অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘অস্থিত পৃথিবী’-এর উপবিভাগ ‘অগ্ন্যুদ্গম’ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘টীকা’ নিয়ে আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো স্কুল স্তরের অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক বা চাকরির পরীক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

লাভা মালভূমি (Lava Plateau) সম্পর্কে টীকা লেখো।
লাভা মালভূমি –
লাভা মালভূমির সংজ্ঞা – ভূপৃষ্ঠে ক্রমাগত লাভা সঞ্চয়ের ফলে যে মালভূমির সৃষ্টি হয়, তাকে লাভা মালভূমি।
লাভা মালভূমির সৃষ্টির কারণ – ভূত্বকের কোনো ফাটল বা ছিদ্রপথ দিয়ে ভূগর্ভের উত্তপ্ত ম্যাগমা ধীরে ধীরে বিদার অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের বাইরে বেরিয়ে এসে লাভারূপে শীতল ও কঠিন হয়ে সঞ্চিত হয়। এইভাবে, ক্রমাগত বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে লাভা সঞ্চিত হয়ে উঁচু মালভূমির সৃষ্টি হয়।
লাভা মালভূমির বৈশিষ্ট্য –
- সাধারণত মহাদেশের অভ্যন্তরে এই মালভূমি দেখা যায়।
- এই মালভূমি প্রধানত ব্যাসল্ট শিলায় গঠিত হয়।
- পর্যায়ক্রমে লাভা নিঃসরণের ফলে এই মালভূমিতে ‘সিঁড়ি’-র মতো ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়।
- মালভূমির মাটি সাধারণত কালো রঙের হয়।
- এই মালভূমির উপরিতল চ্যাপটা হয়।
আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountain) সম্পর্কে টীকা লেখো।
ভূ-অভ্যন্তরের উত্তপ্ত তরল ম্যাগমা ভূত্বকের কোনো দুর্বল স্থান বা আগ্নেয়গিরির মাধ্যমে ক্রমাগত লাভারূপে নির্গত হয়ে ঠান্ডা ও কঠিন হয়ে যে পর্বত গঠন করে, তাকে আগ্নেয় পর্বত বলে।
আগ্নেয় পর্বতের বৈশিষ্ট্য –
- আগ্নেয় ভস্ম, লাভা, সিন্ডার, পাইরোক্লাস্ট ধীরে ধীরে সঞ্চিত হয়ে আগ্নেয় পর্বতের সৃষ্টি হয় বলে একে সঞ্চয়জাত পর্বতও বলে।
- আগ্নেয় পর্বতে একটি মুখ্য এবং অসংখ্য গৌণ জ্বালামুখ থাকে।
- পর্বতগুলি শঙ্কু আকৃতির হয়।
আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ – ভারতের ব্যারেন, জাপানের ফুজিয়ামা, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মৌনালোয়া ইত্যাদি।
জ্বালামুখ (Crater) সম্পর্কে টীকা লেখো।
আগ্নেয়গিরি বা আগ্নেয় পর্বতের চূড়ায় যে মুখ বা গহ্বর থাকে, যার মধ্য দিয়ে অগ্ন্যুৎপাতসহ লাভা, গ্যাস, ছাই ইত্যাদি বাইরে বেরিয়ে আসে, তাকে জ্বালামুখ (Crater) বলে।
জ্বালামুখের ব্যাস কয়েক মিটার থেকে কয়েক কিলোমিটার হতে পারে। একটি আগ্নেয়গিরিতে কখনো কখনো একাধিক জ্বালামুখ (একটি প্রধান, অন্যগুলি অপ্রধান) থাকে। আর বিশাল আকৃতির জ্বালামুখকে ক্যালডেরা (Caldera) বলা হয়। জ্বালামুখের গর্ত বসে গিয়ে বা প্রচণ্ড অগ্ন্যুৎপাতের ফলে আগেকার শঙ্কুটি বিস্ফোরণের ফলে উড়ে গিয়ে জ্বালামুখ বৃহদাকার ধারণ করলে ক্যালডেরা সৃষ্টি হয়।
ভূ-গাঠনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে টীকা লেখো।
ভূ-গাঠনিক প্রক্রিয়ার সংজ্ঞা – ‘Geotectonic’ শব্দটির উদ্ভব ঘটেছে গ্রিক শব্দ ‘Tecton’ থেকে। গ্রিক দেশের স্থাপত্য তথা ভাস্কর্যের দেবতা ছিলেন Tecton। এই ‘Geotectonic’ কথার অর্থ হল, ‘ভূগঠন’। সুতরাং, যে-সমস্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের ভূমিরূপের গঠন সম্পন্ন হয়, তাকেই ভূ-গাঠনিক প্রক্রিয়া বলে।
ভূ-গাঠনিক প্রক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য –
- ভূ-গাঠনিক প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভূমিরূপ গঠনে কার্যকরী ভূমিকা নেয়।
- এটি ধীর কিংবা আকস্মিক উভয় গতিতেই আত্মপ্রকাশ করে।
- প্রতিটি ভূ-গাঠনিক প্রক্রিয়ায় একটি কার্যকারণ সম্পর্ক বিদ্যমান।
- ভূ-গাঠনিক প্রক্রিয়া যেমন ভূগর্ভে সৃষ্টি হয় তেমনি ভূপৃষ্ঠের বাইরেও এর কার্যকারিতা দেখা যায়।
অবস্থান, বৈশিষ্ট্য ও পদ্ধতি অনুসারে ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়াগুলিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায় –
- অন্তর্জাত প্রক্রিয়া (Endogenetic Process) – ভূ-অভ্যন্তরে সৃষ্ট যে শক্তির দ্বারা স্থানীয় বা আঞ্চলিকভাবে কঠিন ভূত্বকের ধীর ও আকস্মিক পরিবর্তন ঘটে, তাকে ভূ-গঠনকারী শক্তি এবং ভূমিরূপ পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়াকে অন্তর্জাত প্রক্রিয়া বলে।
- বহির্জাত প্রক্রিয়া (Exogenetic Process) – ভূত্বকের ওপরে ক্রিয়াশীল যেসব প্রক্রিয়া থেকে বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ গঠন হয়, তাদের বহির্জাত প্রক্রিয়া বলে।
বিদার অগ্ন্যুদ্গম (Fissure Eruption) সম্পর্কে টীকা লেখো।
বিদার অগ্ন্যুদ্গমের সংজ্ঞা – ভূ-অভ্যন্তরের ম্যাগমা যখন কোনো ফাটল বা দারণের মধ্যে দিয়ে কোনো বিস্ফোরণ না ঘটিয়ে ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে আসে, তখন তাকে বিদার অগ্ন্যুদ্গম বলে।
বিদার অগ্ন্যুদ্গমের বৈশিষ্ট্য –
- এই ধরনের অগ্ন্যুৎপাতে কোনো বিস্ফোরণ ছাড়াই নিঃশব্দে লাভা বেরিয়ে আসে।
- এই ধরনের অগ্ন্যুৎপাতে লাভা তরল প্রকৃতির হয়।
- লাভা তরল প্রকৃতির হওয়ায় তা বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
- এই ধরনের অগ্ন্যুৎপাতে কোনো জ্বালামুখ থাকে না।
- ফাটলগুলি অত্যন্ত দীর্ঘ হয়।
বিদার অগ্ন্যুদ্গমের উদাহরণ – ভারতের দাক্ষিণাত্যের লাভা মালভূমি।
ডেকানট্রাপ (Deccantrap) সম্পর্কে টীকা লেখো।
‘ডেকান’ (Deccan) শব্দের অর্থ ‘দাক্ষিণাত্য’ এবং সুইডিশ শব্দ ‘ট্র্যাপ’ (Trap)-এর অর্থ সিঁড়ির ধাপ।
ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি অঞ্চলে 7-3 কোটি বছর আগে বিদার অগ্ন্যুদ্গমের দ্বারা বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বিভিন্ন পর্যায়ে লাভা জমে সৃষ্টি হওয়ার ফলে এবং পরবর্তীকালে অসম ক্ষয়কার্যের কারণে সিঁড়ির মতো ধাপযুক্ত মালভূমিতে পরিণত হয়েছে। তাই দাক্ষিণাত্য মালভূমিকে ডেকান ট্র্যাপ বলা হয়। এই অঞ্চলে লাভার গভীরতা সর্বত্র সমান নয়। পশ্চিম অংশে গভীরতা প্রায় 3000 মিটার এবং দক্ষিণ ও পূর্বে 150-800 মিটার।
আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘অস্থিত পৃথিবী’-এর উপবিভাগ ‘অগ্ন্যুদ্গম’ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘টীকা’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষা বা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই টপিকগুলি থেকে প্রায়শই প্রশ্ন আসতে দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের প্রস্তুতির জন্য উপকারী হবে।
আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা দ্রুত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া, নিচে থাকা শেয়ার বাটন থেকে এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জন বা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ!





Leave a Comment