আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘অস্থিত পৃথিবী’-এর উপবিভাগ ‘পাতসংস্থান তত্ত্ব’ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক (চাকরির) পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মহাদেশীয় পাত (Continental Plate) ও মহাসাগরীয় (Oceanic Plate) পাতের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
মহাদেশীয় পাত (Continental Plate) ও মহাসাগরীয় (Oceanic Plate) পাতের মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | মহাদেশীয় পাত (Continental Plate) | মহাসাগরীয় পাত (Oceanic Plate) |
| প্রকৃতি | মহাদেশীয় পাত মহাদেশ গঠন করে। | মহাসাগরীয় পাত মহাসাগরের তলদেশ গঠন করে। |
| অবস্থান | মহাদেশীয় পাত মহাসাগরীয় পাতের ওপরে অবস্থান করে। | মহাসাগরীয় পাত মহাদেশীয় পাতের নীচে অবস্থান করে। |
| ওজন ও ঘনত্ব | এই পাত অপেক্ষাকৃত হালকা, এর ঘনত্ব অনেক কম। | এই পাত অপেক্ষাকৃত ভারী, এর ঘনত্ব বেশি। |
| বেধ | মহাদেশীয় পাত বেশি পুরু, গড় বেধ 20-60 কিমি। | এই পাত অপেক্ষাকৃত কম পুরু। গড় বেধ 5-8 কিমি। |
| শিলা | এই পাত প্রধানত গ্রানাইট জাতীয় শিলায় গঠিত। | এই পাত প্রধানত ব্যাসল্ট জাতীয় শিলায় গঠিত। |
বিনাশকারী, গঠনকারী ও ট্রান্সফর্ম পাতসীমানার মধ্যে পার্থক্য করো। অথবা, অভিসারী, অপসারী ও নিরপেক্ষ পাতসীমানার মধ্যে পার্থক্য করো।
বিনাশকারী (অভিসারী), গঠনকারী (অপসারী) ও ট্রান্সফর্ম (নিরপেক্ষ) পাতসীমানার মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | বিনাশকারী বা অভিসারী পাতসীমানা | গঠনকারী বা অপসারী পাতসীমানা | ট্রান্সফর্ম বা নিরপেক্ষ পাতসীমানা |
| সংজ্ঞা | যে সীমানায় দুটি পাত পরস্পরের অভিমুখে সঞ্চরণশীল থাকে, তাকে অভিসারী বা বিনাশকারী পাতসীমানা বলে। | যে সীমানায় দুটি পাত পরস্পরের বিপরীত দিকে সঞ্চরণশীল থাকে, তাকে অপসারী বা গঠনকারী পাতসীমানা বলে। | এক্ষেত্রে পাতগুলি পরস্পরের পাশাপাশি চলাচল করে। একে ট্রান্সফর্ম বা নিরপেক্ষ পাতসীমানা বলে। |
| প্রকৃতি | দুটি পাতের মধ্যে সংঘর্ষ হয়ে ভারী পাতটি হালকা পাতের নীচে প্রবেশ করলে ভারী পাতটির নিমজ্জিত অংশটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। | দুটি পাত পরস্পর দূরে সরে গেলে মাঝের ফাটল দিয়ে ম্যাগমা লাভারূপে নির্গত হয়ে শীতল ও কঠিন হয়ে নতুন ভূত্বকের সৃষ্টি করে। | পাতগুলি সংঘর্ষ করে না, ফলে ধ্বংসও হয় না আবার নতুন ভূমিরূপ গঠনও হয় না। |
| চলনের দিক | পাত দুটি সর্বদা পরস্পরের দিকে অগ্রসর হয়। | পাত দুটি পরস্পরের বিপরীত দিকে সরে যায়। | পাত দুটি পরস্পর পাশাপাশি চলে। |
| মহাদেশের চলন | মহাদেশগুলি পরস্পরের কাছে আসে। | মহাদেশগুলি পরস্পরের দূরে সরে যায়। | মহাদেশ গঠনে বা চলনে কোনো ভূমিকা নেয় না। |
| ভূমিরূপ | ভঙ্গিল পর্বত, আগ্নেয়গিরি, সমুদ্রখাত সৃষ্টি হয়। | সামুদ্রিক শৈলশিরা সৃষ্টি হয়। | কোনো নতুন ভূমিরূপ গঠন করে না, তবে দীর্ঘ চ্যুতি (Fault) সৃষ্টি করতে পারে। |
| উদাহরণ | হিমালয় পর্বতমালা, জাপান দ্বীপপুঞ্জ এই ধরনের পাতসীমানার উদাহরণ। | মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা এই ধরনের পাতসীমানার উদাহরণ। | উত্তর আমেরিকার সান আন্দ্রেয়াস চ্যুতি (San Andreas Fault) বরাবর এরূপ পাতসীমানা দেখা যায়। |
আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘অস্থিত পৃথিবী’-এর উপবিভাগ ‘পাতসংস্থান তত্ত্ব’ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির স্কুলের পরীক্ষা বা চাকরির প্রস্তুতির জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পরীক্ষায় এই টপিকগুলো থেকে প্রায়শই প্রশ্ন আসতে দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে।
আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আপনারা আমাদের সাথে টেলিগ্রামে (Telegram) যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া, নিচে থাকা শেয়ার বাটনের মাধ্যমে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জন বা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





Leave a Comment