আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের দশম অধ্যায় ‘দক্ষিণ আমেরিকা’-এর উপবিভাগ ‘পম্পাস অঞ্চল’ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল (Class 8 Geography) পরীক্ষার জন্য এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক বা চাকরির পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অষ্টম শ্রেণির ভূগোল: দক্ষিণ আমেরিকা (পম্পাস অঞ্চল) – গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
পম্পাস তৃণভূমি সৃষ্টির কারণ কী?
পম্পাস তৃণভূমি সৃষ্টির কারণগুলি হলো –
- নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে সারাবছরই পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয়।
- প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত পশ্চিমা বায়ু আন্দিজ পর্বতের পশ্চিম ঢালে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে পর্বতের ঢাল অতিক্রম করে পম্পাস অঞ্চলে আসে বলে এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত তেমন হয় না, ফলে তা বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।
- এ ছাড়া, এই অঞ্চল থেকে বাতাস সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয় বলে বৃষ্টিপাত অপেক্ষাকৃত বেশি হওয়ার জন্য ঘাসগুলি দীর্ঘাকার হয়।
- স্বল্প বৃষ্টিপাতের জন্যই তৃণভূমি, ঝোপ, কাঁটাযুক্ত জেরোফাইট জাতীয় প্রাকৃতিক উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়ে পম্পাস তৃণভূমি গড়ে তুলেছে।
আর্দ্র পম্পাস ও শুষ্ক পম্পাস বলতে কী বোঝো?
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের বৃহত্তম নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমির নাম পম্পাস। আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এয়ার্স শহরকে কেন্দ্র করে লা-প্লাটা নদী অববাহিকার উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে অর্ধচন্দ্রাকারে পম্পাস তৃণভূমি অঞ্চলটি গড়ে উঠেছে। এখানকার উষ্ণতা মাঝারি এবং বৃষ্টিপাতও বেশি হয় না, বছরে গড়ে 50-100 সেমি। বৃষ্টির তারতম্যের সঙ্গে তৃণের দৈর্ঘ্যের তারতম্য অনুযায়ী পম্পাসকে 2টি ভাগে ভাগ করা হয় –
- আর্দ্র পম্পাস – পম্পাসের পূর্বভাগে বৃষ্টিপাত অপেক্ষাকৃত বেশি হওয়ায় ওখানকার তৃণগুলির দৈর্ঘ্য কিছুটা বেশি হয়। তাই ওই অংশের নাম আর্দ্র পম্পাস।
- শুষ্ক পম্পাস – সমুদ্রোপকূল থেকে দূরে মহাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থানের জন্য তৃণভূমির পশ্চিমভাগে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় তৃণগুলির দৈর্ঘ্য কম হয়। এই জন্য পম্পাসের পশ্চিমভাগের নাম শুষ্ক পম্পাস।
পম্পাস অঞ্চলকে ‘দক্ষিণ আমেরিকার শস্যভাণ্ডার’ বলে কেন?
একসময় পম্পাস অঞ্চলে কেবল পশুপালন করা হলেও বর্তমানে এখানে প্রচুর কৃষিকাজ করা হয়। নিম্নলিখিত কারণে পম্পাসকে ‘দক্ষিণ আমেরিকার শস্যভাণ্ডার’ বলে –
- এখানকার বিস্তীর্ণ সমভূমি বা মৃদু ঢালযুক্ত ভূমিভাগ যান্ত্রিক কৃষির পক্ষে উপযুক্ত।
- এখানকার বৃহদায়তন কৃষিজমি ব্যাপক কৃষি বা বাণিজ্যভিত্তিক কৃষির উপযুক্ত।
- উর্বর চারনোজেম এবং পলিমাটি কৃষি উৎপাদনে আদর্শ।
- ভৌমজলের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জলসেচ ব্যবস্থা এখানে গড়ে উঠেছে।
- কৃষিউপযোগী নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর অবস্থান কৃষির উন্নতির অন্যতম কারণ।

এখানকার প্রধান ফসল গম। পম্পাস অঞ্চলে জনসংখ্যা কম বলে উৎপাদিত গমের প্রায় 60% ইউরোপে রপ্তানি করা হয়। প্রচুর গম উৎপাদনের জন্য এই অঞ্চলকে ‘দক্ষিণ আমেরিকার গমের ঝুড়ি’ বলে। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ফসলের মধ্যে ভুট্টা, তিসি, কার্পাস, তামাক, আখ, সয়াবিন, যব ও শন প্রধান। উরুগুয়ের দক্ষিণে আঙুরের চাষ করা হয়।

পম্পাস তৃণভূমি পশুপালনে উন্নত কেন?
পম্পাস তৃণভূমির অধিবাসীদের অন্যতম প্রধান জীবিকা হলো পশুপালন। এই অঞ্চলে পশুপালনের প্রভূত উন্নতির কারণগুলি হলো –
- অনুকূল জলবায়ু – পম্পাস অঞ্চলে নাতিশীতোষ্ণ প্রকৃতির মনোরম জলবায়ু বিরাজ করে, যা তৃণভূমি সৃষ্টি ও পশুপালন উভয়কেই সাহায্য করে।
- বিস্তীর্ণ চারণভূমি – পম্পাস অঞ্চলে বিস্তীর্ণ চারণভূমি দেখা যায়, যা এস্তানশিয়া (Estancia) নামে পরিচিত। ফলে, পশুচারণের জন্য পর্যাপ্ত ভূমি পাওয়া যায়।
- পশুখাদ্যের জোগান – এই অঞ্চলে পশুখাদ্যের পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে। এই তৃণভূমির পশ্চিম অংশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হওয়ায় নিকৃষ্ট তৃণ জন্মায়। এরূপ স্থানে মেষ ও শূকর পালন করা হয়। আবার, পূর্বাংশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হওয়ায় উৎকৃষ্ট তৃণ আলফালফা জন্মায়, যা পশুদের অন্যতম প্রধান খাদ্য।
- চাহিদা – এখানে উৎপন্ন পশুজাত দ্রব্য – যেমন দুধ, ঘি, মাখন, চিজ প্রভৃতির বিশ্বব্যাপী ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
- অন্যান্য কারণ – এ ছাড়া উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা, পশুজাত দ্রব্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা প্রভৃতির কারণে এখানে পশুপালনে প্রভূত উন্নতি ঘটেছে।
পম্পাস অঞ্চল কৃষি ও শিল্পে উন্নত কেন?
প্রায় পঞ্চাশ বছর পূর্বে পম্পাস সমভূমির লোকসংখ্যা খুবই কম ছিল। বর্তমানে অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অঞ্চলে লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। পম্পাস অঞ্চলের কৃষি ও শিল্পের উন্নতির কারণগুলি হলো –
- অনুকূল জলবায়ু – এখানকার জলবায়ু গম উৎপাদনের অনুকূল হওয়ায় এখানে প্রচুর পরিমাণে গম উৎপন্ন হয়। তাই পম্পাস অঞ্চলকে ‘দক্ষিণ আমেরিকার গমের ঝুড়ি’ বলা হয়।
- বিস্তীর্ণ চারণভূমি – বিস্তীর্ণ চারণভূমি থাকায় এখানে পশুপালন ব্যাপক উন্নতিলাভ করেছে।
- কাঁচামালের প্রাচুর্য – শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কৃষিজ ও পশুজাত কাঁচামাল এখানে সহজেই পাওয়া যায়, যা শিল্পের বিকাশে সাহায্য করেছে।
- উন্নত প্রযুক্তি – উন্নত জাতের গো-প্রজনন, তারের বেড়া, হাওয়া কল, কৃষি যন্ত্রপাতি, রেলপথ প্রভৃতির সুবিধা হওয়ায় পম্পাস অঞ্চলে নানা ধরনের শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে এটি পৃথিবীর অন্যতম শস্য উৎপাদক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। প্রধানত কৃষিজ ও পশুজাত দ্রব্যের প্রাচুর্য থাকায় এর ওপর ভিত্তি করে এখানে শিল্পের উন্নতি ঘটেছে।

পম্পাস অঞ্চল মাংস রপ্তানিতে পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে কেন?
পম্পাস শব্দের অর্থ উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ তৃণক্ষেত্র। এই অঞ্চলে ঘাস বেশি জন্মায় বলেই পশুপালন বেশি হয়। বিশেষ করে –
- বিস্তীর্ণ তৃণভূমি বলে পশুপালন সুবিধাজনক।
- তৃণভূমিতে পুষ্টিকর আলফালফা ঘাসের চাষ হয়, যা পশুর পুষ্টির পক্ষে আদর্শ।
- যাযাবর পশুপালক গোষ্ঠী দীর্ঘকাল ধরে পশুপালনে অভ্যস্ত।
- বর্তমানে কৃষির সঙ্গে পশুপালন ব্যবস্থা বা মিশ্র কৃষির জনপ্রিয়তা প্রভৃতি কারণে পশুপালন বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই তৃণভূমির মধ্য ও পূর্বভাগে বেশি বৃষ্টিযুক্ত ও লম্বা ঘাসযুক্ত অঞ্চলে গোরু, মহিষ এবং পশ্চিম ও দক্ষিণাংশে স্বল্প বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে বেশি সংখ্যায় মেষপালন করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই এত গোরু ও মেষ প্রতিপালনের জন্য আর্জে
আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের দশম অধ্যায় ‘দক্ষিণ আমেরিকা’-এর উপবিভাগ ‘পম্পাস অঞ্চল‘ থেকে কিছু ‘সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির স্কুলের পরীক্ষা বা চাকরির পরীক্ষার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই প্রশ্নগুলি পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে।
আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা হলে, আপনারা আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের বা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ!





Leave a Comment