অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – সমাস

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণের “ব্যাকরণ বিভাগ” থেকে “সমাস” নিয়ে আলোচনা করবো। এই অংশ অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

ব্যাকরণ বিভাগ - সমাস - অষ্টম শ্রেণি - বাংলা
Contents Show

সমাস কাকে বলে?

অর্থসম্বন্ধযুক্ত দুই বা ততোধিক পদের মিলিত হওয়ার এবং একপদীকরণের পদ্ধতির নাম সমাস। যেমন – জায়া ও পতি = দম্পতি। এক্ষেত্রে ‘জায়া’ এবং ‘পতি’ – এই দুই পদের মিলনের ফলে একটি পদ ‘দম্পতি’র সৃষ্টি হচ্ছে।

সমাস শব্দটির সাধারণ অর্থ লেখো।

সমাস শব্দটির সাধারণ অর্থ হল – সংক্ষিপ্ত করা (সম্ + √অস্ + ঘঞ্ = সমাস)।

ভাষার কোন্ প্রক্রিয়াকে ব্যাকরণে ‘সমাস’ বলা হয়?

ভাষার সংক্ষিপ্তকরণ ও একপদীকরণ প্রক্রিয়াকে ব্যাকরণে সমাস বলা হয়।

নীচের প্রতিক্ষেত্রে সংজ্ঞা নির্দেশ করো।

  • সমস্তপদ – দুটি পদের মিলনের ফলে সমাস হওয়ার পর যে নতুন পদটি তৈরি হয়, সেই নতুন সৃষ্টি হওয়া পদটিকে সমস্তপদ বলে। যেমন – শূল হস্তে যাহার = শূলপাণি। এক্ষেত্রে ‘শূলপাণি’ পদটি সমস্তপদ।
  • সমস্যমান পদ – দুই বা ততোধিক যে পদগুলির মিলনের ফলে সমাস সংঘটিত হয়, সেই পদগুলিকে সমস্যমান পদ বলে। যেমন – পূর্ণ যে চন্দ্র = পূর্ণচন্দ্র। এক্ষেত্রে ‘পূর্ণ’ এবং ‘চন্দ্র’ – এই দুই পদই সমস্যমান পদ। সমস্যমান পদ দুইপ্রকার, যথা – পূর্বপদ এবং পরপদ বা উত্তরপদ।
  • পূর্বপদ – সমস্যমান পদগুলির প্রথমটির নাম পূর্বপদ। যথা – রাজার পুত্র = রাজপুত্র। এক্ষেত্রে ‘রাজার’ পদটি যেহেতু প্রথমপদ তাই এটিই পূর্বপদ।
  • উত্তর পদ – সমস্যমান পদগুলির শেষেরটি অর্থাৎ পূর্বপদের পরের পদটির নাম উত্তরপদ বা পরপদ, যেমন – রাজার পুত্র = রাজপুত্র। এক্ষেত্রে ‘পুত্র’ পদটি যেহেতু ‘রাজার’ পদটির পরে বসেছে তাই ‘রাজার’ পদটি হল পূর্বপদ এবং ‘পুত্র’ পদটি হল পরপদ।
  • ব্যাসবাক্য – যে বাক্য বা বাক্যাংশের মাধ্যমে সমস্যমান পদগুলির অর্থ এবং তাদের মধ্যেকার সম্বন্ধ ব্যাখ্যা করা হয়, তাকে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহ বাক্য (ব্যাস, বিগ্রহ = বিশ্লেষণ) বলে। যেমন – শ্বেত যে চন্দন = শ্বেতচন্দন। এক্ষেত্রে ‘চন্দন’ ও ‘শ্বেত’ এই দুই সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী সম্পর্ককে ‘শ্বেত যে চন্দন’ এই বাক্যটি ব্যাখ্যা করেছে, তাই ‘শ্বেত যে চন্দন’ বাক্যটি হল ব্যাসবাক্য।

সন্ধি ও সমাসের মিল কোথায়?

সন্ধি ও সমাস, ভাষার এই দুই প্রক্রিয়াই শব্দসমূহের সংক্ষিপ্তকরণ ঘটায়। এটিই সন্ধি ও সমাসের মধ্যে সাদৃশ্য।

সন্ধি ও সমাসের একটি পার্থক্য লেখো।

সন্ধিসমাস
সন্ধিতে পরস্পর সন্নিহিত দুটি ধ্বনি বা ধ্বনিসমূহের মিলন ঘটে।সমাসে অর্থসম্বন্ধযুক্ত একাধিক পদের মিলন ঘটে একপদীকরণ সম্পন্ন হয়।

সন্ধি ও সমাসের অপরাপর প্রভেদগুলি সম্পর্কে আলোচনা করো।

সন্ধিসমাস
সন্ধিতে পদের অর্থের প্রাধান্য বিচারের বিষয়টি থাকে না।একমাত্র দ্বন্দ্ব সমাসে প্রতিটি পদের অর্থ প্রাধান্য পায়। তৎপুরুষ ও কর্মধারয় সমাসে পরপদের অর্থপ্রাধান্য থাকে। অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের এবং বহুব্রীহিতে ইঙ্গিতময় তৃতীয় একটি পদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
সন্ধিতে বিভক্তি লোপের বিষয়টি নেই।সমাসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায়।
সন্ধিতে পদগুলির ক্রম অক্ষুণ্ণ থাকে।সমাসে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পদদুটি স্থান পরিবর্তন করে।
সন্ধিতে শব্দের অর্থের কোনো পরিবর্তন ঘটে না।সমাসে অর্থের অনেক রকম পরিবর্তন হয়।
সন্ধিতে কখনোই একটি শব্দের জায়গায় অন্য শব্দ আসে না।সমাসে কোনো-কোনো ক্ষেত্রে শব্দের স্থান পরিবর্তিত হয়।

সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসারে সমাস কত প্রকার ও কী কী?

সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসারে সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথা –

  1. অব্যয়ীভাব,
  2. তৎপুরুষ,
  3. দ্বন্দ্ব,
  4. বহুব্রীহি।

সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসারে কোন্ কোন্ সমাসকে তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্গত করা হয় এবং কেন?

কর্মধারয় ও দ্বিগু সমাসকে সংস্কৃত ব্যাকরণানুসারে তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্গত করা হয় কেন-না কর্মধারয় ও দ্বিগু সমাসেও তৎপুরুষ সমাসের মতো পরপদ বা উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

বাংলা ব্যাকরণ অনুসারে সমাস কত প্রকার ও কী কী?

উত্তর বাংলা ব্যাকরণ অনুসারে সমাস আট প্রকার যথা –

  1. কর্মধারয়,
  2. তৎপুরুষ,
  3. দ্বন্দ্ব,
  4. বহুব্রীহি,
  5. দ্বিগু,
  6. নিত্য,
  7. অলোপ,
  8. বাক্যাশ্রয়ী।

কোন্ কোন্ সমাসে কোন্ কোন্ পদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তা একটি ছকের সাহায্যে দেখাও।

সমাসপূর্বপদ অর্থপ্রাধান্যপরপদ অর্থপ্রাধান্যঅন্যান্য পদ অর্থপ্রাধান্য
কর্মধারয়××
তৎপুরুষ××
দ্বন্দ্ব×
বহুব্রীহি××
দ্বিগু××
নিত্য×
অলোপ×
বাক্যাশ্রয়ী××

কর্মধারয় সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে সমাসের পূর্বপদ সাধারণত পরপদের বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয় এবং সমাস সংঘটনের পর সমাসবদ্ধ পদে উত্তর পদ বা পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলা হয়। যেমন – যিনি ঋষি তিনিই বালক = ঋষিবালক।

কর্মধারয় সমাস কত প্রকার ও কী কী?

কর্মধারয় সমাস পাঁচপ্রকার। যথা –

  1. সাধারণ কর্মধারয়,
  2. উপমিত কর্মধারয়,
  3. উপমান কর্মধারয়,
  4. রূপক কর্মধারয়,
  5. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়।

সাধারণ কর্মধারয় সমাস কাকে বলে?

বিশেষ্য ও বিশেষণের নানা অবস্থানে ঘটে থাকা কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় বলে।

সাধারণ কর্মধারয় কী কী ভাবে ঘটতে পারে লেখো।

মোটামুটি পাঁচ ভাবে সাধারণ কর্মধারয় সমাস ঘটতে পারে। যথা –

  • পূর্বপদ বিশেষণ + পরপদ বিশেষ্য – সেজো যে কাকা = সেজোকাকা।
  • পূর্বপদ বিশেষ্য + পরপদ বিশেষ্য – যিনি পিতা তিনিই দেব = পিতৃদেব।
  • পূর্বপদ বিশেষণ + পরপদ বিশেষণ – কাঁচা অথচ মিঠে = কাঁচামিঠে।
  • কয়েকটি ক্ষেত্রে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হওয়া সত্ত্বেও সমস্তপদ গঠিত হওয়ার সময়ে বিশেষণ পদটি বিশেষ্যের পরে বসে কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন – সাধারণ যে জন = জনসাধারণ। সেদ্ধ যে আলু = আলুসেদ্ধ।
  • পৌর্বাপর্য বা আগে-পরে বোঝাতে – আগে দেখা পরে শোনা = দেখাশোনা। পূর্বে সুপ্ত পরে উত্থিত = সুপ্তোত্থিত।

পূর্বপদ বিশেষণ, পরপদ বিশেষ্য এরূপ সাধারণ কর্মধারয় সমাস -এর উদাহরণ দাও।

নীল যে অম্বর = নীলাম্বর, অর্ধ যে ইন্দু = অর্ধেন্দু, শ্বেত যে পদ্ম = শ্বেতপদ্ম, মিষ্ট যে অন্ন = মিষ্টান্ন, ফুল যে মোজা = ফুলমোজা, সু যে পুরুষ = সুপুরুষ।

পূর্ব ও পরপদ উভয়ই বিশেষণ এরূপ সাধারণ কর্মধারয় সমাস -এর উদাহরণ দাও।

যা অনিন্দ্য তাই সুন্দর = অনিন্দ্যসুন্দর, যিনি হাবা তিনিই গোবা = হাবাগোবা, যা মিঠে তাই কড়া = মিঠেকড়া, যিনি চালক তিনিই চতুর = চালাকচতুর।

পূর্ব ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য এরূপ সাধারণ কর্মধারয় সমাস -এর উদাহরণ দাও।

যিনি বাবা তিনিই ঠাকুর = বাবাঠাকুর, যিনি দাদা তিনিই মশাই = দাদামশাই, যিনি রাজা তিনিই ঋষি = রাজর্ষি, যিনি মাতৃ তিনিই দেবী = মাতৃদেবী।

আগে পরে বোঝাতে উভয় পদ বিশেষ্য এরূপ সাধারণ কর্মধারয় সমাস -এর উদাহরণ দাও।

আগে বোঝা পরে পড়া = বোঝাপড়া, আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা, আগে পড়া পরে লেখা = পড়ালেখা, আগে দেখা পরে শোনা = দেখাশোনা।

উপমামূলক কর্মধারয় সমাস কাকে বলে? এই সমাস কত প্রকার ও কী কী?

সাদৃশ্য বোঝাতে উপমা ব্যবহার করা হয় যে কর্মধারয় সমাসে, তাকে উপমামূলক কর্মধারয় সমাস বলা হয়।

উপমামূলক কর্মধারয় সমাস তিন প্রকার। যথা –

  1. উপমান কর্মধারয়,
  2. উপমিত কর্মধারয়,
  3. রূপক কর্মধারয়।

উপমিত কর্মধারয় সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদে উপমেয় (যার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে) এবং পরপদে উপমান (যাকে তুলনা করা হচ্ছে) থাকে এবং সাধারণ ধর্মের উল্লেখ থাকে না, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। এক্ষেত্রে পূর্ব ও পর দুটি পদই বিশেষ্য হলেও উত্তর পদটি বিশেষণের মতো ব্যবহার করে। যেমন –

  • চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল।
  • মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।
  • চরিত অমৃতের ন্যায় = চরিতামৃত।
  • নর সিংহের ন্যায় = নরসিংহ/নৃসিংহ।

উপমান কর্মধারয় সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ উপমান (যাকে তুলনা করা হচ্ছে) এবং উত্তর পদে সাধারণ ধর্ম থাকে, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। এক্ষেত্রে পূর্বপদটি বিশেষ্য এবং পরপদটি বিশেষণ হয়। যেমন –

নিকষের ন্যায় কালো = নিকষকালো। গোরুর ন্যায় বেচারা = গোবেচারা। মেঘের ন্যায় বরণ = মেঘবরণ। বিড়ালের ন্যায় তপস্বী = বিড়ালতপস্বী।

রূপক কর্মধারয় সমাস বলতে কী বোঝো?

যে কর্মধারয় সমাসে পূর্বপদে উপমেয় (যার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে) এবং উত্তর পদে উপমান (যাকে তুলনা করা হচ্ছে) এবং এদের মধ্যে অভেদ বা অভিন্নতা কল্পনা করা হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন –

  • মনরূপ মাঝি = মনমাঝি
  • জীবনরূপ তরী = জীবনতরী
  • প্রাণরূপ পাখি = প্রাণপাখি
  • জীবনরূপ আনন্দ = জীবনানন্দ।

উপমিত কর্মধারয় এবং উপমান কর্মধারয় সমাসের একটি পার্থক্য লেখো।

উপমিত কর্মধারয় সমাসউপমান কর্মধারয় সমাস
পূর্বপদে উপমেয় এবং পরপদে উপমান থাকে আর সাধারণ ধর্ম প্রকাশিত থাকে না।পূর্বপদে উপমান এবং উত্তর পদে সাধারণ ধর্মের উল্লেখ থাকে। উপমেয় উহ্য থাকে, সরাসরি প্রকাশিত হয় না।

উপমিত, উপমান এবং রূপক কর্মধারয় সমাসের প্রভেদ দেখাও।

উপমিত কর্মধারয় সমাসউপমান কর্মধারয় সমাসরূপক কর্মধারয় সমাস
পূর্বপদ উপমেয়পূর্বপদ উপমানপূর্বপদ উপমেয়
পূর্বপদ এবং পরপদ দুটিই বিশেষ্য কিন্তু উত্তর পদ বিশেষণের মতো ব্যবহৃত হয়।পূর্বপদ বিশেষ্য, পরপদ বিশেষণ।পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য।
সাধারণ ধর্মের উল্লেখ থাকে না।সাধারণ ধর্মের উল্লেখ পরপদে থাকে।সাধারণ ধর্ম থাকে না, কল্পনা করা হয়। কিন্তু ধর্মটিকে স্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট করা হয় না। বুঝে নিতে হয়।
ন্যায়, মতো শব্দগুলির প্রয়োগ ব্যাসবাক্যের শেষে হয়।ন্যায়, মতো শব্দগুলির প্রয়োগ ব্যাসবাক্যের মাঝে করা হয়।ন্যায়, মতো ইত্যাদি শব্দপ্রয়োগ হয় না, পরিবর্তে রূপ শব্দের প্রয়োগ ঘটে।

মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায় যে সমাসে, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন –

  • বরফের ন্যায় ঠান্ডা যে জল = বরফজল।
  • অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ জানিয়ে যে পত্র = নিমন্ত্রণপত্র।
  • রাষ্ট্র-বিষয়ক যে নীতি = রাষ্ট্রনীতি।
  • মানি রাখার ব্যাগ = মানিব্যাগ।

তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে সমাসের পূর্বপদের কর্ম, করণ, অপাদান ইত্যাদি কারকের বিভক্তিচিহ্ন বা বিভক্তি স্থানীয় অনুসর্গ লোপ পায় এবং এই সমাসের পরপদের অর্থ প্রাধান্য লাভ করে, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এই সমাসের ক্ষেত্রে ব্যাসবাক্য গঠন করতে হলে পূর্বপদে অর্থ অনুযায়ী কর্ম, করণ, অপাদান, অধিকরণ ইত্যাদি কারকের বিভক্তিচিহ্ন বা বিভক্তি স্থানীয় অনুসর্গ যোগ করতে হয়। যেমন –

  • রথকে দেখা = রথদেখা।
  • সত্যি কথা বলে যে = সত্যবাদী।
  • ঋষির পুত্র = ঋষিপুত্র।
  • সমুদ্রের মাঝ = মাঝসমুদ্র।

তৎপুরুষ সমাস কতপ্রকার ও কী কী? উদাহরণ দাও।

তৎপুরুষ সমাস বারো প্রকার। যথা –

  1. কর্মতৎপুরুষ,
  2. করণ তৎপুরুষ,
  3. নিমিত্ত তৎপুরুষ,
  4. অপাদান তৎপুরুষ,
  5. সম্বন্ধ তৎপুরুষ,
  6. অধিকরণ তৎপুরুষ,
  7. নঞ্তৎপুরুষ/না-তৎপুরুষ,
  8. উপপদ তৎপুরুষ,
  9. একদেশী তৎপুরুষ,
  10. ব্যাপ্তি তৎপুরুষ,
  11. ক্রিয়াবিশেষণ তৎপুরুষ,
  12. উপসর্গ তৎপুরুষ।

কর্মতৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

পূর্বপদের কর্ম কারকের বিভক্তিচিহ্ন ‘কে’ লোপ পায় যে সমাসে, তাকে কর্মতৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন –

  • কলাকে বেচা = কলাবেচা।
  • মাছকে ভাজা = মাছভাজা।
  • পকেটকে মারি = পকেটমারি।
  • পটলকে তোলা = পটলতোলা।

করণ তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

পূর্বপদের করণ কারকের ‘এ’, ‘য়’, ‘তে’ প্রভৃতি বিভক্তিচিহ্ন বা দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক প্রভৃতি অনুসর্গের লোপ হয় যে সমাসে, তাকে করণ তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন –

  • লাঠি দিয়ে পেটা = লাঠিপেটা।
  • বজ্রের দ্বারা আহত = বজ্রাহত।
  • কলের দ্বারা ছাঁটা = কলেছাঁটা।
  • শক্তি দ্বারা হীন = শক্তিহীন।

নিমিত্ত তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

নিমিত্ত, উদ্দেশ্য, জন্য প্রভৃতি নিমিত্তবাচক অংশগুলি যে সমাসে লোপ পায়, তাকে নিমিত্ত তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন –

  • ঠাকুরের নিমিত্ত ঘর = ঠাকুরঘর।
  • রান্নার নিমিত্ত ঘর = রান্নাঘর।
  • ভ্রমণের নিমিত্ত যাত্রা = ভ্রমণযাত্রা।
  • বন্যার নিমিত্ত ত্রাণ = বন্যাত্রাণ।

অপাদান তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

পূর্বপদের অপাদান কারকের ‘এ’, ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তিচিহ্ন কিংবা ‘হইতে’, ‘থেকে’, ‘চেয়ে’ প্রভৃতি অনুসর্গের লোপ ঘটে যে সমাসে, তাকে আপাদান তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন –

  • ঋণ হইতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।
  • জন্ম হইতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
  • রেশম হইতে জাত = রেশমজাত।
  • রোগ হইতে মুক্ত = রোগমুক্ত।

সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

পূর্বপদের সম্বন্ধের বিভক্তিচিহ্ন ‘র’ (এর), ‘দের’ প্রভৃতি বিভক্তি লোপ পায় যে সমাসে, তাকে সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন –

  • পিতার দায় = পিতৃদায়।
  • পশুর খাদ্য = পশুখাদ্য।
  • মামার বাড়ি = মামাবাড়ি।
  • সিংহের শিশু = সিংহশিশু।
  • হংসের রাজা = রাজহংস।

অধিকরণ তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

‘এ’, ‘য়’, ‘তে’ প্রভৃতি বিভক্তিচিহ্ন লোপ পায় যে সমাসে, তাকে অধিকরণ তৎপুরুষ সমাস বলে।

  • গৃহে বন্দী = গৃহবন্দী।
  • গঙ্গায় স্নান = গঙ্গাস্নান।
  • গলাতে ব্যথা = গলাব্যথা।
  • হাজতে বাস = হাজতবাস।

না-তৎপুরুষ/নঞ্তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

নঞ অব্যয়কে পূর্বপদ করে উত্তর পদ বিশেষ্য বা বিশেষণের যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন –

  • সার নয় ভাঙা = আভাঙা।
  • বৃষ্টির অভাব = অনাবৃষ্টি।
  • নয় গণ্য = নগণ্য।
  • নয় রাজি = গররাজি।

উপপদ তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উপপদের কোনো শব্দকে বিশ্লেষণ করলে প্রথমে একটি শব্দ তারপর ধাতু ও প্রত্যয় পাওয়া গেলে প্রথমের শব্দটিকে বলে উপপদ, তার সঙ্গে কৃদন্ত (কৃৎ প্রত্যয়যুক্ত পদ) পদের যে সমাস, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন –

  • জলে জন্মে যা = জলজ।
  • পরে জন্মেছে যে = অনুজ।
  • অরিকে দমন করেন যিনি = অরিন্দম।
  • দ্বার রক্ষা করে যে = দ্বাররক্ষী।

একদেশী তৎপুরুষ সমাস (দেশ অংশ) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদ বিভক্তিযুক্ত সমস্ত বা সম্পূর্ণ বস্তুকে বোঝায় এবং উত্তর পদ তারই একাংশ বোঝায়, তাকে একদেশী সম্বন্ধ তৎপুরুষ বা একদেশী তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন –

  • দিনের মাঝ = মধ্যাহ্ন।
  • দিনের পূর্বভাগ = পূর্বাহ্ণ।
  • নদীর মাঝ = মাঝনদী।
  • অহ্নের অপরভাগ = অপরাহ্ণ।

ব্যাপ্তি তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে তৎপুরুষ সমাসে স্থান বা কালের ব্যাপ্তি বোঝানো হয়, তাকে ব্যাপ্তি তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন –

  • চিরকাল ব্যাপী কুমার = চিরকুমার।
  • চিরকাল ব্যাপী শত্রু = চিরশত্রু।
  • ক্ষণকাল ব্যাপী স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী।
  • চিরকাল ব্যাপী বসন্ত = চিরবসন্ত।

ক্রিয়াবিশেষণ তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

ক্রিয়া বিশেষণবাচক পূর্বপদটির ‘ভাবে’, ‘রূপে’ অংশটির লোপে যে সমাস হয়, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ সমাস বলে।

  • আধভাবে কাঁচা = আধকাঁচা।
  • অর্ধভাবে মৃত = অর্ধমৃত।
  • অর্ধভাবে এক = অর্ধেক।
  • আধভাবে খাওয়া = আধখাওয়া।

উপসর্গ তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

এ, বি, উৎ প্রভৃতি উপসর্গ যে তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে থাকে, তাকে উপসর্গ তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন –

  • মৃত্যু পর্যন্ত = আমৃত্যু।
  • বছর বছর = ফি বছর।
  • ক্ষুদ্র গ্রহ = উপগ্রহ।
  • ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণ, অনুক্ষণ।

দ্বন্দ্ব সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে সমাসে ‘ও’, ‘এবং’, ‘আর’ সংযোজক পদ দিয়ে পূর্বপদ ও উত্তর পদ যুক্ত হয় এবং সমাসবদ্ধ পদে সংযোজক পদটি লুপ্ত হয়ে উভয় পদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দের অর্থ ‘যুক্ত’। যেমন –

  • পিতা ও মাতা = পিতামাতা।
  • মুড়ি ও মুড়কি = মুড়িমুড়কি।
  • সুখ ও শান্তি = সুখশান্তি।
  • পথ ও ঘাট = পথঘাট।

দ্বন্দ্ব সমাস মোটামুটি কতপ্রকার ও কী কী?

দ্বন্দ্ব সমাস মোটামুটি আট প্রকার। যথা –

  1. দুই বিশেষ্য পদের দ্বন্দ্ব,
  2. দুই সর্বনাম পদের দ্বন্দ্ব,
  3. দুই বিশেষণ পদের দ্বন্দ্ব,
  4. দুই ক্রিয়াপদের দ্বন্দ্ব,
  5. সমার্থক দ্বন্দ্ব,
  6. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব,
  7. একশেষ দ্বন্দ্ব,
  8. বহুপদী দ্বন্দ্ব।

দুই বিশেষ্য পদের দ্বন্দ্ব সমাস -এর উদাহরণ দাও।

দুই বিশেষ্য পদের দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ হল-

  • রক্ত ও মাংস = রক্তমাংস।
  • কায়দা ও কানুন = কায়দাকানুন।
  • পিতা ও পুত্র = পিতা-পুত্র।
  • শাল ও সেগুন = শাল-সেগুন।

দুই সর্বনাম পদের সমাসের উদাহরণ দাও।

দুই সর্বনাম পদের দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ হল –

  • যে ও সে = যে-সে।
  • যার ও তার = যার-তার।
  • যাকে ও তাকে = যাকে-তাকে।
  • একে আর ওকে = একে-ওকে।

দুই বিশেষণ পদের সমাসের উদাহরণ দাও।

দুই বিশেষণ পদের দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ হল –

  • কাঁচা ও পাকা = কাঁচাপাকা।
  • নরম ও গরম = নরমগরম।
  • উঁচু ও নীচু = উঁচু-নীচু।
  • টক ও ঝাল = টক-ঝাল।

দুই ক্রিয়াপদের দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ দাও।

দুই ক্রিয়াপদের দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ হল –

  • হার ও জিৎ = হারজিত।
  • শুয়ে ও বসে = শুয়েবসে।
  • চেয়ে ও চিন্তে = চেয়েচিন্তে।
  • বলে ও কয়ে = বলেকয়ে।

সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ দাও।

সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ হল –

  • মাথা ও মুণ্ডু = মাথামুণ্ডু।
  • লজ্জা ও শরম = লজ্জাশরম।
  • গান ও বাজনা = গানবাজনা।
  • বন ও জঙ্গল = বনজঙ্গল।

বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ দাও।

উত্তর বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ হল –

  • মিঠে ও কড়া = মিঠেকড়া।
  • বর ও বধূ = বরবধূ।
  • আকাশ ও পাতাল = আকাশপাতাল।
  • কেনা ও বেচা = কেনাবেচা।

একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও

সমস্যমান পদগুলির বহুবচনান্ত একটি মাত্র পদ ছাড়া অন্যসব পদ বিলুপ্ত হয় যে দ্বন্দ্ব সমাসে, তাকে একশেষ দ্বন্দ্ব বলে। যেমন –

  • আমি, তুমি ও সে = আমরা।
  • তুমি ও সে = তোমরা।

বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ দাও।

বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ –

  • শঙ্খ, চক্র, গদা ও পদ্ম = শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম।
  • ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর = ব্রহ্ম-বিষ্ণু-মহেশ্বর।
  • ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ = ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ।
  • চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ ও তারা = চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-তারা।

বহুব্রীহি সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সমাসের ফলে যে সমাসবদ্ধ পদ গঠিত হয়, তার অর্থ পূর্ব বা পরপদের অর্থের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে, সম্পূর্ণ অন্য অর্থ প্রকাশিত করে, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন –

  • পীত অম্বর যাহার = পীতাম্বর।
  • চন্দ্র চূড়ে যাহার = চন্দ্রচূড়।
  • শূল পাণিতে যাহার = শূলপাণি।
  • পিনাক পাণিতে যাহার = পিনাকপাণি।

সমানাধিকরণ বহুব্রীহি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে বহুব্রীহি সমাসে যে দুটি পদের সমাস হবে সেই দুটি পদের যদি একই বিভক্তি হয়, তাকে সমানাধিকরণ [সমান + অধিকরণ (বিভক্তি) = সমানাধিকরণ] বহুব্রীহি সমাস বলে। এক্ষেত্রে পূর্বপদটি বিশেষণ এবং পরপদটি বিশেষ্য হয়। যেমন –

  • বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি।
  • শ্যামা যার অঙ্গ = শ্যামাঙ্গী।
  • স্বল্প আয়ু যার = স্বল্পায়ু।
  • এলো যার কেশ = এলোকেশী।

ব্যধিকরণ বহুব্রীহি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে বহুব্রীহি সমাসে যে দুটি পদের সমাস হবে সেই দুটি পদের বিভক্তি আলাদা বা ভিন্ন হয়, তাকে ব্যধিকরণ [বি (= বিভাগ) + অধিকরণ (= বিভক্তি) = ব্যধিকরণ] বলা হয়। এক্ষেত্রে দুটি পদই বিশেষ্য পদ হয় এবং কোনো একটি পদে ‘এ’ বিভক্তি লক্ষ করা যায়। যেমন –

  • পাপ বুদ্ধি যাহার = পাপবুদ্ধি।
  • বজ্র পাণিতে যাহার = বজ্রপাণি।
  • হিরণ্য গর্ভে যাহার = হিরণ্যগর্ভ।
  • বীণা পাণিতে যাহার = বীণাপাণি।

বর্তমানে বহুব্রীহি সমাসকে কত ভাগে ভাগ করা হয় ও কী কী?

বর্তমানে বহুব্রীহি সমাসকে মোটামুটি পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা –

  1. মধ্যপদলোপী বা উপমাত্মক বহুব্রীহি,
  2. ব্যতিহার বহুব্রীহি,
  3. সহার্থক বহুব্রীহি,
  4. না-বহুব্রীহি,
  5. সংখ্যাপূর্বক বহুব্রীহি।

মধ্যপদলোপী বা উপমাত্মক বহুব্রীহি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে বহুব্রীহি সমাসে ব্যাসবাক্যে ব্যাখ্যামূলক পদ লুপ্ত হয় এবং উপমা বোঝানো হয়ে থাকে, তাকে মধ্যপদলোপী বা উপমাত্মক বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন –

  • বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যার = বিড়ালচোখো।
  • কপোতের ন্যায় অক্ষ যার = কপোতাক্ষ।
  • কুম্ভের ন্যায় কর্ণ যার = কুম্ভকর্ণ।
  • প্যাঁচার ন্যায় মুখ যার = প্যাঁচামুখো।

ব্যতিহার বহুব্রীহি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে বহুব্রীহি সমাসে এক জাতীয় কাজের পারস্পরিকতা বোঝাতে একই বিশেষ্য পদের দ্বিত্বের ব্যবহার হয়ে থাকে, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন –

  • পরস্পর চুলে চুলে আকর্ষণ করে যে যুদ্ধ = চুলোচুলি।
  • পরস্পর নখে নখে যে যুদ্ধ = নখানখি।
  • পরস্পর ঘুসিতে ঘুসিতে যে যুদ্ধ = ঘুসোঘুসি।
  • পরস্পর দলে দলে যে কলহ = দলাদলি।

সহার্থক বহুব্রীহি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

পূর্বপদ বিশেষ্যের ও উত্তর পদ সহার্থকের (স-উপসর্গের) যে বহুব্রীহি সমাস হয়, তাকে সহার্থক বহুব্রীহি বলে। যেমন-

  • জোরের সহিত বর্তমান = সজোর।
  • লাজের সহিত বর্তমান = সলাজ।
  • সহ উদর যার = সহোদর।
  • শব্দের সহিত বর্তমান = সশব্দ।

না-বহুব্রীহি সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ নঞর্থক অর্থ প্রকাশ করে, তাকে না-বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন –

  • নেই বোধ যার = অবোধ।
  • নেই হুঁশ যার = বেহুঁশ।
  • নেই খোঁজ যার = নিখোঁজ।
  • নেই খুঁত যার = নিখুঁত।

সংখ্যাপূর্ব বহুব্রীহি সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক বিশেষণ এবং উত্তর পদ বিশেষ্য হয়, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলে। যেমন –

  • দুই নল যার = দোনলা।
  • তিনটি পায়া যার = তেপায়া।
  • আটটি চালা যার = আটচালা।
  • সম বয়স যার = সমবয়সি।

দ্বিগু সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক বিশেষণ এবং উত্তর পদ বিশেষ্য এবং সমাসবদ্ধ পদ সমাহার বোঝায়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। এই সমাসে উত্তর পদের অর্থই প্রধান। যেমন –

  • ত্রি বা তিনটি ফলের সমাহার = ত্রিফলা।
  • শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী।
  • চতুঃ পদের সমাহার = চতুষ্পদী।
  • বারো হাতের সমাহার = বারোহাত।

‘দ্বিগু’ শব্দের আক্ষরিক অর্থটি কী?

‘দ্বিগু’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ দ্বি-গো বা গরু দিয়ে কেনা।

সংখ্যাবহুব্রীহি ও দ্বিগু সমাসের পার্থক্য কী?

সংখ্যাবহুব্রীহিদ্বিগু
এক্ষেত্রে পূর্বপদ সংখ্যাবাচক বিশেষণ এবং উত্তর পদ বিশেষ্য থাকলেও এই সমাসের মাধ্যমে তৃতীয় একটি অর্থের প্রাধান্য পায়।এক্ষেত্রেও পূর্বপদ সংখ্যাবাচক বিশেষণ এবং উত্তর পদ বিশেষ্য থাকলেও সমাসবদ্ধ পদ কোনো কিছুর সমাহার বোঝায়।
এক্ষেত্রে তৃতীয় অর্থের প্রাধান্য।পরপদের অর্থপ্রাধান্য পায়।
সমাহার শব্দের ব্যবহার থাকে না।সমাহার শব্দের ব্যবহার আবশ্যিক।

দ্বিগু সমাস কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ লেখো।

দ্বিগু সমাস দুই প্রকার। যথা –

  1. তদ্ধিতার্থক দ্বিগু
  2. সমাহার দ্বিগু

তদ্ধিতার্থক দ্বিগু (তদ্ধিত প্রত্যয় নিষ্পন্ন পদ গঠিত হয়) –

  • দ্বি গো -এর বিনিময়ে কেনা = দ্বিগু।
  • তিনটি কড়ির বিনিময়ে কেনা = তিনকড়ি।
  • নয়টি কড়ির বিনিময়ে কেনা = নকড়ি।
  • পাঁচটি কড়ির বিনিময়ে কেনা = পাঁচকড়ি।

সমাহার দ্বিগু (সমষ্টি বা সমাহার বোঝায়) –

  • সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ।
  • পঞ্চ বর্ষের সমাহার = পঞ্চবার্ষিক।
  • ত্রি বা তিনটি বেণীর সমাহার = ত্রিবেণী।
  • ষড় রিপুর সমাহার = ষড়রিপু।

একটি উদাহরণের সাহায্যে নিত্যসমাসের বিষয়টি বুঝিয়ে দাও।

যে সমাসে সমস্যমান পদগুলি নিত্য অর্থাৎ সর্বদাই সমাসবদ্ধ থাকে, তাকে নিত্যসমাস বলা হয়। এই কারণে এর কোনো ব্যাসবাক্য হয় না। এতে স্বপদ অর্থাৎ সমাসের নিজের পদ ব্যবহৃত হয় না বলে এর অন্য নাম ‘অ-স্বপদবিগ্রহ নিত্যসমাস’ নিত্যসমাস কোনো স্বতন্ত্র সমাস নয়; ব্যাসবাক্যহীন যে-কোনো সমাসকেই নিত্যসমাস বলা যেতে পারে। এই সমাসের ব্যাসবাক্য তৈরি করতে গেলে অন্য পদের প্রয়োজন হয়। যেমন –

  • অন্য কাল = কালান্তর।
  • অন্য ভাব = ভাবান্তর।
  • কেবল নাম = নামমাত্র।
  • ইন্দুর মতো = ইন্দুনিভ।

অলোপ সমাস কাকে বলে? বিভিন্ন অলোপ সমাসের উদাহরণ দাও।

যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে সমাসবদ্ধ পদেই থেকে যায়, তখন তাকে অলোপ (অলোপ = অ + লোপ = লোপ না পাওয়া) সমাস বলে। তাই অলোপ কোনো স্বতন্ত্র সমাস নয়। পূর্বে উল্লিখিত প্রত্যেকটি সমাসই অলোপ সমাস হতে পারে। যেমন –

  • অলোপ দ্বন্দ্ব = দুধে ও ভাতে = দুধেভাতে।
  • অলোপ করণ তৎপুরুষ = পেটের জন্য ভাত = পেটের ভাত।
  • অলোপ নিমিত্ত তৎপুরুষ = চায়ের নিমিত্ত কাপ = চায়ের কাপ।
  • অলোপ সম্বন্ধ তৎপুরুষ = পরের যে ধন = পরের ধন।
  • অলোপ অপাদান তৎপুরুষ = ঘানি থেকে উৎপন্ন তেল = ঘানির তেল।
  • অলোপ অধিকরণ তৎপুরুষ = গোড়াতে গলদ = গোড়ায় গলদ।
  • অলোপ উপপদ তৎপুরুষ = জালে পড়েছে যে = জালেপড়া।
  • অলোপ বহুব্রীহি = মুখে মধু দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = মুখেমধু।

বাক্যাশ্রয়ী সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে সমাসে বাক্য বা বাক্যাংশ যখন সমাসবদ্ধ পদ রূপে থাকে তাকে, বাক্যাশ্রয়ী সমাস বলে। যেমন –

  • বসে আঁকতে হয় যে প্রতিযোগিতায় = বসে-আঁকো প্রতিযোগিতা।
  • সবুজ বাঁচানোর ব্রত যে কমিটির = সবুজবাঁচাও কমিটি।
  • সব পাওয়া যায় যে দেশে = সব পেয়েছির দেশ।

বাক্যাশ্রয়ী ও একশেষ দ্বন্দ্ব সমাসের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

বাক্যাশ্রয়ী সমাসএকশেষ দ্বন্দ্ব সমাস
অধিকাংশ সমাসবদ্ধ পদ বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে এবং পূর্ণ বাক্যটাই সমস্তপদে অবস্থান করে। যেমন – সব পাওয়া যায় যে দেশে = সব পেয়েছির দেশ।সমস্যমান পদগুলির বহুবচনান্ত একটি পদ ছাড়া বাকি সব পদ লুপ্ত হয়। যেমন – তুমি ও আমি = আমরা।

বিভিন্ন সমাসের উদাহরণ দাও।

সমাসের নামব্যাসবাক্যসমস্তপদ
বিশেষ্য পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের দ্বন্দ্বমাঠ ও ঘাটমাঠঘাট
একশেষ দ্বন্দ্বতুমি, আমি ও সেআমরা
অপাদান তৎপুরুষবর্ণ হইতে অন্ধবর্ণান্ধ
উপসর্গ তৎপুরুষকর্ণ পর্যন্তআকর্ণ
না-বহুব্রীহিনেই তাল যারবেতাল
সংখ্যা বহুব্রীহিএক বয়স যারএকবয়সি
সমাহার দ্বিগুতিনটি ভঙ্গির সমাহারত্রিভঙ্গ
রূপক কর্মধারয়আঁখিরূপ পাখিআঁখিপাখি
বাক্যাশ্রয়ী সমাসবসে আঁকতে হয় যে প্রতিযোগিতায়বসে-আঁকো প্রতিযোগিতা
অলোপ বহুব্রীহিমুখে ভাত দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানেমুখেভাত

সমাস নির্ণয় করো (ব্যাসবাক্যসহ)।

  • নৃপশিষ্য = যিনি নৃপ তিনিই শিষ্য (সাধারণ কর্মধারয় সমাস)।
  • খ্রিস্টধর্ম = খ্রিস্ট প্রবর্তিত ধর্ম (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)।
  • ভীমার্জুন = ভীম ও অর্জুন (দ্বন্দ্ব সমাস)।
  • মারধর = মার ও ধর (দ্বন্দ্ব সমাস)।
  • ছেলেভুলানো = ছেলেকে ভুলানো (কর্মতৎপুরুষ)।
  • তৃষ্ণার্ত = তৃষ্ণার দ্বারা ঋত (করণ তৎপুরুষ সমাস)।
  • চালাকচতুর = চালাক ও চতুর (সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস)।
  • তোমরা = তুমি ও সে (একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস)।
  • দেবদত্ত = দেবকে দত্ত (সম্প্রদান তৎপুরুষ সমাস)।
  • জেলখালাস = জেল হইতে খালাস (অপাদান তৎপুরুষ সমাস)।
  • ধূলিলুণ্ঠিতা = ধুলিতে লুণ্ঠিতা (অধিকরণ তৎপুরুষ সমাস)।
  • ধানজমি = ধানের জন্য জমি (নিমিত্ত তৎপুরুষ সমাস)।
  • মাতৃমূর্তি = মাতার মূর্তি (সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস)।
  • বিশ্বজিৎ = বিশ্ব জয় করেছে যে (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)।
  • নাতিবৃহৎ = অতি বৃহৎ নয় (নঞ্তৎপুরুষ সমাস)।
  • ফুটিফাটা = ফুটির মতো ফাটা (উপমান কর্মধারয় সমাস)।
  • শাঁখ আলু = আলু শাঁখের ন্যায় (উপমিত কর্মধারয় সমাস)।
  • মাৎসর্যবিষ = মাৎসর্যরূপ বিষ (রূপক কর্মধারয় সমাস)।
  • অষ্টধাতু = অষ্ট ধাতুর সমাহার (সমাহার দ্বিগু সমাস)।
  • কৃতবিদ্যা = কৃত হয়েছে বিদ্যা যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস)।
  • ইত্যাদি = ইতি আদিতে যার (ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস)।
  • নিষ্কলঙ্ক = নেই কলঙ্ক যার (নঞর্থক বহুব্রীহি সমাস)।
  • ঘৃতগন্ধী = ঘৃতের গন্ধের ন্যায় গন্ধ যার (মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস)।
  • বোঝাবুঝি = পরস্পর বোঝা (ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস)।
  • সশঙ্ক = শঙ্কার সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি সমাস)।
  • সহস্রবিধ = সহস্র বিধা যার (সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস)।

ব্যাসবাক্য লেখো।

  • সিতাসিত = সিত ও অসিত।
  • তুমি-আমি = তুমি আর আমি।
  • তরীবাওয়া = তরীকে বাওয়া।
  • লক্ষ্মীছাড়া = লক্ষ্মীর দ্বারা ছাড়া।
  • বামেতর = বাম হইতে ইতর।
  • নিত্যানন্দ = নিত্যকাল ব্যাপিয়া আনন্দ।
  • অশ্বারূঢ় = অশ্বে আরূঢ়।
  • ছাত্রাবাস = ছাত্রদের নিমিত্ত আবাস।
  • বলহীন = বলের দ্বারা হীন।
  • যশোলিপ্সা = যশের লিপ্সা।
  • শত্রুঘ্ন = শত্রুকে বধ করে যে।
  • পুরবাসিনী = পুরে বাস করে যে নারী।
  • ভূমিষ্ঠ = ভূমিতে থাকে যে।
  • নাতিশীতোষ্ণ = না অতি শীত, না অতি উষ্ণ।
  • আলুনি = নুনের অভাব।
  • গণ্ডগ্রাম = গণ্ড যে গ্রাম।
  • ঘরজামাই = (শ্বশুরের) ঘরে পালিত জামাই।
  • বিজয়শঙ্খ = বিজয়সূচক শঙ্খ।
  • নাতজামাই = নাতিসম্পর্কীয় জামাই।
  • ফুটিফাটা = ফুটির মতো ফাটা।

ব্যাসবাক্য দেখে সমাস নির্ণয় করো।

  • শৈলের মতো উন্নত = উপমান কর্মধারয়।
  • শাস্ত্র জানেন যিনি = উপপদ তৎপুরুষ।
  • মৃগীর শিশু = সম্বন্ধ তৎপুরুষ।
  • মৃত্যু হইতে উত্তীর্ণ = অপাদান তৎপুরুষ।
  • দেবকে দত্ত = সম্প্রদান তৎপুরুষ।
  • আশার দ্বারা হত = করণ তৎপুরুষ।
  • সন্তান ও সন্ততি = সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।
  • পাঁজি ও পুথি = প্রায়-সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।
  • দেশকে উদ্ধার = কর্মতৎপুরুষ।
  • দাঁতে কপাটি = অধিকরণ তৎপুরুষ।
  • নয় আবশ্যক = নঞ্তৎপুরুষ।
  • কাঁচা যে কলা = সাধারণ কর্মধারয়।
  • যে হৃষ্ট সেই পুষ্ট = কর্মধারয়।
  • নর দেবের তুল্য = উপমিত কর্মধারয়।
  • স্নেহরূপ সমুদ্র = রূপক কর্মধারয়।
  • চতুঃ অক্ষের সমাহার = সমাহার দ্বিগু।
  • বিশিষ্ট লোচন যার = সাধারণ বহুব্রীহি।
  • নেই ইমান যার = নঞর্থক বহুব্রীহি।
  • পদ্ম নাভিতে যার = ব্যধিকরণ বহুব্রীহি।

ঠিক বিকল্পটি বেছে লেখো।

1. অর্থের দিক থেকে সম্বন্ধযুক্ত দুই বা তার বেশি পদকে অথবা একটি উপসর্গ ও একটি পদকে একপদে পরিণত করার নাম –

  1. সন্ধি
  2. কারক
  3. সমাস
  4. বাচ্য

উত্তর – 3. সমাস

2. যেসব পদের সমাস হয় তাদের প্রত্যেকটিকে বলা হয় –

  1. সমস্তপদ
  2. সমস্যমান পদ
  3. নামপদ
  4. উত্তরপদ

উত্তর – 2. সমস্যমান পদ

3. সন্ধির দ্বারা গঠিত সমাসবদ্ধ পদের একটি উদাহরণ হল –

  1. ছাতামাথায়
  2. খেচর
  3. গ্রামান্তর
  4. শীতোষ্ণ

উত্তর – 3. গ্রামান্তর

4. প্রতিটি সমস্যমান পদের অর্থ যে সমাসে প্রধানভাবে বোঝায় তাকে বলা হয় –

  1. দ্বিগু সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস

উত্তর – 2. দ্বন্দ্ব সমাস

5. যে সমাসের ব্যাসবাক্যে পূর্বপদের সঙ্গে কারক বা অ-কারক বিভক্তি বা বিভক্তিসহ অনুসর্গ থাকে কিন্তু সমাসবদ্ধ পদে সেই বিভক্তি বা অনুসর্গ লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে বলা হয় –

  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. বাক্যাশ্রয়ী সমাস

উত্তর – 2. তৎপুরুষ সমাস

6. ‘শূন্য’ বিভক্তিযুক্ত দুটি বিশেষ্য বা দুটি বিশেষণ পদ দিয়ে অথবা ‘শূন্য’ বিভক্তিযুক্ত একটি বিশেষ্য পদ ও একটি বিশেষণ পদের সহযোগে যে সমাসের সমস্তপদ তৈরি হয় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে বলা হয় –

  1. কর্মধারয় সমাস
  2. অলোপ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস

উত্তর – 1. কর্মধারয় সমাস

7. দ্বিগু সমাসে পূর্বপদটি –

  1. একটি বাক্যাংশ, যা বিশেষ্য বা বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়
  2. সংখ্যা বিশেষণ
  3. সাধারণ বিশেষ্য
  4. অব্যয়

উত্তর – 2. সংখ্যা বিশেষণ

8. দ্বি (দুই) গো (গোরু) -এর বিনিময়ে ক্রীত – এটি হল –

  1. সমাহার দ্বিগুর উদাহরণ
  2. তদ্ধিতার্থক দ্বিগুর উদাহরণ
  3. অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ
  4. নিত্যসমাসের উদাহরণ।

উত্তর – 2. তদ্ধিতার্থক দ্বিগুর উদাহরণ

9. নিত্যসমাসে –

  1. সমস্যমান পদগুলি সমাসবদ্ধ হওয়ার পরেও পূর্বপদের বিভক্তির লোপ হয় না
  2. ব্যাসবাক্য হয় না কিংবা ব্যাসবাক্য করতে হলে সমার্থক অন্য পদের প্রয়োজন হয়
  3. একটি বাক্যাংশকে বিশেষ্য বা বিশেষণ হিসেবে প্রয়োগ করা হয়
  4. পূর্বপদ ও পরপদ যথাক্রমে বিশেষণ ও বিশেষ্য হয় এবং উভয় পদে একই বিভক্তি থাকে।

উত্তর – 1. সমস্যমান পদগুলি সমাসবদ্ধ হওয়ার পরেও পূর্বপদের বিভক্তির লোপ হয় না

10. রোদে যা পোড়া > রোদেপোড়া – এটি হল –

  1. অলোপ তৎপুরুষের উদাহরণ
  2. অলোপ দ্বন্দ্বের উদাহরণ
  3. অলোপ বহুব্রীহির উদাহরণ
  4. অলোপ উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ

উত্তর – 4. অলোপ উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণের “ব্যাকরণ বিভাগ” থেকে “সমাস” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই অংশটি অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে এসেছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ব্যাকরণ বিভাগ - সাধু ও চলিত রীতি - অষ্টম শ্রেণি - বাংলা

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – সাধু ও চলিত রীতি

অষ্টম শ্রেণি বাংলা - ব্যাকরণ বিভাগ - ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়ার ভাব

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়ার ভাব

ব্যাকরণ বিভাগ - বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া ও অব্যয় - অষ্টম শ্রেণি - বাংলা

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া ও অব্যয়

About The Author

Souvick

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – সাধু ও চলিত রীতি

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – সমাস

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়ার ভাব

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া ও অব্যয়

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – বাক্যের ভাব ও রূপান্তর