এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “প্রকট বৈশিষ্ট্য এবং প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও। প্রকট বৈশিষ্ট্য এবং প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় “বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ”-এর “বংশগতি” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক (WBBSE) ফাইনাল পরীক্ষা এবং বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে। তাই এটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকট বৈশিষ্ট্য (Dominant Trait) বলতে কী বোঝো?
দুটি পরস্পর বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একই প্রজাতিভুক্ত বিশুদ্ধ জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটালে, প্রথম অপত্য জনু বা F1 জনুতে সৃষ্ট জীবের মধ্যে যে বৈশিষ্ট্যটি বাহ্যিকভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে প্রকট বৈশিষ্ট্য বলে।
উদাহরণ – মটর গাছের একসংকর জননের পরীক্ষায় একটি বিশুদ্ধ লম্বা এবং একটি বিশুদ্ধ বেঁটে মটর গাছের সংকরায়ণ ঘটানো হলে, F1 জনুতে সৃষ্ট সকল মটর গাছই লম্বা (সংকর) হয়। এখানে ‘লম্বা’ বৈশিষ্ট্যটি হলো প্রকট গুণ এবং এর জন্য দায়ী জিনটি হলো প্রকট জিন।
প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য (Recessive Trait) বলতে কী বোঝো?
দুটি পরস্পর বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একই প্রজাতিভুক্ত বিশুদ্ধ জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটালে, প্রথম অপত্য জনুতে সৃষ্ট জীবের মধ্যে যে বৈশিষ্ট্যটি অপ্রকাশিত অবস্থায় থাকে (অর্থাৎ সুপ্ত থাকে), তাকে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য বলে।
উদাহরণ – মটর গাছের একসংকর জননের পরীক্ষায় একটি বিশুদ্ধ লম্বা ও একটি বিশুদ্ধ বেঁটে গাছের সংকরায়ণে F1 জনুতে ‘বেঁটে’ বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশিত হয় না, যদিও ওই বৈশিষ্ট্যটি সংকর লম্বা গাছগুলির মধ্যে জিনগতভাবে বিদ্যমান থাকে। এখানে ‘বেঁটে’ বৈশিষ্ট্যটি হলো প্রচ্ছন্ন গুণ এবং এর জন্য দায়ী জিনটি হলো প্রচ্ছন্ন জিন।
প্রকট বৈশিষ্ট্য এবং প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পার্থক্য
| বৈশিষ্ট্যের ভিত্তি | প্রকট বৈশিষ্ট্য (Dominant Trait) | প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য (Recessive Trait) |
| প্রকাশ | সংকরায়ণ পরীক্ষায় প্রথম অপত্য জনু বা F1 জনুতে এটি প্রকাশিত হয়। | সংকরায়ণ পরীক্ষায় প্রথম অপত্য জনু বা F1 জনুতে এটি অপ্রকাশিত থাকে। |
| জিনগত অবস্থা | এই বৈশিষ্ট্য হোমোজাইগাস (বিশুদ্ধ) ও হেটেরোজাইগাস (সংকর) উভয় অবস্থাতেই প্রকাশিত হয়। | এই বৈশিষ্ট্যের বাহ্যিক প্রকাশ ঘটে কেবলমাত্র হোমোজাইগাস বা বিশুদ্ধ অবস্থায়। |
| ফিনোটাইপ নির্ধারণ | এর দ্বারা বিশুদ্ধ বা সংকর উভয় জীবেরই ফিনোটাইপ নির্ধারিত হয়। | এর দ্বারা শুধুমাত্র বিশুদ্ধ জীবের ফিনোটাইপ নির্ধারিত হয়। |
| মটর গাছের উদাহরণ | মটর গাছের প্রকট বৈশিষ্ট্যগুলি হলো – দীর্ঘ কাণ্ড, বেগুনি ফুল, হলুদ ও গোলাকার বীজ ইত্যাদি। | মটর গাছের প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যগুলি হলো – খর্ব কাণ্ড, সাদা ফুল, সবুজ ও কুঞ্চিত বীজ ইত্যাদি। |
আশা করি, এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য কাকে বলে এবং এদের পার্থক্য খুব সহজেই বুঝতে পেরেছেন। মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের বংশগতি অধ্যায়ের এই নোটটি আপনাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে অনেক সাহায্য করবে।
আপনাদের যদি জীবনবিজ্ঞান সংক্রান্ত অন্য কোনো প্রশ্ন থাকে বা বুঝতে কোনো অসুবিধা হয়, তবে নিচে কমেন্ট করে জানান অথবা আমাদের সাথে টেলিগ্রাম চ্যানেলে (Telegram Channel) যুক্ত হয়ে সরাসরি যোগাযোগ করুন।





মন্তব্য করুন