বই পড়া – প্রবন্ধ রচনা

Rahul

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ‘বই পড়া’ প্রবন্ধ রচনাটি নিয়ে আলোচনা করব। মাধ্যমিক বা স্কুল পরীক্ষায় এই রচনাটি প্রায়ই আসে এবং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ রচনা। একবার ভালোভাবে আয়ত্ত করলে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি—যেকোনো ক্লাসের পরীক্ষাতেই তোমরা এই রচনার প্রশ্নের উত্তর সহজেই লিখতে পারবে।

বইপড়া - প্রবন্ধ রচনা

বই পড়া – প্রবন্ধ রচনা

“He who loves reading has everything within his reach”

– William Godwin

ভূমিকা –

আজকের জেটগতির জীবনে মানুষের সময় নষ্ট করার মতো সময় নেই। সাফল্যকে পাখির চোখ করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লড়াই করে যাচ্ছে সকল ছাত্রছাত্রী থেকে আমজনতা। যেটুকু সময় তারপরেও থাকে তা চুরি করে নিচ্ছে টিভি বা মোবাইল ফোন। বই যেন এক প্রান্তিক বিষয় হয়ে উঠেছে আজকের জীবনে। অথবা নিতান্তই তা ঘর সাজানোর উপকরণ হয়ে গেছে। অথচ বই সেই বাতিঘর যা আমাদের পৌঁছে দেয় অন্ধকারের পথ ধরে আলোর দেশে।

বই যখন কাজের জন্য –

ছাত্রছাত্রীদের কাছে বই এগিয়ে চলার প্রধান উপকরণ। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্যের হাতিয়ার হল বই। মা বই দেখে শিখে নেন নানান ধরনের রান্না। বাবার হাতে থাকে “হোমিও ওষুধে নিরাময়।” বছরের শেষে একবার ভ্রমণসঙ্গী হাতে নিয়ে চলে পায়ের তলার সর্ষের খোঁজ। আর পরীক্ষার ভালো ফল করার জন্য দিদি হাতে ধরিয়ে দেয় “The brief history of time” – ঠাকুমাকে দেখেছি ‘কথামৃত’ নিয়ে বসতে। এভাবেই চাওয়া-পাওয়ার মনের শুদ্ধিতে, রসনায় এবং সাধনায় বই সেতুর মতো কাজ করে চলেছে।

রইব তোমার ফসল খেতের কাছে –

রুশো থেকে রবীন্দ্রনাথ, শেকসপিয়র থেকে সতীনাথ ভাদুড়ি, জেমস্ জয়েস থেকে জীবনানন্দ-বইয়ের হাত ধরেই আমাদের ঘরের মধ্যে এসে হাজির হন। পথের পাঁচালির অপুর হাত ধরে যেমন আমরা পৌঁছে যাই চিরকৈশোরে। দর্শন, সাহিত্য, বিজ্ঞান সবই আমাদের কাছে পৌঁছায় বইয়ের সৌজন্যে।

অবসরে বই –

বইয়ের থেকে ভালো অবসরের বন্ধু নেই। একঘেয়ে পড়াশোনা কিংবা জীবনযাত্রার মধ্যে বই এক অন্য দিগন্ত নিয়ে আসে। পরশুরাম কিংবা শিবরাম-আনন্দের বহুবিচিত্র আয়োজন সবই পাওয়া যায় বইয়ের মধ্যে।

উপসংহার –

আধুনিক যন্ত্রজীবনে বই এক কঠিন সংকটের মুখোমুখি। মানুষ এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত, বইয়ের জন্য সামান্য মাত্র সময়ও সে ব্যয় করে না। ভোগবাদের তাড়নায় সৃষ্টিশীলতা যত বিপন্ন হচ্ছে বইও ততই প্রান্তিক হয়ে যাচ্ছে আমাদের জীবনে। তবুও মন ও সমাজের সুস্থতার জন্য বইপড়ার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করতে পারবেন না কেউই।


আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ‘বই পড়া’ প্রবন্ধ রচনাটি নিয়ে আলোচনা করেছি। মাধ্যমিক বা স্কুল পরীক্ষায় ‘বই পড়া’ রচনাটি প্রায়ই আসে এবং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ রচনা।

আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

একটি অচল পয়সার আত্মকথা – প্রবন্ধ রচনা

একটি অচল পয়সার আত্মকথা – প্রবন্ধ রচনা

একটি প্রাচীন বটগাছের আত্মকথা – প্রবন্ধ রচনা

একটি প্রাচীন বটগাছের আত্মকথা – প্রবন্ধ রচনা

একটি মেলা দেখার অভিজ্ঞতা – প্রবন্ধ রচনা

একটি মেলা দেখার অভিজ্ঞতা – প্রবন্ধ রচনা

About The Author

Rahul

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

প্রতিসরণ কোণ কাকে বলে? কাচফলকে প্রতিসরণের ফলে আলোকরশ্মির চ্যুতি হয় না কেন?

একটি প্রিজমের i-δ লেখচিত্র আঁকো, যেখানে i হল আপতন কোণ ও δ হল চ্যুতিকোণ।

উত্তল লেন্স এবং অবতল লেন্স কয়প্রকার ও কী কী?

আলোকের বিক্ষেপণ কাকে বলে? র‍্যালের বিক্ষেপণ সূত্রটি লেখো।

রেখাচিত্রের সাহায্যে লেন্স দ্বারা প্রতিবিম্ব গঠনের নিয়মাবলি গুলি লেখো।