অষ্টম শ্রেণির ভূগোল – ‘চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ’ (চতুর্থ অধ্যায়) – গুরুত্বপূর্ণ টীকা

Souvick

আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের চতুর্থ অধ্যায় ‘চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ’ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘টীকা’ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক (Competitive) পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Contents Show

ডোলড্রাম/নিরক্ষীয় শান্তবলয় (Doldrum/Equatorial Belt Of Calm) সম্পর্কে টীকা লেখো।

ডোলড্রাম/নিরক্ষীয় শান্তবলয়ের সংজ্ঞা – শান্ত অবস্থা বিরাজ করার জন্য নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়কে নিরক্ষীয় শান্তবলয় বা ডোলড্রাম বলে।

ডোলড্রাম/নিরক্ষীয় শান্তবলয়ের অবস্থান – 5° উত্তর – 5° দক্ষিণ অক্ষরেখার মধ্যে নিরক্ষীয় শান্তবলয় অবস্থিত।

ডোলড্রাম/নিরক্ষীয় শান্তবলয়ের নামকরণ – ‘ডোলড্রাম’ নাবিকদের পারিভাষিক শব্দ। এর ইংরাজি অর্থ ‘ডিপ্রেসড’ (Depressed) অর্থাৎ, অবদমিত। প্রাচীনকালে এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে পালতোলা জাহাজ চালানোর সময় জাহাজগুলি প্রায় থেমে যেত। তাই নাবিকেরা এই অঞ্চলের নামকরণ করেন ‘ডোলড্রাম’।

ডোলড্রাম/নিরক্ষীয় শান্তবলয়ের উৎপত্তি – নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেওয়ার ফলে এখানে উষ্ণতা খুব বেশি থাকে। তাই বায়ু সহজেই উষ্ণ ও হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়। একারণে এখানে বায়ুর ঊর্ধ্বমুখী স্রোত দেখা যায়, কিন্তু ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে বায়ু প্রবাহিত হতে দেখা যায় না। ফলে, বায়ু চলাচল বোঝা যায় না এবং চারদিকে শান্ত অবস্থা বিরাজ করে। এজন্য এই অঞ্চলের নাম নিরক্ষীয় শান্তবলয় বা ডোলড্রাম।

অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitude) সম্পর্কে টীকা লেখো।

অশ্ব অক্ষাংশের সংজ্ঞা – কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয়কে ‘অশ্ব অক্ষাংশ’ বলা হয়।

অশ্ব অক্ষাংশের অবস্থান – উভয় গোলার্ধে 25° – 35° অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত।

অশ্ব অক্ষাংশের সৃষ্টি – কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় বরাবর শীতল ও ভারী বায়ু উপর থেকে নীচে নেমে আসায় ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে কোনো বায়ুপ্রবাহ দেখা যায় না। ফলে, এই বলয়দ্বয়ে শান্ত অবস্থা বিরাজ করে। একারণে ষোড়শ শতকে পালতোলা জাহাজগুলি এই শান্তবলয়ে এসে গতিহীন হয়ে পড়ত। ফলে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ থেকে আসা ঘোড়াভর্তি জাহাজগুলির পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ ও আমেরিকায় যেতে অনেক বেশি সময় লাগত। এই সময় পানীয় জল ও খাবারের সংকট কমাতে এবং জাহাজকে হালকা করার উদ্দেশ্যে নাবিকরা বেশ কিছু ঘোড়া (অশ্ব) সমুদ্রের জলে ফেলে দিত। এ কারণে এই দুই ক্রান্তীয় শান্তবলয় ‘অশ্ব অক্ষাংশ’ নামে পরিচিত।

বাইস ব্যালট সূত্র (Buy’s Ballot Law) সম্পর্কে টীকা লেখো।

বাইস ব্যালট সূত্রের নামকরণ – 1857 সালে ডাচ আবহবিদ বাইস ব্যালট বায়ুচাপের পার্থক্য ও বায়ুপ্রবাহের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করতে গিয়ে এই সূত্র আবিষ্কার করেন। তাই তাঁর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে বাইস ব্যালটের সূত্র।

বাইস ব্যালট সূত্রের সূত্র – বাইস ব্যালট সূত্রানুসারে, উত্তর গোলার্ধে বায়ু যে দিক থেকে প্রবাহিত হয়, সেদিকে পিছন ফিরে দাঁড়ালে বামদিক অপেক্ষা ডানদিকে অধিক বায়ুচাপ অনুভূত হয়; অর্থাৎ, ডানদিকে উচ্চচাপ ও বামদিকে নিম্নচাপ হয়। দক্ষিণ গোলার্ধে এর ঠিক বিপরীত অবস্থা লক্ষ করা যায়।

কোরিওলিস বল (Coriolis Force) সম্পর্কে টীকা লেখো।

কোরিওলিস বলের সংজ্ঞা – আবর্তন গতির কারণে পৃথিবীর যে-কোনো গতিশীল বস্তুর (বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রস্রোত) ওপর এক ধরনের বল কাজ করে, যা বস্তুগুলির দিকবিক্ষেপ ঘটায়। এই বলকে কোরিওলিস বল বলে।

কোরিওলিস বলের নামকরণ – 1835 সালে ফরাসি গণিতবিদ গ্যাসপার ডি কোরিওলিস প্রথম এই বলের কথা বলেন বলে তাঁর নামানুসারে এই বলের নামকরণ করা হয়।

কোরিওলিস বলের বৈশিষ্ট্য –

  • গতিশীল বস্তু যেমন বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে এই বল সমকোণে কাজ করে।
  • বস্তুর গতি যত বেশি হয়, কোরিওলিস বলের কারণে তার বিক্ষেপও তত বেশি হয়।
  • নিরক্ষরেখায় এই বলের মান শূন্য এবং উভয় মেরুর দিকে ক্রমশ এই বলের মান বাড়তে থাকে।
  • বায়ুর গতিবেগ বৃদ্ধি পেলে এই বলের পরিমাণও বাড়তে থাকে।
  • এই বলের পরিমাণ কোনো অঞ্চলের অক্ষাংশগত অবস্থানের ওপর নির্ভর করে।

কোরিওলিস বলের প্রভাব – কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।

কোরিওলিস বল

ফেরেলের সূত্র (Ferel’s Law) সম্পর্কে টীকা লেখো।

ফেরেলের সূত্র – পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে উদ্ভূত কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ু উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে সোজাপথে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। এটিই ফেরেলের সূত্র।

ফেরেলের সূত্রের নামকরণ – 1859 সালে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের আবহবিদ উইলিয়াম ফেরেল এই সূত্রটি আবিষ্কার করেন বলে তাঁর নামানুসারে এই সূত্রের নামকরণ।

ফেরেলের সূত্রের উদাহরণ – আয়ন বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে বেঁকে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু রূপে প্রবাহিত হয়।

ফেরেলের সূত্রানুসারে বায়ু প্রবাহের গতিবিক্ষেপ

ITCZ সম্পর্কে টীকা লেখো।

ITCZ-এর অর্থ – ITCZ -এর পূর্ণরূপ হলো Inter Tropical Convergence Zone বা আন্তঃক্রান্তীয় অভিসরণ অঞ্চল।

ITCZ-এর সংজ্ঞা – কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে যথাক্রমে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু সারাবছর নিয়মিতভাবে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়ে পরস্পর মিলিত হয়। এই দুই বায়ুর মিলন অঞ্চলকে আন্তঃক্রান্তীয় অভিসরণ অঞ্চল বা ITCZ বলা হয়।

ITCZ-এর অবস্থান – 5° উত্তর থেকে 5° দক্ষিণ অক্ষরেখার মধ্যে এই অঞ্চল অবস্থিত।

ITCZ-এর বৈশিষ্ট্য –

  • এই অঞ্চলে বায়ু উষ্ণ ও ঊর্ধ্বগামী হয়। ফলে, শান্তভাব বিরাজ করে।
  • পৃথিবীর তিনটি অংশ জুড়ে এই অঞ্চল অবস্থান করছে। সবচেয়ে বড়ো অংশটি ভারত মহাসাগর থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। দ্বিতীয় অংশটি রয়েছে আফ্রিকার পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগরে এবং তৃতীয় অংশটি রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরে।
আন্তঃক্রান্তীয় অভিসরণ অঞ্চল বা ITCZ

সাহসী পশ্চিমা বায়ু সম্পর্কে টীকা লেখো।

অথবা, গর্জনশীল চল্লিশা, ক্রোধোন্মত্ত পঞ্চাশ ও তীক্ষ্ণ চিৎকারকারী ষাট সম্পর্কে টীকা লেখো।

উত্তর গোলার্ধের যে অংশের উপর দিয়ে পশ্চিমা বায়ু (দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু) প্রবাহিত হয়, সেখানে স্থলভাগ বেশি থাকায় এই বায়ুপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়। কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধে 35° – 60° দক্ষিণ অক্ষাংশের উপর দিয়ে যে উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয়, সেই অঞ্চলের অধিকাংশ স্থান সমুদ্রের অন্তর্গত বলে এই অঞ্চলে ঘর্ষণজনিত বাধার প্রভাব কম। তাই বায়ুপ্রবাহ বিশেষ বাধাপ্রাপ্ত হয় না। ফলে, এই বায়ু প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়। তাই এর নাম ‘প্রবল পশ্চিমা বায়ু’ বা ‘সাহসী পশ্চিমা বায়ু’ (Brave West Winds)।

দক্ষিণ গোলার্ধে প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ার জন্য উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু বিভিন্ন অক্ষাংশে বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন –

  • 40° দক্ষিণ অক্ষরেখায় একে গর্জনশীল চল্লিশা (Roaring Forties) বলা হয়।
  • 50° দক্ষিণ অক্ষরেখায় একে ক্রোধোন্মত্ত পঞ্চাশ (Howling Fifties) বলা হয়।
  • 60° দক্ষিণ অক্ষরেখায় একে তীক্ষ্ণ চিৎকারকারী ষাট (Screaming Sixties) বলা হয়।
ক্রোধোন্মত্ত পঞ্চাশ

সমুদ্রবায়ু (Sea Breeze) সম্পর্কে টীকা লেখো।

সমুদ্রবায়ুর সংজ্ঞা – সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত বায়ুকে সমুদ্রবায়ু বলে।

সমুদ্রবায়ুর উৎপত্তি – দিনেরবেলা সূর্যের তাপে স্থলভাগ জলভাগের তুলনায় দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠে। তখন স্থলভাগের বায়ু উষ্ণ, প্রসারিত ও হালকা হয়ে উপরে উঠে গেলে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। অপরদিকে, সমুদ্রের জল স্থলভাগের তুলনায় শীতল হওয়ায় সেখানে উচ্চচাপ বিরাজ করে। ফলে, দিনেরবেলা সমুদ্রের উচ্চচাপ থেকে স্থলভাগের নিম্নচাপের দিকে অপেক্ষাকৃত শীতল আরামদায়ক সমুদ্রবায়ু প্রবাহিত হয়।

সমুদ্রবায়ুর গতি – সূর্য ওঠার কিছু সময় পর থেকে এই বায়ু বইতে শুরু করে এবং বিকেলে ও সন্ধের দিকে এর গতিবেগ বেড়ে যায়।

সমুদ্রবায়ুর প্রভাবিত অঞ্চল – উপকূল থেকে অভ্যন্তরে প্রায় 150 কিমি পর্যন্ত এই বায়ুর প্রভাব দেখা যায়।

সমুদ্রবায়ুর প্রকৃতি – সমুদ্র থেকে আসে বলে এই বায়ু জলীয় বাষ্পপূর্ণ হয়।

সমুদ্রবায়ুর প্রভাব – এর প্রভাবে স্থলভাগে বৃষ্টি হয়, উপকূল সংলগ্ন অঞ্চলের উষ্ণতা কম থাকে এবং জলবায়ু সমভাবাপন্ন হয়।

স্থলবায়ু (Land Breeze) সম্পর্কে টীকা লেখো।

স্থলবায়ুর সংজ্ঞা – স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত বায়ুকে স্থলবায়ু বলে।

স্থলবায়ুর উৎপত্তি – সূর্যাস্তের পর দ্রুত তাপ বিকিরণ করে স্থলভাগ শীতল হয়ে পড়ে। কিন্তু সমুদ্রের ওপরের বায়ু তখনও স্থলভাগের তুলনায় বেশি উষ্ণ থাকে। তাই রাতে স্থলভাগের উপর উচ্চচাপ ও জলভাগের উপর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। ফলে, স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে স্থলবায়ু প্রবাহিত হয়।

স্থলবায়ুর গতিবেগ – ভোরবেলা এই বায়ুর গতিবেগ বেড়ে যায়।

স্থলবায়ুর প্রকৃতি – স্থলভাগ থেকে আসার জন্য এই বায়ু শুষ্ক প্রকৃতির হয়।

স্থলবায়ুর প্রভাব – এই বায়ুর প্রভাব কম, কেবল মৎস্যজীবীদের ভোরবেলা সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে সুবিধা হয়।

ঘূর্ণবাত (Cyclone) সম্পর্কে টীকা লেখো।

ঘূর্ণবাতের সংজ্ঞা – কোনো অল্প পরিসর জায়গায় উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে হঠাৎ করে বায়ুর চাপ কমে গেলে সেই স্থানে শক্তিশালী নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয় এবং বাইরের দিকে উচ্চচাপ বিরাজ করে। এই অবস্থায় উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে এই নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে বায়ু প্রবল গতিতে ছুটে আসে, একে ঘূর্ণবাত বলে।

ঘূর্ণবাতের বৈশিষ্ট্য –

  • এটি স্বল্পস্থায়ী হয় এবং এর প্রভাবে প্রবল ঝড়বৃষ্টি হওয়ায় জীবন ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
  • ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ ও বাইরে উচ্চচাপ বিরাজ করায় বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রমুখী হয়।
  • ঘূর্ণবাতের বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে (বামদিকে) এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে (ডানদিকে) চক্রাকারে কেন্দ্রে প্রবেশ করে।
  • ঘূর্ণবাত সাধারণত দুই ধরনের হয় – ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ঘূর্ণবাত।
  • ঘূর্ণবাতের বিস্তার কম অঞ্চল জুড়ে হয়।
  • ঘূর্ণবাতের গড় গতিবেগ 160 কিমি/ঘণ্টা হলেও তা 500 কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে।
  • ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে শান্ত পরিবেশ থাকে।
ঘূর্ণবাত (Cyclone)

প্রতীপ ঘূর্ণবাত (Anti Cyclone) সম্পর্কে টীকা লেখো।

প্রতীপ ঘূর্ণবাতের সংজ্ঞা – কোনো জায়গায় উষ্ণতা হ্রাসের কারণে বায়ুচাপ বেড়ে গেলে উচ্চচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয় এবং বাইরের দিকে নিম্নচাপ বিরাজ করে। এই অবস্থায় বায়ু উচ্চচাপ কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে বেরিয়ে যায়। একে প্রতীপ ঘূর্ণবাত বলে।

প্রতীপ ঘূর্ণবাতের বৈশিষ্ট্য –

  • প্রতীপ ঘূর্ণবাতে বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
  • এই বায়ু শীতল, বহির্মুখী ও নিম্নগামী হয়।
  • এই বায়ুর গতিবেগ ঘূর্ণবাতের তুলনায় অনেকটা কম।
  • সাধারণত উচ্চ অক্ষাংশে প্রতীপ ঘূর্ণবাত সৃষ্টি হয়।
  • প্রতীপ ঘূর্ণবাতের অবস্থানে মেঘমুক্ত, শান্ত ও রোদ ঝলমলে আবহাওয়া দেখা যায়।
প্রতীপ ঘূর্ণবাত (Anti Cyclone)

ক্রান্তীয় বা উষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণবাত (Tropical Cyclone) সম্পর্কে টীকা লেখো।

ক্রান্তীয় বা উষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণবাতের অবস্থান – পৃথিবীর উভয় গোলার্ধের 5° – 20° অক্ষাংশের মধ্যবর্তী নিরক্ষীয় অঞ্চল।

ক্রান্তীয় বা উষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণবাতের প্রকৃতি – কেন্দ্রে অতি শক্তিশালী নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। এটি একটি বিধ্বংসী প্রকৃতির ঘূর্ণিঝড়।

ক্রান্তীয় বা উষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণবাতের বৈশিষ্ট্য – বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রমুখী, প্রবল গতিবেগসম্পন্ন এবং দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে।

ক্রান্তীয় বা উষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণবাতের শ্রেণিবিভাগ –

  • প্রবল শ্রেণির ঘূর্ণবাত – টর্নেডো, টাইফুন, হ্যারিকেন, সাইক্লোন, আয়লা, ফাইলিন, হেলেন, লহর, হাইয়ান প্রভৃতি।
  • দুর্বল শ্রেণির ঘূর্ণবাত – মৃদু প্রকৃতির (Mild type) নিম্নচাপ, দীর্ঘস্থায়ী মেঘলা আকাশ প্রভৃতি।

ক্রান্তীয় বা উষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণবাতের গতিবেগ – প্রতি ঘণ্টায় গড়ে প্রায় 120 – 160 কিমি।

ক্রান্তীয় বা উষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণবাতের স্থান ও সময়কাল – সাগর বা মহাসাগরের মধ্যবর্তী স্থান ও দ্বীপসমূহের পার্শ্ববর্তী অঞ্চল।

ক্রান্তীয় বা উষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণবাতের প্রভাব – একটানা ও এলোমেলো প্রবল ঝড় ও বৃষ্টিপাত হয়। স্বাভাবিক জনজীবন সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

প্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের গঠন পর্যায়

নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণবাত (Temperate Cyclone) সম্পর্কে টীকা লেখো।

নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণবাতের অবস্থান – উভয় গোলার্ধের নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে (30° – 66½° অক্ষাংশে) এই প্রকার ঘূর্ণবাত সৃষ্টি হয়।

নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণবাতের প্রকৃতি – কেন্দ্রে মৃদু প্রকৃতির নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। এই ঘূর্ণবাত ক্রান্তীয় অঞ্চলের মতো শক্তিশালী ও বিধ্বংসী নয়। এটি মধ্যম প্রকৃতির ঝড়।

নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণবাতের বৈশিষ্ট্য – উষ্ণ ও শীতল – এই দুই বিপরীতধর্মী বায়ুপ্রবাহ একই নিম্নচাপ কেন্দ্রে প্রবেশ করে। ফলে, উষ্ণ সীমান্ত (Warm front) ও শীতল সীমান্ত (Cold front) বরাবর সংঘর্ষ হলে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয়। পশ্চিমা বায়ুর প্রবাহপথ অনুসরণ করে এটি পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ক্রমাগত অগ্রসর হয়।

নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণবাতের গতিবেগ – প্রতি ঘণ্টায় গড়ে প্রায় 50 – 70 কিমি।

নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণবাতের স্থান ও সময়কাল – ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশে শীতকালেই অধিক সংখ্যায় উৎপত্তি হয়।

নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণবাতের প্রভাব – এটি বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় নয়, তবে এর প্রভাবে শীতকালে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন হয়।

নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণবাত

আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের চতুর্থ অধ্যায় ‘চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ’ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘টীকা’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল বা চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে।

আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া, নিচের শেয়ার বাটন থেকে পোস্টটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ!

Please Share This Article

Related Posts

চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল (চতুর্থ অধ্যায়) – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর

চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল (চতুর্থ অধ্যায়) – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Souvick

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল (চতুর্থ অধ্যায়) – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল (চতুর্থ অধ্যায়) – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল – ‘চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ’ (চতুর্থ অধ্যায়) – গুরুত্বপূর্ণ টীকা

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর