এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণের “ব্যাকরণ বিভাগ” থেকে “বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া ও অব্যয়” নিয়ে আলোচনা করবো। এই অংশ অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

শব্দ কাকে বলে?
এক বা একাধিক ধ্বনি যুক্ত হয়ে সুস্পষ্ট অর্থপ্রকাশক শ্রুতিমধুর যে ভাষাখণ্ড তৈরি করে, তাকে শব্দ বলে।
বিভক্তি কাকে বলে?
যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ শব্দ বা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদ গঠন করে, তাকে বিভক্তি বলে।
বিভক্তি কত প্রকার ও কী কী?
বিভক্তি দু-প্রকার, যথা: শব্দ বিভক্তি এবং ধাতু বিভক্তি। শব্দের সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হলে হয় শব্দ বিভক্তি। আর ধাতুর সাথে বিভক্তি যুক্ত হলে হয় ধাতু বিভক্তি।
পদ কাকে বলে?
শব্দ বিভক্তিযুক্ত হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হওয়ার মর্যাদা পেলে, তাকে পদ বলে।
বাক্যে শব্দ বিভক্তি ও ধাতু বিভক্তিযুক্ত পদের প্রয়োগ দেখাও।
বাক্যে শব্দ বিভক্তি ও ধাতু বিভক্তিযুক্ত পদের প্রয়োগগত উদাহরণ হল – মায়া স্কুল যাচ্ছে। এখানে মায়া – শব্দ বিভক্তি, স্কুল – শব্দ বিভক্তি, যাচ্ছে – ধাতু বিভক্তি।
বাংলা বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলিকে কত ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?
বাংলা বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলিকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলি হল – বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া ও অব্যয়।
বিশেষ্য পদ বা নামপদ কাকে বলে? অথবা, বিশেষ্য পদকে কীভাবে চেনা যায়?
কোনো পদের দ্বারা কোনো বিশেষ নামকে যদি বোঝানো হয়, তবে তাকে বিশেষ্য পদ বলে চিনে নিতে হবে। একে নামপদও বলা হয়। যেমন – রবীন্দ্রনাথ বিশ্বকবি।
ব্যক্তি বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
সংজ্ঞা অর্থাৎ নাম। যে বিশেষ্য পদ কোনো স্থান, দেশ, রাজ্য, বই, মানুষ, পশুপাখি, নদী, পাহাড়, জঙ্গল, সমুদ্র, মরুভূমি, গ্রহনক্ষত্র, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদির নাম বোঝায়, তাকে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য পদ বলে। যেমন – ভারতবর্ষ, কোরান, ত্রিপিটক, বঙ্গোপসাগর, বাংলা, সূর্য ইত্যাদি।
জাতিবাচক বিশেষ্য কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে বিশেষ্য পদের সাহায্যে কোনো জাতি, শ্রেণি ইত্যাদির নাম বোঝানো হয় তাকে বলে জাতিবাচক বিশেষ্য। যেমন – পশু, পাখি, লতা, গাছ, মানুষ, হিন্দু, মুসলমান ইত্যাদি।
পদার্থ বা বস্তুবাচক বিশেষ্য কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে শ্রেণিবাচক বিশেষ্য কোনো পদার্থ বা বস্তুর নাম বোঝায়, তাকে পদার্থ বা বস্তুবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন – সোনা, রুপো, তামা, হিরে, তেল, নুন, ঘি, মাটি, বাটি ইত্যাদি।
গুণবাচক ও অবস্থাবাচক বিশেষ্য কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো বস্তু বা প্রাণীর গুণ ও অবস্থাকে বোঝানো হয়, তাকে বলা হয় গুণবাচক ও অবস্থাবাচক বিশেষ্য। যেমন – স্বাধীনতা আমাদের জন্মগত অধিকার। সুখে থাকতে চায় সবাই। শৈশব জীবনের স্মৃতি বড়োই মধুর।
সর্বনাম পদ কাকে বলে? অথবা একই নামকে বারবার ব্যবহার না করে বাক্যে কোন্ পদটি ব্যবহার করা হয়?
সাধারণত নামের বা বিশেষ্যের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলা হয়। একই নামকে বাক্যে বারবার ব্যবহার করলে একঘেয়েমি আসে, তাই তার পরিবর্তে সর্বনাম পদ ব্যবহার করা হয়। যেমন – কবি কাজী নজরুল বিদ্রোহী কবি নামে পরিচিত। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি। (এখানে দ্বিতীয় বাক্যে বিশেষ্য কাজী নজরুলের পরিবর্তে ‘তিনি’ পদটি ব্যবহৃত হয়েছে, এটি সর্বনাম পদ)।
পুরুষবাচক সর্বনাম পদ কাকে বলে?
উত্তম, মধ্যম, প্রথম – এই তিন পুরুষ অনুযায়ী যে সর্বনাম পদ বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তাকে পুরুষবাচক সর্বনাম পদ বলে। যেমন – উত্তম পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি-আমরা, আমাকে-আমাদের। মধ্যম পুরুষবাচক সর্বনাম: তুমি-তোমরা, তুই-তোরা। প্রথম পুরুষবাচক সর্বনাম: সে-তারা, তাকে-তাদের।
সাকল্যবাচক সর্বনাম কাকে বলে?
যে সর্বনাম ব্যক্তি, বস্তু ইত্যাদির সমষ্টিকে বোঝায় তাকে সাকল্যবাচক সর্বনাম বলা হয়। যেমন – সব, সর্ব, সবাই, সকল, সবার, উভয়, সব্বাই ইত্যাদি।
সাপেক্ষবাচক সর্বনাম কাকে বলে?
যে সর্বনাম পদ দুই বা তার বেশি ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের মধ্যে যোগাযোগ বোঝায়; তাকে সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বলে। যেমন – যে-সে, যিনি-তিনি, যা-তা, যত-তত, যাকে-তাকে, যার-সেই, যে-সেই ইত্যাদি।
প্রশ্নসূচক সর্বনাম কাকে বলে?
যে সর্বনাম পদ কোনো জিজ্ঞাসা বা প্রশ্ন বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, তাকে প্রশ্নসূচক সর্বনাম বলে। যেমন – কে, কী, কোনটা, কারা, কী কী, কীসে, কোন্, কাকে, কখন, কোথায় ইত্যাদি।
আত্মবাচক সর্বনাম কাকে বলে?
যে সর্বনাম পদ আত্ম বা নিজেকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, তাকে আত্মবাচক সর্বনাম বলে। যেমন – নিজ, নিজে, আপনি, আপনার, স্বয়ং ইত্যাদি।
অন্যাদি সর্বনামের উদাহরণ দাও।
অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি অন্যাদি সর্বনামের উদাহরণ।
বাক্যে প্রয়োগ করে ব্যতিহারিক সর্বনামের একটি উদাহরণ দাও।
রাগ হলে অসীমার মাথার ঠিক থাকে না, কিন্তু সবাই জানে রাগ কমলে সে আপনা-আপনিই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।
সামীপ্যবোধক সর্বনাম কখন হয়?
নৈকট্য বোঝাতে সামীপ্যবোধক সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন – প্রাণীবাচক: এঁরা, ইনি। অপ্রাণীবাচক: ইহা, এ, এটা ইত্যাদি।
পরোক্ষবোধক সর্বনামের উদাহরণ দাও।
পরোক্ষবোধক সর্বনামের উদাহরণ হল – ও, ওটা, উনি ইত্যাদি।
বিশেষণ পদ কাকে বলে? অথবা, কোন্ পদের দ্বারা বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের গুণ, দোষ, অবস্থা, সংখ্যা ও পরিমাণ বোঝানো হয়ে থাকে?
কোনো কিছুকে বিশিষ্ট করে যে পদ, তাকেই বিশেষণ পদ বলা হয়। বিশেষণ পদের দ্বারা বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের গুণ, দোষ, অবস্থা, সংখ্যা ও পরিমাণ বোঝানো হয়ে থাকে। যেমন – হলুদ রঙের জামা পরে মেয়েটি স্কুলে যাচ্ছে। (এখানে ‘জামা’ বিশেষ্য পদ, ‘হলুদ রঙের’ তাকে বিশেষিত করছে বলে তা বিশেষণ পদ)।
বিশেষ্যের বিশেষণ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য পদের গুণ, দোষ, অবস্থা বোঝায়, তাকে বিশেষ্যের বিশেষণ বলে। যেমন – নীল ছাতা, কালো মেয়ে ইত্যাদি।
সর্বনামের বিশেষণ কাকে বলে?
যে বিশেষণ সর্বনাম পদের দোষ, গুণ, অবস্থা ইত্যাদি বুঝিয়ে থাকে, তাকে বলে সর্বনামের বিশেষণ। যেমন – কোনো কোনো জায়গায় বৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষণের বিশেষণ কাকে বলে?
যে বিশেষণ অন্য কোনো বিশেষণের দোষ, গুণ, অবস্থা, প্রকৃতি, সংখ্যা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণের বিশেষণ বলে। যেমন – প্রচণ্ড দ্রুত বেগে লোকটি দৌড়াচ্ছে। খুব ভালো জামা ইত্যাদি।
লাল জামা পরে মেয়েটি যাচ্ছে। – বিশেষণের বিশেষণ যোগ করে লেখো।
লাল জামা পরে মেয়েটি যাচ্ছে। – বাক্যটিকে বিশেষণের বিশেষণ যোগ করে লিখলে হয় – গাঢ় লাল জামা পরে মেয়েটি যাচ্ছে। এখানে ‘গাঢ়’ হল বিশেষণের বিশেষণ।
ক্রিয়াবিশেষণ কাকে বলে?
যে বিশেষণ পদ ক্রিয়ার প্রকৃতিকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। যেমন – জোরে চলো, ধীরে বলো, এদিকে এসো ইত্যাদি।
আমি লিখি। – বাক্যটিতে ক্রিয়াবিশেষণ যোগ করে লেখো।
আমি লিখি। – বাক্যটিতে ক্রিয়াবিশেষণ যোগ করে লিখলে হয় – আমি দ্রুত লিখি। ‘দ্রুত’ হল ক্রিয়াবিশেষণ।
বাক্যের ক-টি অংশ? কী কী লেখো।
বাক্যের দুটি অংশ – উদ্দেশ্য ও বিধেয়। বাক্যে যার সম্বন্ধে কিছু বলা হয়, তাকে বলা হয় উদ্দেশ্য। আর বাক্যে উদ্দেশ্যের সম্বন্ধে যা কিছু বলা হয়, তা হল বিধেয়। যেমন – রমিতা গায়। এখানে ‘রমিতা’ হল উদ্দেশ্য, ‘গায়’ হল বিধেয়।
ক্রিয়া কাকে বলে?
যে পদ দ্বারা বাক্যের উদ্দেশ্য বা কর্তার হওয়া বা কোনো কিছু করা বোঝানো হয়, তাকে বলে ক্রিয়া। যেমন – রেশমি আঁকে।
ধাতু কাকে বলে?
ক্রিয়াপদের অবিভাজ্য মূলকে ধাতু বলে। যেমন – বল্ (ধাতু) + ছে (ক্রিয়া বিভক্তি) = বলছে। চল্ (ধাতু) + লাম (ক্রিয়া বিভক্তি) = চললাম।
ক্রিয়া কীভাবে তৈরি হয়?
ধাতুর সঙ্গে ক্রিয়া বিভক্তি যুক্ত হয়ে তৈরি হয় ক্রিয়া।
প্রদত্ত শব্দগুলি থেকে ধাতু, ক্রিয়া বিভক্তি ও ক্রিয়াপদ চিহ্নিত করো। – করলাম, করি, বলি, নাচলাম।
কর্ (ধাতু) + লাম (ক্রিয়া বিভক্তি) = করলাম (ক্রিয়াপদ)। কর্ (ধাতু) + ই (ক্রিয়া বিভক্তি) = করি (ক্রিয়াপদ)। বল্ (ধাতু) + ই (ক্রিয়া বিভক্তি) = বলি (ক্রিয়াপদ)। নাচ্ (ধাতু) + লাম (ক্রিয়া বিভক্তি) = নাচলাম (ক্রিয়াপদ)।
বাক্যে অবস্থানের দিক থেকে ক্রিয়াপদ কত প্রকার?
বাক্যে অবস্থানের দিক থেকে ক্রিয়াপদ দু-প্রকার। যথা – সমাপিকা ক্রিয়া ও অসমাপিকা ক্রিয়া।
সমাপিকা ক্রিয়া কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে ক্রিয়াপদ দ্বারা বাক্যের ভাব ও অর্থ সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলা হয়। যেমন – শিশুটি ঘুমাচ্ছে। আমি গান শুনলাম। আমি ভালো আছি।
অসমাপিকা ক্রিয়া কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে ক্রিয়াপদ বাক্যের ভাব ও অর্থ সম্পূর্ণ করে না অর্থাৎ বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন – প্রমীলা হাত-মুখ ধুয়ে গান গাইতে বসল।
নীচের বাক্যগুলি থেকে সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়া চিহ্নিত করো।
অনন্যা বাড়ি ফিরে বাজার গেল। এখানে ‘ফিরে’ – অসমাপিকা ক্রিয়া, ‘গেল’ – সমাপিকা ক্রিয়া। সুবর্ণা খেয়ে পড়তে বসল। এখানে ‘খেয়ে’, ‘পড়তে’ – অসমাপিকা ক্রিয়া, ‘বসল’ – সমাপিকা ক্রিয়া। মিমি লাল শাড়ি পরে নাচছে। এখানে ‘পরে’ – অসমাপিকা ক্রিয়া, ‘নাচছে’ – সমাপিকা ক্রিয়া। বাবাই কাল সকালে উঠে বেনারস যাবে। এখানে ‘উঠে’ – অসমাপিকা ক্রিয়া, ‘যাবে’ – সমাপিকা ক্রিয়া। তানিয়া মিষ্টি খেতে খুব ভালোবাসে। এখানে ‘খেতে’ – অসমাপিকা ক্রিয়া, ‘ভালোবাসে’ – সমাপিকা ক্রিয়া। তারা গাইতে গাইতে এদিকেই আসছে। এখানে ‘গাইতে গাইতে’ – অসমাপিকা ক্রিয়া, ‘আসছে’ – সমাপিকা ক্রিয়া।
অব্যয় বলতে কী বোঝো?
‘ব্যয়’ কথাটির অর্থ ‘বিভক্তিজনিত শব্দ’ বা ‘পদের রূপভেদ’, যাদের এরূপ কোনো ‘ব্যয়’ নেই তারাই অব্যয়। বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ (পদ) আছে যাদের রূপভেদ হয় না। লিঙ্গ, বচন, পুরুষ ও বিভক্তি ভেদে এরা অপরিবর্তনীয়, তাই এদেরকেই অব্যয় বলা হয়। যেমন – এবং, কিংবা, আহা, নচেৎ, তো, বরং, সুতরাং ইত্যাদি।
সংযোজক অব্যয় কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
একাধিক বাক্য বা পদের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যে অব্যয়, তাকেই বলে সংযোজক অব্যয়। যেমন – কমলিকা ও হিয়া বেড়াতে যাবে। মহুয়া আর রোহনের বিয়ে। যদি বৃষ্টি হয় তবে আমি যাব না। বাবাই খেলতে গেল এবং টুসকি খেতে বসল।
আবেগসূচক অব্যয় কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
আবেগ, অনুভূতি প্রকাশের জন্য যে অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়, তাকে বলে আবেগসূচক অব্যয়। যেমন – বাঃ, শাড়িটা দারুণ দেখতে। ইস্, কাচের গ্লাসটা পড়ে ভেঙে গেল। শাবাশ, দারুণ দৌড়েছ।
আলংকারিক অব্যয় কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
বাক্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য যেসব অব্যয় ব্যবহৃত হয়, তাকে বলে আলংকারিক অব্যয়। যেমন – আমি তো সেসব শুনিনি। সে সৎ বটে। তুমি এখনও যাওনি যে, কী ব্যাপার?
নীচের অংশটি থেকে অব্যয়গুলি শনাক্ত করো এবং সেটি কী অব্যয় লেখো।
বাঃ! কী চমৎকার গান গাও তুমি। পাড়ার সরস্বতী পুজোর ফাংশনে তুমি তো এ বছর গাইতে পারো। তুমি কাল গিয়ে নাম লিখিয়ে এবং কবে কখন অনুষ্ঠান হবে সে বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে এসো। উক্ত অংশটিতে তিনটি অব্যয় পদ আছে – ‘বাঃ’ – আবেগসূচক অব্যয়, ‘তো’ – আলংকারিক অব্যয় এবং ‘এবং’ – সংযোজক অব্যয়।
নীচের বাক্যগুলিতে কোনটি কোন্ শ্রেণির অব্যয় তা নির্দেশ করো।
আমি আর তুমি সেখানে যাব। এখানে ‘আর’ – সংযোজক অব্যয়। বাঃ, চমৎকার বলেছে! এখানে ‘বাঃ’ – আবেগসূচক অব্যয়। এ তো মেয়ে মেয়ে নয়, দেবতা নিশ্চয়। এখানে ‘তো’ – আলংকারিক অব্যয়। শাবাশ! এমন কাজ তো তোমাকেই মানায়। (শাবাশ বানানটি পাঠ্যবইয়ের ‘হাতেকলমে’ অংশে ভুল দেওয়া আছে, যথার্থটি উত্তরে দেওয়া হল) এখানে ‘শাবাশ’ – আবেগসূচক অব্যয়। তুমি বা সে সময়মতো আমার কাছে জিনিসটি পৌঁছে দেবে। এখানে ‘বা’ – সংযোজক অব্যয়।
ঠিক বিকল্পটি বেছে নিয়ে বাক্যটি আবার লেখো –
তোকে নিয়ে আর পারি না। নিম্নরেখাঙ্কিত অংশটি (আর) হল –
- বিশেষ্য 2. বিশেষণ 3. অব্যয় 4. ক্রিয়া। উত্তর – 3. অব্যয়।
তোমার কথা বলতে বলতেই তুমি চলে এলে। – এই বাক্যে অসমাপিকা ক্রিয়াটি হল –
- কথা বলতে বলতে 2. বলতে বলতে 3. এলে 4. চলে এলে। উত্তর – 2. বলতে বলতে।
মূলকে বলে –
- সমাপিকা 2. অসমাপিকা 3. ধাতু 4. প্রত্যয়। উত্তর – 3. ধাতু।
ওর কথা আর তুমি বোলো না। ওকে কেউ পছন্দ করে গঠন করে না। আমি এটা জানি। – এই অংশে সর্বনামের সংখ্যা হল –
- ছয় 2. সাত 3. পাঁচ 4. চার। উত্তর – 1. ছয়। এগুলি হল – ‘ওর’, ‘তুমি’, ‘ওকে’, ‘কেউ’, ‘আমি’, ‘এটা’।
আমি এবং সুভাষ কলকাতায় যাব। কিন্তু তুমি যে যাবে সেটাও আমার জানা। – এই অংশে অব্যয়ের সংখ্যা হল –
- দুই 2. তিন 3. চার 4. পাঁচ। উত্তর – 1. দুই। এগুলি হল – ‘এবং’, ‘কিন্তু’।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণের “ব্যাকরণ বিভাগ” থেকে “বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া ও অব্যয়” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই অংশটি অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অষ্টম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে এসেছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





Leave a Comment