অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

Rahul

আজকে আমরা এই আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের অষ্টম অধ্যায়, “সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ”-এর কিছু “সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের স্কুলের পরীক্ষার জন্য ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন (Unit Test) থেকে শুরু করে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।

সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর
Contents Show

কোন্ পটভূমিকায় মুসলিম লিগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?

1905 খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার বাঙালি জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে জাতীয়তাবাদকে দুর্বল এবং হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছিল। এর ফলে পিছিয়ে পড়া মুসলমান সম্প্রদায়ের সামনে বিভিন্ন সুযোগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। শিক্ষা, চাকরি ও রাজনীতিতে সুযোগ পাওয়ার জন্য মুসলমানদের মধ্যেও জোটবদ্ধ হওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়েছিল। কংগ্রেসের আন্দোলন থেকে মুসলমানদের সরিয়ে রাখতে ইংরেজ সরকার ঢাকার নবাব সলিমউল্লাহর সহায়তায় 1906 খ্রিস্টাব্দে মুসলিম লিগ গড়ে তোলে।

মুসলিম লিগ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?

1906 খ্রিস্টাব্দে ঢাকার নবাব সলিমউল্লাহ ‘মুসলিম লিগ’ প্রতিষ্ঠা করেন। মুসলিম লিগ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যগুলি ছিল—
1. ভারতে মুসলমান সম্প্রদায়ের স্বার্থ সুরক্ষিত করা;
2. ব্রিটিশ সরকারকে সর্বতোভাবে সাহায্য করা যাতে মুসলমানদের দাবিদাওয়া পূরণ হয়;
3. ভারতীয় রাজনীতিতে জাতীয় কংগ্রেসের প্রভাব-প্রতিপত্তি খর্ব করা (এজন্য লিগের ঘোষিত নীতিই ছিল যে, কোনো মুসলমান যেন জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান না করে); এবং
4. সারা দেশে মুসলিম লিগের মতাদর্শ প্রচার করে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা।

ভারতে মুসলিম লিগ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট কী ছিল?

20-শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশ সরকার ভারতে তাদের দখলদারি অটুট রাখার জন্য জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে ‘বিভেদ ও শাসন’ (Divide and Rule) নীতি প্রয়োগ করে। তারা মনে করেছিল হিন্দু-মুসলমান বিরোধ ভারতে ব্রিটিশ শাসন বজায় রাখার পক্ষে সহায়ক হবে। এজন্য দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদের প্রাচীর গড়ে তুলতে তারা ভারতীয় মুসলমান সমাজকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এরই ফলশ্রুতিতে শিমলা ডেপুটেশন ও পরবর্তীকালে মুসলিম লিগের প্রতিষ্ঠা হয়।

মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইনে ব্রিটিশ সরকারের কীরূপ সাম্প্রদায়িক মনোভাব প্রকাশিত হয়?

মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইনে (1909 খ্রিস্টাব্দ) ব্রিটিশ সরকারের সাম্প্রদায়িক মনোভাব স্পষ্ট হয়। কারণ এই আইনের মাধ্যমে—
1. ভারতে প্রথম সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে আইন পরিষদে সদস্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়;
2. মুসলমানরা তাঁদের স্বতন্ত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের (Separate Electorate) সুযোগ পান; এবং
3. আইনসভায় নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। ব্রিটিশ সরকারের এই সাম্প্রদায়িক নীতির কারণে জাতীয় কংগ্রেস এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করেছিল।

‘হিন্দু মহাসভা’ কেন গড়ে ওঠে? সাম্প্রদায়িকতার প্রচারে এই সভার ভূমিকা কী ছিল?

