অষ্টম শ্রেণি বাংলা – আদাব – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘আদাব’ গল্পের কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

আদাব - অষ্টম শ্রেণী - বাংলা - সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
Contents Show

‘শহরে 144 ধারা আর কারফিউ অর্ডার জারি হয়েছে’ – লেখকের অনুসরণে গল্পে বর্ণিত রাতের দৃশ্য বর্ণনা করো।

‘আদাব’ গল্পের শুরুতে দাঙ্গা-আতঙ্কিত যে রাত্রিকালীন ছবি আঁকা হয়েছে তা এরকম— রাত্রির নিস্তব্ধতাকে কাঁপিয়ে মিলিটারি টহলদার গাড়িটা একবার ভিক্টোরিয়া পার্কের পাশ দিয়ে একটা পাক খেয়ে গেল। সারা শহর 144 ধারার কবলে, কারফিউ জারি হয়েছে। হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা বেঁধেছে। গুপ্তঘাতকের দল চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে শাণিত অস্ত্র হাতে। অন্ধকারের সুযোগে লুকিয়ে-ছাপিয়ে আঘাত হানছে তারা। মানুষের হাতে হাতে দা-সড়কি-ছুরি-লাঠি। মুখোমুখি লড়াই চলছে। লুটপাট যাদের কাজ, মৃত্যু-বিভীষিকাময় এই রাত্রিতে তাদের উল্লাসও প্রবল। বস্তি জ্বলছে। মৃত্যুকাতর নারী ও শিশুর চিৎকার চারপাশের পরিবেশকে বীভৎসতা দিয়েছে। এর ওপর রয়েছে সৈন্যবাহী গাড়ির হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়া এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে গুলি ছোড়া।

‘হঠাৎ ডাস্টবিনটা একটু নড়ে উঠল।’ – ডাস্টবিন নড়ে ওঠার অব্যবহিত পরে কী দেখা গেল?

দুটি রাস্তার মোড়ে উলটে থাকা ভাঙাচোরা ডাস্টবিনটাকে আড়াল করে গলি থেকে একটা লোক দাঙ্গা-পরিস্থিতির নির্জন আবহাওয়ায় বের হয়ে এল, ভীতসন্ত্রস্ত তার অবস্থা। ডাস্টবিনটার আড়ালে হামাগুড়ি দিয়ে উঠতে তার শিরা-উপশিরা যেন শিরশিরিয়ে উঠল। দাঁতে দাঁত চেপে হাত-পাগুলোকে কঠিন করে সে প্রতীক্ষা করে রইল ভীষণ কিছুর জন্য। নিশ্চল-নিস্তব্ধ অবস্থায় কয়েকটা মুহূর্ত কেটে গেল। কুকুর সন্দেহে লোকটা ডাস্টবিনটায় একটু ঠেলা দিল। কিছু হল না। আবার সেটা নড়ে উঠতেই এবার লোকটার ভয়ের সঙ্গে এল কৌতূহল। লোকটা যেমনি একটু মাথা তুলেছে, দেখে, ওপাশ থেকে অন্য একটা মাথা উঠে এল। মানুষ! ডাস্টবিনের দুই পাশে দুটি প্রাণী নিস্পন্দ, নিশ্চল। লোকটার হৃৎস্পন্দন তাল হারাচ্ছে, থেমে যেতে চাইছে। চারটি চোখেই এখন ভয়, সন্দেহ, উত্তেজনা। কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে চাইছে না, ভাবছে সে খুনি। চোখে চোখ স্থির, অজানা আক্রমণের প্রতীক্ষা দুজনেরই। যখন প্রকৃতই তা হল না, তখন দুজনের মনেই প্রশ্ন জাগল— হিন্দু, না মুসলমান? দুজনেই ভাবছে পরিচয় জানলেই হয়তো বিপরীত দিক থেকে আক্রমণ আসবে। তাই কেউ কারও পরিচয় জিজ্ঞাসা করতে পারছে না, পালানোর শক্তিও তাদের নেই পিছন থেকে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে।

হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির আবহ গল্পে কীভাবে রচিত হয়েছে তা বিশ্লেষণ করো।

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সমরেশ বসুর ‘আদাব’ গল্পটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পটভূমিকায় রচিত। গল্পের শুরুতে গল্পকার দাঙ্গার ভয়াবহতা, দাঙ্গা-পরিস্থিতির আবহ রচনা করেছেন বটে; তবে পরবর্তী ক্ষেত্রে দুটি সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষের মধ্যে আত্মিক মিলনের মধ্য দিয়ে তিনি একটা দাঙ্গাবিরোধী পরিস্থিতির পত্তন করেছেন গল্পে। পরিবেশ ছিল অসম্প্রীতির। দাঙ্গা চারদিকে আগুন জ্বালিয়েছে। বস্তি জ্বলছে। মানুষের মৃত্যু-চিৎকারে আকাশ-বাতাস মুখরিত। রাস্তাঘাট ফাঁকা, রাত্রির নিস্তব্ধতা খান খান করে মিলিটারি টহলদার গাড়ি ছোটাছুটি করছে। শহরে কারফিউ, 144 ধারা। এ গল্পে তীব্র ভয়ার্ত পরিবেশ, হিন্দু-মুসলমানের পারস্পরিক অবিশ্বাস, দাঙ্গার আগুন, সবমিলিয়ে যে সাম্প্রদায়িক বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল– লেখক সেখানে দুটি ভিন্নধর্মের ভয়ার্ত মানুষকে সুকৌশলে কাছাকাছি এনেছেন। পরস্পরের আলাপনের মধ্য দিয়ে বিশ্বাস ও মানবতার বাতাবরণ তৈরি করেছেন এবং গল্পে শেষপর্যন্ত অসম্প্রীতির পরিবেশের মধ্যে সম্প্রীতির ফুল ফুটেছে। যদিও গল্পের শেষে মুসলমান নাওয়ের মাঝির বীভৎস মৃত্যু সংঘটিত হয়েছে, তবুও তাতে ভয়াবহ মৃত্যুমুখী পরিস্থিতিতে সদ্য পরিচিত হিন্দু সুতাকলের মজুরের মনে সম্প্রীতির আবহ আরও জোরালো হয়েছে।

‘মুহূর্তগুলিও কাটে যেন মৃত্যুর প্রতীক্ষার মতো।’ – সেই রুদ্ধ উত্তেজনাকর মুহূর্তগুলির ছবি গল্পে কীভাবে ধরা পড়েছে তা দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করো।

প্রখ্যাত সাহিত্যিক সমরেশ বসুর ‘আদাব’ গল্পে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-পরিস্থিতির যে চিত্র সংযোজিত হয়েছে, তার মধ্যে দুটি অতিসাধারণ হিন্দু-মুসলমান খেটে-খাওয়া মানুষকে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে দেখা যায়। কারফিউ-এর রাতে দুটি মানুষ দু-দিক থেকে এসে সবে নিজেদের মন মেলে ধরার চেষ্টা করেছে, এমন সময় দূরে একটা শোরগোল ওঠে। একসময় তা মিলিয়েও যায়। মৃত্যুর মতো নিস্তব্ধতা নেমে আসে সেখানে। এই মৃত্যুপ্রতীক্ষিত নিস্তব্ধতায় নাওয়ের মাঝির দেশলাই হঠাৎ জ্বলে ওঠার পর ‘সুবহানাল্লাহ’ বলায় নিমেষে গল্পের পরিস্থিতি বদলে যায়। লেখকের ভাষায়, ‘… ভূত দেখার মতো চমকে উঠল সুতা-মজুর। টেপা ঠোঁটের ফাঁক থেকে খসে পড়ল বিড়িটা— তুমি…? …একটা হালকা বাতাস এসে যেন ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিল কাঠিটা। অন্ধকারের মধ্যে দু-জোড়া চোখ অবিশ্বাসে উত্তেজনায় আবার বড়ো বড়ো হয়ে উঠল।’ আবার নাওয়ের মাঝি যে মুসলমান, এ জানার পর সুতামজুর যখন মাঝির বগলের পুঁটলি দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করে— ‘ওইটার মধ্যে কী আছে?’ তখনও দাঙ্গাজনিত আতঙ্ক আরও একবার দানা বেঁধে উঠতে দেখা যায়। মুসলমান মাঝির মনেও সুতামজুর সম্পর্কে সন্দেহ দানা বাঁধে। সেও জিজ্ঞাসা করে— ‘তুমি কিছু রাখ-টাখ নাই তো?’ সুতামজুর জবাব দেয়— ‘ভগবানের কিরা কাইটা কইতে পারি একটা সুইও নাই।’ মারণাস্ত্র হিসেবে সুঁচের কোনো মূল্য নেই, কিন্তু লেখক তাকে শিল্পিত ব্যবহার করেছেন।

‘এমনভাবে মানুষ নির্মম নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে কী করে?’ – উদ্ধৃতিটির আলোকে সেই সময়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটি আলোচনা করো।

দাঙ্গার ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে যারা দাঙ্গা বাধায়, দাঙ্গার রক্তাক্ত পরিণাম থেকে তারা থাকে দূরে আর নিরপরাধ সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। ভারতের দীর্ঘ স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষে যখন ব্রিটিশ সরকার আর বুঝে উঠতে পারছে না, তখনই তারা এদেশে প্রয়োগ করে তাদের চরম ভেদনীতি। এদেশের দুই প্রধান ধর্মগোষ্ঠী হিন্দু ও মুসলমানকে রাজনৈতিকভাবে লড়িয়ে দিয়ে তারা ভারতের অন্তরশক্তিকে ভেঙে দিতে চায়। এর পরিণতিতে প্রাক্-স্বাধীনতা পর্বে 1946-1947 খ্রিস্টাব্দে যে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উদ্ভব হয়, তাতে অসহায় সাধারণ মানুষ কিছু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসাধনকারী মানুষের উসকানিতে হাতে তুলে নেয় হাতিয়ার। রক্তের নদী বয়ে যায়। সেই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের হাত থেকে নারী-বৃদ্ধ-বৃদ্ধা-শিশু কেউই বাদ পড়েনি। সরে যায় মানবিকবোধ, গড়ে ওঠে পারস্পরিক চরম অবিশ্বাস ও হিংসাশ্রয়ী হত্যালীলার বাতাবরণ। স্থানে স্থানে ছিন্নমূল, গৃহহারা মানুষের ঢল নামে। এই হানাহানি আর নিষ্ঠুরতার প্রেক্ষাপটেই ভারত স্বাধীন হয় ভৌগোলিকভাবে দ্বিখণ্ডিত হয়ে।

‘অনেকক্ষণ এই সন্দিহান ও অস্বস্তিকর অবস্থায় দুজনেই অধৈর্য হয়ে পড়ে।’ – এরপর কী ঘটেছিল?

নাওয়ের মাঝি ও সুতামজুর একত্র হয়েছিল একটা দমবন্ধ করা অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে। যখন একজন মানুষ অন্যজনকে বিশ্বাস করতে পারে পরীক্ষাই না। গভীর সন্দেহ আর আতঙ্কের মনোভাব যখন মানুষের মানবিকতাকেও আড়াল করে দেয়। এই পরিস্থিতিতে একজন শেষ অবধি প্রশ্ন করে ফেলে— হিন্দু না মুসলমান? বলাবাহুল্য কেউই পরিচয় স্বীকার করতে চায় না, ভয় পায় যদি আক্রান্ত হয়। তাই অন্যজন জবাব দেয়— ‘আগে তুমি কও।’ পরের প্রশ্ন আসে ‘বাড়ি কোনখানে?’ উত্তর আসে— ‘বুড়িগঙ্গার হেইপারে সুবইডায়।’ ক্রমে জানা যায় অন্যজনের বাড়ি চাষাড়া, নারায়ণগঞ্জের কাছে। এদের একজন নাওয়ের মাঝি, অন্যজন সুতামজুর। অন্ধকারের অলক্ষ্যে দুজনে দুজনের চেহারা, পোশাক-পরিচ্ছদটা খুঁটিয়ে দেখার চেষ্টা করে।

‘মাঝির মনটা ছাঁৎ করে উঠল সুতা-মজুরের কথায়।’ – এর পিছনে মাঝির ভাবনা কী ছিল?

নাওয়ের মাঝি ও সুতামজুরের মধ্যে প্রাথমিক আলাপ-পরিচয় হওয়ার পর তারা যখন অন্ধকারের মধ্যে একে অপরকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে দেখতে চাইছে, তখন হঠাৎ কাছাকাছি কোথাও একটা শোরগোল ওঠে। যদি আক্রান্ত হয়, এই ভয়ে মাঝি সুতামজুরকে প্রস্তাব দেয় সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য। সুতামজুর তাকে বাধা দিয়ে বলে ‘উইঠো না। জানটারে দিবা নাকি?’ তখনই মাঝির সন্দিহান মন দুলে ওঠে। মনে হয় তাকে যেতে বাধা দিচ্ছে, লোকটার কোনো বদ মতলব নেই তো! সুতামজুরের মাঝিকে তখনই স্থানত্যাগ করতে বাধা দেওয়ার পিছনে ছিল মানবিকতা। সামান্য আলাপে যে আন্তরিকতা, তাতেই সে চেয়েছিল মাঝি অন্তত কোনো বিপদে না পড়ে। তা না বুঝে মাঝি তাই বলে ফেলে, ‘যামু না তো এই আন্দাইরা গলির ভিতরে পইড়া থাকুম নাকি?’ এতে মাঝির মনে যে দাঙ্গাকালীন অবিশ্বাস, সন্দেহ ও দোলাচল মনের ছায়া পড়েছে তা স্পষ্ট বোঝা যায়।

‘তাতে দ্যাশের কী উপকারটা হইব?’ – মন্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সমরেশ বসু রচিত ‘আদাব’ গল্পটি থেকে আলোচ্য উদ্ধৃতিটি গৃহীত। প্রাক্-স্বাধীনতা পর্বে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার প্রসঙ্গে ‘আদাব’ গল্পে মুসলিম মাঝি উক্ত উক্তিটি করেছেন। দাঙ্গার কবলে পড়ে মৃত্যুর হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে অন্ধকার গলির ডাস্টবিনের আড়ালে দুই ভয়ার্ত মানুষের সাক্ষাৎ হয়। প্রাথমিক পর্বে তারা কেউই আপন পরিচয় প্রকাশ করে না; সন্দেহ, অবিশ্বাসের বাতাবরণে পরস্পর পরস্পরকে জরিপ করতে থাকে; কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে একে অপরের প্রতিপক্ষ— এই পরিচয় উন্মোচিত হলেও তারা যেন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছে এমন ভাব প্রকাশিত হয়। প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতার এই লিপ্সা সাধারণ মানুষের ধারণার বাইরে। খেটে-খাওয়া এই মানুষেরা বোঝে দাঙ্গাতে দুই পক্ষেরই বেশ কিছু মানুষ মারা যাবে; মৃত্যুমিছিলে ‘দ্যাশের’ লাভ কোথায়, সেই সহজ অকপট প্রশ্নই তারা করে। এই দাঙ্গা এক-একটা পরিবারকে সর্বহারা করে, পথের ভিখিরি করে। দেশ তো অগণিত সাধারণ মানুষকে নিয়ে; কিন্তু সেই সাধারণ মানুষগুলোর কথা কোনো ক্ষমতা, কোনো রাজনৈতিক সমীকরণেই থাকে না। ‘আদাব’ গল্পের মধ্য দিয়ে গল্পকার এই অকপট জিজ্ঞাসাই উল্লেখ করেছেন।

‘কোন গতিকে একবার যদি বাদামতলির ঘাটে গিয়ে উঠতে পারি’ – বাদামতলির ঘাটে উঠতে কারা কী করল?

সমরেশ বসুর ‘আদাব’ গল্পে এক নাওয়ের মাঝি ও এক সুতামজুর দাঙ্গা পরিস্থিতির শিকার হয়। অনেকটা সময় ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে কাটিয়ে তারা ঠিক করে যে, কোনোভাবে বাদামতলির ঘাটে পৌঁছোবে। তাই মাথা নীচু করে মোড়টা পেরিয়ে তারা ঊর্ধ্বশ্বাসে ছোটে এবং এসে ওঠে পাটুয়াটুলি রোডে। নিস্তব্ধ রাত্রি। ইলেকট্রিকের স্তিমিত আলো। থমকে দাঁড়ায় তারা। কেউ ঘাপটি মেরে লুকিয়ে নেই তো! একটু থেমে এ মোড়-ও মোড় দেখে নিয়ে তারা এরপর সোজা ছোটে পশ্চিম দিকে। একটা অশ্বখুরধ্বনি এগিয়ে আসছে বলে একটু থামে। বাঁ-পাশে মেথর যাতায়াতের একটা সরু গলির মধ্যে আত্মগোপন করে তারা। অশ্বারোহী পুলিশ চলে গেলে, তারা আবার বেরোয়। তারপর রাস্তার ধার ঘেঁষে এগিয়ে তারা একটা পান-বিড়ির দোকানের আড়ালে আশ্রয় নেয়। বাদামতলির ঘাট তখনও বেশ দূরে।

‘আমি পারুম না ভাই থাকতে।’ – উক্তিটির বক্তা কে? সে কেন এই কথা বলেছে?

