অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – ওশিয়ানিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের একাদশ অধ্যায় ‘ওশিয়ানিয়া’-এর উপবিভাগ ‘ওশিয়ানিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ’ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Contents Show

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল একাদশ অধ্যায়: ওশিয়ানিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

ওশিয়ানিয়া মহাদেশের অবস্থান লেখো।

ওশিয়ানিয়া মহাদেশটি উত্তরে 15° উত্তর অক্ষাংশ (হাওয়াই দ্বীপের উত্তরপ্রান্ত) থেকে দক্ষিণে 47° দক্ষিণ অক্ষাংশ (নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণপ্রান্ত) এবং পূর্বে 134° পশ্চিম দ্রাঘিমা (গ্যাম্বিয়ার দ্বীপপুঞ্জ) থেকে পশ্চিমে 114° পূর্ব দ্রাঘিমার (অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমসীমা) মধ্যে অবস্থিত। মহাদেশটি দক্ষিণ আমেরিকা থেকে 13,000 কিমি ও এশিয়া থেকে 350 কিমি দূরে এবং সম্পূর্ণভাবে সমুদ্রের মধ্যে ও দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করছে।

ওশিয়ানিয়া মহাদেশের চতুঃসীমা ও ক্ষেত্রমান লেখো।

ওশিয়ানিয়া মহাদেশের উত্তর ও পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণে কুমেরু মহাসাগর এবং পশ্চিমে ভারত মহাসাগর অবস্থান করছে। এ ছাড়াও কোরাল সাগর, বাস প্রণালী, এনকাউন্টার উপসাগর, তাসমান সাগর, টিমোর সাগর, আরাফুরা সাগর, কার্পেন্টারিয়া উপসাগর প্রভৃতি অবস্থান করছে। এই মহাদেশটি উত্তর-দক্ষিণে প্রায় 3,200 কিমি এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় 3,840 কিমি বিস্তৃত।

ওশিয়ানিয়া মহাদেশের মোট ক্ষেত্রমান প্রায় 85 লক্ষ বর্গকিমি। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া প্রায় 76.87 লক্ষ বর্গকিমি, পাপুয়া নিউগিনি প্রায় 4.6 লক্ষ বর্গকিমি, নিউজিল্যান্ড প্রায় 2.7 লক্ষ বর্গকিমি এবং তাসমানিয়া প্রায় 0.68 লক্ষ বর্গকিমি স্থান দখল করে আছে।

ওশিয়ানিয়ার আঞ্চলিক বিভাগগুলি কী কী?

প্রায় দশ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ওশিয়ানিয়া মহাদেশকে প্রধান চারটি আঞ্চলিক বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা –

  1. অস্ট্রেলেশিয়া (Australasia),
  2. মেলানেশিয়া (Melanesia),
  3. মাইক্রোনেশিয়া (Micronesia) ও
  4. পলিনেশিয়া (Polynesia)।

ওশিয়ানিয়া মহাদেশের প্রধান দেশ ও শহরের নামের তালিকা তৈরি করো।

অথবা, মানচিত্র ভালো করে দেখো আর বন্ধুরা একে-অন্যকে ওশিয়ানিয়ার নানা দেশ বা শহর খুঁজে বার করতে বলো।

দেশশহর
অস্ট্রেলিয়াক্যানবেরা (রাজধানী), সিডনি, অ্যাডিলেড, মেলবোর্ন প্রভৃতি।
নিউজিল্যান্ডওয়েলিংটন (রাজধানী), অকল্যান্ড প্রভৃতি।
পাপুয়া নিউগিনিপোর্ট মোরেসবি (রাজধানী)।
ফিজিসুভা (রাজধানী)।
হাওয়াইহনুলুলু (রাজধানী)।

ওশিয়ানিয়ার জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদের সম্পর্ক নীচের ছকের শূন্যস্থানে সঠিক শব্দ বসিয়ে নির্ণয় করো।

জলবায়ুস্বাভাবিক উদ্ভিদ / তৃণভূমি
1. ?মেহগনি
নাতিশীতোষ্ণ2. ?
3. ?মালাগার
ক্রান্তীয় মৌসুমি4. ?
জলবায়ুস্বাভাবিক উদ্ভিদ / তৃণভূমি
1. নিরক্ষীয় জলবায়ুমেহগনি
নাতিশীতোষ্ণ2. পপলার
3. মরু জলবায়ুমালাগার
ক্রান্তীয় মৌসুমি4. সিডার

পার্কল্যান্ড সাভানা কী?

অস্ট্রেলিয়ার উত্তরে ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্যের দক্ষিণাংশে কম বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে বড়ো বড়ো ঘাসের যে ক্রান্তীয় তৃণভূমি গড়ে উঠেছে, তাকে ‘পার্কল্যান্ড সাভানা’ বলে। তৃণভূমির মাঝে মাঝে জন্মানো ইউক্যালিপটাস, জারা প্রভৃতি গাছসহ সমগ্র তৃণভূমিকে দেখতে অনেকটা পার্কের মতো লাগে বলে একে ‘পার্কল্যান্ড’ নাম দেওয়া হয়েছে।

ওশিয়ানিয়া যেহেতু দ্বীপ মহাদেশ তাই সব দিকেই কোনো না কোনো সাগর বা মহাসাগর দিয়ে ঘেরা। মানচিত্র দেখে লিখে ফেলো কোন্ দিকে কোন্ মহাসাগর গেছে।

ওশিয়ানিয়া মহাদেশ

ওশিয়ানিয়ার প্রধান নদীগুলি কী কী?

ওশিয়ানিয়ার বিভিন্ন অংশের প্রধান নদীগুলি হলো-

  • অস্ট্রেলিয়া – মারে এবং ডার্লিং।
  • নিউজিল্যান্ড – ওয়াইতাকি, ওয়াংগানুই, ক্লুথা, গ্রে এবং বুলার।
  • তাসমানিয়া – ম্যাকুয়ারি, গর্ডন এবং ডারওয়েন্ট।
  • পাপুয়া নিউগিনি – ফ্লাই।

ওশিয়ানিয়া মহাদেশের কয়েকটি আগ্নেয় দ্বীপ ও কয়েকটি প্রবাল দ্বীপের নাম করো।

  • আগ্নেয় দ্বীপ → হাওয়াই, ফিজি, সলোমন, তাহিতি প্রভৃতি।
  • প্রবাল দ্বীপ → মার্শাল, গিলবার্ট, ক্যারোলাইন প্রভৃতি।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান মরুভূমিগুলির নাম লেখো।

অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমের মালভূমির মধ্যভাগে রয়েছে মরুভূমি অঞ্চল। এই মরুভূমি বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন –

  • গ্রেট ভিক্টোরিয়া মরুভূমি (অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম)।
  • গিবসন মরুভূমি।
  • গ্রেট স্যান্ডি মরুভূমি।
  • টানামি মরুভূমি প্রভৃতি।
গ্রেট ভিক্টোরিয়া মরুভূমি

ক্যান্টারবেরি সমভূমি কী?

নিউজিল্যান্ডের বিখ্যাত সমভূমির নাম ক্যান্টারবেরি সমভূমি। নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণ দ্বীপের পূর্ব উপকূল বরাবর এই সমভূমি গড়ে উঠেছে। এই সমভূমি পশুপালনের জন্য বিখ্যাত।

ক্যান্টারবেরি সমভূমি

নিউজিল্যান্ডকে ‘দক্ষিণের সুইজারল্যান্ড’ বলা হয় কেন?

নিউজিল্যান্ডকে ‘দক্ষিণের সুইজারল্যান্ড’ বলা হয়, কারণ – নিউজিল্যান্ড দেশটি দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত। নিউজিল্যান্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জলবায়ুর সঙ্গে ইউরোপ মহাদেশের সুইজারল্যান্ডের অনেকটাই মিল আছে। এ ছাড়াও দুটি দেশের মানুষের জীবনযাত্রা প্রণালী ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপের মধ্যেও প্রচুর সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

পলিনেশিয়া কী?

ওশিয়ানিয়া মহাদেশের পূর্ব দিকে অসংখ্য দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জের সমষ্টিকে পলিনেশিয়া বলে। ‘পলিনেশিয়া’ (Many Islands)-র অর্থ হল ‘পলি’ বা বহু + এশিয়া বা দেশ (দ্বীপ)। হাওয়াই, মার্কুইস, সামোয়া, সোসাইটি, ফিনিক্স, টোঙ্গা, তাহিতি, কুক, ইস্টার, টুভালু, টুয়ামোটু প্রভৃতি দ্বীপগুলি প্রধানত আগ্নেয়গিরির লাভা ও প্রবালকীটের দেহাবশেষ দিয়ে তৈরি। পলিনেশিয়ার অন্তর্গত হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের ‘মৌনালোয়া’ (পৃথিবীর সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি), মাউন্ট কিলাউই দুটি বিখ্যাত জীবন্ত আগ্নেয়গিরি।

অস্ট্রেলেশিয়া কাকে বলে?

‘অস্ট্রেলিয়া’ শব্দটির অর্থ ‘দক্ষিণের দেশ’। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও তাসমানিয়াকে একত্রে অস্ট্রেলেশিয়া বলে। অস্ট্রেলেশিয়া ওশিয়ানিয়া মহাদেশের প্রায় 90 শতাংশ স্থান দখল করে আছে।

মাইক্রোনেশিয়া কাকে বলে?

অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জের সমষ্টিকে একসঙ্গে মাইক্রোনেশিয়া বলে। মাইক্রোনেশিয়ার অর্থ হল ‘মাইক্রোন’ বা ক্ষুদ্র + এশিয়া বা দেশ (দ্বীপ)। মেলানেশিয়ার উত্তর এবং উত্তর-পূর্বাংশে নিরক্ষরেখা ও কর্কটক্রান্তি রেখার মধ্যবর্তী স্থানে মাইক্রোনেশিয়া (Small Island) অবস্থিত। মারিয়ানা, মার্শাল, ক্যারোলিন, গিলবার্ট, গুয়াম, কিরিবাটি, নাউরু, পালাউ প্রভৃতি দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জ মাইক্রোনেশিয়ার অন্তর্গত। সমস্ত দ্বীপগুলিই মূলত প্রবাল দ্বীপ। উল্লেখ্য, পৃথিবীর গভীরতম সমুদ্রখাত ‘মারিয়ানা খাত’ (11,000 মিটার) এই অঞ্চলে অবস্থিত।


আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের একাদশ অধ্যায় ‘ওশিয়ানিয়া’ এর উপবিভাগ ‘ওশিয়ানিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ‘ থেকে কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য বা চাকরির পরীক্ষার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রশ্নগুলি অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা বা চাকরির পরীক্ষায় প্রায় দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে।

আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা হলে, আপনারা আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ওশিয়ানিয়া - মারে-ডার্লিং অববাহিকা - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - টীকা

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – টীকা

ওশিয়ানিয়া - মারে-ডার্লিং অববাহিকা - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

ওশিয়ানিয়া - মারে-ডার্লিং অববাহিকা - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Souvick

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – টীকা

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – ওশিয়ানিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর