এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবইয়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস থেকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও তার আদর্শ উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। প্রশ্নটি হলো— “‘নিজের আনন্দের এ হিসাবে তুমিও একজন দেশ আবিষ্কারক।’ — উক্তিটির তাৎপর্য নিজের ভাষায় লেখো।” স্কুল স্তরের বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই নোটটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘নিজের আনন্দের এ হিসাবে তুমিও একজন দেশ আবিষ্কারক।’ — উক্তিটির তাৎপর্য নিজের ভাষায় লেখো।
প্রশ্নোক্ত অংশটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’ নামক উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে। একদিন অপু তার বাবার সঙ্গে গ্রাম পার হয়ে ট্রেনে চেপে লক্ষ্মণ মহাজনের বাড়িতে গিয়েছিল, কিন্তু ট্রেনে চাপার পূর্বে ট্রেনের রাস্তা দেখে অপুর মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। সে বাবাকে প্রশ্ন করেও সঠিক উত্তর পায় না, জলভরা চোখে বাবাকে অনুসরণ করে — এই প্রসঙ্গেই লেখক উক্তিটি করেছেন।
অপুর নবীন চোখে পৃথিবীর সব কিছুকেই নতুন মনে হয়। সে এক বিশ্বগ্রাসী ক্ষুধা নিয়ে পৃথিবীর সব কিছু থেকে রূপ-রস-গন্ধ সংগ্রহ করে নেয়। তার নবীন ডাগর চোখ যেন চারদিককে গিলে নেয়। অচেনার আনন্দকে অনুভব করতে হলে বিশ্বময় ঘুরে বেড়ানোর প্রয়োজন হয় না — দরকার হয় নতুনকে চিনে নেওয়ার চোখ। যা আগে দেখা হয়নি, যার স্বাদ আগে অনুভূত হয়নি — তাই তো ব্যক্তির কাছে নতুন; আর যা নতুন, তাই তো তার চোখে আবিষ্কার। বুদ্ধি ও হৃদয় দিয়ে সর্বপ্রথম যে নবীনতার আস্বাদ গ্রহণ, তাই হলো আবিষ্কার; আর যার এই সৌভাগ্য হয়, সেই হলো আবিষ্কারক। প্রশ্নোক্ত উক্তির মাধ্যমে লেখক এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।
আরও পড়ুন – ‘কাহাকে সে কী করিয়া বুঝাইবে সে কী আনন্দ!’—’সে’ কে? কখন তার এমন অনুভূতি হত?
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবইয়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, “নিজের আনন্দের এ হিসাবে তুমিও একজন দেশ আবিষ্কারক।’ — উক্তিটির তাৎপর্য নিজের ভাষায় লেখো” — নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি স্কুল স্তরের বাংলা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, এই নিবন্ধটি আপনাদের জন্য সহায়ক হয়েছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন থাকে বা আরও সাহায্যের প্রয়োজন হয়, টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এছাড়াও, আপনার বন্ধুদের সঙ্গে এই পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না, যাতে তারাও এর থেকে উপকৃত হতে পারে। ধন্যবাদ!





Leave a Comment