অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের চতুর্থ অধ্যায় ‘চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ’ থেকে কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক (চাকরির) পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Contents Show

বায়ুর চাপ’ কাকে বলে?

পৃথিবীর চারদিকে বায়ুমণ্ডল বেষ্টন করে আছে। পৃথিবী মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সাহায্যে বায়ুমণ্ডলকে নিজের কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে। ফলে, বায়ুর চাপ বা ওজন অনুভূত হয়। বায়ুর ওজনকেই বায়ুর চাপ বলে। এককথায়, বায়ুর চাপ বলতে বায়ুমণ্ডলের গ্যাসীয় অণুগুলির অবিরাম সংঘর্ষে পৃথিবীপৃষ্ঠে সৃষ্ট বলকে বোঝায়। 0°C উষ্ণতায় 45° অক্ষাংশে সমুদ্রতলে বায়ুর চাপ 76 সেমি পারদস্তম্ভের চাপের সমান।

বৈপরীত্য উষ্ণতা (Inversion of Temperature) কী?

অথবা, বৈপরীত্য উষ্ণতা কীভাবে সৃষ্টি হয়?

উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উত্তাপ না কমে অনেক সময় বৃদ্ধি পায়, এই অবস্থাকে বৈপরীত্য উষ্ণতা বলে। সাধারণত পার্বত্য উপত্যকায় রাত্রে তাপ বিকিরণ করার ফলে উঁচু পার্বত্য বাতাস খুব শীতল ও ভারী হয়ে পর্বতের ঢাল বেয়ে ক্যাটাবেটিক বায়ুরূপে উপত্যকায় নেমে আসে। ফলে, নীচু উপত্যকার উষ্ণতা উচ্চ পর্বতগাত্রের উষ্ণতা অপেক্ষা কমে যায়। এইভাবে বৈপরীত্য উষ্ণতার সৃষ্টি হয়। এজন্য শীতল ও নাতিশীতোষ্ণ পার্বত্য অঞ্চলের উপত্যকায় জনবসতি ও কৃষিকার্য পর্বতের উঁচু অঞ্চল অপেক্ষা কম দেখা যায়।

বৈপরীত্য উত্তাপ

বায়ুপ্রবাহ ও বায়ুস্রোত কাকে বলে?

বায়ুপ্রবাহ – ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে বা অনুভূমিকভাবে যে বায়ু চলাচল করে, তাকে বায়ুপ্রবাহ বলে। দ্রুত গতিসম্পন্ন বায়ুকে ঝড় বলে। আর প্রবহমান বায়ুকে বাতাস বলে।

বায়ুস্রোত – ভূপৃষ্ঠে উল্লম্বভাবে অর্থাৎ, উপর থেকে নীচে বা নীচের থেকে উপরে যে বায়ু চলাচল করে, তাকে বায়ুস্রোত বলে।

উপক্রান্তীয় শান্তবলয় কী?

উপক্রান্তীয় (কর্কটীয় ও মকরীয়) উচ্চচাপ বরাবর দুই মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় অঞ্চলের শীতল ও ভারী বায়ু সর্বদা উপর থেকে নীচের দিকে নেমে আসে। তাই এখানে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে কোনো বায়ুপ্রবাহ পরিলক্ষিত হয় না, তাই সর্বদা শান্তভাব বিরাজ করে। একে উপক্রান্তীয় শান্তবলয় বলে।

গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ু (Summer Monsoon) কাকে বলে?

গ্রীষ্মকালে মহাদেশের অভ্যন্তরভাগ সূর্যের তাপে দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সেখানে গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এই সময় ভারত মহাসাগরের জল তুলনায় ঠান্ডা থাকায় সেখানে উচ্চচাপ বিরাজ করে। ফলে, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ভারতে প্রবেশ করে। একে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ু বলে। জলভাগের ওপর দিয়ে আসায় প্রচুর জলীয় বাষ্প ধারণ করে এবং স্থলভাগে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটায়।

শীতকালীন মৌসুমি বায়ু (Winter Monsoon) কাকে বলে?

শীতকালে মহাদেশের অভ্যন্তরভাগে কম উষ্ণতার জন্য উচ্চচাপ বিরাজ করে। কিন্তু এই সময় ভারত মহাসাগরে জল অনেক বেশি উষ্ণ হওয়ায় সেখানে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। ফলে, শীতকালে স্থলভাগ থেকে ঠান্ডা বায়ু সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। একে শীতকালীন মৌসুমি বায়ু বলে। এই বায়ু স্থলভাগ থেকে প্রবাহিত হওয়ায় জলীয় বাষ্পহীন শুষ্ক হয়। তাই এর প্রভাবে বৃষ্টি তেমন হয় না।

প্রত্যয়ন বায়ু (Anti Trade Wind) কাকে বলে?

নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে বায়ু উষ্ণতার জন্য ঊর্ধ্বগামী হয়ে পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রভাবে কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বরাবর নেমে আসে, একে প্রত্যয়ন বায়ু বলে।

সুমেরু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত দুটি দেশ ও দুটি সাগরের নাম লেখো।

  • দুটি দেশের নাম – গ্রিনল্যান্ড, নরওয়ে।
  • দুটি সাগরের নাম – বিউফোর্ট সাগর, লাপতেভ সাগর।

দক্ষিণ গোলার্ধে পশ্চিমা বায়ু কোন্ দিক থেকে প্রবাহিত হয় এবং এই বায়ু কী নামে পরিচিত?

দক্ষিণ গোলার্ধে পশ্চিমা বায়ু উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়। এই বায়ু উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু নামে পরিচিত। একে সাহসী পশ্চিমা বায়ুও (Brave West Wind) বলা হয়।

দুটি দেশ ও দুটি মহাসাগরের নাম করো যার ওপর দিয়ে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় বিস্তৃত।

  • দুটি দেশের নাম হল – আফ্রিকার কেনিয়া ও কঙ্গো।
  • দুটি মহাসাগরের নাম হল – প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর।

উভয় গোলার্ধে মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় অঞ্চল থেকে বায়ু ঊর্ধ্বগামী হয়ে কোন্ কোন্ অঞ্চলে নেমে আসে?

অথবা, দক্ষিণ গোলার্ধে কুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় অঞ্চল থেকে বায়ু ঊর্ধ্বগামী হয়ে কোন্ কোন্ অঞ্চলে নেমে আসে?

মেরুবৃত্ত প্রদেশের ঊর্ধ্বগামী বায়ু দুটি অঞ্চলে নেমে আসে। যথা –

  • ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় (উভয় গোলার্ধে 25°-35° অক্ষাংশ)।
  • মেরুদেশীয় উচ্চচাপ বলয় (উভয় গোলার্ধে 80°-90° অক্ষাংশ)।

ঘূর্ণবাত কাকে বলে?

কোনো অল্প পরিসর জায়গায় উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে হঠাৎ করে বায়ুর চাপ কমে গেলে সেই স্থানে শক্তিশালী নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয় এবং বাইরের দিকে উচ্চচাপ বিরাজ করে। এই অবস্থায় উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে এই নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে বায়ু প্রবল গতিতে ছুটে আসে, একে ঘূর্ণবাত বলে।

প্রতীপ ঘূর্ণবাত কাকে বলে?

কোনো জায়গায় উষ্ণতা হ্রাসের কারণে বায়ুচাপ বেড়ে গেলে উচ্চচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয় এবং বাইরের দিকে নিম্নচাপ বিরাজ করে। এই অবস্থায় বায়ু উচ্চচাপ কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে বেরিয়ে যায়। একে প্রতীপ ঘূর্ণবাত বলে।

পোর্তুগাল, স্পেন, ইটালি ও ফ্রান্সে কোন্ বায়ুর প্রভাবে কোন্ ঋতুতে বৃষ্টিপাত হয়?

ইউরোপ মহাদেশের পর্তুগাল, স্পেন, ইতালি ও ফ্রান্স – এই চারটি দেশ ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়।

আশ্বিনের ঝড় কাকে বলে?

অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে মাঝে মাঝে ঘূর্ণিঝড়ের উদ্ভব হয়। প্রত্যাগমনকারী মৌসুমি বায়ু ও সামুদ্রিক বায়ুর সংঘর্ষে শক্তিশালী ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি হয়। একে সাইক্লোন বলে। এর ফলে, বঙ্গোপসাগরের উপকূলের রাজ্যগুলিতে প্রবল ঝড়বৃষ্টি হয়। পশ্চিমবঙ্গে এই ঝড় আশ্বিন মাসে হয়, তাই একে আশ্বিনের ঝড় বলে। ভারতে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল, অক্টোবর-নভেম্বর মাস হল শরৎকাল অর্থাৎ, মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাগমনকাল। কিন্তু অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ঘনঘন ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি হলে মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাগমনের সময়কাল পিছিয়ে যায় বলে বর্ষার স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পায়।

বর্ষাকালে আমাদের রাজ্যে যে বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি হয়, তার নাম কী? এই বায়ু কোন্ দিক থেকে প্রবাহিত হয়?

বর্ষাকালে আমাদের রাজ্যে যে বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি হয়, তার নাম মৌসুমি বায়ু।

এই বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়। তাই একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বলে।

বিকালের দিকে সমুদ্র বা নদীর পাড়ে বসলে কোন্ দিক থেকে ঠান্ডা হাওয়া বইবে এবং কেন?

বিকেলের দিকে সমুদ্র বা নদীর পাড়ে বসলে সমুদ্র বা নদীর দিক থেকে ঠান্ডা হাওয়া বইবে। কারণ – এই সময় জলভাগে উচ্চচাপ ও স্থলভাগে নিম্নচাপ বিরাজ করে।

ঘূর্ণবাতের চক্ষু কী?

ঘূর্ণবাতের চক্ষুর সংজ্ঞা – বিধ্বংসী ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রকে ‘ঘূর্ণবাতের চক্ষু’ (Eye of the Cyclone) বলে।

ঘূর্ণবাতের বৈশিষ্ট্য –

  • এই অঞ্চলে বায়ুর গতিবেগ খুব কম হয়।
  • এখানে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে। ফলে, ঘূর্ণবাতের চক্ষু যখন যেখানে অবস্থান করে তখন সেখানে বৃষ্টি হয় না। এই অঞ্চলে উষ্ণতা খুব বেশি হয় এবং বায়ুর চাপ সবচেয়ে কম থাকে। ঘূর্ণবাতের চক্ষুর ব্যাসার্ধ 20-60 কিমি পর্যন্ত হয়।
ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত

আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের চতুর্থ অধ্যায় ‘চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ’ থেকে কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য বা চাকরির পরীক্ষার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই প্রশ্নগুলি পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে।

আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা হলে, আপনারা আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ!

Please Share This Article

Related Posts

চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল (চতুর্থ অধ্যায়) – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর

চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল (চতুর্থ অধ্যায়) – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Souvick

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল (চতুর্থ অধ্যায়) – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল (চতুর্থ অধ্যায়) – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল – ‘চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ’ (চতুর্থ অধ্যায়) – গুরুত্বপূর্ণ টীকা

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর