এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবইয়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করব, “‘এই তো বেশ ছিল তাহারা,’ – এরূপ মনোভাবটি কার? তার মনে কোন্ অবস্থায় এমন ভাবনার উদয় হয়েছিল?” — এই প্রশ্নটি স্কুল স্তরের বাংলা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘এই তো বেশ ছিল তাহারা,’ – এরূপ মনোভাবটি কার? তার মনে কোন্ অবস্থায় এমন ভাবনার উদয় হয়েছিল?
প্রশ্নোক্ত মনোভাবটি ‘ছোটোদের পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের প্রাণচঞ্চল বালক অপুর।
চড়কের পরের দিন অপুদের বাঁধাছাঁদা হচ্ছিল, কারণ পরের দিন দুপুরে আহারাদির পরেই তারা রওনা হবে কাশীর উদ্দেশে। সন্ধ্যার সময় মা গরম গরম পরোটা ভাজছিলেন, কিন্তু অপুর চোখ পড়ে নীলমণি জেঠার ভিটার নারকেল গাছের দিকে, যেখানে জ্যোৎস্নার আলোতে পাতাগুলি চিকচিক করছে; সেদিকে দৃষ্টি পড়তেই দুঃখে অপুর মন পূর্ণ হয়ে ওঠে।
এতদিন নতুন দেশে যাওয়ার খুব উৎসাহ দেখিয়েছিল, কিন্তু যাওয়ার সময় যতই কাছে আসতে লাগল, আসন্ন বিরহের ব্যথা ততই অপুর মনকে বেদনাতুর করে তুলতে লাগল। নিশ্চিন্দিপুরের বাঁশবন, সলতে-খাগির আমবাগান, নদীর ধার, দিদির সঙ্গে চড়ুইভাতি করার স্থানকে সে কতই না ভালোবাসে। এমন নারকেল গাছের সারি, জ্যোৎস্নালোকিত পাতার এমন সৌন্দর্য, দিদির সঙ্গে দশ-পঁচিশ খেলার স্থান আর কোথায় সে পাবে! যেখানে যাচ্ছে সেখানে কি রেল-রেল খেলতে পারবে, আম কুড়োতে বা নৌকো বাইতে পারবে? কদমতলার ঘাট, রানুদিদি, সোনাডাঙার মাঠ তাকে নিবিড়ভাবে কাছে টানতে লাগল। এমন পরিস্থিতিতেই অপুর মনে হয়েছে, ‘এই তো বেশ ছিল তাহারা, কেন মিছিমিছি ছাড়িয়া যাওয়া।’
আরও পড়ুন – নিশ্চিন্দিপুরে অপুর দেখা শেষ চড়কমেলার পরিচয় দাও। এই প্রসঙ্গে অপুর মনোভাবের পরিচয় দাও।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবইয়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, “‘এই তো বেশ ছিল তাহারা,’ – এরূপ মনোভাবটি কার? তার মনে কোন্ অবস্থায় এমন ভাবনার উদয় হয়েছিল?” — নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি স্কুল স্তরের বাংলা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, এই নিবন্ধটি আপনাদের জন্য সহায়ক হয়েছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন থাকে বা আরও সাহায্যের প্রয়োজন হয়, টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এছাড়াও, আপনার বন্ধুদের সঙ্গে এই পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না, যাতে তারাও এর থেকে উপকৃত হতে পারে। ধন্যবাদ!





Leave a Comment