঞ্চলতায় টুনটুনি পাখি মুখ উঁচু করে দোল খেত। পাঠশালাঘরে বনের গন্ধের সঙ্গে লতাপাতার চাটাই, ছেঁড়াখোড়া বই-দপ্তর, পাঠশালার মাটির মেঝে ও কড়া দা তামাকের ধোঁয়া-সব মিলেমিশেই একটা জটিল গন্ধ সৃষ্টি করত।

সর্বজয়া অপুর জন্য কী ভাজছিল?

সর্বজয়া অপুর জন্য চালভাজা ও ছোলাভাজা ভাজছিল।

কেন সর্বজয়া অপুর জন্য চালভাজা ও ছোলাভাজা ভাজছিল?

অপু চালভাজা ও ছোলাভাজা খেতে ভালোবাসে বলে সর্বজয়া তার জন্য তা ভাজছিল।

নীলুর সাথে অপু কোথায় যেতে রাজি হল?

নীলুর সাথে অপু দক্ষিণ মাঠে পাখির ছানা দেখতে যেতে রাজি হল।

দক্ষিণের মাঠ গ্রাম থেকে কত দূর?

দক্ষিণের মাঠ গ্রাম থেকে এক মাইলেরও বেশি দূর।

সন্ধ্যাবেলা অপু কোথা দিয়ে একা যেতে ভয় পায়?

সন্ধ্যাবেলা অপু গাবতলা দিয়ে একা যেতে ভয় পায়।

পথ হারিয়ে অপু ও নীল কোথায় এসে পৌঁছোল?

পথ হারিয়ে অপু ও নীলু আতুরি ডাইনির বাড়ির পথে এসে পৌঁছোল।

কোন অপরাধে আতুরি ডাইনি জেলেপাড়ার এক ছেলের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল?

আতুরি ডাইনির উঠোনের গাছের বিলাতি আমড়া পাড়ার অপরাধে সে জেলেপাড়ার এক ছেলের প্রাণ কেড়ে কচুপাতায় বেঁধে জলে ডুবিয়ে রেখেছিল।

সর্বজয়া উনুন ধরিয়ে কী ভাজছিল?

সর্বজয়া উনুন ধরিয়ে তালের বড়া ভাজছিল।

পাখির ছানা দেখতে অপু আর নীলু কতদূর গিয়েছিল?

পাখির ছানা দেখতে অপু আর নীলু দক্ষিণ মাঠে গিয়েছিল, যা ধানখেতের ওপারে নবাবগঞ্জের বাঁধা সড়কে পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা হয়ে মাঠের মাঝখান দিয়ে গেছে। জায়গাটি গ্রাম থেকে প্রায় এক মাইলের উপর।

‘বাড়ি চলো নীলুদা,’ – কার উক্তি? সে কেন বাড়ি যেতে চেয়েছিল?

উপরিউক্ত উক্তিটি ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের বালক চরিত্র অপুর।
অপু তাড়াতাড়ি বাড়ি যেতে চেয়েছিল কারণ চারদিকে সন্ধ্যা হয়ে এসেছিল। সে সন্ধ্যাবেলা একা গাবতলা দিয়ে যেতে পারবে না। তা ছাড়া মায়ের বকুনির ভয়ও তার মনে ছিল।

আতুরি ডাইনি সম্পর্কে অপু কী কী কথা শুনেছিল?

অপু শুনেছিল যে আমড়া পাড়ার অপরাধে এক জেলের ছেলের প্রাণ কেড়ে নিয়ে আতুরি ডাইনি কচুপাতায় বেঁধে জলে ডুবিয়ে রেখেছিল। এ ছাড়া আতুরি ডাইনি ছোটো ছেলের রক্ত চুষে খেয়ে নিতে পারে, কিন্তু ছেলেটি তা টেরও পাবে না।

রাত্রিতে তুই ওসব গল্প বলিসনে দিদি,’-দিদি তাকে কার গল্প বলত? সে কার গল্প শুনতে চাইত?

রাত্রে অপুর দিদি দুর্গা আতুরি ডাইনির গল্প বলত।
অপু সেই গল্প না শুনে দিদিকে কুঁচবরণ রাজকন্যার গল্প বলতে বলত।

‘ভয় কী মোরে, ও বাবারা?’ – কার উক্তি? সে কাদের ‘বাবা’ বলে সম্বোধন করেছিল?

উদ্ধৃত উক্তিটি আতুরি ডাইনির।
আতুনি ডাইনি অপু আর নীলুকে ‘বাবা’ বলে সম্বোধন করেছিল।

‘অপু এতদূর কখনও বেড়াইতে আসে নাই’ – অপু কোথায় এসেছিল? তখন তার কেমন অনুভূতি হয়েছিল?

নীলুর সঙ্গে অপু দক্ষিণ মাঠে পাখির ছানা দেখতে গিয়ে, ধানখেতের ওপারে নবাবগঞ্জের বাঁধা সড়কটি ধরে তাদের গ্রাম থেকে প্রায় এক মাইল দূরে চলে এসেছিল।
এতদূর এসে অপুর মনে হয়েছিল যেন সে সমস্ত পরিচিত জিনিসের গণ্ডি ছাড়িয়ে কোথায় চলে এসেছে (নীলুদা তাকে টেনে এনেছে)।

‘ফিরিতে যাইয়া নীলু পথ হারাইয়া ফেলিল।’ – নীলু কোথায় যাচ্ছিল? পথ হারানোর ফল কী হয়েছিল?

নীলু দক্ষিণ মাঠে যাচ্ছিল।
গ্রাম ছাড়িয়ে প্রায় মাইলখানেক চলে যাওয়ার পরে তারা বুঝল যে পথ হারিয়ে ফেলেছে। এর ফলে নীলু আর অপু আতুরি বুড়ির বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিল।

‘অপুর মুখ শুকাইয়া গেল’ – কখন অপুর এমন হয়েছিল?

ভাদ্র মাসের এক বিকেলে নীলুর সঙ্গে পাখির ছানা দেখার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে অপুরা পথ হারিয়ে আতুরি ডাইনির বাড়িতে উপস্থিত হয়। তখন সন্ধ্যার আঁধার নেমে এসেছে, আতুরি ডাইনি সম্পর্কিত নানা প্রকারের অলৌকিক কথা সে শুনেছিল-যেগুলি তার মনে ভীষণ ভয় তৈরি করেছিল। সেই ভয়েই অপুর মুখ একেবারে শুকিয়ে গিয়েছিল।

‘তাহার সমস্ত শরীর যেন জমিয়া হিম হইয়া গেল’ – কার, কেন এমন হয়েছিল?

পথ ভুলে অপু আতুরি ডাইনির বাড়িতে ঢুকে পড়েছিল, এ কথা যখন সে বুঝতে পারল, তখন সামনে তাকিয়ে দেখতে চাইল যে বাড়িতে কেউ আছে কি না। অপু দেখল বেড়ায় বাঁশের আগলের কাছে স্বয়ং আতুরি ডাইনিই দাঁড়িয়ে আছে-এমনকি সে যেন তারই দিকে তাকিয়ে আছে। এই অবস্থাতেই ভয়ে অপুর শরীর যেন জমে হিম হয়ে গিয়েছিল।

অপু যখন বাড়ি ফিরে এল তখন তার মা ও দিদি কী করছিল?

অপু যখন বাড়ি ফিরে এল তখন সন্ধ্যা উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। সেই সময়ে তার মা উনুন ধরিয়ে তালের বড়া ভাজার আয়োজন করছিল; আর তার দিদি দুর্গা মায়ের কাছে বসে তাল চেঁচে রস বের করছিল।

আতুরি বুড়ির আহ্বান অপু শোনেনি কেন?

আতুরি ডাইনি অপু আর নীলুকে আমচুর দেবে বলে ডেকেছিল কিন্তু অপুর মনে হল ডাইনি বুড়ি ফাঁকি দিয়ে ভুলিয়ে তাদের ধরে রাখতে চায়। সে মা-এর কাছে শুনেছিল যে ডাইনি বা রাক্ষসীরা এমনভাবে ভুলিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলে আর আতুরি ডাইনিও বুঝি তাই করছে। এ কথা মনে হতেই অপু আতুরি ডাইনির কথায় সাড়া না দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল।

হরিহর বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় কাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল?

হরিহর বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় অপুকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল।

দিদির সঙ্গে অপু কোথায় বাছুর খুঁজতে এসেছিল?

দিদির সঙ্গে অপু দক্ষিণ মাঠে বাছুর খুঁজতে এসেছিল।

গুড় বোঝাই গোরুর গাড়ি কোথায় যাচ্ছিল?

গুড় বোঝাই গোরুর গাড়ি আষাড়ুর হাটে যাচ্ছিল।

হরিহর কোন্ শিষ্যের বাড়ি গিয়েছিলেন?

হরিহর লক্ষ্মণ মহাজন নামক শিষ্যের বাড়ি গিয়েছিলেন।

লক্ষ্মণ মহাজনের অবস্থা কেমন?

লক্ষ্মণ মহাজন বেশ বড়ো চাষি ও অবস্থাপন্ন গৃহস্থ।

কেমন ঘরে হরিহরের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল?

বাইরের বড়ো আটচালা ঘরে হরিহরের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল।

অপুর সকল জারিজুরি কার কাছে খাটে?

অপুর সকল জারিজুরি তার মায়ের কাছে খাটে।

লক্ষ্মণ মহাজনের ছোটো ভাইয়ের স্ত্রীর ঘরে অপু কী কী জিনিস দেখল?

লক্ষ্মণ মহাজনের ছোটো ভাইয়ের স্ত্রীর ঘরে অপু কড়ির আলনা, রংবেরং -এর ঝুলন্ত শিকা, পশমের পাখি, কাচের পুতুল, মাটির পুতুল, শোলার গাছ ইত্যাদি জিনিস দেখল।

বধূটি অপুকে কী তৈরি করে দিয়েছিল?

বধূটি অপুকে মোহনভোগ তৈরি করে দিয়েছিল।

মায়ের তৈরি মোহনভোগে কী থাকে না?

মায়ের তৈরি মোহনভোগে কিশমিশ থাকে না।

অপুদের বাড়িতে ভালো খাওয়াদাওয়া হয় না কেন?

অপুরা গরিব, তাই তাদের বাড়িতে ভালো খাওয়াদাওয়া হয় না।

অমলাকে কেমন দেখতে ছিল?

অমলার গায়ের রং ছিল টকটকে ফর্সা, চোখ দুটি ছিল বড়ো বড়ো, মুখখানিও সুন্দর ছিল।

অমলার বাড়ির নানারকম পুতুলগুলি কোথা থেকে কেনা?

অমলার বাড়ির নানারকম পুতুলগুলি কালীগঞ্জের স্নানযাত্রার মেলা থেকে কেনা।

বধূর বাড়িতে অপুকে কী খেতে দেওয়া হয়েছিল?

বধূর বাড়িতে অপুকে গলদা চিংড়ি খেতে দেওয়া হয়েছিল।

‘অপু জন্মিয়া অবধি কোথাও কখনও যায় নাই।’ – জন্মের পর থেকে অপু যেখানে যতটুকু গেছে, তার পরিচয় দাও।

অপু জন্মের পর থেকে বাড়ির গন্ডির বাইরে বিশেষ কোথাও যায়নি। গ্রামের বকুলতলা, গোঁসাইবাগান, চালতেতলা, নদীর ধার, নবাবগঞ্জের পাকা সড়ক ইত্যাদি স্থানেই সে একাধিক বার গেছে। এ ছাড়া গ্রীষ্মকালে মায়ের সঙ্গে নদীর ঘাটে সে গেছে। এর বাইরে সে কখনও কোথাও যায়নি।

‘চল যাই আমরা রেলের রাস্তা দেখে আসি,’ – কে, কাকে, কখন এ কথা বলেছিল?

আলোচ্য অংশে দুর্গা অপুকে রেলের রাস্তা দেখে আসার কথা বলেছিল।
অপু আর দুর্গা একদিন তাদের রাঙি গাইয়ের বাছুর খুঁজতে খুঁজতে নবাবগঞ্জের পাকা রাস্তায় এসে পড়ে। তখন দুর্গা সেই রাস্তার ওপারে বহুদূর ঝাপসা মাঠের দিকে চেয়ে অপুকে এ কথা বলেছিল।

‘মাকে বলব বাছুর খুঁজতে দেরি হয়ে গেল’ – কার উক্তি? বাছুর খুঁজতে কি সত্যিই দেরি হয়েছিল?

প্রশ্নে উদ্ধৃত উক্তিটি অপুর দিদি দুর্গার।
না, বাছুর খুঁজতে দেরি হয়নি। প্রকৃতপক্ষে অপু ও দুর্গা রেলের রাস্তা দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, যা ছিল অনেক দূর। তাই বাড়ি ফিরতে দেরি হলে মাকে তারা এই অজুহাত দেবে ঠিক করেছিল।

‘ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যা কথা বলিয়া তবে নিজের ও তাহার পিঠ বাঁচাইল।’ – কে ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যা কথা বলল? কাকে বলল? মিথ্যা কথা বলে সে আর কাকে বাঁচাল?

আলোচ্য অংশে ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যা কথা বলেছিল অপুর দিদি দুর্গা।
সে নিজের মাকে ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যা কথা বলেছিল।
মিথ্যা কথা বলে সে নিজের ভাই অপুকেও বাঁচিয়েছিল প্রহারের হাত থেকে।

‘রেলগাড়ি কখন আসবে?’ – কে, কাকে, কখন এ কথা জিজ্ঞেস করেছিল?

প্রশ্নে উদ্ধৃত উক্তিটি বালক অপুর।
অপু তার বাবাকে এ কথা জিজ্ঞেস করেছিল।
অপু যখন বাবার সঙ্গে বেরিয়ে রেলের রাস্তা দেখেছিল, তখনই তার মনে নানা প্রশ্নের ভিড় জমে। সেসময়ই, রেলগাড়ি কখন আসবে, এই প্রশ্নটি সে বাবাকে জিজ্ঞেস করে।

‘তুমি কাদের বাড়ি এসেছ, খোকা?’ – এ কথা কে, কাকে জিজ্ঞেস করেছিল? খোকা কাদের বাড়িতে এসেছিল?

প্রশ্নোক্ত প্রশ্নটি করেছিল লক্ষ্মণ মহাজনের ছোটো ভাইয়ের স্ত্রী।
সে অপুকে এই প্রশ্নটি করেছিল।
খোকা অর্থাৎ অপু লক্ষ্মণ মহাজনদের বাড়িতে এসেছিল।

‘এরা খুব বড়োলোক তো’ – কার, কেন এমন মনে হয়েছিল?

লক্ষ্মণ মহাজনের ছোটো ভাইয়ের সঙ্গে তাদের ঘরে প্রবেশ করে অপু সেখানে নানা জিনিস দেখতে পায়। যেমন – বাড়ির আলনায় রংবেরং-এর ঝুলন্ত শিকা, পশমের পাখি, কাচের পুতুল, মাটির পুতুল, শোলার গাছ-আরও অনেক কিছু। এগুলি তাদের (অপুদের) বাড়িতে ছিল না। এইসব দেখতে দেখতেই অপুর মনে হয়েছিল যে বধূরা বড়োলোক।

অপু লক্ষ্মণ মহাজনের ছোটো ভাইয়ের বাড়িতে কেমন মোহনভোগ খেয়েছিল? এই মোহনভোগের সঙ্গে তার মায়ের তৈরি মোহনভোগের পার্থক্য কোথায়?

অপু লক্ষ্মণ মহাজনের ছোটো ভাইয়ের বাড়িতে যে মোহনভোগ খেয়েছিল তা ছিল অত্যন্ত সুস্বাদু। তাতে ঘি, কিশমিশ ইত্যাদি যথেষ্ট পরিমাণে দেওয়া ছিল।
অপুর মা সুজি জলে সেদ্ধ করে তাতে গুড় মিশিয়ে পুলটিসের মতো দেখতে মোহনভোগ বানাত। ঘি ও কিশমিশ দেওয়া মোহনভোগের সাথে তার অনেক তফাত।

‘পাছে বাবার বকুনি খাইতে হয়, এই ভয়ে অপু একথা কাহারও কাছে প্রকাশ করিল না।’ – কোন্ কথা সে প্রকাশ করল না?

একদিন বিকালবেলা খেলতে খেলতে অপুর পায়ের আঙুল বেড়ার বাঁশের ফাঁকে আটকে যায়। আঙুল কেটে রক্ত পড়তে থাকে। অমলা এসে তাকে উদ্ধার করে। এ কথাই সে কারও কাছে প্রকাশ করে না, বাবার কাছে বকা খাওয়ার ভয়ে।

অমলাদের বাড়িতে নানারকম খেলনা পুতুল দেখে অপুর কী মনে হয়েছিল?

অমলাদের বাড়িতে নানারকম খেলনা পুতুল দেখে অপু অবাক হয়ে যায়, তখনই তার দিদির কথা মনে পড়ে। তার মনে হয় দিদি তো এসব খেলনা কোনোদিনই দেখেনি; দিদি শুধু শুকনো নাটাফল আর রডার বিচি কুড়িয়ে, পরের পুতুল চুরি করে মার খায়। সে ভাবে পয়সা থাকলে সে দিদিকে একটা কলের ঘোড়া, রবারের বাঁদর কিনে দিত।

“মরে কেবল শুকনো নাটাফল আর রড়ার বিচি কুড়িয়ে” – কে কার সম্বন্ধে এ কথা ভাবে? কেন তার মনে এই ভাবনা আসে?

বালক অপু এ কথা ভাবে তার দিদি দুর্গার সম্বন্ধে।
অপু অমলার বাড়িতে এসে নানারকম নতুন নতুন খেলনা দেখে, যা সে আগে কোনোদিন দেখেনি। খেলনাগুলি দেখে সে অবাক হয়ে যায়। তখনই তার মনে পড়ে দিদির কথা। সে ভাবে দিদি এইসব খেলনা কোনোদিন দেখেনি, শুধু বুনোফল কুড়িয়েই দিদি আনন্দ পেয়েছে।

অমলাদের বাড়ির আলমারিতে অপু কী কী জিনিস দেখেছিল?

অমলাদের বাড়ির আলমারিতে অপু কাচের মেম-পুতুল, মোমের পাখি, গাছ ইত্যাদি দেখেছিল, এ ছাড়াও রবারের বাঁদর, খঞ্জনি, পুতুল, টিনের ঘোড়া-এসব খেলার জিনিসও অপু দেখেছিল।

হরিহর কতদিন পর অপুকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছিল?

হরিহর দুইদিন পর অপুকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছিল।

সর্বজয়া কাকে না দেখে থাকতে পারছিল না?

সর্বজয়া অপুকে না দেখে থাকতে পারছিল না।

কী নিয়ে অপু-দুর্গার ঝগড়া হয়েছিল?

দেশি-কুমড়োর শুকনো খোলার নৌকো নিয়ে অপু-দুর্গার ঝগড়া হয়েছিল।

অপু কতদিন ধরে তার ভ্রমণকাহিনি শুনিয়েছিল?

অপু পনেরো দিন ধরে তার ভ্রমণকাহিনি শুনিয়েছিল।

অপুর ‘টেলিগিরাপের তার’ কে ছিঁড়ে ফেলেছিল?

অপুর ‘টেলিগিরাপের তার’ মা ভুল করে ছিঁড়ে ফেলেছিল।

অপু কার উপর রাগ করেছিল?

অপু তার মায়ের উপর রাগ করেছিল।

মাতা-পুত্রের অভিমানের পালায় মধ্যস্থতা করে কে?

মাতা-পুত্রের অভিমানের পালায় মধ্যস্থতা করে দুর্গা।

অপু রাগ করে কাদের বাগানের গুঁড়ির উপর গিয়ে বসেছিল?

অপু রাগ করে রায়দের আমবাগানের গুঁড়ির উপর বসেছিল।

‘টেলিগিরাপের তার’ দেখাতে অপু কাকে ডেকেছিল?

‘টেলিগিরাপের তার’ দেখাতে অপু সতুকে ডেকেছিল।

‘টেলিগিরাপের তার’ টাঙিয়ে অপু কোন্ খেলা খেলতে চেয়েছিল?

‘টেলিগিরাপের তার’ টাঙিয়ে অপু রেল রেল খেলা খেলতে চেয়েছিল।

রেলগাড়ি খেলায় অপু টিকিটের জন্য কী ব্যবস্থা করেছিল?

রেলগাড়ি খেলায় অপু বাতাবিলেবু গাছের পাতা দিয়ে টিকিট বানিয়েছিল।

দোকান-ঘর অপু-দুর্গা কী দিয়ে বানিয়েছিল?

দোকান-ঘর অপু-দুর্গা ইট দিয়ে বানিয়েছিল।

অপু-দুর্গার বানানো দোকানে কী কী সামগ্রী ছিল?

অপু-দুর্গার বানানো দোকানে পান, আলু, মাছ, পটল, বরবটি, সৈন্ধব লবণ, চিনি ও পাকাফল প্রভৃতি সামগ্রী ছিল।

সতু দোকান থেকে কী তুলে নিয়ে পালিয়েছিল?

সতু অপু-দুর্গার বানানো দোকান থেকে তিনটি মাকাল ফল তুলে নিয়ে পালিয়েছিল।

কার বিয়ের পাকা দেখার কথা দুর্গা বলেছিল?

দুর্গা তার পুতুলের বিয়ের পাকা দেখার কথা বলেছিল।

কে অপুর চোখে ধুলো ছুঁড়েছিল?

সতু অপুর চোখে ধুলো ছুঁড়েছিল।

‘দুর্গার খেলা কয়দিন হইতে ভালোরকম জমে নাই,’ – দুর্গার খেলা না জমার কারণ কী?

অপু তার বাবার সঙ্গে বাইরে যাওয়ার কয়েকদিন আগে দুর্গার সাথে তার তুমুল ঝগড়া হয়। দেশি-কুমড়োর শুকনো খোলার নৌকো এই ঝগড়ার মূল কারণ। ঝগড়ার ফলে দুই জনের মুখ দেখাদেখি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই অপু বাইরে চলে যায়। ফলে মিটমাট করার সুযোগ দুর্গা পায় না। তাই মন ভালো না থাকায়, তার খেলাও বিশেষ জমে না।

‘এটাই কেবল বাদ পড়িয়াছে’ – কী বাদ পড়েছিল? কেন বাদ পড়েছিল?

উদ্ধৃত অংশে অপুর রেলগাড়ি দেখা বাদ পড়ার কথা বলা হয়েছে।
অপু রেললাইন দেখার পর বিস্মিত হয়েছিল, রেলগাড়ি দেখারও ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিল। কিন্তু সেইসময় কোনো রেলগাড়ি আসার সময় ছিল না। রেলগাড়ি আসতে প্রায় দু-ঘণ্টা দেরি ছিল। তার বাবা অপেক্ষা করতে রাজি না হওয়ায়, তার রেলগাড়ি দেখা হয়ে ওঠেনি।

‘ক্ষতির আকস্মিকতায় ও বিপুলতায় প্রথমটায় সে কিছু ঠাহর করিতে পারিল না।’ – কার কথা বলা হয়েছে? তার কী ক্ষতি হয়েছিল?

উদ্ধৃত অংশে সরল গ্রাম্য বালক অপুর কথা বলা হয়েছে।
অপু তার বাড়ির উঠোনে অনেক কষ্ট করে ‘টেলিগিরাপ’-এর তার টাঙিয়েছিল। তার সাধ ছিল সেই তার টাঙিয়ে রেল-রেল খেলা হবে। কিন্তু তার মা অন্যমনস্কভাবে বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে সেই তার ছিঁড়ে ফেলে। এই ঘটনা অপুর কাছে বিপুল ক্ষতির শামিল হয়ে ওঠে।

অপু-দুর্গার দোকান ঘরে কী কী জিনিস পণ্য হিসেবে ছিল?

অপু-দুর্গার দোকানঘরে পান, আলু, মাছ, পটল, বরবটি, সৈন্ধব লবণ, চিনি ও ফল পণ্য হিসেবে ছিল।
পান বানানো হয়েছিল নোনাপাতা দিয়ে, আলু বানানো হয়েছিল মেটে আলু দিয়ে, মাছ বানানো হয়েছিল রাধালতা ফুল দিয়ে, পটল হয়েছিল তেলাকুচো দিয়ে। এ ছাড়া চিচ্চিড়ে দিয়ে বরবটি, মাটির ঢেলা দিয়ে সৈন্ধব লবণ ও বালি দিয়ে চিনি বানানো হয়েছিল।

অপু দিন পনেরো ধরিয়া’ কী বলে বেড়িয়েছিল?

অপু তার বাবার সঙ্গে শিষ্যবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে অমলাদের ঘরে মাটির আতা, পেঁপে, শশা-অবিকল সত্যিকারের মতো দেখেছিল। একটা পুতুল দেখেছিল যেটার পেট টিপলে মৃগী রোগীর মতো হাত-পা ছুঁড়ে হঠাৎ খঞ্জনি বাজাত; রেলের রাস্তাও সে দেখেছিল-এইসব গল্পই অপু দিন-পনেরো ধরে বলে বেড়িয়েছিল।

অপু-দুর্গার দোকানঘরের পণ্যদ্রব্যগুলি কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল?

অপু-দুর্গার দোকানঘরে পণ্যদ্রব্য হিসেবে পান, আলু, মাছ, পটল, বরবটি, সৈন্ধব লবণ, চিনি ও ফল ছিল। নোনা পাতা দিয়ে পান, মেটে আলু দিয়ে আলু, রাধালতা ফুল দিয়ে মাছ, তেলাকুচো দিয়ে পটল, চিচ্চিড়ে দিয়ে বরবটি, মাটির ঢেলা দিয়ে সৈন্ধব লবণ ও বালি দিয়ে চিনি বানানো হয়েছিল।

‘কার্যটি চক্ষের নিমিষে হইয়া গেল’ – কোন কাজের কথা বলা হয়েছে?

অপু সারাদিন বনজঙ্গলে ঘুরে ঘুরে গুলঞ্চলতা সংগ্রহ করে বাড়িতে সেগুলির সাহায্যে ‘টেলিগিরাপের’ তার বানিয়েছিল। তার মা ব্যস্তভাবে বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে না দেখে সেগুলিকে ছিঁড়ে ফেলেছেন। এই কাজটির কথাই এখানে বলা হয়েছে।

অপু কীভাবে গুলঞ্চলতা সংগ্রহ করেছিল এবং কেন?

অপু সারাদিন ধরে নীলমণি জ্যাঠার বাড়ি, পালিতদের বড়ো আমবাগান, প্রসন্ন গুরুমশাইয়ের বাঁশবন-অনেক জঙ্গল ঘুরে বহু কষ্টে উঁচু ডাল থেকে ঝুলতে থাকা গুলঞ্চলতা সংগ্রহ করেছিল।
এই লতা দিয়ে সে টেলিগিরাপের তার বানিয়ে রেল-রেল খেলবে বলে এনেছিল।

‘রাণুকেও বলব’ – বক্তা কে? সে কী বলবে ভেবেছিল?

প্রশ্নে প্রদত্ত উক্তিটির বস্তা হল দুর্গা।
সতু অপুর খেলার সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় অপুর চোখে ধুলো ছিটিয়ে দিয়েছে, তাতে অপুর চোখে ধুলোবালি ঢুকে যন্ত্রণা দিচ্ছিল। সতুর এমন কাজের কথাই রাণুকে বলবে বলে মনে করেছিল দুর্গা।

দুর্গা রাণুকে কিছু বলেনি কেন?

রাণুকে সতুর দুষ্কর্মের কথা বলার জন্য তাদের বাড়ির কাছে গিয়েও দুর্গা ফিরে এসেছিল, কারণ সেজোঠাকরুণকে সে বড়ো ভয় করে। দুর্গার মনে সংশয় হয়েছিল যে তার কথা হয়তো কেউ গুরুত্বই দেবে না, তাই রাণুকে কিছু বলেনি দুর্গা।

খাওয়াদাওয়ার পর অপু দুপুরবেলা কোথায় থাকে?

খাওয়াদাওয়ার পর অপু দুপুরবেলা ঘরেই থাকে।

অপুর ঠাকুরদার নাম কী ছিল?

অপুর ঠাকুরদার নাম ছিল রামচাঁদ তর্কালঙ্কার।

অপু তার বাবার সঙ্গে কাদের বাড়ির মজলিশে যেত?

অপু তার বাবার সঙ্গে গাঙ্গুলিবাড়ির চন্ডীমণ্ডপে বৃদ্ধদের মজলিশে যেত।

বিশালাক্ষী দেবী গ্রামে কোন্ রোগ হবে বলে ভবিষ্যদবাণী করেছিলেন?

বিশালাক্ষী দেবী গ্রামে ওলাওঠা রোগ হবে বলে ভবিষ্যদবাণী করেছিলেন।

কবে বিশালাক্ষী দেবী একশো আটটা কুমড়ো বলি দিতে বলেছিলেন?

চতুর্দশীর রাত্রে বিশালাক্ষী দেবী একশো আটটা কুমড়ো বলি দিতে বলেছিলেন।

মজুমদার বাড়ির মন্দির বিশালাক্ষী দেবী পরিত্যাগ করেছিলেন কেন?

বিশালাক্ষী দেবী ছিলেন নিশ্চিন্দিপুর গ্রামের মজুমদার বংশের প্রতিষ্ঠিত দেবতা। কথিত আছে, সেই দেবীর মন্দিরে একবার নরবলি দেওয়া হয়। এতে দেবী রুষ্ট হন এবং মন্দির পরিত্যাগ করে চলে যান।

স্বরূপ চক্রবর্তীকে বিশালাক্ষী দেবী কী বলেছিলেন?

স্বরূপ চক্রবর্তীকে বিশালাক্ষী দেবী প্রথমে নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন। তারপর তিনি ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছিলেন যে, গ্রামে অল্পদিনের মধ্যেই ওলাওঠার মড়ক হবে। এ ছাড়াও তিনি চতুর্দশীর রাত্রে পঞ্চাননতলায় একশো আটটা কুমড়ো বলি দিয়ে কালীপুজো করতে বলেছিলেন।

অপুদের ঘরটি কেমন?

অপুদের ঘরটি পুরোনো, জীর্ণ এক কোঠাবাড়ি। কাঠের সেকেলে একটা সিন্দুক, কটা রং-এর সেকালের বেতের প্যাঁটরা, কড়ির আলনা, জলচৌকিতে সেই ঘর ভরতি। সে ঘরে এমনসব বাক্স আছে, যার ভিতরের দ্রব্য সম্পর্কে অপুর কোনো ধারণা নেই।

‘জন্মিয়া অবধি এই বন তাহাদের সুপরিচিত,’ – কোন্ বনের কথা বলা হয়েছে?

অপু-দুর্গার বাড়ির পাশ থেকেই যে বন শুরু হয়েছে, যার কোনো সীমা অপুর চোখে ধরা পড়েনি, যে বন অপু-দুর্গার শৈশবকে সুধারসে আপ্লুত করে তুলত-সেই বনের কথাই এখানে বলা হয়েছে।

জানলার ধারে বসে অপু কী দেখতে পেত?

জানলার ধারে বসে অপু দেখতে পেত সবুজ সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো ভাঁট-শেওড়া গাছের মাথাগুলি, গাছে গাছে দোদুল্যমান নানা ধরনের লতা, প্রাচীন বাঁশঝাড় বয়সের ভারে ঝুঁকে পড়েছে সোঁদালি বা বনচালতার উপরে আর তারই নীচে খঞ্জন পাখির নাচ।

‘পুত্রগর্বে হরিহরের বুক ভরিয়া যায়।’ – কখন হরিহরের এমন অনুভূতি হত?

হরিহর কখনো-কখনো গাঙ্গুলিবাড়ির চণ্ডীমণ্ডপে বৃদ্ধদের মজলিশে অপুকে নিয়ে যেত। অপু সেখানে রামায়ণ, পাঁচালি পাঠ করে বৃদ্ধদের প্রশংসা লাভ করত। তখনই পুত্রগর্বে হরিহরের বুকটা ভরে যেত।

সর্বজয়া সন্ধ্যার পরে কী রান্না করছিল?

সর্বজয়া সন্ধ্যার পরে ভাত ও তরকারি রান্না করছিল।

অপু কোথায় মাদুর পেতে বসেছিল?

অপু দাওয়ায় মাদুর পেতে বসেছিল।

পুজো আসতে আর কতদিন বাকি ছিল?

পুজো আসতে আর বাইশদিন বাকি ছিল।

অপু যষ্টিমধু ভেবে কী খেয়েছিল?

অপু যষ্টিমধু ভেবে পোস্তদানা খেয়েছিল।

দুর্গা পাতালকোঁড়গুলিকে কী ভেবেছিল?

দুর্গা পাতালকোঁড়গুলিকে ব্যাঙের ছাতা ভেবেছিল।

‘পুজোর আর কদিন আছে,’ – এ কথা কে, কাকে জিজ্ঞাসা করেছিল? তার উত্তরে কে কী বলেছিল?

উদ্ধৃত প্রশ্নটি অপু তার মাকে জিজ্ঞাসা করেছিল।
অপুর আলোচ্য প্রশ্নের উত্তরে তার মা কোনো উত্তর দেয়নি। তার দিদি দুর্গা বলেছিল যে পুজোর আর বাইশদিন আছে।

‘দুর্গার মন আজ খুব খুশি আছে।’ – দুর্গার মন খুশি থাকার কারণ কী?

দুর্গাদের বাড়িতে রাতে প্রায়ই রান্না হয় না। দিনেরবেলা রান্না করা ভাত-তরকারিই খাওয়া হয়। কিন্তু উক্ত দিনটিতে তাদের বাড়িতে রাতে ভাত, তরকারি রান্না হওয়ায় সে খুব খুশি হয়েছিল।

সর্বজয়া যখন ভাত রাঁধছিলেন তখন অপু-দুর্গা কী করছিল?

সর্বজয়া সন্ধ্যার পরে যখন ভাত রাঁধছিলেন, তখন অপু মাদুরে বসেছিল আর অপুর দিদি দুর্গা বঁটি পেতে তরকারি কাটছিল।

অপু কোথায় কড়ি খেলতে গিয়েছিল?

অপু জেলেপাড়ায় কড়ি খেলতে গিয়েছিল।

বঙ্কা কী করছিল?

বঙ্কা পেয়ারাতলায় বাখারি চাঁচছিল।

তিনকড়ি জেলের বাড়ি থেকে অপু কোথায় গিয়েছিল?

