আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের ষষ্ঠ অধ্যায় ‘জলবায়ু অঞ্চল’ থেকে কিছু ‘সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অষ্টম শ্রেণির ভূগোল (ষষ্ঠ অধ্যায়): জলবায়ু অঞ্চল – গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
নিরক্ষীয় বৃষ্টিঅরণ্যের উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য লেখো।
অথবা, সেলভা অরণ্যের বৈশিষ্ট্য লেখো।
নিরক্ষীয় বৃষ্টিঅরণ্যের উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য –
- চিরহরিৎ উদ্ভিদ – এই অঞ্চলে সারাবছরব্যাপী প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় বলে গাছের পাতা সারাবছর সবুজ থাকে, তাই একে চিরহরিৎ অরণ্য বলে।
- বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের সমাবেশ – এই অরণ্যে প্রতি হেক্টরে 20-40টি বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ জন্মায়।
- পরগাছা উদ্ভিদ – আর্দ্র ও অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশের জন্য বৃক্ষের ডালপালায় প্রচুর অর্কিড জাতীয় পরগাছা উদ্ভিদ জন্মায়।
- উচ্চতাভিত্তিক স্তরবিন্যাস – সূর্যালোক পাওয়ার পরিমাণ অনুযায়ী এখানে উচ্চতাভিত্তিক তিনটি স্তর লক্ষ করা যায়। যথা – নিম্নস্তর (5-15 মিটার), মধ্যবর্তী স্তর (15-30 মিটার) এবং উচ্চ স্তর (30-45 মিটার)।
- চাঁদোয়া সৃষ্টি – সূর্যালোক পাওয়ার জন্য গাছগুলি দ্রুত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং গাছের পাতাগুলি প্রশস্ত হওয়ায় উপরিস্তরে বৃহদাকার পরস্পর ঘনসন্নিবিষ্ট গাছের পাতা চাঁদোয়ার ন্যায় আবরণ সৃষ্টি করে (Canopy)।
- লতানে উদ্ভিদ – এই ধরনের উদ্ভিদগুলি সূক্ষ্ম আকর্ষের সাহায্যে বড়ো উদ্ভিদকে আশ্রয় করে উপরের দিকে বাড়তে থাকে। এই অরণ্যে প্রায় 90 প্রজাতির আরোহী উদ্ভিদ দেখা যায়। যেমন – লিয়ানা, ফার্ন।
- কাঠের প্রকৃতি – এই অরণ্যের উদ্ভিদগুলির কাঠ খুব শক্ত ও ভারী প্রকৃতির হয়।
- প্রধান বৃক্ষসমূহ – আমাজন অববাহিকার রোজ উড, আয়রন উড, ব্রাজিল নাট, বাঁশ; কঙ্গো ও জাইরে অববাহিকার মেহগনি, পাম, কোকো, সিঙ্কোনা; দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আবলুশ, রবার; উপকূল অঞ্চলের নারকেল, তাল ইত্যাদি।
নিরক্ষীয় চিরহরিৎ অরণ্যের বৃক্ষের ব্যবহারগুলি কী কী?
নিরক্ষীয় চিরহরিৎ অরণ্যের ব্যবহারগুলি হল –
- এই অরণ্যের শক্ত ও ভারী কাঠ বিমানের প্রকোষ্ঠ নির্মাণে (বালসা গাছ), যানবাহনের কাঠামো নির্মাণ এবং হিমায়ক যন্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- পাম গাছের তেল থেকে ভোজ্য তেল, সাবান, গ্লিসারিন তৈরি হয়।
- সিঙ্কোনা গাছের ছাল থেকে ম্যালেরিয়া প্রতিষেধক ওষুধ তৈরি হয়।
- রবার গাড়ির টায়ার প্রস্তুত করতে ব্যবহার করা হয়।
- চন্দন গাছের ছাল থেকে ধূপ, ধুনো, সুগন্ধি প্রস্তুত করা হয়।
- জ্যাপোটা (Sapodilla) গাছের আঠা (Chicle) থেকে চিউইংগাম তৈরি করা হয়।
- টাবুয়া নাট থেকে বোতাম তৈরি হয়।
মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের অবস্থান লেখো।
অক্ষাংশগত অবস্থান – পৃথিবীর উভয় গোলার্ধে 10°-30° অক্ষরেখার মধ্যে বিশেষত মহাদেশসমূহের পূর্ব প্রান্তে মৌসুমি জলবায়ু পরিলক্ষিত হয়।
ভৌগোলিক অবস্থান –
- এশিয়া – মহাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বভাগে অবস্থিত ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, কাম্পুচিয়া, লাওস, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন এবং ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জের কোনো কোনো অঞ্চলে মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব বেশি অনুভূত হয়।
- আফ্রিকা – মহাদেশের পূর্ব উপকূলে মাদাগাস্কার, ইথিওপিয়া, সোমালিয়া, মোজাম্বিক প্রভৃতি দেশের পূর্ব প্রান্তে।
- উত্তর আমেরিকা – মেক্সিকো ও ফ্লোরিডা উপকূলে।
- দক্ষিণ আমেরিকা – ব্রাজিলের পূর্ব উপকূলে।
- অস্ট্রেলিয়া – উত্তরাংশে কুইন্সল্যান্ড প্রদেশে এই জলবায়ুর কিছুটা প্রভাব দেখা যায়।
মৌসুমি জলবায়ুর স্বাভাবিক উদ্ভিদের পরিচয় দাও।
মৌসুমি জলবায়ুতে বাৎসরিক উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাতের বণ্টনগত তারতম্যে নিম্নলিখিত বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। যেমন –
- চিরসবুজ উদ্ভিদ – এখানকার 200 সেমির বেশি বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে চিরসবুজ প্রকৃতির উদ্ভিদ গড়ে উঠেছে। যেমন – মেহগনি, শিশু, আবলুশ, গর্জন প্রভৃতি।
- পর্ণমোচী উদ্ভিদ –
- আর্দ্র পর্ণমোচী উদ্ভিদ – মৌসুমি জলবায়ুতে যেখানে গড়ে 100-200 সেমি বৃষ্টিপাত ঘটে সেখানে আর্দ্র পর্ণমোচী উদ্ভিদ যেমন – শাল, সেগুন, অর্জুন, জারুল, গামার, মহুয়া প্রভৃতি জন্মায়।
- শুষ্ক পর্ণমোচী উদ্ভিদ – মৌসুমি জলবায়ুতে যেখানে গড়ে 50-100 সেমি বৃষ্টিপাত ঘটে সেখানে শুষ্ক পর্ণমোচী উদ্ভিদ যেমন – পলাশ, শিরীষ, সাবাই ঘাস প্রভৃতি জন্মায়।

- ক্ষুদ্র ও গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ – 50-70 সেমি বৃষ্টিপাতযুক্ত মৌসুমি অঞ্চলে বিভিন্ন ক্ষুদ্রাকৃতির ও গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ জন্মায়। যেমন – আকন্দ, কাশ, ফণীমনসা প্রভৃতি।
- ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ – মৌসুমি অঞ্চলের উপকূলবর্তী বদ্বীপ লবণাক্ত পরিবেশে ম্যানগ্রোভজাতীয় উদ্ভিদ জন্মায়। যেমন – সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া, কেওড়া, হোগলা প্রভৃতি।

‘মৌসুমি বিস্ফোরণ’ (Burst of Monsoon) বলতে কী বোঝো?
