অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – দক্ষিণ আমেরিকা – দক্ষিণ আমেরিকার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের দশম অধ্যায় ‘দক্ষিণ আমেরিকা’-এর উপবিভাগ ‘দক্ষিণ আমেরিকার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য‘ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির স্কুলের ভূগোল পরীক্ষার জন্য এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক বা চাকরির পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Contents Show

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল দশম অধ্যায়: দক্ষিণ আমেরিকা (প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য) – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের অপর নাম ‘লাতিন আমেরিকা’ হওয়ার কারণ কী?

ইউরোপ মহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ভাষা হলো লাতিন। প্রধানত রোমে এই ভাষার প্রচলন ছিল। পরবর্তীকালে লাতিন ভাষা থেকে ইতালীয়, স্পেনীয়, পর্তুগিজ, ফরাসি প্রভৃতি ভাষার সৃষ্টি হয়। দক্ষিণ আমেরিকাতে প্রধানত স্পেনীয় ও পর্তুগিজরা উপনিবেশ গড়ে তোলে। স্পেনীয় ও পর্তুগিজরা ছিল লাতিন জাতিভুক্ত এবং এরা দক্ষিণ আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তুললে এখানকার প্রধান ভাষা হয়ে ওঠে লাতিন। তাই দক্ষিণ আমেরিকাকে ‘লাতিন আমেরিকা’ বলা হয়ে থাকে।

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের সীমানা ও ক্ষেত্রমান লেখো।

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের সীমানা: দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের আকৃতি অনেকটা ত্রিভুজের মতো— এর উত্তর দিকটা চওড়া এবং দক্ষিণ দিক ক্রমশ সরু হয়ে গেছে। মহাদেশটির পূর্ব সীমায় রয়েছে আটলান্টিক মহাসাগর, পশ্চিম সীমায় প্রশান্ত মহাসাগর, উত্তর সীমায় ক্যারিবিয়ান সাগর ও পানামা খাল এবং সংকীর্ণ দক্ষিণ সীমায় ড্রেক প্রণালী (দক্ষিণ আমেরিকা ও অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের মধ্যবর্তী কুমেরু মহাসাগরের সংকীর্ণ অংশটির নাম ড্রেক প্রণালী) অবস্থিত।

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ক্ষেত্রমান: দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশটির মোট ক্ষেত্রমান প্রায় 1.78 কোটি বর্গকিমি। এটি পৃথিবীর স্থলভাগের মোট ক্ষেত্রমানের প্রায় 12% স্থান জুড়ে অবস্থান করছে। ক্ষেত্রমানে এটি ইউরোপের দ্বিগুণ এবং ভারতের পাঁচ গুণেরও বেশি বড়ো।

দক্ষিণ আমেরিকার নদনদীর বৈশিষ্ট্য লেখো।

দক্ষিণ আমেরিকার নদনদীর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো –

  • দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ নদীই আন্দিজ পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
  • এই নদীগুলির বেশিরভাগই পশ্চিম থেকে পূর্বে বা দক্ষিণ-পূর্বে প্রবাহিত হয়েছে।
  • অধিকাংশ নদীই দীর্ঘ ও আয়তনে বিশাল।
  • নদীগুলি বৃষ্টির জল ও বরফগলা জল, উভয় দ্বারাই পুষ্ট হওয়ায় নিত্যবহ।
  • নদীগুলির মোহানার কাছে জলের প্রবল বেগের জন্য, ওরিনোকো নদী ছাড়া অন্য কোনো নদীর মোহানায় বদ্বীপ সৃষ্টি হয়নি।

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের কোন্ অংশ সমুদ্রের দ্বারা বেশি প্রভাবিত এবং কোন্ অংশের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন?

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দক্ষিণ অংশ সমুদ্রের দ্বারা বেশি প্রভাবিত এবং উত্তর অংশের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন। এরূপ তারতম্যের কারণ হলো –

  • দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশটি ত্রিভুজাকার। এর উত্তরভাগ প্রশস্ত হওয়ায় সামুদ্রিক প্রভাব মহাদেশের অভ্যন্তর পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। তাই জলবায়ু চরমভাবাপন্ন।
  • দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণভাগ ক্রমশ সংকীর্ণ হওয়ায় তা সমুদ্রের দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয় ও এর জলবায়ু কিছুটা সমভাবাপন্ন।

দক্ষিণ আমেরিকা কৃষিকাজে অনুন্নত – ব্যাখ্যা করো।

দক্ষিণ আমেরিকা কৃষিকাজে অনুন্নত, এর প্রধান কারণগুলি হলো –

  • নিরক্ষীয় জলবায়ু – দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর-মধ্য অংশ জুড়ে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজ করে। এই জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যই হলো প্রায় প্রত্যহ বৃষ্টিপাত। সে কারণে এখানকার অধিক আর্দ্রতা কৃষিকাজে বাধা দেয়।
  • অরণ্যের প্রাধান্য – দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন অববাহিকা জুড়ে নিবিড় বনভূমি রয়েছে। এই বনভূমির গাছ কেটে সেখানে চাষ করা হলেও পুনরায় অধিক বৃষ্টির কারণে গাছ জন্মায়। এর ফলে কৃষিকাজ করা প্রায় অসম্ভব।
  • আদিম পদ্ধতিতে চাষ – দক্ষিণ আমেরিকার বেশিরভাগ স্থানেই এখনো আদিম ঝুমচাষ পদ্ধতিতে চাষ করা হয়। কৃষির আধুনিক পদ্ধতি তাদের অজানা, ফলে কৃষিকাজ অত্যন্ত নিম্নমানের।
  • বহুমুখী চাষের অভাব – কৃষিতে নানাবিধ ফসলের পরিবর্তে কেবল প্রাকৃতিক রবার বা ওক জাতীয় ফসলের চাষ হয় বলে কৃষিকাজ তেমন জনপ্রিয় নয়।
  • কৃষির প্রতি অনীহা – দক্ষিণ আমেরিকার জনজাতির বেশিরভাগ অংশই বনচারী বা পশুপালক গোষ্ঠী। ফলে, তারা স্থায়ী কৃষির ওপরে নজর দেয় পণ্ডিত। সে কারণে কৃষিকাজ উন্নত নয়।
  • অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা – নিবিড় অরণ্য হওয়ায় এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন উন্নত নয়। তাই উৎপন্ন দ্রব্য বাজারজাত করতে অসুবিধা হয়।

দক্ষিণ আমেরিকাকে ‘কাঁচামাল সমৃদ্ধ মহাদেশ’ বলা হয় কেন?

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশটি নানারকম বনজ, কৃষিজ, প্রাণিজ ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। এই মহাদেশের সেলভা অরণ্যে মূল্যবান কাঠের বৃক্ষ (মেহগনি, রবার, ব্রাজিল নাট) ও নানা বনজ সম্পদ পাওয়া যায়। কফি, কোকো, আখ ও রবার এই মহাদেশের প্রধান ফসল। বিস্তীর্ণ তৃণভূমিতে গবাদিপশু ও মেষ পালনে দক্ষিণ আমেরিকা বিশ্বে অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। ফলে পশম, মাংস, চামড়া প্রভৃতি কাঁচামালের সহজলভ্যতা রয়েছে। সর্বোপরি, এখানে প্রাপ্ত আকরিক লোহা, তামা, নাইট্রেট, রুপো, বক্সাইট, খনিজ তেল প্রভৃতি খনিজ সম্পদকে শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে সহজেই ব্যবহার করা যায়। তাই দক্ষিণ আমেরিকাকে ‘কাঁচামাল সমৃদ্ধ মহাদেশ’ বলা হয়।

কুইটোকে ‘চিরবসন্তের দেশ’ বলা হয় কেন?

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের অন্তর্গত ইকুয়েডর দেশের রাজধানী কুইটো শহরের ওপর দিয়ে নিরক্ষরেখা বিস্তৃত হয়েছে বলে এখানে সারা বছর ধরে সূর্যকিরণ লম্বভাবে পড়ে। আবার, আন্দিজ পর্বতের ওপর প্রায় 4,000 মিটার উচ্চতায় কুইটো শহরের অবস্থানের দরুন এখানকার উষ্ণতা সমুদ্র সমতলের উষ্ণতার চেয়ে অনেক কম। এ দুটি কারণে এখানকার জলবায়ুতে সারা বছর ধরে বসন্তকালের প্রভাব অনুভূত হয়। তাই কুইটোকে ‘চিরবসন্তের দেশ’ বলা হয়।

কুইটো শহর

দক্ষিণ আমেরিকাকে ‘সম্ভাবনাময় মহাদেশ’ বলা হয় কেন?

বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ। এখানে রয়েছে শক্ত কাঠের বিশাল বনভূমি সেলভা, বিখ্যাত গমখেত ও পশুচারণক্ষেত্র পম্পাস এবং বিশাল খনিজ সম্পদের ভান্ডার (খনিজ তেল, লৌহ আকরিক, তামা, নাইট্রেট, টিন, বক্সাইট, দস্তা ইত্যাদি)। কাঁচামালের প্রাচুর্যের সঙ্গে অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী খরস্রোতা নদী, বিপুল জনশক্তি প্রভৃতি উপাদানগুলিকে সুষ্ঠুভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা গেলে দক্ষিণ আমেরিকাও ভবিষ্যতে উন্নত ও সমৃদ্ধিশালী মহাদেশে পরিণত হবে। তাই একে ‘সম্ভাবনাময় মহাদেশ’ বলে।

প্যাটাগোনিয়া ও আটাকামা মরুভূমি সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করো।

প্যাটাগোনিয়া ও আটাকামা মরুভূমি সৃষ্টির কারণ –

  • প্যাটাগোনিয়া মরুভূমি সৃষ্টির কারণ – পম্পাস অঞ্চলের দক্ষিণে অবস্থিত মরুভূমিপ্রধান প্যাটাগোনিয়া মালভূমি প্রকৃতপক্ষে একটি পর্বতবেষ্টিত মালভূমি। এই মরুপ্রায় অঞ্চল সৃষ্টির কারণগুলি হলো –
    • এই অঞ্চলের গ্রীষ্মকাল উষ্ণ এবং শীতকাল শীতল।
    • বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে খুব কম বৃষ্টিপাত হয় (বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত 25 সেমি-র কম)।
  • আটাকামা মরুভূমি সৃষ্টির কারণ – আটাকামা মরুভূমি দক্ষিণ আমেরিকার চিলি ও পেরুতে অবস্থিত। এই মরুভূমি সৃষ্টির কারণ হলো –
    • এই অঞ্চলের গ্রীষ্মকাল উষ্ণ ও শীতকাল শুষ্ক।
    • বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত 25 সেমি-র কম এবং এটি দক্ষিণ আমেরিকার শুষ্কতম অঞ্চল।

আন্দিজ পার্বত্য অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ কেন?

দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিমের আন্দিজ পার্বত্য অঞ্চল অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। কারণ –

  • প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশীয় পাতের অভিসারী সীমানায় গড়ে ওঠা আন্দিজ পর্বতমালা একটি নবীন ভঙ্গিল পর্বতমালা। অস্থিতিশীল দুই পাতের সংযোগস্থলে থাকায় এই নবীন ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ।
  • আবার, এই পার্বত্য অঞ্চল প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় বলয়ের অংশ। তাই এখানে রয়েছে বহু সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। যেমন – চিম্বোরাজো, কটোপ্যাক্সি প্রভৃতি। এইসব আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় এই পার্বত্য অঞ্চল কেঁপে ওঠে।
  • অঞ্চলটি নরম পাললিক শিলায় গঠিত বলে এখানে প্রায়শই ভূমিধস দেখা যায়, যা ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে।
  • অঞ্চলটির গঠন প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে সঞ্চরণশীল দুটি পাতের সরণের ফলে শিলাচ্যুতি ঘটে। এর ফলে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।

দক্ষিণ আমেরিকা শিল্পে অনুন্নত কেন?

দক্ষিণ আমেরিকা শিল্পে অনুন্নত, কারণ –

  • খনিজ সম্পদের অভাব – এই মহাদেশে কয়লা, আকরিক লোহা, খনিজ তেল ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ তেমন পাওয়া যায় না, ফলে খনিভিত্তিক শিল্পের কোনো উন্নতি হয়নি।
  • শক্তি সম্পদের অভাব – দক্ষিণ আমেরিকায় তেমন কয়লা পাওয়া যায় বলে বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদন করা যায় না। এছাড়া, নদীগুলি এত চওড়া যে, নদীতে জলবিদ্যুতের জন্য বাঁধ নির্মাণ ব্যয়বহুল। ফলে, বিদ্যুতের অভাব মহাদেশটিকে শিল্পে অনগ্রসর করে রেখেছে।
  • যোগাযোগ ব্যবস্থার অনুন্নতি – উষ্ণ-আর্দ্র জলবায়ু, স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া, ভেজা নরম মাটি, প্রশস্ত নদী উপত্যকা, ঘন বনভূমি প্রভৃতি কারণে রেল ও সড়ক ব্যবস্থা একেবারেই উন্নত নয়। তবে আমাজন নদী বরাবর জলপথ খানিকটা যাতায়াতের সুবিধা দিয়েছে। মহাদেশের অন্যত্র বিশাল পর্বতশ্রেণি যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করে।
  • পরিকাঠামোর অভাব – দক্ষিণ আমেরিকার পরিকাঠামো অনুন্নত, ফলে শিল্পায়ন সম্ভব হয়নি।
  • দক্ষতার অভাব – এখানকার মানুষজন কারিগরি বিদ্যায় দক্ষ নন এবং স্বল্প বসতির কারণে শ্রমিক প্রাপ্তিরও অসুবিধা আছে।

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ক্রান্তীয় অঞ্চলের পশ্চিম প্রান্তে মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে কেন?

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ক্রান্তীয় অঞ্চলের পশ্চিমাংশে মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে, যেমন – আটাকামা মরুভূমি। কারণ – দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু আন্দিজ পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে পর্বতের অনুবাত ঢালে অর্থাৎ, আন্দিজ পর্বতমালার পূর্ব দিকে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায়। কিন্তু এই বায়ু যখন মহাদেশের পশ্চিম প্রান্তে উপস্থিত হয় তখন দীর্ঘ পথ স্থলভাগের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার ফলে তাতে আর জলীয় বাষ্প সেরকম থাকেকারে না। ফলে, মহাদেশের পশ্চিমাংশে যা আন্দিজ পর্বতমালার প্রতিবাত ঢালে অবস্থিত সেখানে বৃষ্টিপাত সেরূপ হয় না। ফলে, ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও মহাদেশের পশ্চিমাংশে মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে।

দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূলের উষ্ণতা সারাবছর বেশি থাকে কেন?

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের পূর্ব উপকূলে উষ্ণতা সারা বছর বেশি থাকে। কারণ –

  • পর্বতের অবস্থান – দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের পশ্চিম উপকূলে বিস্তৃত রয়েছে সুদীর্ঘ আন্দিজ পর্বতশ্রেণি। প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আগত জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু এই পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে পর্বতের পশ্চিম ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, কিন্তু পর্বতের পূর্ব ঢালে এই বায়ুর গতিপথে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল সৃষ্টি করে। ফলে, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হয় ও শুষ্ক ঋতু বিরাজ করে।
  • সমুদ্রস্রোতের প্রভাব – দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল বরাবর উষ্ণ ব্রাজিল স্রোত প্রবাহিত হওয়ায় এখানে সারা বছর উষ্ণতা বেশি থাকে।
আন্দিজ পর্বতের অবস্থান ও সমুদ্রস্রোতের প্রভাব

আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের দশম অধ্যায় ‘দক্ষিণ আমেরিকা’-এর উপবিভাগ ‘দক্ষিণ আমেরিকার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য’ থেকে কিছু ‘সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য বা চাকরির পরীক্ষার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রশ্নগুলি অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা বা চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে।

আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আপনারা আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ওশিয়ানিয়া - মারে-ডার্লিং অববাহিকা - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - টীকা

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – টীকা

ওশিয়ানিয়া - মারে-ডার্লিং অববাহিকা - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

ওশিয়ানিয়া - মারে-ডার্লিং অববাহিকা - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Souvick

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – টীকা

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – ওশিয়ানিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর