ক্যানসার রোগের জন্য দায়ী পরিবেশগত কারণগুলি সম্পর্কে লেখো।

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—”ক্যানসার রোগের জন্য দায়ী পরিবেশগত কারণগুলি সম্পর্কে লেখো।”—নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় ‘পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ’-এর ‘পরিবেশ এবং মানব জনসমষ্টি’ অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যানসার রোগের জন্য দায়ী পরিবেশগত কারণগুলি সম্পর্কে লেখো।

অনিয়ন্ত্রিত কোশ বিভাজনের ফলে সৃষ্ট একটি মারাত্মক প্রাণঘাতী রোগ হল ক্যানসার। ক্যানসার সৃষ্টিকারী পদার্থকে বলা হয় কারসিনোজেন। UV-রশ্মি, X-রশ্মি ইত্যাদি হল ভৌত কারসিনোজেন এবং কীটনাশক, নিকোটিন, আগাছানাশক ইত্যাদি হল রাসায়নিক কারসিনোজেন।

ক্যানসার রোগের জন্য দায়ী পরিবেশগত কারণগুলি হল –

  • ধূমপান – ধূমপান ফুসফুসে ক্যানসার সৃষ্টি করে। নিয়মিত ধূমপান করার ফলে বিভিন্ন কারসিনোজেনিক পদার্থ মূলত বেঞ্জোপাইরিন মানবদেহে প্রবেশ করে, যা ফুসফুসে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং ক্যানসার ঘটায়।
  • তামাকজাত দ্রব্য সেবন – বিভিন্ন তামাকজাত দ্রব্য, যেমন – খৈনি, জর্দা প্রভৃতি সেবনের মাধ্যমে তামাক খুব সহজেই শরীরে প্রবেশ করে। তামাকের মধ্যে অন্যতম কারসিনোজেন নিকোটিন থাকে যা নিয়মিত সেবন করার ফলে মুখ, জিহ্বা এবং গলায় ক্যানসারের সৃষ্টি হয়।
  • কীটনাশকের ব্যবহার – কৃষিখেতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে তা শাকসবজির মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে ক্যানসারের সৃষ্টি করে।
  • তেজস্ক্রিয় পদার্থের ব্যবহার – তেজস্ক্রিয় পদার্থের খনিতে যে সকল শ্রমিক কাজ করে, নিয়মিত তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলি শরীরের সংস্পর্শে আসার ফলে তা দেহে প্রবেশ করে এবং ক্যানসার রোগের সৃষ্টি করে। বিশেষত র‍্যাডন নামক তেজস্ক্রিয় গ্যাসটি ফুসফুসের ক্যানসার সৃষ্টির জন্য দায়ী।
  • বিভিন্ন দূষক পদার্থ – যারা কলকারখানায় কাজ করে তাদের দেহে বিভিন্ন দূষক পদার্থ, যেমন – অ্যাসবেস্টস, কার্বন-ডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, মিথেন খুব সহজেই প্রবেশ করে ক্যানসারের প্রবণতা বাড়ায়।
রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার

উপরে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—”ক্যানসার রোগের জন্য দায়ী পরিবেশগত কারণগুলি সম্পর্কে লেখো।”—নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় ‘পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ’-এর ‘পরিবেশ এবং মানব জনসমষ্টি’ অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন। তাছাড়া নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ!

Please Share This Article

Related Posts

বায়ুদূষণ কাকে বলে? বায়ুদূষণের ক্ষতিকারক প্রভাবগুলি লেখো।

বায়ুদূষণ কাকে বলে? বায়ুদূষণের ক্ষতিকারক প্রভাবগুলি লেখো।

অ্যাজমা বা হাঁপানি কী? অ্যাজমা রোগের সৃষ্টিতে পরিবেশগত ভূমিকাগুলি উল্লেখ করো।

অ্যাজমা বা হাঁপানি কী? অ্যাজমা রোগের সৃষ্টিতে পরিবেশগত ভূমিকাগুলি উল্লেখ করো।

ব্রংকাইটিস কী? ব্রংকাইটিস রোগের সৃষ্টিতে পরিবেশের ভূমিকা উল্লেখ করো।

ব্রংকাইটিস কী? ব্রংকাইটিস রোগের সৃষ্টিতে পরিবেশের ভূমিকা উল্লেখ করো।

About The Author

Souvick

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

বায়ুদূষণ কাকে বলে? বায়ুদূষণের ক্ষতিকারক প্রভাবগুলি লেখো।

অ্যাজমা বা হাঁপানি কী? অ্যাজমা রোগের সৃষ্টিতে পরিবেশগত ভূমিকাগুলি উল্লেখ করো।

ব্রংকাইটিস কী? ব্রংকাইটিস রোগের সৃষ্টিতে পরিবেশের ভূমিকা উল্লেখ করো।

ক্যানসার রোগের জন্য দায়ী পরিবেশগত কারণগুলি সম্পর্কে লেখো।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে দূষণের সম্পর্ক লেখো।