ভারত মহাসাগর, আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচুর জলীয় বাষ্পসহ প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি শুরু হয়। একে মৌসুমি বায়ুর বিস্ফোরণ বলে। এই বায়ু জলভাগের ওপর দিয়ে আসায় এতে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকে। 21 জুন তারিখে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এই সময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিম্নচাপ সক্রিয় হলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন ঘটে ও তার আরব সাগরীয় শাখা পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালে এবং বঙ্গোপসাগরীয় শাখা পূর্ব হিমালয়ে প্রায় 100-150 সেমি বৃষ্টিপাত ঘটায় যা ‘মৌসুমি বিস্ফোরণ’ নামে পরিচিত।
MONEX কী?
1973 সালে ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে Global Atmospheric Research Programme-এর অধীনে দক্ষিণ এশিয়ায় মৌসুমি বায়ুর উৎপত্তির সময়, প্রবাহপথ, স্থায়িত্বকাল, প্রত্যাগমনকাল প্রভৃতি সম্পর্কে গবেষণার জন্য যে বিশেষ কার্যক্রম স্থির করা হয় তা Monex বা Monsoon Experiment নামে পরিচিত। এই কর্মসূচী অনুসারে নিরক্ষীয় অঞ্চলে 60° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা বরাবর মার্কিন ভূ-সমীক্ষণ উপগ্রহ GOES INDIAN OCEAN মৌসুমি বায়ুর গতিবিধি ও গতিপ্রকৃতি নিরীক্ষণ করে প্রাপ্ত তথ্য মুম্বাইয়ের বার্তাবাহক কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়।
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের কৃষিকাজের বর্ণনা দাও।
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু ও মাঝারি বৃষ্টিপাতের কারণে যে বিশেষ ধরনের কৃষি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তাকে ভূমধ্যসাগরীয় কৃষি বলে। ফল ও সবজি উৎপাদন করে ট্রাকে করে নিকটবর্তী বাজারে চালান দেওয়া হয় বলে একে ট্রাক ফার্মিং (Truck Farming)-ও বলে। এখানে উৎপাদিত ফসলগুলি হল নিম্নরূপ –
- ফল চাষ – ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ফল চাষের অনুকূল জলবায়ু থাকায় আঙুর, জলপাই, কমলালেবু, আপেল, ডুমুর, আখরোট, পিচ, খোবানি, নাসপাতি, চেরি, বাতাবি লেবু, কুল প্রভৃতি ফল প্রচুর উৎপন্ন হয়। এইসব ‘টক-মিষ্টি জাতীয়’ প্রচুর রসালো ফল উৎপাদনের জন্য অঞ্চলটি বিশ্ববিখ্যাত। সে কারণে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলকে ‘প্রাকৃতিক ফল ভাণ্ডার’ বা ‘পৃথিবীর ফলের বাগান’ বা ‘পৃথিবীর ফলের ঝুড়ি’ (Fruit Basket of the World) বলা হয়।
- ফসল চাষ – এখানকার প্রধান উৎপাদিত খাদ্যশস্য হল গম। এ ছাড়া ধান, ভুট্টা, যব, মিলেট, ওট, বিট, গাজর, বাঁধাকপি, টম্যাটো, মটরশুঁটি, তামাক প্রভৃতি চাষ হয়।
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের শিল্প সম্পর্কে লেখা।
ফলকেন্দ্রিক শিল্প – এই অঞ্চলে প্রাপ্ত ফল (আঙুর, জলপাই প্রভৃতি) প্রক্রিয়াকরণ করে ফ্রান্স, স্পেন, ইটালিতে কিশমিশ ও বিখ্যাত কয়েকটি মদ যেমন – শ্যাম্পেন, শেরি, কিয়ান্তি প্রস্তুত হয়। জলপাই (Olive) তেল থেকে সাবান ও নানা সুগন্ধি প্রসাধনী প্রস্তুত হয়। এ ছাড়াও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, যেমন – জেলি, আচার, ফল সংরক্ষণ এবং ময়দা সংক্রান্ত বেকারি শিল্প গড়ে উঠেছে।
কৃষিজ অন্যান্য ফসল কেন্দ্রিক শিল্প – এখানকার দক্ষিণ ফ্রান্স, ইটালি ও স্পেনের তুঁতগাছকে কেন্দ্র করে রেশম শিল্প গড়ে উঠেছে।
খনিজ সম্পদ কেন্দ্রিক শিল্প – ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে প্রাপ্ত খনিজ সম্পদের ওপর ভিত্তি করে বেশ কয়েকটি শিল্প গড়ে উঠেছে। যেমন – ফ্রান্স, ইটালি, যুগোস্লাভিয়ার লৌহ-ইস্পাত শিল্প, ক্যালিফোর্নিয়ার পেট্রোরসায়ন শিল্প (যেমন – সাবান তৈরি, বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রী উৎপাদন প্রভৃতি)।
পর্যটন শিল্প – এখানকার মনোরম জলবায়ু ও নৈসর্গিক সৌন্দর্য ইটালি, ফ্রান্স, স্পেন, মিশর প্রভৃতি অঞ্চলে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটিয়েছে।
চলচ্চিত্র শিল্প – ভূমধ্যসাগরীয় মনোরম রৌদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়া ও সমুদ্র নিকটস্থ অপরূপ শোভা ক্যালিফোর্নিয়ায় বিখ্যাত চলচ্চিত্র শিল্প ‘হলিউড’ গড়ে তুলেছে।