তিনকড়ি জেলের বাড়ি থেকে অপু রামচরণ জেলের বাড়ি গিয়েছিল।

রামচরণ জেলের ছেলের নাম কী?

রামচরণ জেলের ছেলের নাম হৃদয়।

তেঁতুলতলায় কী খেলা হচ্ছিল?

তেঁতুলতলায় কড়ি খেলা হচ্ছিল।

পটু কোন্ পাড়ার ছেলে ছিল?

পটু ব্রাহ্মণপাড়ার ছেলে ছিল।

অপু পটুকে প্রথম কোথায় দেখে?

অপু পটুকে প্রথম প্রসন্ন গুরুমহাশয়ের পাঠশালায় দেখে।

অপুর সমস্ত গোপন কথা কে জানে?

অপুর সমস্ত গোপন কথা জানে তার দিদি দুর্গা।

পটু জেলেদের ছেলের কথামতো আরও এক হাত দূর থেকে কড়ি খেলতে রাজি হয়নি কেন?

পটু সেদিনের কড়িখেলায় অনেক কড়ি জিতেছিল। তার কোমরের গেঁজেটি কড়িতে প্রায় ভরে গিয়েছিল। এত কড়ি নিয়ে সে বাড়ি যেতে পারত না। তা ছাড়া জেলেদের ছেলেদের কথা অনুযায়ী আরও এক হাত দূর থেকে কড়ি খেললে তার হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকত। তাই সে আরও এক হাত দূর থেকে কড়ি খেলতে রাজি হয়নি।

বাঁকা-কঞ্চি অপুর জীবনে এক অদ্ভুত জিনিস কেন?

অপু একটা শুকনো, হালকা, গোড়ার দিক মোটা আগার দিক সরু বাঁকা কঞ্চি হাতে নিয়ে বাঁশবনের পথে বা নদীর ধারে ঘুরে বেড়াত। নিজেকে রাজপুত্র, ভ্রমণকারী, সেনাপতি, তামাকের দোকানি বা মহাভারতের অর্জুন – এইসব ভেবে এক কাল্পনিক জগতে বিচরণ করত সে। কঞ্চি যতই হালকা হত ততই তার আনন্দ ও কল্পনা পরিপূর্ণ হত। এই কারণেই বাঁকা কঞ্চি তার জীবনে এক অদ্ভুত জিনিস হিসেবে স্থান পেত।

অপু কেন বঙ্কার কাছে গিয়েছিল? বঙ্কা কী বলেছিল?

প্রিয়জন অপু বঙ্কার কাছে গিয়েছিল বঙ্কার সঙ্গে কড়িখেলার উদ্দেশ্য নিয়ে।
বঙ্কা অপুকে বলেছিল যে তাকে নৌকোয় যেতে হবে, তখন খেলা করতে গেলে তার বাবা তাকে বকবে।

‘এখন যাও হৃদে বাড়ি নেই।’ – কে, কখন, কাকে এ কথা বলেছিল?

একদিন দুপুরে (দুইটা বা আড়াইটার সময়) অপু রামচরণ জেলের বাড়িতে যায়, তার ছেলে হৃদয়ের সঙ্গে কড়িখেলার উদ্দেশ্যে। রামচরণ তখন দাওয়ায় বসে তামাক খাচ্ছিল। অপু হৃদয়কে খোঁজ করলে রামচরণ অপুকে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।

‘তেঁতুলতলার কাছে আসিয়া তাহার মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হইয়া উঠিল।’ – কার মুখ, কেন উজ্জ্বল হয়েছিল?

দুপুরে রাঙা রোদে ঘুরে ঘুরেও অপু কড়িখেলার সঙ্গী না পেয়ে মন খারাপ করেছিল। ঘুরতে ঘুরতে পাড়ুইদের বাড়ির কাছে
তেঁতুলতলায় এসে অপু দেখতে পায় যে, সেখানে কড়িখেলা বেশ জমে উঠেছে। তা দেখেই অপুর মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল।

‘জেলের ছেলেরা সব একদিকে হইয়াছে।’ – কেন ছেলেরা এমন করেছিল?

পটু জেলেপাড়ার ছেলেদের সঙ্গে কড়িখেলায় অংশ নিয়ে সব কড়ি জিতে নিচ্ছিল এবং শেষে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই ঘটনা জেলের ছেলেরা মেনে নিতে পারছিল না। তারা সবাই মিলে পটুর কড়ি কেড়ে নেওয়ার কথা চিন্তা করেই একদিকে হয়েছিল।

‘তোর যত পাগলামি’ – বক্তা কে? কোন্ কাজকে সে পাগলামি বলে মনে করেছে?

প্রশ্নোক্ত অংশটির বক্তা হল দুর্গা।
দুর্গার ভাই অপু সারাদিন বনের পথে ঘুরে ঘরে বাঁকা কঞ্চি বা নানা জিনিস সংগ্রহ করে আনে খেলার সামগ্রী হিসেবে। অপুর এমন কাজকেই পাগলামি বলে মনে হয়েছিল দুর্গার।

‘কাজেই দিদির কাছে আর লুকাইয়া কি হইবে?’ – কার, কেন এমন ভাবনা হয়েছিল?

অপু বাঁকা বাঁশের কঞ্চি নিয়ে নির্জন বনপথে, বাড়ির পিছনে তেঁতুলতলায় আপন মনে ঘুরে বেড়ায়, খেলে বেড়ায়। আর কেউ না জানলেও দিদি দুর্গা অপুর এই পাগলামির কথা জানে-তাই দিদির কাছে এ ব্যাপারে কোনো লজ্জা নেই অপুর। তাই সে এমনভাবে ভেবেছে।

অপু প্রথম পটুকে কোথায় কী অবস্থায় দেখেছিল?

অপু প্রথম পটুকে দেখেছিল প্রসন্ন গুরুমশাইয়ের পাঠশালায়।
অপু যেদিন গুরুমশাইয়ের পাঠশালায় ভরতি হয়, সেদিন পটুকে দেখেছিল পাঠশালায় শান্তভাবে বসে আছে এবং তালপাতা মুখে পুরে চিবোচ্ছে-এমন অবস্থায়।

‘কড়িগুলি চারিধারে ছত্রাকার হইয়া গেল।’ – কীভাবে কড়িগুলি ছড়িয়ে পড়েছিল?

জেলেদের ছেলেরা পটুর কড়িগুলি কেড়ে নেওয়ার জন্য তাকে ধাক্কা দিলে পটু মাটিতে পড়ে যায়। সে কড়ির থলিটা পেটে চেপে ধরলেও বলিষ্ঠ চেহারার জেলের ছেলেদের আঘাতে কড়ির থলিটা পটুর হাত থেকে ছিটকে পড়েছিল পথে। তার ফলেই কড়িগুলি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।

অপু যে বইটি অধীর আগ্রহের সঙ্গে দেখছিল, তার নাম কী?

অপু যে বইটি অধীর আগ্রহের সঙ্গে দেখছিল, তার নাম ‘সর্ব-দর্শন সংগ্রহ’।

মানুষ কী করে শূন্যমার্গে বিচরণ করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়?

শকুনির ডিমের মধ্যে পারদ পুরে মানুষ ইচ্ছা করলে শূন্যমার্গে বিচরণ করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়।

দুর্গা যে কুকুরটিকে রোজ ভাত খাওয়াত, তার নাম কী ছিল?

দুর্গা যে কুকুরটিকে রোজ ভাত খাওয়াত, তার নাম ছিল ভুলো।

অপু কাকে শকুনের ডিম এনে দিতে বলেছিল?

অপু রাখালকে শকুনের ডিম এনে দিতে বলেছিল।

রাখাল কোথা থেকে শকুনের ডিম এনে দিয়েছিল?

রাখাল উঁচু গাছের মগডাল থেকে শকুনের ডিম এনে দিয়েছিল।

দুর্গা সলতে বানানোর জন্য কী খুঁজছিল?

দুর্গা সলতে বানানোর জন্য ছেঁড়া ন্যাকড়া খুঁজছিল।

বইটি নাকের কাছে নিয়ে অপু কী অনুভব করেছিল?

বইটি নাকের কাছে নিয়ে তার পুরোনো গন্ধ অনুভব করেছিল অপু।

বইয়ের পুরোনো গন্ধটায় অপুর কার কথা মনে পড়ে?

বইয়ের পুরোনো গন্ধটায় অপুর বাবার কথা মনে পড়ে।

গৃহস্থের বাড়িতে রাখালরা কেন যেত?

তেল-তামাক আনতে রাখালরা গৃহস্থের বাড়িতে যেত।

‘অপু নিজের চক্ষুকে বিশ্বাস করিতে পারিল না’ – অপু কী বিশ্বাস করতে পারল না?

একদিন অপু তার বাবার বইয়ের বাক্স থেকে একটা বই খুঁজে পেয়েছিল, যার নাম ছিল ‘সর্ব-দর্শন সংগ্রহ’। সেই বইতেই সে একটা অদ্ভুত কথা পড়েছিল। সেখানে লেখা ছিল শকুনের ডিমের মধ্যে পারদ পুরে মানুষ শূন্যে বিচরণ করতে পারে। এইরকম অদ্ভুত কথা সে আগে কখনও শোনেনি, তাই বইয়ের লেখাগুলো সে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেনি।

অপুর সাধের শকুনের ডিম কীভাবে ভেঙে গিয়েছিল?

একদিন দুর্গা সলতের জন্য ছেঁড়া ন্যাকড়া খুঁজছিল। তাকে রাখা হাঁড়ি-কলশির পাশে সলতের জন্য রাখা কাপড়ের টুকরো হাতড়াতে হাতড়াতে হঠাৎই শকুনের ডিমটি মেঝের উপর পড়ে যায়। এভাবে অপুর সাধের শকুনের ডিম ভেঙে যায়।

‘রাখালকে সাংসারিক বিষয়ে অপুর অপেক্ষা অনেক হুঁশিয়ার বলিয়া মনে হইল।’ – এমন মনে হওয়ার কারণ কী?

রাখাল শকুনের ডিম এনে দেওয়ার পারিশ্রমিক বাবদ অপুর কাছে দুই আনা দাবি করে। অপু দুটো পয়সা আর তার সব কড়ি দিতে চায়, কারণ তার কাছে দুই-আনা ছিল না। কিন্তু অপুর এই প্রস্তাবে রাখাল রাজি হয় না। সে কড়ির অপেক্ষা প্রকৃত টাকার মূল্য বিষয়ে যথেষ্টই সচেতন। তাই তার সম্পর্কে এ কথা বলা হয়েছে।

‘অপু সেদিন রাত্রে খাইল না…’ – কেন অপু খায়নি?

অপু বহু সাধ্যসাধনা করে দুটি শকুনির ডিম সংগ্রহ করেছিল। দুর্গা ছেঁড়া ন্যাকড়া খুঁজতে গিয়ে হাঁড়ি-কলশির পাশে লুকিয়ে রাখা ডিমগুলিকে ভেঙে ফেলেছিল। এত সাধের ডিমদুটিকে এমনভাবে নষ্ট হতে দেখে অপু খুব দুঃখ পেয়েছিল বলেই সেদিন রাতে সে কিছু খায়নি।

অপু কীসের বিনিময়ে ডিমগুলি পেয়েছিল?

রাখাল তার ডিমের মূল্য দুই আনা চেয়েছিল কিন্তু অপুর কাছে দুই পয়সার বেশি ছিল না। অপু দিদির কাছ থেকে আরও দুই পয়সা সংগ্রহ করে। অনেক দরদস্তুরের পরে মোট চার পয়সা – ও অনেকগুলি কড়ির বিনিময়ে অপু ডিম দুইখানি পেয়েছিল।

নরোত্তম বাবাজিকে কেমন দেখতে ছিল?

নরোত্তম বাবাজি ছিলেন গৌরবর্ণ, দিব্যকান্তি। তিনি ছিলেন সদানন্দ এক ব্যক্তি।

নরোত্তম বাবাজির সঙ্গে কার ভাব ছিল?

নরোত্তম বাবাজির সঙ্গে অপুর ভাব ছিল।

অপু স্বভাবে কেমন?

অপু স্বভাবে মুখচোরা।

অপু নরোত্তম দাসের বাড়িতে যে বইটি দেখত তার নাম কী?

অপু নরোত্তম দাসের বাড়িতে যে বইটি দেখত তার নাম হল – ‘প্রেমভক্তি চন্দ্রিকা’।

অপু নরোত্তম দাসের উঠোনের গাছতলা থেকে কোন্ ফুল তুলে এনেছিল?

অপুনরোত্তম দাসের উঠোনের গাছতলা থেকে মুচকুন্দ চাঁপা ফুল তুলে এনেছিল।

অপু নরোত্তম দাস বাবাজিকে কী বলে সম্বোধন করত?

অপু নরোত্তম দাস বাবাজিকে ‘দাদু’ বলে সম্বোধন করত।

অপু মুচকুন্দ চাঁপা ফুল তুলে কোথায় রাখত?

অপু মুচকুন্দ চাঁপা ফুল তুলে বিছানায় রাখত।

কোন্ বৃদ্ধ মানুষের সঙ্গে অপুর ভাব ছিল খুব বেশি?

গ্রামের বৃদ্ধ নরোত্তম দাস বাবাজির সঙ্গে অপুর খুব ভাব ছিল।

নরোত্তম বাবাজি কেমন ঘরে বাস করতেন?

নরোত্তম বাবাজি সামান্য খড়ের ঘরে বাস করতেন।

হরিহর বাল্যকাল থেকেই ছেলেকে কার কাছে নিয়ে যেতেন?

হরিহর বাল্যকাল থেকেই ছেলেকে নরোত্তম দাস বাবাজির কাছে নিয়ে যেতেন।

অপু বাবাজির কাছে কতক্ষণ থাকত?

অনেক সময় অপু বাবাজির কাছে সারা বিকেল বসে গল্প করত ও গল্প শুনত।

নরোত্তম দাস অপুকে কী বলে ভাবতেন?

নরোত্তম দাস অপুকে ‘গৌর’ বলে ভাবতেন।

নরোত্তম বাবাজির স্বভাব বা প্রকৃতি কেমন ছিল?

নরোত্তম দাস বাবাজি গ্রামের একজন প্রবীণ ব্যক্তি, তিনি গৌরবর্ণ ও দিব্যকান্তিময় চেহারার অধিকারী। বিশেষ গোলমাল ভালোবাসেন না, প্রায়ই নির্জনে থাকেন আর সন্ধ্যার পরে মাঝে মাঝে গাঙ্গুলিদের চন্ডীমণ্ডপে গিয়ে বসতেন। সহজসরল ও অনাড়ম্বরভাবে তিনি জীবনযাপন করতেন।

‘তোমার হাতে বইয়ের অপমান হবে না—’ কে, কাকে কথাটি বলেছে? এখানে কোন্ বইয়ের কথা বলা হয়েছে?

প্রশ্নোক্ত কথাটি নরোত্তম দাস বাবাজি অপুকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন।
নরোত্তম দাস বাবাজির কাছে ‘প্রেমভক্তি-চন্দ্রিকা’ নামক একটি বই ছিল, এখানে সেই বইটির কথা বলা হয়েছে।

‘দাদুর কাছে আসিবার আকর্ষণ তাহার এত প্রবল’। – কার, কেন এমন প্রবল আকর্ষণ?

বাবাজির প্রতি অপুর আকর্ষণ প্রবল।
বাবাজির সহজসরল জীবনের পথ বেয়ে একটা অন্তঃসলিলা মুক্তির ধারা বয়ে চলে, অপু তা অনুভব করে। বাবাজির সাহচর্য অপুর কাছে তাজা মাটি-পাখি-গাছপালার সাহচর্যের মতোই অন্তরঙ্গ ও আনন্দপূর্ণ মনে হয়। তাই দাদু অর্থাৎ বাবাজির কাছে আসার আকর্ষণ তার এত প্রবল।

বাবাজির বাড়ি থেকে ফেরার সময় অপু কী সংগ্রহ করে এবং সেগুলি দিয়ে সে কী করত?

নরোত্তম দাস বাবাজির বাড়ি থেকে ফেরার সময় অপু বাবাজির উঠোনের গাছতলা থেকে একরাশি মুচকুন্দ চাঁপা ফুল কুড়িয়ে নিত।
বাড়ি ফিরে সেই ফুলগুলিকে নিজের বিছানায় রাখত, কখনও বা সেই ফুলের রাশির মধ্যে মুখ ডুবিয়ে অনেকক্ষণ ঘ্রাণ নিত অপু।

কে চড়ুইভাতি করার প্রস্তাব দিয়েছিল?

দুর্গা চড়ুইভাতি করার প্রস্তাব দিয়েছিল।

কোথায় তারা চড়ুইভাতি করবে বলে ঠিক করেছিল?

নীলমণি রায়ের জঙ্গলঘেরা ভিটেতে তারা চড়ুইভাতি করবে বলে ঠিক করেছিল।

নারকেলের মালায় দুর্গা কী নিয়েছিল?

নারকেলের মালায় দুর্গা তেল নিয়েছিল।

চড়ুইভাতিতে কী কী রান্না হবে ঠিক হয়েছিল?

চড়ুইভাতিতে ভাত, মেটে আলু ও বেগুনভাজা হবে ঠিক হয়েছিল।

অপু ও দুর্গার সঙ্গে আর কে এসেছিল চড়ুইভাতি করতে?

অপু ও দুর্গার সঙ্গে চড়ুইভাতি করতে এসেছিল বিনি।

বিনিকে দেখতে কেমন?

বিনির লম্বা গড়ন, মুখ সাদাসিধে, গায়ের রং কালো।

সামাজিক ব্যাপারে বিনিদের নিমন্ত্রণ হয় না কেন?

বিনির বাবা যেহেতু যুগীর বামুন তাই সামাজিক ব্যাপারে তাদের নিমন্ত্রণ হয় না।

বনভোজনে রান্না করেছিল কে?

বনভোজনে রান্না করেছিল দুর্গা।

বিনির কথা যা জান সংক্ষেপে লেখো।

যুগীর বামুন কালীনাথ চক্রবর্তীর মেয়ে। তার গায়ের রং কালো। সে যখন দুর্গাকে ডাকতে এসেছিল তার পরনে ছিল আধময়লা শাড়ি, হাতে ছিল সরু সরু কাচের চুড়ি। একটু লম্বা গড়ন ও সাদাসিধে এই মেয়েটি দুর্গাদের সাথে বনভোজনে যোগদান করেছিল।

বিনির আচরণে দ্বিধা ছিল কেন?

বিনিরা একে অত্যন্ত দরিদ্র, তাতে আবার নাথ শ্রেণির বামুন বলে সামাজিকভাবে প্রায় অদ্ভুত। এই হীনম্মন্যতা বিনিকে গ্রাস করেছিল। তা ছাড়া সে অনাহূতভাবে অপু-দুর্গার বনভোজনে এসে গেছে, তাকে অপু-দুর্গা মন থেকে স্বীকার করবে কিনা তা নিয়েও সংশয় ছিল বিনির মনে। এই কারণেই বিনির আচরণে দ্বিধা ছিল।

চড়ুইভাতিতে বিনি কীভাবে সাহায্য করে?

দুর্গা বিনিকে চড়ুইভাতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার আনন্দে বিনি দুর্গার কথামতো ফাইফরমাস খাটতে থাকে। সে এক বোঝা কাঠ নিয়ে আসে, কিছুক্ষণ পরে জলও এনে দেয়। এভাবে সে চড়ুইভাতিতে সাহায্য করে।

চড়ুইভাতিতে কে রান্না করেছিল? কী কী রান্না হয়েছিল?

চড়ুইভাতির রান্না করেছিল দুর্গা।
চড়ুইভাতির রান্নার পদ ছিল ভাত, বেগুনভাজা, মেটে আলুপোড়া।

চড়ুইভাতির মাঝামাঝি সময়ে কে এসেছিল? দুর্গা তাকে কী বলেছিল?

চড়ুইভাতির মাঝামাঝি সময়ে কালী চক্রবর্তীর মেয়ে বিনি এসেছিল।
দুর্গা বিনিকে চড়ুইভাতিতে যোগ দিতে বলেছিল।


এই আর্টিকেলে আমরা পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবইয়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নগুলি স্কুল স্তরের বাংলা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবইয়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলি স্কুল স্তরের বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ছাত্রছাত্রীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আশা করি, এই নিবন্ধটি আপনাদের জন্য সহায়ক হয়েছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন থাকে বা আরও সাহায্যের প্রয়োজন হয়, টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এছাড়াও, আপনার বন্ধুদের সঙ্গে এই পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না, যাতে তারাও এর থেকে উপকৃত হতে পারে। ধন্যবাদ!

Please Share This Article

Related Posts

ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

About The Author

Souvick

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – বিষয়সংক্ষেপ