সমরেশ বসু রচিত ‘আদাব’ গল্পটিতে আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন এক মুসলিম মাঝি। হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে এক মুসলিম মাঝি ও হিন্দু সুতামজুর পরস্পরকে অবলম্বন করে প্রাণ বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে। এমতাবস্থায় পরস্পর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-বন্ধুর মতো সুখ-দুঃখের আলাপচারিতার মাঝে অনেক কষ্টে ইসলামপুর ফাঁড়ির কাছাকাছি উপস্থিত হয়। মাঝি সুতামজুরকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার কথা বলে নিজের যাওয়ার কথা জানায়। কিন্তু মাঝির বিপদের আশঙ্কায় সুতামজুর অস্থির হয়— তবুও মাঝি যে-কোনো উপায়ে প্রয়োজনে বুড়িগঙ্গা সাঁতার দিয়ে পার হয়ে বাড়ি যাওয়ার কথা বলে। দীর্ঘ আটদিন মাঝি বাড়ি ছাড়া। বাড়ির কোনো খবর সে পায়নি। পরের দিন ঈদ। সবাই আজ চাঁদ দেখছে। তার ছেলেমেয়েরা কত আশা করে অপেক্ষা করে আছে। তাদের বাপজান ঘরে ফিরলে নতুন জামা পরে তারা খুশির ঈদ পালন করবে। মাঝির বিবি তার বিহনে চোখের জলে বুক ভাসাচ্ছে। এই সমস্ত কথা মনে করে মাঝির মন বাড়ির জন্য অস্থির হয়ে উঠেছে। সেও তার পোলাপান আর বিবির কথা চিন্তা করে নতুন জামাকাপড় কিনেছে। তাই আজ রাতের মধ্যে যে করেই হোক মাঝিকে বাড়ি পৌঁছোতে হবে। আপন মানুষ, কাছের মানুষ, প্রিয় মানুষের কাছে পৌঁছোনোর জন্য মাঝির মন উতলা হয়েছে। তাই সুতামজুর মাঝির বিপদের কথা চিন্তা করে বাধা দিতে গেলে মাঝি আবেগ, উৎকণ্ঠা গোপন না করে উক্ত উক্তিটি করেছেন।

সমরেশ বসুর ‘আদাব’ গল্পে নাওয়ের মাঝির কীভাবে মৃত্যু হয়েছিল?

‘আদাব’ গল্পে লেখক যে পটভূমি তৈরি করেছেন তা নিঃসন্দেহে মৃত্যুর হিমশীতল স্পর্শে রক্তিম। কারণ গল্পশেষে দেখা যায় বাদামতলির ঘাট হয়ে বুড়িগঙ্গার হেইপারে যেতে গিয়ে পুলিশ অফিসারের গুলিতে মাঝির মৃত্যু হয়েছে। মাঝি তখন পলায়মান। অন্ধকারকে সরিয়ে তার যাত্রা। হঠাৎ শব্দ ওঠে— ‘হলট…’ বুট পরে কারা যেন ছোটাছুটি করছে, বলছে— ‘ডাকু ভাগতা হ্যায়।’ এরপরেই পুলিশ অফিসার রিভলবার হাতে রাস্তার ওপর লাফিয়ে পড়ে। নৈশ স্তব্ধতাকে কাঁপিয়ে দুবার গর্জে ওঠে তার আগ্নেয়াস্ত্র— ‘গুড়ুম, গুড়ুম।’ দুটি নীলাভ আগুনের ঝলক। ডাকুটার মরণ-আর্তনাদ ওঠে, অর্থাৎ মাঝির মৃত্যু ঘটে।


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘আদাব’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ব্যাকরণ বিভাগ - দল - অষ্টম শ্রেণি - বাংলা

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – দল

ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

About The Author

Souvick

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – দল

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর