আমরা আমাদের আজকের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘অস্থিত পৃথিবী’ এর উপবিভাগ ‘অগ্ন্যুদ্গম’ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির স্কুল পরীক্ষার জন্য এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অগ্ন্যুদ্গমের সঙ্গে পাত সীমানার কি কোনো সম্পর্ক আছে? অথবা, সব ধরনের পাত সীমানায় কি অগ্ন্যুৎপাত হয়?
পাত সরণ অগ্ন্যুদ্গমের প্রধান কারণ। তিন প্রকার পাত সীমানাতেই অগ্ন্যুদ্গম ঘটে।
- অভিসারী পাত সীমানা – অভিসারী সংঘর্ষ পাত সীমানা বরাবর নিমজ্জিত মহাসাগরীয় পাতের কিছু অংশ গলে গিয়ে ফাটলপথে বাইরে বেরিয়ে এসে অগ্ন্যুদ্গম ঘটায়। প্রশান্ত মহাসাগরের দু-দিকের উপকূলে এরকম অভিসারী পাত সীমানায় অধিকাংশ (80%) আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি হয়েছে।
- অপসারী পাত সীমানা – অপসারী পাত সীমানায় দুটি পাত ধীরে ধীরে পরস্পর থেকে দূরে সরে যাওয়ায় মাঝের দীর্ঘ ফাটল দিয়ে ভূগর্ভের উত্তপ্ত ম্যাগমা ধীরে ধীরে বেরিয়ে এসে অগ্ন্যুদ্গম সৃষ্টি করে। এরূপ অগ্ন্যুদ্গম বিদার অগ্ন্যুদ্গম নামে পরিচিত।
- নিরপেক্ষ পাত সীমানা – নিরপেক্ষ পাত সীমানায় দুটি পাতের পাশাপাশি চলনের ফলে যে চ্যুতির সৃষ্টি হয়, সেখান থেকে অনেক সময় ধীরে ধীরে বিদার অগ্ন্যুদ্গম ঘটে।

আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত পদার্থগুলি লেখো।
আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত পদার্থগুলি হলো –
- গ্যাসীয় পদার্থ – জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন, হিলিয়াম গ্যাস, কার্বন মনোক্সাইড ইত্যাদি।
- তরল পদার্থ – আম্লিক (সিলিকা 70%), ক্ষারকীয় (লোহা ও ম্যাগনেশিয়ামের পরিমাণ বেশি), অতি ক্ষারকীয় লাভা, মধ্যবর্তী লাভা।
- কঠিন পদার্থ – আগ্নেয় ভস্ম, টুফ, লাহার (আগ্নেয় পদার্থের কাদার প্রবাহ), সিন্ডার (ব্যাস 2 মিলিমিটারের বেশি), লাভাখণ্ড (ব্যাস 64 মিমি-এর বেশি) ইত্যাদি।
লাভার সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
লাভার সংজ্ঞা – ভূ-অভ্যন্তরের ম্যাগমা চেম্বার থেকে নির্গত ম্যাগমা ভূত্বকের ফাটল বা জ্বালামুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে এবং ভূপৃষ্ঠের উপর দিয়ে তা প্রবাহিত হয়, একেই লাভা বলে।
লাভার বৈশিষ্ট্য –
- লাভার উষ্ণতা খুব বেশি হয়।
- লাভা শীতল বাতাসের সংস্পর্শে এলে তা খুব দ্রুত জমাটবদ্ধ হয় এবং বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ গঠন করে।
- লাভাগঠিত ভূমিরূপগুলি হল – লাভা মালভূমি, লাভা সমভূমি ইত্যাদি।
- ঘনত্ব অনুসারে লাভা দু-প্রকার হয়। খুব গাঢ় ও সান্দ্র লাভাকে বলে ‘আ আ’। আর পাতলা লাভাকে বলে ‘পা হো হো’।
- রাসায়নিক ধর্ম অনুযায়ী লাভা দু-প্রকার হয়। যথা – আম্লিক লাভা এবং ক্ষারকীয় লাভা।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা কাকে বলে?
প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত ও প্রান্তবর্তী মহাদেশীয় পাতগুলি পরস্পর মুখোমুখি হলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত মহাদেশীয় পাতের নীচে নিমজ্জিত হয়। ফলে ভূ-অভ্যন্তরের ম্যাগমা গহ্বরের উত্তাপে পাতের কিনারা গলে যায় ও চ্যুতি বা ফাটলের সৃষ্টি হয়। ওই ফাটলপথ দিয়ে ভূ-অভ্যন্তরের ম্যাগমা অগ্ন্যুদ্গমের মাধ্যমে বেরিয়ে এসে আগ্নেয় পর্বতের সৃষ্টি করেছে। অতএব, প্রশান্ত মহাসাগরের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সংঘর্ষজনিত কারণে অসংখ্য আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়েছে, যাকে ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা’ (Pacific Ring of Fire) বলা হয়।
‘আ আ’ লাভা ও ‘পা হো হো’ লাভার পার্থক্য লেখো।
‘আ আ’ লাভা ও ‘পা হো হো’ লাভার পার্থক্য –
| বিষয় | ‘আ-আ’ লাভা | ‘পাহোহো’ লাভা |
| সান্দ্রতা | অপেক্ষাকৃত বেশি সান্দ্র। | অপেক্ষাকৃত কম সান্দ্র। |
| প্রবাহ | আঠালো হওয়ায় বহুদূর প্রবাহিত হতে পারে না। | পাতলা হওয়ায় বহুদূর প্রবাহিত হতে পারে। |
| গ্যাস | এতে গ্যাসের পরিমাণ খুবই কম। | এই লাভা প্রচুর গ্যাসসমৃদ্ধ। |
| লাভাক্ষেত্র | এই লাভাক্ষেত্রের উপরিভাগ ঝামা ইটের মতো এবড়োখেবড়ো হয়। | এই লাভা দ্বারা সৃষ্ট লাভাক্ষেত্রের উপরিভাগ মসৃণ এবং পাকানো দড়ির মতো নকশাযুক্ত। |
| পুরুত্ব | এই লাভার আস্তরণ পুরু এবং খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত হয়। | এটি পাতলা আস্তরণযুক্ত হয়। |
| লাভার প্রকৃতি | এই লাভা অত্যন্ত আঠালো প্রকৃতির হয়। | কঠিন হওয়ার পর এর উপরিভাগ পাকানো দড়ির মতো (Ropy) দেখতে হয়। |
আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘অস্থিত পৃথিবী’ এর উপবিভাগ ‘অগ্ন্যুদ্গম’ থেকে কিছু ‘সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য বা চাকরির পরীক্ষার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রশ্নগুলি অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা বা চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে।
আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা হলে, আপনারা আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ!





Leave a Comment