এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—”জনসংখ্যার বৃদ্ধি কী কী সমস্যার সৃষ্টি করে, তা সংক্ষেপে উল্লেখ করো।”—নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায়‘পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ’-এর ‘পরিবেশ এবং মানব জনসমষ্টি’ অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
জনসংখ্যার বৃদ্ধি কী কী সমস্যার সৃষ্টি করে, তা সংক্ষেপে উল্লেখ করো।
বর্তমানে অতিরিক্ত মাত্রায় জনসংখ্যার বৃদ্ধিতে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়, সেগুলি নিম্নে উল্লেখ করা হল –
- খাদ্যাভাব – প্রবল হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খাদ্যের উৎপাদন ব্যাহত হয়। যার ফলে খাদ্যের চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না, ফলস্বরূপ দেখা দেয় খাদ্যাভাব। খাদ্যাভাবের প্রকোপে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়।
- প্রাকৃতিক সম্পদের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার এবং অবক্ষয় – মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদগুলি, যেমন – জল, খাদ্য, বিভিন্ন খনিজ পদার্থ ইত্যাদির চাহিদা বেড়ে যায়, ফলে প্রাকৃতিক সম্পদগুলি প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয় ফলস্বরূপ এগুলির অবক্ষয় ঘটে।
- অরণ্য ধ্বংস – জনবিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে কৃষিজমি তৈরি, শিল্পস্থাপন, নগরায়ণ, বসতিস্থাপন, জ্বালানি এবং গৃহনির্মাণের উদ্দেশ্যে অরণ্য ধ্বংসের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- বাস্তুতন্ত্রের ক্ষয় – অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন গ্রিনহাউস গ্যাস ও অন্যান্য দূষক পদার্থের মাত্রা বৃদ্ধি পায় ফলে বাস্তুতান্ত্রিক ক্ষয় হয় এবং ভারসাম্য বিনষ্ট হয়।
- হ্রাসপ্রাপ্তি – মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাসস্থানের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃষিজমিগুলিকে বাসযোগ্য জমিতে রূপান্তরিত করায় কৃষিজমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে।
- মিষ্টি জলের অভাব – পৃথিবীতে মোট জলের 2.5% মিষ্টি জল। এই মিষ্টি জলের 70% হিমবাহ ও মেরু অঞ্চলে বরফ হিসেবে জমা রয়েছে, যা মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারে না। অন্যদিকে পৃথিবীর মিষ্টি জলের বাকি 30% পুকুর, হ্রদ, ঝিল প্রভৃতি জলাশয়ে আবদ্ধ রয়েছে। বর্তমানে ব্যাপক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য ব্যবহারযোগ্য জলের প্রয়োজন বৃদ্ধি পাওয়ায় ও বৃষ্টির পরিবেশ পরিবর্তনজনিত কারণে অনিশ্চয়তার ফলে মিষ্টি জলের অভাব দেখা দিচ্ছে।
- জলাভূমির হ্রাসপ্রাপ্তি – অত্যধিক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে তাদের বিভিন্ন চাহিদা মেটানোর জন্য জলাভূমি বুজিয়ে বাসস্থান নির্মাণ, শিল্প-কারখানা স্থাপন, শপিং মল প্রস্তুতি ইত্যাদি কারণে জলাভূমির সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে এবং জলাভূমি ধ্বংস হচ্ছে।
- বায়ুদূষণ এবং জলদূষণ – জনসংখ্যার বৃদ্ধির ফলে মানুষ দ্বারা সৃষ্ট বিভিন্ন ক্রিয়াকর্মের দরুন বিভিন্ন প্রকৃতির রাসায়নিক দূষক পদার্থসমূহ বায়ুতে মিশে ও জলে মিশে যথাক্রমে বায়ুদূষণ এবং জলদূষণ ঘটায়। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা পরিবেশদূষণ সৃষ্টির প্রধান কারণ।
- বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তন এবং বিশ্ব উষ্ণায়ন – প্রাকৃতিক সম্পদের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, অরণ্য ধ্বংস, জীবাশ্ম জ্বালানির দহন, গ্রিনহাউস গ্যাসের বৃদ্ধি বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক অবস্থাকে পরিবর্তন করে দেয়। গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি, যেমন – CFC, CH4, NO2, CO2 ইত্যাদির প্রভাবে পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে তাপমাত্রা প্রতিফলিত না হতে পেরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—”জনসংখ্যার বৃদ্ধি কী কী সমস্যার সৃষ্টি করে, তা সংক্ষেপে উল্লেখ করো।”—নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় ‘পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ’-এর ‘পরিবেশ এবং মানব জনসমষ্টি’ অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন। তাছাড়া নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





Leave a Comment