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জনগণনার সময় অন্ত্যজ ও আদিবাসীদের হিন্দু ধর্ম থেকে পৃথক করে দেখানোর ফলে হিন্দু জনসংখ্যা হ্রাসের একটি পরিসংখ্যান সামনে আসে। এর প্রেক্ষিতে 1911-12 খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ‘ক্ষয়িষ্ণু হিন্দুজাতি’র একটি কাল্পনিক ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় হিন্দু স্বার্থ রক্ষায় সংগঠিত আন্দোলন শুরু হয় এবং তারই ফলশ্রুতিতে 1915 খ্রিস্টাব্দে মদনমোহন মালব্যের নেতৃত্বে সর্বভারতীয় ‘হিন্দু মহাসভা’ প্রতিষ্ঠিত হয়।

অসহযোগ আন্দোলনের পর হিন্দু-মুসলমান ঐক্য কতটা রক্ষিত হয়েছিল?

1922 খ্রিস্টাব্দে অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার এবং 1924 খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলনের অবসান ঘটলে হিন্দু-মুসলমান ঐক্যে ফাটল ধরে। খিলাফত আন্দোলনে ধর্মীয় আবেগের উগ্র বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল এবং আন্দোলনকারীরা গান্ধিজির অহিংসা নীতিকে পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারেনি। ফলে আন্দোলন শেষে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়তে থাকে। হিন্দু মহাসভার শুদ্ধি আন্দোলন এবং মুসলিম নেতৃত্বের অনমনীয় মনোভাবের কারণে 1922-26 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রায় 72টি বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঘটেছিল।

কে প্রথম মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের দাবি করেন? তাঁর সম্পর্কে কী জানো সংক্ষেপে লেখো।

কবি ও দার্শনিক মোহাম্মদ ইকবাল প্রথম মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র ভূখণ্ডের (স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের প্রাথমিক রূপ) দাবি করেন। তিনি ছিলেন বিখ্যাত উর্দু কবি ও চিন্তাবিদ। 1873 খ্রিস্টাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 1930 খ্রিস্টাব্দে মুসলিম লিগের এলাহাবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করার সময় তিনি প্রস্তাব দেন যে— পাঞ্জাব, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, সিন্ধু ও বালুচিস্তান—এই চারটি প্রদেশ নিয়ে একটি কেন্দ্রীভূত মুসলিম ভূখণ্ড গঠিত হোক। তিনি ইসলাম ধর্মের ভিত্তিতে মুসলিম জাতীয়তাবাদের কথা বলেছিলেন। উল্লেখ্য যে, বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গান “সারে জাঁহা সে আচ্ছা, হিন্দুস্তা হামারা” তাঁরই রচনা।

‘সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা’ কী?

1930-এর দশকে ভারতে যখন আইন-অমান্য আন্দোলন তুঙ্গে, তখন ব্রিটিশ সরকার বিভাজন নীতিকে আরও জোরদার করতে 1932 খ্রিস্টাব্দে একটি ঘোষণা দেয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র‍্যামসে ম্যাকডোনাল্ড ঘোষিত এই নীতিকেই ‘সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা’ (Communal Award) বলা হয়। এই ঘোষণা অনুযায়ী ভারতের বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং দলিত বা তপশিলি হিন্দুদের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা ও আইনসভায় আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়।

ভারতে সাম্প্রদায়িকতা প্রসারে ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা কী ছিল?

ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে ধ্বংস করার জন্য শুরু থেকেই ‘বিভেদ ও শাসন’ নীতি অনুসরণ করে। তারা মুসলিম লিগের সাম্প্রদায়িক দাবিগুলোকে প্রশ্রয় দিয়ে কংগ্রেসের মোকাবিলা করতে চেয়েছিল। 1905-এর বঙ্গভঙ্গ ছিল এই রাজনীতির প্রথম বড় পদক্ষেপ। পরবর্তীকালে 1909-এর মর্লে-মিন্টো সংস্কার এবং 1932-এর সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি ঘোষণা করে তারা ভারতের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ স্থায়ী করে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত দেশভাগের পথ প্রশস্ত করেছিল।

সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতিতে কী বলা হয়েছিল?

1932 খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র‍্যামসে ম্যাকডোনাল্ড এই নীতি ঘোষণা করেন। এর মূল বক্তব্য ছিল—
1. ভারতের বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে (যেমন – মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান) আইনসভায় পৃথকভাবে প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হবে;
2. এই বিশেষ সুযোগ কেবল ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্যই নয়, বরং ‘বর্ণ হিন্দু’ থেকে আলাদা করে ‘তপশিলি হিন্দু’দেরও দেওয়া হবে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু সমাজকে খণ্ডিত করা এবং জাতীয় আন্দোলনকে দুর্বল করা।

ভারতে সাম্প্রদায়িকতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদ প্রসারের প্রধান দুটি কারণ কী?

ভারতে সাম্প্রদায়িকতার প্রসারের প্রধান দুটি কারণ হলো—
1. স্যার সৈয়দ আহমদ খানের নেতৃত্বাধীন আলিগড় আন্দোলনের প্রভাব, যা মুসলমানদের ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে হিন্দুদের থেকে পৃথক পথে চলার পরামর্শ দিয়েছিল।
2. ব্রিটিশ সরকারের ‘বিভেদ ও শাসন’ নীতি, যার মাধ্যমে তারা হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে অবিশ্বাস ও দ্বন্দ্ব বাড়িয়ে নিজেদের শাসন দীর্ঘস্থায়ী করতে চেয়েছিল।

দ্বিজাতিতত্ত্ব কাকে বলে? ভারতে কে দ্বিজাতিতত্ত্বের সূচনা করেন বলে তোমার মনে হয়?

দ্বিজাতিতত্ত্বের মূল বক্তব্য হলো— ভারতে হিন্দু ও মুসলমান কেবল দুটি আলাদা ধর্ম নয়, বরং তারা দুটি সম্পূর্ণ আলাদা জাতি যাদের সংস্কৃতি, সামাজিক রীতিনীতি এবং রাজনৈতিক স্বার্থ ভিন্ন। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, অখণ্ড ভারতরাষ্ট্র মুসলমানদের স্বার্থের পরিপন্থী। ঐতিহাসিকভাবে ভারতে দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রাথমিক সূচনা করেছিলেন স্যার সৈয়দ আহমদ খান, যদিও পরবর্তীকালে মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ এই তত্ত্বকে ভিত্তি করেই পাকিস্তানের দাবি তোলেন।

ভারতের স্বাধীনতা আইনের ফলাফল সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।

1947 খ্রিস্টাব্দের ‘ভারতীয় স্বাধীনতা আইন’ (Indian Independence Act)-এর ফলে দীর্ঘ 190 বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। 15 আগস্ট 1947 তারিখে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক ও স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এই আইনের মাধ্যমেই দেশভাগ কার্যকর করা হয়। নবগঠিত দুই রাষ্ট্রই শুরুতে ‘ব্রিটিশ কমনওয়েলথ’-এর সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে এবং লর্ড মাউন্টব্যাটেন স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।

মুসলিম লিগের লাহোর প্রস্তাবের (1940 খ্রিস্টাব্দ) মূল বিষয়বস্তু কী ছিল? লাহোর প্রস্তাব অপর কী নামে পরিচিত ছিল?

লাহোর প্রস্তাবের মূল বিষয়বস্তু
1. ভারতের হিন্দু ও মুসলমান দুটি সম্প্রদায় নয়, সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র দুটি জাতি এবং তাদের স্বার্থ সম্পূর্ণ আলাদা।
2. পৃথক জাতি হিসেবে মুসলমানদের জন্য আলাদা একটি স্বশাসিত রাষ্ট্র গঠন করতে হবে।

মুসলিম লিগের লাহোর অধিবেশনে গৃহীত মুসলমানদের জন্য প্রথম স্বশাসিত রাষ্ট্রের এই প্রস্তাব ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ নামে পরিচিত।

কখন কোন অধিবেশনে মুসলিম লিগ ‘পাকিস্তান’ প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল?

1940 খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে মুসলিম লিগের লাহোর অধিবেশনে মহম্মদ আলি জিন্না সভাপতিত্ব করেন। এই অধিবেশনে পৃথক জাতি হিসেবে মুসলমানদের জন্য আলাদা একটি রাষ্ট্রের দাবি উত্থাপন করা হয়। এই আলাদা রাষ্ট্রের প্রস্তাবই ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ নামে পরিচিত।

মুসলিম লিগ কবে, কেন ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রামের’ ডাক দেয়? অথবা লিগের ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম’ কী?

1946 খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে সংবিধান সভার নির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেস ব্যাপক সফলতা লাভ করে। এই ঘটনায় মুসলিম লিগ তথা মহম্মদ আলি জিন্না দারুণ ব্যথিত হন। ক্ষুব্ধ লিগ তখন সংবিধান সভায় যোগ দিতে অসম্মত হয়। তারা কংগ্রেস পরিচালিত এই সরকারের বিরোধিতা করে। ফলস্বরূপ জিন্নার নেতৃত্বে মুসলিম লিগ 1946 খ্রিস্টাব্দের 16 আগস্ট কংগ্রেস তথা কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের বিরুদ্ধে ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রামের’ পথে পা বাড়ায়।

‘অন্তর্বর্তী সরকার’ কী?

‘ওয়াভেল পরিকল্পনা’ ও ‘মন্ত্রী মিশন’-এর সুপারিশ অনুযায়ী ঠিক হয় যে, যতদিন না পর্যন্ত ভারতের সংবিধান রচনার জন্য একটি গণপরিষদ গঠিত হয়, ততদিন পর্যন্ত ভারতীয় প্রশাসন পরিচালনা করার জন্য কেন্দ্রে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হবে। এই সুপারিশ অনুযায়ী 1946 খ্রিস্টাব্দের 2 সেপ্টেম্বর জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে কেন্দ্রে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

‘The Great Calcutta Killing’ বলতে কী বোঝো?

1946 খ্রিস্টাব্দের গঠিত সংবিধান সভায় মুসলিম লিগ যোগদান করেনি। বরং জিন্নার নির্দেশে লিগ, কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের বিরুদ্ধে 16 আগস্ট ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম’ শুরু করে। পরে এই সংগ্রাম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় পরিণত হয়। 16-19 আগস্ট পর্যন্ত কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রবল আকার ধারণ করে। 4 দিনের এই দাঙ্গায় কলকাতায় প্রচুর মানুষ মারা যায়। এই দাঙ্গাকেই ‘The Great Calcutta Killing’ বলা হয়েছে।

মুসলিম লিগের ‘নিষ্কৃতি দিবস’ বলতে কী বোঝো?

1939 খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চেম্বারলেন ভারতের সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনা না করেই ভারতকে একটি যুদ্ধরত দেশ বলে ঘোষণা করেন। এতে জাতীয় কংগ্রেস ক্ষুব্ধ হয়। তাই কংগ্রেসের নির্দেশে আইনসভা থেকে সমস্ত কংগ্রেসি সদস্যরা ইস্তফা দেন। এই ঘটনায় মহম্মদ আলি জিন্না অত্যন্ত আনন্দিত হন। তাঁরই নির্দেশে 1939 খ্রিস্টাব্দের 22 ডিসেম্বর মুসলিম লিগ সারা দেশে ‘নিষ্কৃতি দিবস’ পালন করে।

ক্যাবিনেট মিশন কী?

1946 খ্রিস্টাব্দে ভারতের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকার বিচলিত হয়ে পড়ে। ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট অ্যাটলি 1946 খ্রিস্টাব্দের 19 ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করেন যে, ভারতের স্বাধীনতার বিষয়ে আলোচনার জন্য ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার তিন সদস্যকে নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল ভারতে পাঠানো হবে। এই প্রতিনিধিদল ‘ক্যাবিনেট মিশন’ নামে পরিচিত। এই দলের তিন সদস্য হলেন ভারতসচিব পেথিক লরেন্স, নৌবাহিনীর প্রধান এ ভি আলেকজান্ডার ও বাণিজ্য বোর্ডের সভাপতি স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস।

‘পাকিস্তানের জন্য গণআন্দোলন’ কীভাবে শুরু হয়েছিল?

1946 খ্রিস্টাব্দে মন্ত্রীমিশনের প্রস্তাব মেনে নিয়ে কংগ্রেস অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দিতে সম্মত হয়। ভাইসরয় লর্ড ওয়াভেল জওহরলাল নেহরুকে মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য আহ্বান জানান। মুসলিম লিগ এই সরকারে যোগ দিতে অসম্মত হয়। ক্ষুব্ধ মুসলিম লিগ নেতা মহম্মদ আলি জিন্না 1946 খ্রিস্টাব্দের 16 আগস্ট দিনটিকে ভারতীয় মুসলিমদের কাছে পাকিস্তানের জন্য গণআন্দোলন বা ‘প্রত্যক্ষ দিবস’ হিসেবে পালন করার জন্য আহ্বান জানালে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মারাত্মক সংঘর্ষ শুরু হয়।

কবে কাদের মধ্যে পুনা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়? এর ফল কী হয়েছিল?

1932 খ্রিস্টাব্দে (24/25 সেপ্টেম্বর) গান্ধিজি ও আম্বেদকরের মধ্যে পুনা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
1. এই চুক্তির ফলে বর্ণ হিন্দু ও তপশিলি জাতিরা আইনসভায় নির্বাচনে পৃথকভাবে লড়াই করার বদলে, যৌথভাবে লড়াই করবে বলে ঠিক হয়।
2. এর ফলে গান্ধিজি আমরণ অনশনের দাবি প্রত্যাহার করে নেন।
3. ব্রিটিশ সরকারও গান্ধিজিকে জেল থেকে মুক্তি দেয়।

ভারতের স্বাধীনতা আইনের যে-কোনো দুটি শর্ত উল্লেখ করো।

1. 1947 খ্রিস্টাব্দের 15 আগস্ট থেকে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হয়।
2. ভারত রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হলো বোম্বাই (মুম্বই), মাদ্রাজ (চেন্নাই), মধ্যপ্রদেশ, বিহার, পূর্ব পাঞ্জাব, পশ্চিম বাংলা, অসম, দিল্লি ও আজমির। পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হলো সিন্ধু, বেলুচিস্তান, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, পশ্চিম পাঞ্জাব এবং পূর্ববঙ্গ।

নিষ্কৃতি দিবস কী?

1939 খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চেম্বারলেন ভারতীয়দের না জানিয়েই ভারতকে একটি যুদ্ধরত দেশ বলে ঘোষণা করেন। এই ঘোষণায় গান্ধিজি তথা জাতীয় কংগ্রেস ক্ষুব্ধ হয়। ফলে গান্ধিজির নির্দেশে কংগ্রেস আইনসভা থেকে পদত্যাগ করে। এই ঘটনায় উল্লাসিত হয়ে মহম্মদ আলি জিন্নার নির্দেশে মুসলিম লিগ দেশজুড়ে নিষ্কৃতি দিবস পালন করে।


আজকে আমাদের এই আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের অষ্টম অধ্যায়, “সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ”-এর কিছু “সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই ধরনের প্রশ্নগুলো স্কুলের পরীক্ষা বা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।

আশা করি এই আর্টিকেলটি তোমাদের/আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। যদি কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তাহলে নির্দ্বিধায় টেলিগ্রামে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। এছাড়া, এই পোস্টটি সেইসব বন্ধু বা প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

About The Author

Rahul

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

নিষেক ও দ্বিনিষেক কী? নিষেক ও দ্বিনিষেক -এর মধ্যে পার্থক্য

সম্পূর্ণ ফুল এবং অসম্পূর্ণ ফুল কাকে বলে? সম্পূর্ণ ফুল এবং অসম্পূর্ণ ফুলের মধ্যে পার্থক্য

সমাঙ্গ ফুল ও অসমাঙ্গ ফুল কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর