অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – ওশিয়ানিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ – টীকা

Souvick

আমরা আমাদের আজকের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের একাদশ অধ্যায় ‘ওশিয়ানিয়া’-এর উপবিভাগ ‘ওশিয়ানিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ’ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘টীকা’ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির স্কুলের ভূগোল পরীক্ষার জন্য এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল একাদশ অধ্যায়: ‘ওশিয়ানিয়া’ – গুরুত্বপূর্ণ টীকা

আর্টেজীয় কূপ সম্পর্কে টীকা লেখো। 

অস্ট্রেলিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে ভূগর্ভস্থ জল সংগ্রহের এক বিশেষ মাধ্যম হল আর্টেজীয় কূপ। কার্পেন্টারিয়া নিম্নভূমি অঞ্চলে এই কূপ দেখা যায়।

  • আর্টেজীয় কূপ সৃষ্টির কারণ – ভাঁজযুক্ত অর্ধচন্দ্রাকার শিলাগঠিত অঞ্চলের দুটি অপ্রবেশ্য শিলাস্তরের মধ্যবর্তী অংশে কোনো প্রবেশ্য শিলাস্তর থাকলে এবং তাদের প্রান্তদেশ ভূপৃষ্ঠে উন্মুক্ত থাকলে ওই শিলাস্তরে বৃষ্টির জল সঞ্চিত হয়। প্রবেশ্য শিলাস্তরে জল প্রবেশ করে, কিন্তু ওপরে ও নীচে অপ্রবেশ্য শিলাস্তর থাকায় ওই জল অন্য কোথাও যেতে পারে না। এই অবস্থায় অপ্রবেশ্য শিলার মধ্যে দিয়ে প্রবেশ্য স্তর পর্যন্ত কূপ খনন করলে পাম্পের সাহায্য ছাড়াই জল সহজে ভূপৃষ্ঠের উপরে ফোয়ারার মতো উঠে আসে।
  • আর্টেজীয় কূপ নামকরণ – ফ্রান্সের আর্টয়েস নামক স্থানে প্রথম এই কূপ দেখা গিয়েছিল বলে একে আর্টেজীয় কূপ বলে।
  • আর্টেজীয় কূপ গুরুত্ব – অস্ট্রেলিয়ায় এই জাতীয় কূপের সাহায্যে কৃষিক্ষেত্রে জলসেচ ও তৃণভূমিতে পশুপালন করা হয়। অস্ট্রেলিয়াতে আর্টেজীয় কূপের প্রচলন সর্বাধিক, তাই অস্ট্রেলিয়াকে ‘আর্টেজীয় কূপের দেশ’ বলা হয়।
আর্টেজীয় কূপ

গ্রেট বেরিয়ার রিফ সম্পর্কে টীকা লেখো। 

অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে কোরাল সাগরে গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জের সমান্তরালে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে এক বিশাল প্রবাল প্রাচীর রয়েছে। এর নাম ‘বৃহৎ প্রবাল প্রাচীর’ বা ‘গ্রেট বেরিয়ার রিফ’। এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রবাল প্রাচীর (দৈর্ঘ্য প্রায় 2,600 কিমি)। প্রবাল প্রাচীরটি উপকূলভাগ থেকে কোথাও 30 কিমি, আবার কোথাও 240 কিমি দূরে অবস্থিত। প্রবাল নামক একপ্রকার সামুদ্রিক কীটের দেহনিঃসৃত নির্যাস ও চুনজাতীয় পদার্থের দেহাবশেষ বহু দিন ধরে সমুদ্রের বুকে সঞ্চিত হয়ে এই প্রাচীরটি গঠিত হয়েছে। এই প্রবাল প্রাচীরটি অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলের সমান্তরালে অবস্থান করায় সামুদ্রিক ঝঞ্ঝার প্রকোপ থেকে বন্দর ও জাহাজগুলিকে রক্ষা করে। তবে জাহাজ চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে। এই গ্রেট বেরিয়ার রিফ হল অসংখ্য জীবের আবাসস্থল।

গ্রেট বেরিয়ার রিফ

গ্রেট অস্ট্রেলিয়ান বাইট সম্পর্কে টীকা লেখো। 

‘গ্রেট অস্ট্রেলিয়ান বাইট’ (Great Australian Bight) আসলে একটি উপসাগর। অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণে নাল্লারবার (Nullarbor) উপকূলীয় সমভূমি বরাবর পশ্চিমে ডার্লিং রেঞ্জ পর্বত থেকে পূর্বে অস্ট্রেলিয়ান আল্পস্ পর্যন্ত বিস্তৃত ধনুকের মতো আকৃতিবিশিষ্ট উপসাগরটিকে ‘গ্রেট অস্ট্রেলিয়ান বাইট’ বলা হয়। ধনুকের মতো বাঁকা সমুদ্রের উপকূলকে ভূগোলের ভাষায় বাইট (Bight) বলে।

গ্রেট অস্ট্রেলিয়ান বাইট

গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ সম্পর্কে টীকা লেখো। 

অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল বরাবর উত্তরে ইয়র্ক অন্তরীপ থেকে দক্ষিণে তাসমানিয়া দ্বীপ পর্যন্ত অসংখ্য শাখাপ্রশাখাসহ এক প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বতমালা বিস্তৃত আছে। এর নাম গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ। এটি বাস প্রণালী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। এই পর্বতমালা অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন – উত্তর-পূর্বে কুইন্সল্যান্ড প্রদেশে ক্লার্ক রেঞ্জ, ম্যাকফার্সন রেঞ্জ, ডার্লিং ডাউনস্; মধ্যভাগে নিউ সাউথ ওয়েলসে নিউ ইংল্যান্ড রেঞ্জ, ব্লু রেঞ্জ, লিভারপুল রেঞ্জ এবং দক্ষিণ-পূর্বে ভিক্টোরিয়া প্রদেশে একে অস্ট্রেলিয়ান আল্পস্ বলা হয়। এটি ‘অস্ট্রেলিয়ান কর্ডিলেরা’ নামেও বিশেষভাবে পরিচিত। এই পর্বতমালার নিউ ইংল্যান্ড রেঞ্জের মাউন্ট কোসিয়াস্কো (2,230 মিটার) অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এবং অস্ট্রেলিয়ান আল্পসের মাউন্ট টাউনসেন্ড (2,213 মিটার) অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ।

গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ

মেলবোর্ন সম্পর্কে টীকা লেখো। 

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে পোর্ট ফিলিপ উপসাগরের তীরে 1853 খ্রিস্টাব্দে মেলবোর্ন শহরটি গড়ে উঠেছিল। ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অধ্যুষিত অঞ্চলে অবস্থিত মেলবোর্ন ভিক্টোরিয়া প্রদেশের রাজধানী এবং অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর, সামুদ্রিক বন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্প-বাণিজ্য কেন্দ্র। কৃষিতে উন্নত মারে-ডার্লিং অববাহিকার সন্নিকটে অবস্থিত হওয়ায় মেলবোর্ন বন্দর দিয়ে কৃষিজ ফসল এবং পশম ও পশমজাত দ্রব্যাদি বিদেশে রপ্তানি হয়। এই বন্দরের মাধ্যমে গম, ময়দা, মাংস, ডেয়ারি দ্রব্য, সোনা, রুপো, বিভিন্ন প্রকার ফল প্রভৃতিও রপ্তানি করা হয়। এখানে ইঞ্জিনিয়ারিং, বৈদ্যুতিক, মোটরগাড়ি, রেলইঞ্জিন, ইলেকট্রনিক্স, ধাতব ও রাসায়নিক শিল্প, কার্পাস ও পশম বস্ত্রবয়ন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রভৃতি শিল্প গড়ে উঠেছে।

মেলবোর্ন

মেলানেশিয়া সম্পর্কে টীকা লেখো। 

‘মেলানেশিয়া’ শব্দটির অর্থ ‘কালো দেশ’ (Black lands)। এখানকার অধিবাসীদের গায়ের রং কালো বলে এমন নামকরণ। উত্তরে নিরক্ষরেখার সামান্য উত্তরাংশ থেকে দক্ষিণে 30° দক্ষিণ অক্ষাংশ এবং পূর্বে ফিজি দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জ থেকে পশ্চিমে পাপুয়া নিউগিনির (অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব দিক) মধ্যবর্তী অংশকে ‘মেলানেশিয়া’ বলে। মেলানেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত প্রধান প্রধান দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জগুলি হল – পাপুয়া নিউগিনি, নিউ ব্রিটেন, সলোমন, নিউ হেব্রিডস, ভানুয়াতু, নিউ ক্যালেডোনিয়া, নরফোক, সান্তা ক্রুজ প্রভৃতি। পাপুয়া নিউগিনি মেলানেশিয়ার বৃহত্তম এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। ফিজি মেলানেশিয়ার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আগ্নেয় দ্বীপ।


আমরা আমাদের আজকের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের একাদশ অধ্যায় ‘ওশিয়ানিয়া’-এর উপবিভাগ ‘ওশিয়ানিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ’ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ‘টীকা’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য বা চাকরির পরীক্ষার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই প্রশ্নগুলি প্রায়শই পরীক্ষায় দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে।

আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা হলে, আপনারা আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা দ্রুত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ওশিয়ানিয়া - মারে-ডার্লিং অববাহিকা - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - টীকা

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – টীকা

ওশিয়ানিয়া - মারে-ডার্লিং অববাহিকা - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

ওশিয়ানিয়া - মারে-ডার্লিং অববাহিকা - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Souvick

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – টীকা

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – ওশিয়ানিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর