আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের একাদশ অধ্যায় ‘ওশিয়ানিয়া’-এর উপবিভাগ ‘মারে-ডার্লিং অববাহিকা’ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘টীকা’ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির স্কুল পরীক্ষার জন্য এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অষ্টম শ্রেণির ভূগোল একাদশ অধ্যায়: মারে-ডার্লিং অববাহিকা (গুরুত্বপূর্ণ টীকা)

ডাউনস্ তৃণভূমি সম্পর্কে টীকা লেখো।
ডাউনস্ তৃণভূমির অবস্থান – অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমভাগে মারে-ডার্লিং নদীর অববাহিকায় নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমির সৃষ্টি হয়েছে, যা ডাউনস্ নামে পরিচিত।
ডাউনস্ তৃণভূমির বৈশিষ্ট্য –
- মৃদুভাবাপন্ন জলবায়ু ও স্বল্প বৃষ্টিপাতের কারণে এখানে আলফালফা ঘাস, মিচেনা ঘাস, চাপড়া ঘাস, শিষ ঘাস প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে জন্মায়। এসব ঘাস উচ্চতায় ছোটো হয়।
- তৃণভূমিটি দক্ষিণ গোলার্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পশুচারণক্ষেত্র।
- এই তৃণভূমিতে জলের অভাব পশুপালনের প্রধান অন্তরায়, তবে বর্তমানে অসংখ্য আর্টেজীয় কূপ খনন করে এই সমস্যার সমাধান হয়েছে।
- এই তৃণভূমিতে প্রচুর সংখ্যায় উন্নত প্রজাতির মেষ (মেরিনো, লিঙ্কন, মার্স প্রভৃতি) ও দুগ্ধপ্রদায়ী গবাদিপশু পালন করা হয়।
- পশম উৎপাদন ও রপ্তানিতে অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীতে প্রথম স্থান অধিকার করেছে এবং গোমাংস উৎপাদনে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে।

অ্যাডিলেড সম্পর্কে টীকা লেখো।
অ্যাডিলেড হল মারে-ডার্লিং অববাহিকার সবচেয়ে বড়ো শহর ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দর এবং দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া রাজ্যের রাজধানী। সেন্ট ভিনসেন্ট উপসাগরের নিকট এবং টরেন নদীর তীরে অবস্থিত অ্যাডিলেড গম রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যকেন্দ্র। অ্যাডিলেড-এ মোটরগাড়ি তৈরি, জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতি, রেলের ইঞ্জিন ও বগি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি তৈরি, বস্ত্রবয়ন, পশম ও পশমজাত দ্রব্য, ময়দা, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রভৃতি শিল্প গড়ে উঠেছে।

মারে-ডার্লিং নদী সম্পর্কে টীকা লেখো।
- মারে-ডার্লিং নদীর ভূপ্রকৃতি –
- সাধারণ বৈশিষ্ট্য –
- প্রকৃতিগতভাবে মারে-ডার্লিং অববাহিকাটি একটি আদর্শ সমতলভূমি অঞ্চল।
- মারে ও ডার্লিং নদী এবং এদের উপনদী বাহিত উর্বর পলি সঞ্চয়ের ফলে এই সমভূমি অঞ্চল গঠিত হয়েছে।
- এই সমভূমির তিনদিকে (উত্তর, পূর্ব, পশ্চিম) উঁচু পার্বত্যভূমি রয়েছে।
- সাধারণ বৈশিষ্ট্য –
- উচ্চতা – এর গড় উচ্চতা 200 মিটার।
- আকৃতি – মুখ খোলা বোতলের মতো দেখতে অববাহিকাটির দক্ষিণ-পশ্চিম দিক উন্মুক্ত, সেখান থেকে মারে নদী এনকাউন্টার উপসাগরে পড়েছে।
- ঢাল – দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ঢালু উত্তরাংশকে ডার্লিং বেসিন এবং পশ্চিম দিকে ঢালু দক্ষিণ অংশকে মারে বেসিন বলে। অঞ্চলটির সামগ্রিক ঢাল উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে।
- মৃত্তিকা – পার্বত্য ও মালভূমি অঞ্চল থেকে সৃষ্ট মারে-ডার্লিং এবং তাদের অসংখ্য উপনদী বাহিত পলিমাটি দিয়ে এই অঞ্চল সৃষ্টি হয়েছে। তাই সমগ্র অববাহিকা অঞ্চলটিতে উর্বর পলিমাটির আধিক্য লক্ষ করা যায়।

আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের একাদশ অধ্যায় ‘ওশিয়ানিয়া’ এর উপবিভাগ ‘মারে-ডার্লিং অববাহিকা‘ থেকে কিছু ‘টীকা’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য বা চাকরির পরীক্ষার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রশ্নগুলি অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা বা চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে।
আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা হলে, আপনারা আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





Leave a Comment