আমরা আমাদের এই আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের সপ্তম অধ্যায় ‘মানুষের কার্যাবলি ও পরিবেশের অবনমন’ থেকে কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য (Class 8 Geography Chapter 7) এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক বা চাকরির পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অষ্টম শ্রেণির ভূগোল সপ্তম অধ্যায়: মানুষের কার্যাবলি ও পরিবেশের অবনমন – সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
পরিবেশ (Environment) কাকে বলে? এর উপাদানগুলি কী কী?
দৃশ্য ও অদৃশ্য কিংবা সজীব ও জড় উপাদানের দ্বারা গঠিত পরস্পরের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী পারিপার্শ্বিক অবস্থা পরিবেশ (Environment) নামে পরিচিত।
পরিবেশের উপাদান –
- প্রাকৃতিক পরিবেশ – জলভাগ, মৃত্তিকা, ভূমিরূপ প্রভৃতি।
- মনুষ্যসৃষ্ট পরিবেশ – রাস্তাঘাট, শহর, কলকারখানা প্রভৃতি।

মানুষের অর্থনৈতিক কার্যাবলির (Economic Activities) বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
অর্থনৈতিক কার্যাবলির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো –
- চাহিদা পূরণ – অর্থনৈতিক কার্যাবলির মাধ্যমে মানুষের প্রতিদিনের খাদ্য, বস্ত্র এবং বাসস্থানের চাহিদা মেটে।
- উপযোগিতা বৃদ্ধি – অর্থনৈতিক কার্যাবলিতে মানুষের কাছে প্রকৃতির বিভিন্ন উপকরণগুলি বেশি উপযোগী হয়ে ওঠে।
- কর্মসংস্থান – পৃথিবীতে মানুষের যাবতীয় কর্মসংস্থান অর্থনৈতিক কাজের মধ্যে দিয়েই ঘটে।
- উন্নয়ন – কোনো দেশের উন্নয়নমুখী ক্ষেত্রগুলি অর্থনৈতিক কার্যাবলির মাধ্যমে বিকশিত হয়।
- সম্পদের বণ্টনগত সূচক – অর্থনৈতিক কার্যাবলি হলো কোনো অঞ্চলের সম্পদের বণ্টনগত সূচক
আধুনিক কৃষিপদ্ধতি পরিবেশে কীরূপ প্রভাব ফেলে?
বিশ্বের ক্রমবর্ধমান বিপুল জনসংখ্যার খাদ্যসমস্যা মেটানোর উদ্দেশ্যে নানাধরনের আধুনিক কৃষিপদ্ধতির প্রচলন করা হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরিবেশে এর বেশ কিছু বিরূপ প্রভাব দেখা যায় –
- জমির উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস – খাদ্যের চাহিদা মেটানোর জন্য একই জমিকে প্রতি বছর শস্যাবর্তন (Crop Rotation) পদ্ধতিতে নিরন্তর ব্যবহার করা হয়, ফলে জমির উৎপাদন ক্ষমতা ক্রমশ কমে যায়।
- দূষণ সৃষ্টি – কৃষিজমিতে অত্যধিক রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারের ফলে স্থানীয় বায়ুমণ্ডল, মৃত্তিকা ও জল দূষিত হয়।
- জলজ বাস্তুতন্ত্রের ক্ষয়ক্ষতি – বিষাক্ত সার ও কীটনাশক বৃষ্টির জলে ধুয়ে নদী, পুকুর বা জলাশয়ে মিশে জলের বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের বিনাশ ঘটায় এবং জলজ বাস্তুতন্ত্রকে ধ্বংস করে।
- মানবদেহে বিষক্রিয়া – আধুনিক কৃষির উচ্চ ফলনশীল বীজে প্রয়োগকৃত রাসায়নিক সার উৎপাদিত ফসলের মধ্যে দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করে নানা বিষক্রিয়া ঘটায়।
- বনভূমির পরিমাণ হ্রাস – কৃষিকার্যের জন্য প্রতি বছর বৃহৎ আয়তনের বনভূমির বিনাশ ঘটানো হচ্ছে (যেমন ভারতবর্ষে প্রতি বছর প্রায় 8-10 হাজার বর্গকিমি বনভূমি কৃষিজমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে)।

পরিবেশে নগরায়ণের (Urbanisation) প্রভাব উল্লেখ করো।
আধুনিক জীবনযাত্রায় পাড়ি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো নগরায়ণ। এর কিছু প্রতিকূল প্রভাব হলো –
1. দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি – নগরায়ণের ফলে বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, ভূমিদূষণ ও জলদূষণের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। (2009 সালে SERI-এর তথ্যানুযায়ী কলকাতা বায়ুদূষণে প্রথম স্থানে ছিল)।

2. ভূগর্ভের জলস্তর হ্রাস – দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য পাম্পের সাহায্যে ভূগর্ভ থেকে অতিরিক্ত জল উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভের জলস্তর ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।

3. ভূমির ওপর চাপ বৃদ্ধি – শহরাঞ্চলে বৃহৎ অট্টালিকা ও ফ্ল্যাটের প্রকোপে ভূমির ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে ভূমিকম্প, ধস প্রভৃতি বিপর্যয় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
4. যানজট – অসংখ্য যানবাহনের মাধ্যমে প্রচুর যানজট তৈরি হচ্ছে।

5. জলনিকাশি সমস্যা – পলিথিন ও নোংরা আবর্জনায় নালা-নর্দমাগুলি মজে গিয়ে জলনিকাশি ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাইয়ের মতো শহরে জল জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়।
জলবিদ্যুৎকেন্দ্র পরিবেশের ওপর কী প্রভাব বিস্তার করছে?
পরিবেশের ওপর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রভাব – জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় পরিবেশের ক্ষতি না হলেও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সময় ব্যাপকভাবে পরিবেশের অবনমন ঘটে। যেমন –
- অরণ্যের বিনাশ – জলবিদ্যুতের জন্য বাঁধ নির্মাণ করার সময় বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে স্বাভাবিক উদ্ভিদের বিনাশ ঘটে।
- জীববৈচিত্র্য হ্রাস – জলাধার নির্মাণের সময় প্রচুর মানুষ তাদের বাসস্থান হারায়। জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হয়।
- ভূমিকম্প – বিশাল জলাধার নীচের দুর্বল শিলাস্তরে প্রবল চাপ দিলে ভূমিকম্প ঘটে। যেমন – 1967 সালে মহারাষ্ট্রের কয়না বাঁধে সৃষ্ট ভূমিকম্প।
- নদীর ধারণ অববাহিকার অবনমন – নদীর ধারণ অববাহিকার অবনমন ঘটে। ফলে, সমগ্র অববাহিকার জীবজগৎ তথা পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
পরিবেশের ওপর শিল্পায়নের (Industrialization) প্রভাব লেখো।
শিল্পায়নের ফলে পরিবেশে যে ক্ষতি সাধিত হচ্ছে সেগুলি হলো –
1. বায়ুদূষণ – কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাস ব্যাপকভাবে বায়ুদূষণ করছে।
2. জলদূষণ – কারখানার বর্জ্যপদার্থ এবং রাসায়নিক মিশ্রিত জল নদী বা জলাশয়ে মিশে জলকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।
3. মৃত্তিকা দূষণ – ক্ষতিকারক বর্জ্য যত্রতত্র অবৈজ্ঞানিকভাবে ফেলার কারণে মৃত্তিকা দূষণ ঘটছে।

4. তেজস্ক্রিয় দূষণ – পারমাণবিক চুল্লি ও তেজস্ক্রিয় আকরিকের প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে বাতাসে বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ মিশছে।
5. তাপমাত্রা বৃদ্ধি – কারখানা থেকে নির্গত কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) বাতাসে মিশে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে।
6. ভৌমজল দূষণ – বর্জ্যপদার্থ পরিশ্রাবণ (Infiltration) প্রক্রিয়ায় ভূগর্ভে প্রবেশ করে ভৌমজলস্তরকে দূষিত করছে।

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিবেশের ওপর কী প্রভাব বিস্তার করে তা লেখো।
পরিবেশের ওপর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রভাব –
- বায়ুদূষণ – কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় বায়ুতে প্রচুর কার্বন ডাইঅক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইড যুক্ত হচ্ছে।
- বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) – এই গ্যাসগুলি ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপ ধরে রেখে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে।
- ভূমির উর্বরতা হ্রাস – তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উড়ন্ত ছাই (Fly ash) ও বর্জ্য পাশের কৃষিজমিতে পড়ে উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে।
- অম্লবৃষ্টি (Acid Rain) – নির্গত গ্যাসসমূহ বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে অম্লবৃষ্টি ঘটায়, যার ফলে উদ্ভিদ, জলজ প্রাণী মারা যায় এবং কৃষিজমি অনুর্বর হয়ে যায়।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে পরিবেশের কী ক্ষয়ক্ষতি হয়?
জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি –
- ভূমির ওপর চাপ বৃদ্ধি – অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে বাসস্থান ও কৃষিজমির স্থানাভাব ঘটে।
- সম্পদের ক্রমহ্রাসমানতা – খাদ্য, বস্ত্র এবং বাসস্থানের চাহিদা পূরণের জন্য প্রাকৃতিক সঞ্চিত সম্পদের পরিমাণ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।
- অক্সিজেনের অভাব – বাসস্থানের জন্য অরণ্য বিনাশ ঘটছে, ফলে বাতাসে অক্সিজেনের ভাণ্ডারে টান পড়ছে।
- দূষণ – মানুষের দৈনন্দিন কার্যকলাপের ফলে সার্বিকভাবে জল, মাটি ও বাতাস দূষিত হচ্ছে।
- উর্বরতা হ্রাস – অতিরিক্ত কৃষিকাজের মাধ্যমে ভূমির উর্বরতা শক্তি ক্রমশ কমে যাচ্ছে।
অরণ্য বিনাশ (Deforestation) কীভাবে হয়?
অপরিকল্পিত ও অবৈজ্ঞানিকভাবে বৃক্ষচ্ছেদনের মাধ্যমে অরণ্যের হ্রাস এবং ওই স্থানে পুনরায় চারাগাছ রোপণ না করাকে অরণ্য বিনাশ বলে। পৃথিবীর মোট আয়তনের 1/3 ভাগ অরণ্য থাকা প্রয়োজন হলেও, বর্তমানে তা অনেক কমে গেছে।
অরণ্য বিনাশের প্রধান কারণগুলি হল –
- জনসংখ্যা বৃদ্ধিজনিত কারণে এবং বসতি নির্মাণের জন্য অরণ্য ধ্বংস হচ্ছে,
- কৃষিজমির সম্প্রসারণ,
- খনিজ সম্পদ উত্তোলন,
- শিল্প ও কলকারখানা স্থাপন,
- জলবায়ুর পরিবর্তন ও ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি,
- তীব্র ঝড়ের প্রভাব,
- খরা ও বন্যার প্রকোপ বৃদ্ধি,
- আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের জ্বালানি সংগ্রহ,
- আসবাবপত্র নির্মাণ, কাগজের মণ্ড তৈরি, বাড়িঘর তৈরি করার জন্য বনের কাঠ সংগ্রহ,
- বিশ্ব উষ্ণায়ন জনিত কারণে উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে, ঘন ঘন দাবানল বনভূমির বিরাট ক্ষতি করে চলেছে।
অরণ্য বিনাশ বন্যা ও ঝড়ের প্রকোপকে কীভাবে বৃদ্ধি করে?
অরণ্য বিনাশ বন্যা ও ঝড়ের প্রকোপকে বৃদ্ধি করে কারণ –
- গাছ কেটে ফেললে মাটি উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। গাছের শিকড় দ্বারা মাটির ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় মৃত্তিকার ক্ষয় ত্বরান্বিত হয়।
- বৃষ্টি দ্বারা বাহিত এই ক্ষয়প্রাপ্ত মাটি নদী বা জলাশয়ে জমে জলধারণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে বন্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
- অরণ্য ধ্বংসের ফলে (বিশেষ করে উপকূল অঞ্চলে) বায়ু বাধাহীনভাবে প্রবাহিত হওয়ায় ঝড়ের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।
- গাছ কমে যাওয়ায় বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ ও উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়, যা শক্তিশালী নিম্নচাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ঝড়ের প্রবণতা বাড়ায়।
বহুমুখী নদী পরিকল্পনা (Multipurpose River Valley Project) কীভাবে পরিবেশের অবনমন ঘটায়?
নদীতে বাঁধ দিয়ে যখন বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলসেচ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রভৃতি বহুবিধ উদ্দেশ্য সাধন করা হয়, তাকে বহুমুখী নদী পরিকল্পনা বলে। এর ফলে পরিবেশের যে অবনমন ঘটে –
- অরণ্য নিধন – বাঁধ নির্মাণের জন্য বিশাল বনাঞ্চল ধ্বংস হয় (যেমন – নর্মদা উপত্যকায় সর্দার সরোবর প্রকল্পের জন্য বিস্তীর্ণ অরণ্য ধ্বংসের মুখে)।
- ভূমিকম্প প্রবণতা বৃদ্ধি – জলাধারের বিপুল জলরাশির চাপে এলাকাটি ভূমিকম্পপ্রবণ হয়ে পড়ে (যেমন – 1967 সালে কয়না জলাধার বিপর্যয়)।
- ভূমির লবণতা বৃদ্ধি – জলাধারের সাহায্যে অতিরিক্ত জলসেচের ফলে স্থায়ী জলমগ্নতার কারণে ভূমির লবণতা বৃদ্ধি পায়।
- রোগের সংক্রমণ – দীর্ঘকালীন জলমগ্নতার কারণে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।
- জীববৈচিত্র্য হ্রাস – বিস্তীর্ণ বনভূমি জলমগ্ন হওয়ার কারণে বিরল প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ ধ্বংস হয় (যেমন – কেরালার সাইলেন্ট ভ্যালি প্রকল্প বিতর্ক)।
সবুজ বিপ্লবের সুফলগুলি আলোচনা করো।
সবুজ বিপ্লবের সংজ্ঞা – ভারতবর্ষে 1960-এর দশকে কৃষিকার্যে উচ্চ ফলনশীল বীজ, কীটনাশক, রাসায়নিক সার, যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষির উৎপাদনশীলতায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয় তা সবুজ বিপ্লব নামে পরিচিত।
ভারতবর্ষে এই বিপ্লবের জনক ছিলেন ড. এম. এস. স্বামীনাথন (Dr. M. S. Swaminathan)। পরিবেশের ওপর এই সবুজ বিপ্লবের কিছু ইতিবাচক ও কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রভাবগুলি নিম্নে আলোচনা করা হল –
সবুজ বিপ্লবের সুফল –
- খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি – সবুজ বিপ্লবের ফলে খাদ্যশস্যের উৎপাদনে বিশেষত গম, ধান, ভুট্টা উৎপাদন বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
- খাদ্য উৎপাদনের স্বনির্ভরতা – বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানির পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে এবং ভারত খাদ্য উৎপাদনে স্বনির্ভর হয়েছে।
- শিল্পোন্নতি – কৃষিভিত্তিক শিল্পের উন্নতি ঘটেছে।
- অর্থনৈতিক উন্নতি – কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে।
পুকুরে মাছ মাঝে মাঝে মরে যায় কেন?
পুকুরের মাছ মাঝে মাঝে মরে যেতে দেখা যায়। তার কারণ হল –
- অক্সিজেনের অভাব – উন্মুক্ত পুকুরে ক্রমাগত পলি জমে জল ঘোলা হয়ে গেলে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাব দেখা যায়।
- ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) – পুকুরে কচুরিপানাসহ বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদের মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধির ফলে জল পচে যায় ও অক্সিজেনের ঘাটতি হয়।
- কৃষিজ দূষণ – পুকুরের জলে পার্শ্ববর্তী কৃষিজমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ধুয়ে মিশে গেলে মাছের মৃত্যু ঘটে।
- শিল্পজ দূষণ – কলকারখানার নিকটবর্তী পুকুরে বর্জ্যপদার্থ ও গরম জল ক্রমাগত পড়তে থাকলে জল দূষিত হয়ে মাছ মারা যায়।
সুন্দরবনে আয়লার প্রভাব কীরূপ?
2009 সালের 25 মে সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় আয়লার প্রভাবে সুন্দরবন অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে –
- প্রবল ঝড়ে মাটির তৈরি লক্ষ লক্ষ কাঁচা বাড়ি ভেঙে যায়।
- অসংখ্য মানুষের জীবনহানি ঘটে এবং পশুপাখি প্রাণ হারায়।
- নদীবাঁধ ভেঙে কৃষিজমিতে সমুদ্রের লবণাক্ত জল প্রবেশ করে, ফলে জমি দীর্ঘ সময়ের জন্য অনুর্বর হয়ে পড়ে।
- ঘাস, শ্যাওলা, লতাপাতা এবং মিঠা জলের পুকুরের কয়েক শত কুইন্টাল মাছ লবণাক্ত জলে মরে ও পচে গিয়ে জল এবং মাটিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে।
- সর্বোপরি সুন্দরবন অঞ্চলের সংবেদনশীল জীববৈচিত্র্য গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নীচের বিষয়গুলির মধ্যে কোনটি পরিবেশের অবনমন আর কোনটি দূষণের সঙ্গে যুক্ত তা চিহ্নিত করো – জীববৈচিত্র্য হ্রাস, মরুভূমির প্রসার, অরণ্য বিনাশ, ঝুমচাষ, পুকুরের মাছ মরে যাওয়া, ভোপালের গ্যাস দুর্ঘটনা, বিমানবন্দরের ধোঁয়াশা, বন্যপ্রাণীদের খাদ্যসংকট, নদীবাঁধ ও জলাধার নির্মাণ, সুন্দরবনে আয়লার প্রভাব, মাছের বাজারে দুর্গন্ধ।
| পরিবেশ অবনমনের বিষয় | পরিবেশ দূষণের বিষয় |
| জীববৈচিত্র্য হ্রাস। | অরণ্য বিনাশ। |
| মরুভূমির প্রসার। | ঝুমচাষ। |
| ভোপালের গ্যাস দুর্ঘটনা। | পুকুরে মাছ মরে যাওয়া। |
| বন্যপ্রাণীদের খাদ্যসংকট। | বিমানবন্দরের ধোঁয়াশা। |
| নদীবাঁধ ও জলাধার নির্মাণ। | মাছের বাজারে দুর্গন্ধ। |
| সুন্দরবনে আয়লার প্রভাব। |
আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের সপ্তম অধ্যায় ‘মানুষের কার্যাবলি ও পরিবেশের অবনমন’ থেকে কিছু ‘সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য বা চাকরির পরীক্ষার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো প্রায়শই পরীক্ষায় আসতে দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে।
আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা হলে, আপনারা আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া নিচে শেয়ার বাটনে ক্লিক করে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ!





Leave a Comment