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের স্বাভাবিক উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য লেখো।
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের স্বাভাবিক উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য –
- প্রকৃতি – প্রকৃতিগতভাবে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুতে সারা বছর মেঘমুক্ত ও রৌদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করে।
- আর্দ্র শীতকাল ও শুষ্ক গ্রীষ্মকাল – শীতকালে সমুদ্রের উপর দিয়ে প্রবাহিত পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে এখানে আর্দ্র আবহাওয়া তৈরি হয়। অন্যদিকে, গ্রীষ্মকালে শুষ্ক উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু এই অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যায় বলে এখানে শুষ্ক আবহাওয়া তৈরি হয়।
- উষ্ণতা –ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সারাবছর সমভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করলেও –
- গ্রীষ্মকালে – এই অঞ্চলের গড় উষ্ণতা থাকে 21°সে-27°সে।
- শীতকালে – এই অঞ্চলের তাপমাত্রা কমে গিয়ে 5°C-10°C হয়ে যায়।
- বায়ুর চাপ – ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলের অন্তর্গত হলেও সূর্যের উত্তরায়ণে এখানে গ্রীষ্মকালে উচ্চচাপ এবং সূর্যের দক্ষিণায়নে শীতকালে নিম্নচাপ বিরাজ করে।
- স্থানীয় বায়ুর প্রভাব – এ ছাড়াও এই অঞ্চলে কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর প্রভাব দেখা যায়। সেগুলি হল – ইটালিতে সিরক্কো, ফ্রান্সের রোণ নদী উপত্যকায় মিস্ট্রাল, স্পেনে লেভেস, মিশরে খামসিন প্রভৃতি।
- বায়ুপ্রবাহ – সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের দ্বারা ভূমধ্যসাগরীয় বায়ুচাপ বলয়গুলি পরিবর্তিত হয় বলে গ্রীষ্মকালে এখানে শুষ্ক আয়ন বায়ু এবং শীতকালে আর্দ্র পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের আগমন – এই অঞ্চলে মাঝে মাঝেই আগত ঘূর্ণিঝড় বৃষ্টিপাতের বণ্টন ও প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- জলবায়ুর ওপর সমুদ্রবায়ু ও সমুদ্রস্রোতের প্রভাব – এই অঞ্চলের জলবায়ুর ওপর পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব খুব বেশি। উপকূলীয় শীতল সমুদ্রস্রোত উষ্ণতাকে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করে।
- বৃষ্টিপাত – ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাত্র 25-100 সেমি। এই বৃষ্টিপাতের সবটাই প্রায় শীতকালে ঘটে থাকে। উপকূল থেকে ভিতরে বৃষ্টির পরিমাণ ক্রমশ হ্রাস পায়। এই অঞ্চলে শীতকালে বেশিরভাগ বৃষ্টি হয় বলে একে ‘শীতকালীন বৃষ্টিপাতের দেশ’ বলে।
- তুষারপাত – সার্বিকভাবে এই জলবায়ুতে তুষারপাত না ঘটলেও মাঝে মাঝে ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যভাগে হালকা তুষারপাত ঘটে। প্রসঙ্গত বলা যায়, এই অঞ্চলের অধঃক্ষেপণ নির্ভর করে মূলত এখানে সৃষ্ট নিয়মিত ঘূর্ণবাতের ওপর।
তুন্দ্রা জলবায়ুর অবস্থান উল্লেখ করো।
অক্ষাংশগত অবস্থান – পৃথিবীর উভয় গোলার্ধের 66½°-90° উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে তুন্দ্রা জলবায়ু পরিলক্ষিত হয়।
ভৌগোলিক অবস্থান –
- গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূল।
- উত্তর আমেরিকার উত্তর কানাডা, আলাস্কা প্রদেশ।
- ইউরোপের নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও রাশিয়ার উত্তরাংশ এবং দক্ষিণ গোলার্ধে আন্টার্কটিকার গ্রাহামল্যান্ড উপদ্বীপ ও দক্ষিণ আমেরিকার ফকল্যান্ড অঞ্চলে তুন্দ্রা জলবায়ু দেখা যায়।
তুন্দ্রা অঞ্চলের স্বাভাবিক উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
তুন্দ্রা অঞ্চলের স্বাভাবিক উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য –
- তুন্দ্রা অঞ্চলে বছরের বেশিরভাগ সময় উষ্ণতা হিমাঙ্কের নীচে থাকে বলে কোনো বড়ো উদ্ভিদ জন্মাতে পারে না।
- স্বল্পস্থায়ী গ্রীষ্মকালে মাত্র 50 দিনে উদ্ভিদগুলি তাদের জীবনচক্র সম্পূর্ণ করে।
- তুন্দ্রা অঞ্চলের মধ্যভাগে তৃণভূমির প্রাধান্য দেখা যায়। এদের মধ্যে মস, লাইকেন জাতীয় সপুষ্পক উদ্ভিদ উল্লেখযোগ্য।
- ভূমিভাগ থেকে এই অঞ্চলের উদ্ভিদগুলির উচ্চতা মাত্র 5-8 সেমি হয়।
- শীতকালে এই অঞ্চলের উদ্ভিদগুলি বরফে চাপা পড়ে নির্জীব হয়ে থাকে। গ্রীষ্মে বরফ গললে এদের মধ্যে পুনরায় প্রাণের স্পন্দন লক্ষ করা যায় এবং ফুল-ফলে শোভিত হয়।
তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রাণীজগতের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
তুন্দ্রা অঞ্চলের হিমশীতল জলবায়ুতে কোনো বড় উদ্ভিদ জন্মাতে পারে না, কিন্তু গ্রীষ্মে বরফ কিছুটা গলে গেলে জলাভূমিগুলিতে নানা শ্রেণির কীটপতঙ্গ এবং উপত্যকাতে গুল্ম, শৈবাল ও ক্ষুদ্রকায় ঝোপঝাড় জাতীয় তৃণ জন্মায়। তখন কীটপতঙ্গের লোভে হিমমণ্ডলের সন্নিকটস্থ ‘যাযাবর’ শ্রেণির নানা পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসে।
এখানকার স্থলভাগে বলগা হরিণ, লোমশ শ্বেত ভল্লুক (তুন্দ্রার সম্রাট), কস্তুরীমৃগ, শ্বেত শিয়াল, শ্বেত খরগোশ, স্লেজ কুকুর, ক্যারিবু হরিণ, নেকড়ে বাঘ, সেবল (কালো লোমশ জন্তু), লেমিং (ইঁদুর), মেরু প্যাঁচা প্রভৃতি মাংসাশী পশু ও পাখি দেখা যায়।
এখানকার সমুদ্র ও জলাশয়ে নানা প্রকার মাছ, উদবিড়াল, সিল, সিন্ধুঘোটক, তিমি, যাযাবর পাখি, টারমিগান পাখি প্রভৃতি বাস করে। দক্ষিণে কুমেরু বা আন্টার্কটিকায় ‘পেঙ্গুইন’ নামক এক বিচিত্র শ্রেণির পাখি দেখা যায়।

তুন্দ্রা জলবায়ুর খনিজ সম্পদ ও পরিবহণ ব্যবস্থার বর্ণনা দাও।
তুন্দ্রা জলবায়ুর বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এই অঞ্চলে কতগুলি সম্ভাবনা তুলে ধরেছে, এর মধ্যে খনিজ সম্পদের আবিষ্কার ও পরিবহণ ব্যবস্থার প্রসার অন্যতম।
- খনিজ সম্পদ – বর্তমানে এই অঞ্চলে বেশ কিছু খনিজের সন্ধান আবিষ্কৃত হয়েছে, যেমন –
- গ্রিনল্যান্ডে সিসা, দস্তা, ক্রায়োলাইট।
- রাশিয়ার তৈমুর উপদ্বীপ ও পেচোরা অববাহিকায় নিকেল ও খনিজ তেল।
- আলাস্কার সোনা, খনিজ তেল, কয়লা।
- সুইডেনের কিরুনা ও গ্যালিভারের লৌহ আকরিক।
- কানাডার লৌহ আকরিক, নিকেল, সোনা, তামা, ইউরেনিয়াম প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- পরিবহণ ব্যবস্থা – বছরের অধিকাংশ সময় এখানে বরফ থাকায় পরিবহণ পথ নির্মাণ খুবই দুঃসাধ্য ব্যাপার, কিন্তু তা সত্ত্বেও –
- বর্তমানে এই অঞ্চলের সঙ্গে জলপথে বহির্বিশ্বের যোগাযোগ সাধিত হচ্ছে।
- এখানকার সাইবেরিয়ার ভ্লাদিভস্টক বন্দর থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গ পর্যন্ত রেলপথ নির্মিত হয়েছে।
- উত্তর আমেরিকার আলাস্কা হাইওয়ে তুন্দ্রা অঞ্চলের যোগাযোগকে আরো উন্নত করেছে।
- কিছু জায়গাকে বরফমুক্ত করে নতুন যানবাহন পথ নির্মাণ করা হচ্ছে।
তুন্দ্রা অঞ্চলের অধিবাসীদের জীবনযাত্রার ওপর আধুনিক সভ্যতার প্রভাব আলোচনা করো।
অথবা, তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলি উল্লেখ করো।
তুন্দ্রা অঞ্চলের অধিবাসীরা খাদ্যের সন্ধানে যাযাবর বৃত্তিতে ঋতুভিত্তিক পরিব্রাজন করে। এরা মূলত শিকারজীবী ও খাদ্যসংগ্রাহক। তবে অতি সম্প্রতি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার অভাবনীয় উন্নতি তুন্দ্রাবাসীদের জীবনযাত্রায় অনেকটা পরিবর্তন এনেছে। যেমন –
- বর্তমানে তুন্দ্রার অধিবাসীরা ‘কাচের ঘরে’ (Green House) বিভিন্ন প্রকার খাদ্যফসল উৎপন্ন করছে।
- পশু ও মাছ শিকারের জন্য তির, ধনুক, বল্লম, হারপুনের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় বন্দুক ব্যবহার করছে।
- টিউপিক বা ইগলুর পরিবর্তে নাইলনের দড়ি, কার্পেট, তাঁবু ব্যবহার করছে।
- গাছের ডালের পরিবর্তে লোহার ফ্রেম এবং পশুর বা মাছের হাড়ের সুঁচের পরিবর্তে লোহার সুঁচ ব্যবহার করছে।
- ‘কায়াক’ ও ‘উমিয়াক’-এর পরিবর্তে যন্ত্রচালিত স্পিডবোট এবং স্লেজ গাড়ির পরিবর্তে আইস স্কুটার ব্যবহার করছে।
- মহিলারা দাঁত দিয়ে কাঁচা চামড়া ট্যান করার পরিবর্তে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করছে।
- তুন্দ্রার অধিবাসীরা সভ্য জগৎ থেকে সুস্বাদু খাবার সংগ্রহ করছে এবং সন্তানদের স্কুল-কলেজে প্রেরণ করছে।
- উত্তর আমেরিকার আলাস্কা হাইওয়ে, সাইবেরিয়ার বন্দর থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গ পর্যন্ত বিস্তৃত রেলপথ তুন্দ্রা অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
নিরক্ষীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতে বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতাগুলি উল্লেখ করো।
অথবা, নিরক্ষীয় জলবায়ুতে কাষ্ঠশিল্প গড়ে ওঠেনি কেন?
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে বহু মূল্যবান কাঠ ও বনজ সম্পদ পাওয়া গেলেও এখানকার নানা প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতায় কোনো ধরনের অর্থনীতির তেমন বিকাশ ঘটেনি। যেমন –
- দুর্গমতা – এই বনভূমির তলদেশ লতা ও ঝোপঝাড় সমৃদ্ধ এবং আর্দ্র-স্যাঁতসেঁতে হওয়ায় দুর্গম এই অরণ্যে সম্পদ আহরণের জন্য প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব।
- বিভিন্ন উদ্ভিদ প্রজাতি – অরণ্যভূমির প্রতি বর্গকিমিতে 100-200টি বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ একসঙ্গে জন্মায় বলে কাষ্ঠশিল্পের উপযুক্ত নির্দিষ্ট বৃক্ষটিকে নির্বাচন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
- বৃক্ষের প্রকৃতি – নিরক্ষীয় জলবায়ুর উদ্ভিদগুলি প্রচুর ডালপালা সমৃদ্ধ, শক্ত ও ভারী হওয়ায় এগুলিকে সহজে কাটা যায় না।
- পরিবহণগত সমস্যা – অত্যধিক বৃষ্টিপাতে এই বনভূমির তলদেশ ভিজে কাদাময় থাকায় যানবাহনের জন্য রাস্তাঘাট নির্মাণ করা এখানে খুবই অসুবিধাজনক।
- বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব – উষ্ণ-আর্দ্র এই জলবায়ুতে প্রচুর বিষাক্ত সাপ ও কীটপতঙ্গের (যেমন – সে সে মাছি) প্রভাবে এখানে সম্পদ সংগ্রহ বিপজ্জনক হয়।
- শ্রমিকের অভাব – বিপদসংকুল এবং প্রতিকূল এই জলবায়ুতে কোনো ধরনের অর্থনীতির সঙ্গেই শ্রমিকরা যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখায় না।
নিরক্ষীয় বৃষ্টি অরণ্যের তলদেশ অত্যন্ত স্যাঁতসেঁতে ও অন্ধকারাচ্ছন্ন হয় কেন?
অথবা, নিরক্ষীয় বৃষ্টি অরণ্যের ভিতরে সহজে প্রবেশ করা যায় না কেন?
সারাবছর উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় এই অরণ্যের উদ্ভিদগুলি দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং প্রচুর ডালপালা ও পাতার অধিকারী হয়ে ওঠে। ফলে, অরণ্যের উপরিস্তরে এই ডালপালা ও পাতা মিশে গিয়ে একটি নিশ্ছিদ্র চাঁদোয়া বা ক্যানোপির (Canopy) সৃষ্টি হয়, যার জন্য সূর্যের আলো অরণ্যের তলদেশে পৌঁছতে পারে না। তাই তলদেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়।
আবার, সারাবছর বৃষ্টি হওয়ায় অরণ্যের মাটি ভিজে থাকে এবং সূর্যালোকের অভাবে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের সৃষ্টি করে। এই আর্দ্র স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে প্রচুর লতা-গুল্ম, পরগাছা জন্মায়, যার জন্য তলদেশ অত্যন্ত দুর্ভেদ্য হয়ে ওঠে এবং সহজে প্রবেশ করা যায় না।
মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে উষ্ণ-আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল-ব্যাখ্যা করো।
অথবা, মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে শীত-গ্রীষ্মে বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহ দেখা যায় কেন?
স্থলভাগ ও জলভাগের মধ্যে উষ্ণতার পার্থক্যের জন্যই প্রধানত এই বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয়েছে। মৌসুমি বায়ু হলো স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ুর বৃহত্তম সংস্করণ।
- জলভাগ থেকে স্থলভাগে বায়ুপ্রবাহ (গ্রীষ্মকাল) – সূর্যের উত্তরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে গ্রীষ্মকালে জলভাগের তুলনায় স্থলভাগ বেশি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। ফলে স্থলভাগে নিম্নচাপ কেন্দ্র ও জলভাগে উচ্চচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়। তাই জলভাগের উচ্চচাপ কেন্দ্র থেকে স্থলভাগের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়। দীর্ঘ সমুদ্রপথে প্রচুর জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে, নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু হিসেবে এটি স্থলভাগে প্রবেশ করে। তাই গ্রীষ্মকাল উষ্ণ ও আর্দ্র হয়।
- স্থলভাগ থেকে জলভাগে বায়ুপ্রবাহ (শীতকাল) – অপরদিকে সূর্যের দক্ষিণায়নের সঙ্গে সঙ্গে শীতকালে স্থলভাগে উষ্ণতা কমে উচ্চচাপের সৃষ্টি হয় এবং জলভাগে নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়। ফলে, স্থলভাগের উচ্চচাপ কেন্দ্র থেকে জলভাগের দিকে অর্থাৎ, উত্তর গোলার্ধ থেকে দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তা হলো উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু। এই বায়ু স্থলভাগ থেকে আসে বলে শুষ্ক হয়। এই বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়।
মৌসুমি জলবায়ুতে প্রায়ই খরা অথবা, বন্যার কারণ কী?
মৌসুমি বায়ু খুবই খামখেয়ালি এবং অনিশ্চিত চরিত্রের। তাই এখানে যখন স্বাভাবিকের তুলনায় যথেষ্ট কম বৃষ্টিপাত ঘটে তখন খরার (Drought) সৃষ্টি হয়, আবার অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ঘটলে বন্যার (Flood) সৃষ্টি হয়।
মৌসুমি জলবায়ুতে খরার কারণ –
- বর্ষার বৃষ্টি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দীর্ঘ বিলম্ব করে নামলে।
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দুর্বল প্রকৃতির হলে।
- আর্দ্র মৌসুমি বায়ুর ঘনীভবনের পরিবেশ না থাকলে।
- বনভূমি ও জলভাণ্ডার ক্রমশ হ্রাস পেলে।

মৌসুমি জলবায়ুতে বন্যার কারণ –
- স্বাভাবিক সময়ের অনেক আগে বৃষ্টি নামলে।
- দীর্ঘদিন ধরে একটানা বৃষ্টিপাত ঘটলে।
- হঠাৎ হঠাৎ স্থায়ী নিম্নচাপ ক্ষেত্রের সৃষ্টি হলে।
- নদীগর্ভ ক্রমশ পলির দ্বারা ভরাট হয়ে এলে নদীর জলধারণ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাত হয় না কেন?
অথবা, ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে শীতকালে বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
অথবা, ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলকে ‘শীতকালীন বৃষ্টিপাতের দেশ’ বলে কেন?
অথবা, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে শীতকাল আর্দ্র ও গ্রীষ্মকাল শুষ্ক কেন?
উষ্ণ ও শুষ্ক গ্রীষ্মকাল – গ্রীষ্মকালে সূর্যের উত্তরায়ণের কারণে বায়ুচাপ বলয়গুলি 5° উত্তরে সরে যায়। এর ফলে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের (30°-40° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ) ওপর উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় অবস্থান করে। ফলে, মেরুপ্রদেশ ও নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে আগত বাতাস এই অঞ্চলে এসে নিম্নগামী হওয়ায় বায়ুর উষ্ণতা তথা জলীয় বাষ্প ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ ছাড়া, আয়ন বায়ু মহাদেশের পূর্বপ্রান্তে বৃষ্টিপাত ঘটালেও দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে পশ্চিম প্রান্তে এলে প্রায় জলীয় বাষ্পশূন্য হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে না। তাই ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের গ্রীষ্মকাল উষ্ণ ও শুষ্ক হয়।
আর্দ্র শীতকাল – অপরদিকে শীতকালে সূর্যের দক্ষিণায়নের সঙ্গে সঙ্গে বায়ুচাপ বলয়গুলি প্রায় 5° দক্ষিণে সরে যায়। ফলে এই অঞ্চলের ওপর থেকে উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় সরে যায় এবং 25° অক্ষাংশ পর্যন্ত অঞ্চল পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে আসে। সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আসা পশ্চিমা বায়ুতে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকায় মহাদেশের পশ্চিমভাগে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহে বৃষ্টিপাত হয়। এ ছাড়াও মেরু অঞ্চল থেকে আগত শীতল মেরু বায়ুপুঞ্জের প্রভাবে নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি হয় এবং শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়। তাই এই জলবায়ু অঞ্চলকে ‘শীতকালীন বৃষ্টিপাতের দেশ’ বলে।
মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চল কৃষিজ সম্পদে উন্নত কেন?
মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী। এখানকার দেশগুলিতে কৃষির উন্নতির প্রধান কারণগুলি হলো –
- বিস্তীর্ণ সমভূমি
- পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও অনুকূল উষ্ণতা
- পলিগঠিত উর্বর নদী উপত্যকা ও বদ্বীপ
- উন্নত জলসেচ ব্যবস্থা
- আধুনিক সার ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার
- সুলভ শ্রমিক ও পর্যাপ্ত মূলধন
- কৃষিজ পণ্যের ব্যাপক চাহিদা ও উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা।
এখানে নিবিড় জীবিকাসত্তাকেন্দ্রিক (Intensive Subsistence) ও ব্যাপক বাণিজ্যিক (Extensive Commercial) উভয় পদ্ধতিতেই কৃষিকাজ করা হয়।

মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চল পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা জনবহুল অঞ্চল হওয়ার কারণ কী?
মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চল পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা জনবহুল হওয়ার কারণ হল –
- অনুকূল জলবায়ু – মৌসুমি জলবায়ুর গড় তাপমাত্রা প্রায় 20°-25°C এবং বৃষ্টিপাত 100-200 সেমি হওয়ায়, বসবাস ও কৃষিকাজের পক্ষে এই জলবায়ু খুবই অনুকূল।
- উর্বর মৃত্তিকা – এখানকার বিভিন্ন অঞ্চলে পলিগঠিত উর্বর মৃত্তিকা থাকায় কৃষিকাজ করতে বিশেষ সুবিধা হয়।
- জলসম্পদ – এই অঞ্চলে জালের মতো ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন নিত্যবহ ও অনিত্যবহ নদী কৃষিকাজ ও পানীয় জলের পর্যাপ্ত জোগান দেয়।
- অরণ্য সম্পদ – মৌসুমি জলবায়ুতে চিরহরিৎ, পর্ণমোচী, ম্যানগ্রোভ প্রভৃতি অরণ্যের সম্পদকে কেন্দ্র করে বহু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে।
- খনিজ সম্পদ – এখানে লোহা, তামা, বক্সাইট, খনিজ তেল যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়, যা শিল্পের বিকাশে সাহায্য করে।
- পরিবহণ – মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের বেশিরভাগ অংশ সমতলভূমি হওয়ায় এখানে উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।
তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চলের অধিবাসীরা শীতকালে দক্ষিণ দিকে সরে যায় কেন?
এস্কিমো সহ তুন্দ্রার সকল অধিবাসী যাযাবর বৃত্তিতে জীবনধারণ করে। উপযুক্ত বাসস্থান ও খাদ্যের সন্ধানে প্রতিনিয়ত তারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়ায়। গ্রীষ্মকালে তারা জলভাগের (নদী/সমুদ্র) নিকটে বাস করে, আর শীতকালে তীব্র ঠান্ডার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তুন্দ্রার দক্ষিণে বিশাল সরলবর্গীয় বনভূমি ‘তৈগা’-র কাছাকাছি চলে আসে। এর কারণ হলো –
- তুন্দ্রার দক্ষিণাংশে অরণ্যভূমি (তৈগা বনভূমি) থাকায় এখানকার উষ্ণতা উত্তরের তুন্দ্রা অঞ্চল অপেক্ষা কিছুটা বেশি থাকে।
- তৈগা বনভূমি থেকে অধিবাসীরা প্রয়োজনীয় কাঠ (জ্বালানি ও বাসগৃহ নির্মাণের জন্য) ও ফল সংগ্রহ করতে পারে।
- এই ঘন বনভূমি অতি শীতল উত্তর-পূর্ব মেরু বায়ুর গতিবেগকে প্রতিহত করতে পারে।
তুন্দ্রা অঞ্চলে এস্কিমোদের জীবন সিলমাছ-নির্ভর—ব্যাখ্যা করো।
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডের তুন্দ্রা অঞ্চলে বসবাসকারী উপজাতিদের এস্কিমো বলা হয়।
- গ্রীষ্মকালে তারা সিলমাছের চামড়া দিয়ে এক ধরনের অস্থায়ী তাঁবু বানিয়ে বাস করে, এদের ‘টিউপিক’ (Tupiq) বলে।
- শীতকালে ঘর গরম রাখার জন্য এরা সিলমাছের চর্বি দিয়ে প্রদীপ জ্বালায়।
- প্রধান খাদ্য হিসেবে এরা সিলমাছের মাংস গ্রহণ করে।
- সিলমাছের চামড়া দিয়ে তৈরি নৌকায় চেপে এস্কিমোরা তিমি বা সিলমাছ শিকার করে। ওই জাতীয় বড়ো নৌকাগুলিকে ‘উমিয়াক’ (Umiak) এবং ছোটো নৌকাগুলিকে ‘কায়াক’ (Kayak) বলে।
তুন্দ্রা অঞ্চলে ল্যাপ উপজাতির জীবনযাত্রা বলগা হরিণের ওপর নির্ভরশীল—ব্যাখ্যা করো।
তুন্দ্রা অঞ্চলের এক বিশেষ প্রজাতির হরিণকে বলগা হরিণ (Reindeer) বলে। ইউরেশিয়ান তুন্দ্রা অঞ্চলে বসবাসকারী ল্যাপ ও ফিনদের জীবনযাত্রায় বলগা হরিণের বিশেষ প্রভাব দেখা যায়। ল্যাপ ও ফিনরা বলগা হরিণের দুধ ও মাংস খায়। এদের চামড়া দিয়ে তাঁবু, নৌকা ও শীতের পোশাক তৈরি করে। বরফের ওপর স্লেজ গাড়ি টানতেও বলগা হরিণকে ব্যবহার করা হয়। সে জন্যই বলা হয়, বলগা হরিণকে ঘিরেই ল্যাপদের জীবন গড়ে উঠেছে।
নিরক্ষীয় অঞ্চলের রাত্রিকে কেন ক্রান্তীয় শীতকাল (Winter of Tropics) বলে?
নিরক্ষীয় অঞ্চলের 5°-10° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ সংলগ্ন অঞ্চলে সারাবছর সূর্য প্রায় লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এখানকার তাপমাত্রা গড়ে প্রায় 27°C থাকে। দিনেরবেলায় সূর্যরশ্মির প্রখরতায় এই তাপমাত্রা প্রায় 38°C হয়ে এক উষ্ণ ভ্যাপসা আবহাওয়ার সৃষ্টি করে। কিন্তু রাত্রিতে তাপমাত্রা দ্রুত কমে গিয়ে 20°-25°C-এ পৌঁছলে এখানে বেশ ঠান্ডা অনুভূত হয়। তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলের রাত্রিকে ক্রান্তীয় শীতকাল বা ‘Winter of the Tropics’ বলে।
নিরক্ষীয় বৃষ্টি অরণ্যকে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ বলা হয় কেন?
নিরক্ষীয় বৃষ্টি অরণ্যকে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ বলা হয়, কারণ – ফুসফুস যেমন শ্বাসকার্যের মাধ্যমে প্রাণীদেহকে সজীব রাখে ঠিক তেমনি নিরক্ষরেখার উভয়পার্শ্বে 5°-10° অক্ষাংশের মধ্যে গড়ে ওঠা গহন অরণ্য পৃথিবীর একটি অন্যতম অঙ্গ, যা কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন উৎপন্ন করে পৃথিবীর সজীবতা বজায় রাখতে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। তাই নিরক্ষীয় বৃষ্টিঅরণ্য ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ নামে পরিচিত।
মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের বেশিরভাগ স্থানে পর্ণমোচী বৃক্ষের অরণ্য দেখা যায়। এর কারণ কী?
মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের যে-সমস্ত স্থানে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ 100-200 সেমি, সেখানে মূলত পর্ণমোচী বৃক্ষের অরণ্য দেখা যায়। মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের প্রায় 90 শতাংশ বৃষ্টিপাতই গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দ্বারা ঘটে থাকে। কিন্তু অন্য ঋতুতে, বিশেষত শীতকালে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে। এই শুষ্ক সময়ে জলের অভাবে গাছগুলি তাদের পাতা ঝরিয়ে দেয় (পত্রমোচন করে), যাতে বাষ্পমোচনের হার কমানো যায়। তাই এই অঞ্চলে পর্ণমোচী অরণ্যই বেশি দেখা যায়।
নিরক্ষীয় বৃষ্টি অরণ্যের পরিমাণ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। এর কারণ কী?
1970 সালে ‘ট্রান্স-আমাজন হাইওয়ে’-র (Trans-Amazonian Highway) মাধ্যমে সেলভা অরণ্য অঞ্চল বহির্বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হলে এখানকার জৈববৈচিত্র্য ধ্বংসের সূচনা হয়। বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বৃষ্টি অরণ্যের চারপাশে নতুন জনবসতি গড়ে উঠছে। মানুষ তার ক্রমাগত চাহিদা মেটাতে বসতি, কৃষি, কাঠের জোগান, পরিবহণ ও শিল্পের প্রয়োজনে প্রতিদিন বিশাল অঞ্চল জুড়ে এই বৃষ্টি অরণ্য ধ্বংস করছে। ফলে নিরক্ষীয় বৃষ্টি অরণ্যের পরিমাণ ক্রমশ উদ্বেগজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলকে ‘পৃথিবীর ফলের ঝুড়ি’ (Fruit Basket) বলা হয় কেন?
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ফল চাষের জন্য অত্যন্ত অনুকূল জলবায়ু থাকায় এখানে প্রচুর পরিমাণে আঙুর, জলপাই, কমলালেবু, আপেল, ডুমুর, আখরোট, পিচ, খুবানি, নাশপাতি, চেরি, বাতাবি লেবু, কুল প্রভৃতি ফল উৎপন্ন হয়। এইসব ‘টক-মিষ্টি জাতীয়’ রসালো ফল বিপুল পরিমাণে উৎপাদনের জন্য এই অঞ্চলটি বিশ্ববিখ্যাত। সে কারণেই ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলকে ‘প্রাকৃতিক ফল ভাণ্ডার’ বা ‘পৃথিবীর ফলের ঝুড়ি’ (Fruit Basket of the World) বলা হয়।
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুকে ‘পৃথিবীর বিনোদন জলবায়ু’ (Resort Climate) বলে কেন?
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সারাবছর এক মনোরম, মৃদুভাবাপন্ন নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু বিরাজ করে। শুষ্ক ও উষ্ণ গ্রীষ্মকাল এবং সামান্য আর্দ্র শীতকাল সম্পন্ন এই জলবায়ুতে সারাবছর আকাশ প্রায় মেঘমুক্ত থাকে। রোদ ঝলমলে মনোরম আবহাওয়াই এখানকার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য, যা পর্যটকদের ভীষণ আকর্ষণ করে। তাই ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুকে ‘পৃথিবীর বিনোদন জলবায়ু’ বা Resort Climate বলে।
তুন্দ্রা অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে অধিক জলাভূমি দেখা যায় কেন?
তুন্দ্রা অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে উষ্ণতা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভূপৃষ্ঠের ওপরের বরফ গলতে থাকে। কিন্তু মাটির ঠিক নীচের স্তরেই চিরতুষার স্তর বা ‘পারমাফ্রস্ট’ (Permafrost) থাকায়, বরফগলা জল ও বৃষ্টির জল মাটির গভীরে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে সেই জল ভূপৃষ্ঠের ওপরেই জমে গিয়ে অসংখ্য ছোট-বড়ো জলাভূমি তৈরি করে। এই জলাভূমিগুলিতে সাময়িকভাবে মস, লাইকেন ও নানা ধরনের রঙিন ফুল ফোটে।
তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চলে বড়ো বড়ো গাছ দেখা যায় না কেন?
দুই থেকে তিন মাসের ক্ষণস্থায়ী গ্রীষ্মকাল ছাড়া, বছরের বাকি সময়ে তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চলের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে থাকে। ফলে এই অঞ্চলের মাটি সারাবছরই পুরু বরফের চাদরে ঢাকা থাকে এবং মাটির গভীরে চিরতুষার স্তর অবস্থান করে। শিকড় গভীরে প্রবেশ করতে না পারায় এবং তীব্র শৈত্যের কারণে এখানে কোনো বড়ো গাছ জন্মাতে পারে প্রত পারে না।
তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চলের প্রাণীদের গায়ের চামড়া অত্যন্ত পুরু এবং ঘন বড়ো লোমে ঢাকা থাকে কেন?
তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চলে সারাবছরই তীব্র শীতল আবহাওয়া বিরাজ করে। বিশেষত 8-9 মাস দীর্ঘ শীতকাল থাকাকালীন এখানকার উষ্ণতা হিমাঙ্কের অনেক নীচে নেমে যায়। এই চরম হিমশীতল পরিবেশ ও তুষারঝড়ের হাত থেকে নিজেদের শরীরকে উষ্ণ রাখার জন্যই এখানকার প্রাণীদের (যেমন – মেরু ভল্লুক, বলগা হরিণ) চামড়া অত্যন্ত পুরু হয় এবং গায়ে প্রচুর বড়ো ও ঘন লোম থাকে।
আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের ষষ্ঠ অধ্যায় ‘জলবায়ু অঞ্চল’ থেকে কিছু ‘সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য বা চাকরির পরীক্ষার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রশ্নগুলি অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা বা চাকরির পরীক্ষায় প্রায় দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে।
আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা হলে, আপনারা আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





Leave a Comment