অ্যামোনিয়া গ্যাসে চোখে মুখে জলের ঝাপটা দেওয়া উচিত, অ্যাসিড নয় কেন?

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “আমাদের চারপাশে কোথাও অ্যামোনিয়া গ্যাস নির্গত হলে সর্বাগ্রে আমাদের চোখে মুখে জলের ঝাপটা দেওয়া উচিত, অ্যাসিডের ঝাপটা নয় কেন?” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের অষ্টম অধ্যায় “পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মসমূহ” -এর “পরীক্ষাগার ও রাসায়নিক শিল্পে অজৈব রসায়ন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের চারপাশে কোথাও অ্যামোনিয়া গ্যাস নির্গত হলে সর্বাগ্রে আমাদের চোখে মুখে জলের ঝাপটা দেওয়া উচিত, অ্যাসিডের ঝাপটা নয় কেন?
Contents Show

আমাদের চারপাশে কোথাও অ্যামোনিয়া গ্যাস নির্গত হলে সর্বাগ্রে আমাদের চোখে মুখে জলের ঝাপটা দেওয়া উচিত, অ্যাসিডের ঝাপটা নয় কেন?

আমাদের আশেপাশে কোথাও অ্যামোনিয়া গ্যাস নির্গত হলে সর্বাগ্রে আমাদের চোখেমুখে জলের ঝাপটা দেওয়া উচিত, অ্যাসিডের ঝাপটা নয়। কারণ, অ্যামোনিয়া জলে অত্যন্ত দ্রাব্য। চোখে অ্যামোনিয়া লাগলে চোখের ক্ষতি হতে পারে। তাই চোখে জলের ঝাপটা দিলে অ্যামোনিয়া জলে দ্রবীভূত হয়ে চোখ থেকে নির্গত হয় এবং চোখের কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু অ্যাসিড অ্যামোনিয়ার সঙ্গে বিক্রিয়া করে অ্যামোনিয়াকে অপসারিত করলেও অ্যাসিড আমাদের চোখেমুখে ক্ষত সৃষ্টি করে। তাই কোনো অবস্থাতেই চোখেমুখে অ্যাসিডের ঝাপটা দেওয়া উচিত নয়।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

অ্যামোনিয়া গ্যাস নিঃসরণের সময় সর্বপ্রথম কী করা উচিত?

সর্বপ্রথম দূষিত এলাকা থেকে দ্রুত সরে গিয়ে তাজা বাতাসে শ্বাস নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এরপর চোখ ও ত্বক প্রচুর পরিমাণে পরিষ্কার ঠান্ডা জল দিয়ে কমপক্ষে 15-20 মিনিট ধরে ধুতে হবে।

অ্যামোনিয়া চোখে লাগলে কী করবেন?

চোখ তাত্ক্ষণিকভাবে পরিষ্কার, প্রবাহিত ঠান্ডা জল দিয়ে ধৌত করতে হবে। চোখ খুলে ধোয়ার চেষ্টা করুন। জলের ঝাপটা দিলে অ্যামোনিয়া দ্রবীভূত হয়ে চোখ থেকে বেরিয়ে যায় এবং ক্ষতি কম হয়। এরপর দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

অ্যামোনিয়া গ্যাসের সংস্পর্শে এলে চোখে জলের ঝাপটা দেওয়া উচিত, অ্যাসিডের ঝাপটা নয় কেন?

অ্যামোনিয়া জলে অত্যন্ত দ্রাব্য। জল দিলে তা দ্রুত অ্যামোনিয়াকে দ্রবীভূত করে ধুয়ে দেয়। কিন্তু অ্যাসিড অ্যামোনিয়ার সঙ্গে বিক্রিয়া করলেও, অ্যাসিড নিজেই চোখ ও ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং গুরুতর দাহ সৃষ্টি করতে পারে। তাই অ্যাসিড ব্যবহার কখনই করা উচিত নয়।

অ্যামোনিয়া গ্যাস শ্বাসনালীতে প্রবেশ করলে কী লক্ষণ দেখা দেয়?

শ্বাসকষ্ট, কাশি, গলা ব্যথা বা জ্বালা, বুক চেপে আসা এবং শ্বাসনালীতে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। উচ্চ মাত্রার সংস্পর্শে ফুসফুসে পানি জমে শ্বাসযন্ত্র বিকলও হতে পারে।

অ্যামোনিয়া থেকে ত্বক রক্ষা করতে কী করণীয়?

দূষিত পোশাক দ্রুত খুলে ফেলুন এবং আক্রান্ত ত্বক কমপক্ষে 15 মিনিট ধরে প্রচুর জল ও হালকা সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

অ্যামোনিয়া গ্যাস নিঃসরণের সময় বাড়ির শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের কীভাবে সুরক্ষিত করবেন?

তাদের সর্বপ্রথম নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান, কারণ তাদের শ্বাসনালী ও চোখ বেশি সংবেদনশীল। সম্ভব হলে তাদের একটি সিল করা কক্ষে রাখুন এবং ভেজা কাপড় দিয়ে দরজা-জানালার ফাঁক বন্ধ করুন।

অ্যামোনিয়া গ্যাসের গন্ধ চেনার উপায় কী?

অ্যামোনিয়া গ্যাসের একটি তীব্র, উত্তেজক ও স্বতন্ত্র গন্ধ রয়েছে, যা অনেকটা বাসি প্রস্রাব বা ক্লিনিং এজেন্টের গন্ধের মতো।

অ্যামোনিয়া থেকে সুরক্ষার জন্য কোন ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ (PPE) প্রয়োজন?

রাসায়নিক প্রতিরোধী গ্লাভস, গগলস বা ফেস শিল্ড, এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত রেস্পিরেটর (যেমন – অ্যামোনিয়া-নির্দিষ্ট গ্যাস কার্টিজযুক্ত) ব্যবহার করা উচিত।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “আমাদের চারপাশে কোথাও অ্যামোনিয়া গ্যাস নির্গত হলে সর্বাগ্রে আমাদের চোখে মুখে জলের ঝাপটা দেওয়া উচিত, অ্যাসিডের ঝাপটা নয় কেন?” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের অষ্টম অধ্যায় “পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মসমূহ” -এর “পরীক্ষাগার ও রাসায়নিক শিল্পে অজৈব রসায়ন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ব্রোমিনের সঙ্গে অ্যাসিটিলিনের যুত বিক্রিয়াটি উল্লেখ করো।

ব্রোমিনের সঙ্গে অ্যাসিটিলিনের যুত বিক্রিয়াটি উল্লেখ করো।

কার্যকরী মূলক বা ক্রিয়াশীল গ্রুপ কাকে বলে? কার্যকরী মূলক ও জৈব মূলকের পার্থক্য বুঝিয়ে দাও।

কার্যকরী মূলক বা ক্রিয়াশীল গ্রুপ কাকে বলে? কার্যকরী মূলক ও জৈব মূলকের পার্থক্য বুঝিয়ে দাও।

একটি জৈব যৌগের আণবিক সংকেত C₂H₄O₂। যৌগটি জলে দ্রাব্য এবং যৌগটির জলীয় দ্রবণে NaHCO₃ যোগ করলে CO₂ নির্গত হয়। জৈব যৌগটিকে শনাক্ত করো। জৈব যৌগটির সঙ্গে ইথানলের বিক্রিয়া শর্ত ও সমিত রাসায়নিক সমীকরণসহ লেখো।

C₂H₄O₂ সংকেতের একটি জৈব যৌগ NaHCO₃-এর সাথে CO₂ গ্যাস দেয়। যৌগটি শনাক্ত করো ও ইথানলের সাথে এর বিক্রিয়ার শর্তসহ সমীকরণ দাও।

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

Madhyamik Mathematics Suggestion 2026

Madhyamik Mathematics Suggestion 2026 – Mark 5

Madhyamik Mathematics Suggestion 2026 – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

Madhyamik Mathematics Suggestion 2026 – সত্য মিথ্যা

Madhyamik Mathematics Suggestion 2026 – শূন্যস্থান পূরণ