আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের একাদশ অধ্যায় ‘ওশিয়ানিয়া’ এর উপবিভাগ ‘ওশিয়ানিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ’ থেকে কিছু ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অষ্টম শ্রেণির ভূগোল: ওশিয়ানিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (অধ্যায় 11)
ওশিয়ানিয়া মহাদেশের প্রধান আঞ্চলিক বিভাগগুলি সম্পর্কে লেখো।
প্রায় দশ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ওশিয়ানিয়া মহাদেশকে প্রধান চারটি আঞ্চলিক বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা—
অস্ট্রেলেশিয়া (Australasia) – ‘অস্ট্রেলিয়া’ শব্দটির অর্থ ‘দক্ষিণের দেশ’। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও তাসমানিয়াকে একত্রে অস্ট্রেলেশিয়া বলে। অস্ট্রেলেশিয়া ওশিয়ানিয়া মহাদেশের প্রায় 90 শতাংশ স্থান দখল করে আছে।
- মেলানেশিয়া (Melanesia) – ‘মেলানেশিয়া’ শব্দটির অর্থ ‘কালো দেশ’ (Black lands)। এখানকার অধিবাসীদের গায়ের রং কালো বলে এমন নামকরণ। উত্তরে নিরক্ষরেখার সামান্য উত্তরাংশ থেকে দক্ষিণে 30° দক্ষিণ অক্ষাংশ এবং পূর্বে ফিজি দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জ থেকে পশ্চিমে পাপুয়া নিউ গিনির (অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব দিক) মধ্যবর্তী অংশকে ‘মেলানেশিয়া’ বলে। মেলানেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত প্রধান প্রধান দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জগুলি হলো— পাপুয়া নিউ গিনি, নিউ ব্রিটেন, সলোমন, নিউ হেব্রিডিজ, ভানুয়াতু, নিউ ক্যালেডোনিয়া, নরফোক, সান্তা ক্রুজ প্রভৃতি। পাপুয়া নিউ গিনি মেলানেশিয়ার বৃহত্তম এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। ফিজি মেলানেশিয়ার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আগ্নেয় দ্বীপ।
- মাইক্রোনেশিয়া (Micronesia) – অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জের সমষ্টিকে একসঙ্গে মাইক্রোনেশিয়া বলে। মাইক্রোনেশিয়ার অর্থ হলো ‘মাইক্রোন’ বা ক্ষুদ্র + ‘এশিয়া’ বা দেশ (দ্বীপ)। মেলানেশিয়ার উত্তর এবং উত্তর-পূর্বাংশে নিরক্ষরেখা ও কর্কটক্রান্তি রেখার মধ্যবর্তী স্থানে মাইক্রোনেশিয়া (Small Islands) অবস্থিত। মারিয়ানা, মার্শাল, ক্যারোলিন, গিলবার্ট, গুয়াম, কিরিবাটি, নাউরু, পালাউ প্রভৃতি দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জ মাইক্রোনেশিয়ার অন্তর্গত। সমস্ত দ্বীপগুলিই মূলত প্রবাল দ্বীপ। উল্লেখ্য, পৃথিবীর গভীরতম সমুদ্রখাত ‘মারিয়ানা খাত’ (11,000 মিটার) এই অঞ্চলে অবস্থিত।
- পলিনেশিয়া (Polynesia) – ওশিয়ানিয়া মহাদেশের পূর্ব দিকে অসংখ্য দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জের সমষ্টিকে পলিনেশিয়া বলে। ‘পলিনেশিয়া’ (Many Islands)-র অর্থ হলো ‘পলি’ বা বহু + ‘এশিয়া’ বা দেশ (দ্বীপ)। হাওয়াই, মার্কুইস, সামোয়া, সোসাইটি, ফিনিক্স, টোঙ্গা, তাহিতি, কুক, ইস্টার, টুভালু, টুয়ামোটু প্রভৃতি দ্বীপগুলি প্রধানত আগ্নেয়গিরির লাভা ও প্রবালকীটের দেহাবশেষ দিয়ে তৈরি। পলিনেশিয়ার অন্তর্গত হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের ‘মৌনালোয়া’ (পৃথিবীর সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি) ও ‘মাউন্ট কিলাউই’ হলো দুটি বিখ্যাত জীবন্ত আগ্নেয়গিরি।

অস্ট্রেলিয়ার ভূপ্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
অথবা, অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের পূর্বের উচ্চভূমি ও উপকূলের সমভূমির বর্ণনা দাও।
অথবা, ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে অস্ট্রেলিয়াকে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী? যে-কোনো একটি ভাগ সম্পর্কে আলোচনা করো।
ভূপ্রাকৃতিক গঠন, বৈচিত্র্য ও বন্ধুরতা অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা যায়। সেগুলি হলো—

1. পূর্বদিকের উচ্চভূমি – অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল বরাবর উত্তরে ইয়র্ক অন্তরীপ থেকে দক্ষিণে তাসমানিয়া দ্বীপ পর্যন্ত এক প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বতমালা বিস্তৃত আছে। এটি বাস প্রণালী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। এর নাম গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ। এর দৈর্ঘ্য 3,500 কিমি এবং গড় উচ্চতা 1,000-1,500 মিটার। পর্বতশ্রেণিটি উত্তরের তুলনায় দক্ষিণে অপেক্ষাকৃত বেশি উঁচু। গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন— উত্তর-পূর্বে কুইন্সল্যান্ড প্রদেশে ক্লার্ক রেঞ্জ ও ডার্লিং ডাউনস্, মধ্যভাগে নিউ সাউথ ওয়েলসে নিউ ইংল্যান্ড রেঞ্জ, ব্লু রেঞ্জ ও লিভারপুল রেঞ্জ এবং দক্ষিণ-পূর্বে ভিক্টোরিয়া প্রদেশে অস্ট্রেলিয়ান আল্পস্ বলা হয়। এই পর্বতমালার নিউ ইংল্যান্ড রেঞ্জের মাউন্ট কোসিয়াস্কো (2,230 মিটার) সমগ্র অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

2. পশ্চিমের মালভূমি – অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম দিকের অধিকাংশ ভূমি খুবই প্রাচীন, ক্ষয়প্রাপ্ত, বালুময় এবং তরঙ্গায়িত। এই মালভূমির গড় উচ্চতা 200-500 মিটার। ভূবিজ্ঞানীদের অনুমান, অঞ্চলটি পৃথিবীর প্রাচীনতম ভূভাগ গন্ডোয়ানাল্যান্ডের অংশ ছিল। এখানকার পূর্ব ও পশ্চিমে অবস্থিত অনুচ্চ ক্ষয়প্রাপ্ত পাহাড়গুলির মধ্যে এলবার্ট এডোয়ার্ড রেঞ্জ, ম্যাকডোনেল রেঞ্জ, ডার্লিং রেঞ্জ বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এই মালভূমির অভ্যন্তরভাগে মরুভূমি ও লবণাক্ত জলের হ্রদ (প্লায়া) আছে। মরুভূমিগুলির মধ্যে গ্রেট স্যান্ডি মরুভূমি, গিবসন মরুভূমি, গ্রেট ভিক্টোরিয়া মরুভূমি উল্লেখযোগ্য।

3. মধ্যভাগের সমভূমি – অস্ট্রেলিয়ার উত্তর দিকে কার্পেন্টারিয়া উপসাগর থেকে দক্ষিণে স্পেনসার ও ভিনসেন্ট উপসাগর এবং পূর্বে গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ থেকে পশ্চিমে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মালভূমির মধ্যবর্তী স্থান নিম্ন সমতলভূমি। এই মধ্যভাগের সমভূমির গড় উচ্চতা 180 মিটার। এখানে বিস্তীর্ণ পশুচারণভূমি ও কৃষিক্ষেত্র আছে। উত্তরের সেলুইন রেঞ্জ এবং মধ্যভাগের গ্রেট রেঞ্জ সমভূমিটিকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছে। সেগুলি হলো—
- উত্তরে কার্পেন্টারিয়া নিম্নভূমি,
- মধ্যভাগে আয়ার হ্রদ অববাহিকা এবং
- দক্ষিণে মারে-ডার্লিং অববাহিকা।
- অর্ধচন্দ্রাকৃতির মৃত্তিকা স্তরযুক্ত কার্পেন্টারিয়া নিম্ন সমভূমিটি ‘পৃথিবীর বৃহত্তম আর্টেজীয় কূপ’ সমৃদ্ধ অঞ্চল।
4. উপকূলীয় সমভূমি – অস্ট্রেলিয়ার চারপাশে অতি সংকীর্ণ উপকূলীয় সমভূমি আছে। তবে উত্তরের কার্পেন্টারিয়া উপসাগর ও দক্ষিণের গ্রেট অস্ট্রেলিয়ান বাইট সংলগ্ন উপকূলের সমভূমি অনেক প্রশস্ত। অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলের নিকটবর্তী সাগরে পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রবাল প্রাচীর (দৈর্ঘ্য প্রায় 2,600 কিমি) ‘গ্রেট বেরিয়ার রিফ’ অবস্থান করছে।
নিউজিল্যান্ডের ভূপ্রকৃতি আলোচনা করো।
নিউজিল্যান্ডের ভূপ্রকৃতি –
- অবস্থান – নিউজিল্যান্ড ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য ও জাপানের মতোই একটি দ্বীপময় ও পর্বতসংকুল রাষ্ট্র। ওশিয়ানিয়া মহাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র নিউজিল্যান্ড (ক্ষেত্রমান 2.68 লক্ষ বর্গকিমি) অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বে 2,000 কিমি দূরে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত। ‘জিল্যান্ড’ কথার অর্থ সমুদ্রের মধ্যে অবস্থিত স্থলভাগ।
- দ্বীপের সমন্বয় – 1. উত্তর দ্বীপ, 2. দক্ষিণ দ্বীপ, 3. স্টুয়ার্ট দ্বীপ, 4. চ্যাথাম দ্বীপ— প্রধানত এই চারটি দ্বীপসহ আরো কয়েকটি ছোটো ছোটো দ্বীপ নিয়ে নিউজিল্যান্ড গঠিত। দেশটি ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের ঠিক প্রতিপাদ স্থানে অবস্থিত ও ব্রিটিশ জাতির প্রাধান্য আছে। সেজন্য নিউজিল্যান্ডকে ‘দক্ষিণ গোলার্ধের ব্রিটেন’ বলা হয়।
- ভূপ্রকৃতি – নিউজিল্যান্ডের প্রধান দুটি দ্বীপ (উত্তর দ্বীপ ও দক্ষিণ দ্বীপ) 32 কিমি প্রশস্ত কুক প্রণালী দ্বারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন আছে। পর্বতময় নিউজিল্যান্ডের উত্তর দ্বীপে টারারুয়া, রাউকুমারা, পুকেটেই, রুয়াহাইন প্রভৃতি পর্বত অবস্থিত। দক্ষিণ দ্বীপের প্রধান পর্বতশ্রেণি হলো সাদার্ন আল্পস্। সাদার্ন আল্পসের মাউন্ট কুক (3,764 মিটার) সমগ্র নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। এটি সারাবছর বরফাবৃত থাকে। দক্ষিণ দ্বীপের পূর্ব উপকূল বরাবর গড়ে উঠেছে বিখ্যাত ক্যান্টারবেরি সমভূমি।
- অন্যান্য ভূমিরূপ – নিউজিল্যান্ডে অসংখ্য আগ্নেয়গিরি, হিমবাহ, উষ্ণ প্রস্রবণ ও হ্রদ আছে। আগ্নেয়গিরিগুলির মধ্যে উত্তর দ্বীপের মাউন্ট এগমন্ট (2,437 মিটার) একটি তুষারাচ্ছন্ন সুপ্ত আগ্নেয়গিরি এবং রুয়াপেহু (2,794 মিটার) নিউজিল্যান্ডের একটি সর্বোচ্চ জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। সাদার্ন আল্পসের টাসম্যান একটি বিখ্যাত হিমবাহ। হ্রদগুলির মধ্যে উত্তর দ্বীপের টাউপো (নিউজিল্যান্ডের বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ) ও দক্ষিণ দ্বীপের ওকাতিপু, ওহাউ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

ওশিয়ানিয়া মহাদেশের নদনদীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
ওশিয়ানিয়া মহাদেশ পাহাড়-পর্বতময় হওয়ায় তেমন কোনো বড়ো নদনদী বিস্তারলাভ করেনি। এই মহাদেশের প্রধান নদনদীগুলি হলো—
- অস্ট্রেলিয়ার নদনদী – অস্ট্রেলিয়া আয়তনে বড়ো হলেও নদনদীর সংখ্যা খুবই কম, কারণ অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ অঞ্চল শুষ্ক মরু প্রকৃতির। তবে অস্ট্রেলিয়াতে তিন ধরনের জলনিকাশি ব্যবস্থা আছে—
- মধ্যভাগের সমভূমির নদনদী – এই অঞ্চলের সর্বপ্রধান নদী হলো মারে (2,589 কিমি) ও তার উপনদী ডার্লিং (1,163 কিমি)। মারে-ডার্লিং নদী অস্ট্রেলিয়ান আল্পস্ (গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ) থেকে উৎপন্ন হয়ে দক্ষিণে এনকাউন্টার উপসাগরে পড়েছে। নদীটি ভিক্টোরিয়ার অস্ট্রেলিয়ান আল্পসের বরফগলা জলে পুষ্ট। সেজন্য এই নদীতে সারাবছর জল থাকে। মারের প্রধান উপনদী হলো ডার্লিং, মারামবিজি, লাচলান এবং ডার্লিং-এর প্রধান উপনদী হলো ম্যাচিনটার, বারওয়ান, ওয়ারগো, কালগোয়া প্রভৃতি। অন্যদিকে, আয়ার হ্রদে পতিত অন্তর্বাহিনী নদীগুলি হলো জর্জিয়া, আয়ার, ফিনকে ইত্যাদি।
- পশ্চিমের মালভূমির নদনদী – উষ্ণ শুষ্ক মরুভূমির মালভূমির ওপর দিয়ে কিছু ক্ষুদ্র অস্থায়ী অন্তর্বাহিনী নদী (কুপার, হায়, ফিংক, পামার, দিয়ামানটিনা প্রভৃতি) লবণাক্ত হ্রদে মিলিত হয়েছে।
- উপকূলের নদনদী – প্রশান্ত মহাসাগরে ফিজরয়, হান্টার, ব্রিসবেন, বারডেকিন; ভারত মহাসাগরে ফোর্টসকিউ, অ্যাসবাটন, গ্যাসকোয়েন, অ্যাভন, মার্চিসন, ডিগ্রে, সোয়ান, লিয়ন; কার্পেন্টারিয়া উপসাগরে ফ্লিন্ডার্স, রোপার, মিচেল; টিমোর সাগরে ভিক্টোরিয়া, ফিটজরয়, ওর্ড, ডালি প্রভৃতি ছোটো ছোটো নদী মিলিত হয়েছে।
- নিউজিল্যান্ডের নদনদী – নিউজিল্যান্ডে অসংখ্য বরফগলা জলে পুষ্ট নিত্যবহ খরস্রোতা নদী প্রবাহিত হয়েছে। কিন্তু নদীগুলির দৈর্ঘ্য অনেক কম। উত্তর দ্বীপের ওয়াইটাকি (নিউজিল্যান্ডের দীর্ঘতম নদী) ও ওয়ানগানুই এবং দক্ষিণ দ্বীপের ক্লুথা, গ্রে, বুলার ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য নদী।
- তাসমানিয়ার নদনদী – তাসমানিয়ার সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলির মধ্যে ম্যাকুওয়ারি, গর্ডন, ডারওয়েন্ট প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- পাপুয়া নিউগিনির নদনদী – পাপুয়া নিউগিনির সর্বপ্রধান নদী হলো ফ্লাই। এটি ভিক্টর ইমানুয়েল রেঞ্জ থেকে উৎপন্ন হয়েছে এবং পাপুয়া উপসাগরে পতিত হয়েছে।

ওশিয়ানিয়া মহাদেশের জলবায়ু অঞ্চলগুলির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
সাধারণভাবে ওশিয়ানিয়ার জলবায়ু ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোষ্ণ বা উপক্রান্তীয় প্রকৃতির হলেও অঞ্চলভেদে জলবায়ুর তারতম্য দেখা যায়। এই তারতম্যের ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ুকে ছয়টি জলবায়ু অঞ্চলে ভাগ করা যায়; যথা –
1. নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল –
- অবস্থান – মেলানেশিয়া, পলিনেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া দ্বীপপুঞ্জে এই জলবায়ু দেখা যায়।
- বৈশিষ্ট্য –
- সারাবছর পরিচলন পদ্ধতিতে বৃষ্টিপাত (200 সেমি) হয়।
- সারাবছর গড় তাপমাত্রাও (28°C) বেশি থাকে।
- সর্বদা জলবায়ু উষ্ণ-আর্দ্র প্রকৃতির।
2. ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চল –
- অবস্থান – অস্ট্রেলিয়ার উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অংশে দেখা যায়।
- বৈশিষ্ট্য –
- গ্রীষ্মকাল উষ্ণ ও আর্দ্র এবং শীতকাল শুষ্ক ও শীতল প্রকৃতির হয়।
- বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত 150 সেমি।
3. নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল –
- অবস্থান – অস্ট্রেলিয়ার মারে-ডার্লিং অববাহিকা ও পূর্ব উপকূলের ব্রিসবেনে দেখা যায়।
- বৈশিষ্ট্য –
- উষ্ণ গ্রীষ্ম ও শীতল শীতকাল হলেও উষ্ণতার প্রসর কম থাকে।
- গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত 50-70 সেমি।
- বছরের মোট বৃষ্টিপাতের অধিকাংশ গ্রীষ্মকালে আয়ন বায়ুর প্রভাবে হয়।
4. ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল –
- অবস্থান – অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাংশে ও পশ্চিমাংশের উপকূল বরাবর অ্যাডিলেড ও পার্থ অঞ্চলে দেখা যায়।
- বৈশিষ্ট্য –
- উষ্ণ ও শুষ্ক গ্রীষ্মকাল এবং আর্দ্র ও শীতল শীতকাল।
- গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ প্রায় 75 সেমি।
- পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়।
5. ব্রিটিশ জলবায়ু অঞ্চল –
- অবস্থান – সমগ্র নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়া ও তাসমানিয়ায় দেখা যায়।
- বৈশিষ্ট্য –
- গ্রীষ্মকাল মৃদু উষ্ণ (15°C) এবং শীতকাল অধিক শীতল (5°C)।
- পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে সারাবছর প্রবল বৃষ্টি (200 সেমি) হয়।
6. ক্রান্তীয় মরু ও মরুপ্রায় জলবায়ু –
- অবস্থান – অস্ট্রেলিয়ার মধ্য ও পশ্চিম অংশে দেখা যায়। এই অঞ্চলে গ্রেট স্যান্ডি মরুভূমি, গিবসন মরুভূমি, ভিক্টোরিয়া মরুভূমি প্রভৃতি অবস্থান করছে।
- বৈশিষ্ট্য –
- গ্রীষ্মকাল অধিক উপশ্চিমা এবং শীতকাল অতি শীতল প্রকৃতির।
- সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাব না থাকায় এই অঞ্চল সারাবছর শুষ্ক থাকে।
- বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত 25 সেমির কম।

ওশিয়ানিয়া মহাদেশের স্বাভাবিক উদ্ভিদ সম্পর্কে আলোচনা করো।
ওশিয়ানিয়া মহাদেশের বিভিন্ন দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন অংশের জলবায়ু, ভূপ্রকৃতি, মৃত্তিকা, সামুদ্রিক অবস্থান প্রভৃতির পার্থক্যের জন্য বিভিন্ন প্রকার মূল্যবান স্বাভাবিক উদ্ভিদের প্রাচুর্য দেখা যায়। এই মহাদেশটিকে সাতটি স্বাভাবিক উদ্ভিদ অঞ্চলে ভাগ করা যায়, সেগুলি হল –
1. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃষ্টি অরণ্য –
- অবস্থান – মেলানেশিয়া, পলিনেশিয়া ও মাইক্রোনেশিয়ার বিভিন্ন দ্বীপে এই অরণ্য দেখা যায়।
- উদ্ভিদসমূহ – আবলুশ, মেহগনি, রাবার, রোজ উড, আয়রন উড, পাম জাতীয় বৃক্ষ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- বৈশিষ্ট্য –
- এই অরণ্যভূমি অত্যন্ত ঘন ও দুর্ভেদ্য, প্রচুর বড়ো গাছ ও লতাগুল্ম জন্মায়।
- বিভিন্ন প্রজাতির একাধিক গাঁটযুক্ত শক্ত কাঠের বৃক্ষ ও পরগাছা বা পরজীবী উদ্ভিদ দেখা যায়।
- গাছগুলির সব পাতা একসঙ্গে ঝরে পড়ে না।
- গাছগুলি খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে।
2. ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য –
- অবস্থান – অস্ট্রেলিয়ার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশে বিভিন্ন প্রকার মৌসুমি পর্ণমোচী বা পাতাঝরা বৃক্ষ জন্মায়।
- উদ্ভিদসমূহ – ইউক্যালিপটাস, পাম, বার্চ, সিডার, বাঁশ, শাল, সেগুন প্রভৃতি উদ্ভিদ জন্মায়।
- বৈশিষ্ট্য – শুকনো ঋতুতে বৃষ্টি কম হওয়ায় জলের অভাবে গাছের পাতাগুলি ঝরে যায়।
3. সাভানা বা ক্রান্তীয় তৃণভূমি –
- অবস্থান – অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাংশে মৌসুমি জলবায়ুর দক্ষিণে ক্রান্তীয় সাভানা তৃণভূমি গড়ে উঠেছে। একে পার্কল্যান্ড সাভানা বলা হয়।
- তৃণসমূহ – বড়ো বড়ো মোটা ঘাসের ক্রান্তীয় তৃণভূমি সৃষ্টি হয়েছে। একে স্থানীয় ভাষায় ‘মিচেল’ ও ‘ক্যাঙারু’ বলে।
- বৈশিষ্ট্য – তৃণগুলি মোটা, শক্ত ও লম্বা (4-5 মিটার) হয়। একে ‘Elephant Grass’ও বলা হয়। এর মাঝে মাঝে ইউক্যালিপ্টাস ও জুরা জাতীয় গাছ দেখা যায়।

4. নাতিশীতোষ্ণ অরণ্য –
- অবস্থান – অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল, দক্ষিণ নিউজিল্যান্ড ও তাসমানিয়াতে নাতিশীতোষ্ণ পর্ণমোচী উদ্ভিদ জন্মায়।
- উদ্ভিদসমূহ – ওক, ম্যাপল, এলম, পাইন, ফার, স্ক্রুস, লার্চ, পপলার প্রভৃতি উদ্ভিদ জন্মায়।
- বৈশিষ্ট্য – বৃক্ষগুলি শঙ্কু আকৃতির, অতি দীর্ঘ, নরম, হালকা, কম শাখাপ্রশাখাযুক্ত হয়। বনভূমির তলদেশে ঝোপঝাড় বা লতাগুল্ম থাকে না।
5. মরু উদ্ভিদ –
- অবস্থান – অস্ট্রেলিয়ার মধ্যাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ মালভূমিতে মরু উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়েছে।
- উদ্ভিদসমূহ – এই অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে ক্যাকটাস, ফণীমনসা, কাঁটাগাছ, (বাবলা, খেজুর, সল্টবুশ) জাতীয় মরু উদ্ভিদ বা জাঙ্গল উদ্ভিদ বা জোরোফাইট উদ্ভিদ জন্মায়।
- বৈশিষ্ট্য – গাছগুলি পত্রশূন্য, কণ্টকজাতীয়, কাণ্ড ও ত্বক পুরু হয়। বৃক্ষগুলি কম জলগ্রহণ ও কম বাষ্পমোচন করে।
6. ভূমধ্যসাগরীয় অরণ্য –
- অবস্থান – ‘গ্রেট অস্ট্রেলিয়ান বাইট’-এর পূর্ব-পশ্চিম উপকূল সংলগ্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে (অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল) ভূমধ্যসাগরীয় বনভূমি লক্ষ করা যায়।
- উদ্ভিদসমূহ – এখানে জারা, কারি, কৌরি, ব্লু-গাম, মারকুইস প্রভৃতি উদ্ভিদ জন্মায়। এখানকার গুল্ম ও ঝোপঝাড় জাতীয় উদ্ভিদকে স্থানীয় ভাষায় ‘মালি’ বলে।
- বৈশিষ্ট্য – বৃক্ষগুলির কাণ্ডে পুরু বাকল বা ছাল দেখা যায়, পাতায় মোমের আবরণ থাকে, শিকড়গুলি মাটির অনেক গভীরে প্রবেশ করে এবং উদ্ভিদগুলি চিরসবুজ হয়।
7. নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি –
- অবস্থান – অস্ট্রেলিয়ার মারে-ডার্লিং অববাহিকায় বৃষ্টিপাত কম হওয়ার জন্য তৃণভূমি সৃষ্টি হয়েছে। একে ডাউনস্ বলে।
- উদ্ভিদসমূহ – এখানে শিষ, আলফা আলফা, হে, ক্লোভার ইত্যাদি তৃণ রয়েছে।
- বৈশিষ্ট্য – ডাউনস্ তৃণভূমির তৃণগুলি নরম ও পশুখাদ্যের উপযোগী। তৃণগুলি অত্যধিক ঘন ও ছোটো ছোটো হয়।

ওশিয়ানিয়ার জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদের মানচিত্রের মধ্যে যে মিলগুলি দেখা যাচ্ছে, তা লিখে ফেলো।
অথবা, ওশিয়ানিয়ার জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদের সম্পর্ক লেখো।
ওশিয়ানিয়া মহাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রকৃতির জলবায়ু লক্ষ করা যায়। এই জলবায়ুর ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের স্বাভাবিক উদ্ভিদ গড়ে উঠেছে। যেমন –
- নিরক্ষীয় জলবায়ু ও চিরহরিৎ অরণ্য – মেলানেশিয়া, পলিনেশিয়া দ্বীপগুলির নিরক্ষীয় জলবায়ুতে উষ্ণতা অধিক ও বৃষ্টিপাত খুব বেশি হওয়ায় মেহগনি, পাম, এবনি প্রভৃতি চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি গড়ে উঠেছে।
- ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু ও পর্ণমোচী অরণ্য – অস্ট্রেলিয়ার উত্তর ও উত্তর পূর্বাংশের মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে বৃষ্টি হলেও শীতকালে বৃষ্টি হয় না। তাই জলের অভাবে পাম, বার্চ, সিডার, বাঁশ প্রভৃতি পর্ণমোচী বৃক্ষের বনভূমি এখানে দেখা যায়। এই বনভূমির দক্ষিণে অস্ট্রেলিয়ার কিছু অংশে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বড়ো বড়ো ঘাসের তৃণভূমি গড়ে উঠেছে। একে পার্কল্যান্ড সাভানা বলে।
- নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু ও নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি – অস্ট্রেলিয়ার মারে-ডার্লিং অববাহিকায় নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় ছোটো ছোটো ঘাসের তৃণভূমি (ডাউনস্) গড়ে উঠেছে।
- ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু ও অরণ্য – অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাংশের উপকূল বরাবর আর্দ্র শীতকাল ও শুষ্ক গ্রীষ্মকালযুক্ত ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে জারা, কারি, ব্লু-গাম প্রভৃতি ভূমধ্যসাগরীয় উদ্ভিদের অরণ্য গড়ে উঠেছে।
- ব্রিটিশ জলবায়ু ও নাতিশীতোষ্ণ অরণ্য – দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়া, তাসমানিয়া ও নিউজিল্যান্ডের প্রচুর বৃষ্টিপাত ও মৃদু উষ্ণ গ্রীষ্মকাল এবং খুব শীতল শীতকাল যুক্ত জলবায়ু অঞ্চলে পপলার, ম্যাপল, ওক, বৃহৎ পাতার পর্ণমোচী প্রভৃতি উদ্ভিদ দেখা যায়।
- ক্রান্তীয় মরু জলবায়ু ও মরু উদ্ভিদ – অস্ট্রেলিয়ার মধ্য ও পশ্চিমাংশে খুব কম বৃষ্টিপাত (25 সেমির কম) যুক্ত মরু জলবায়ুতে জলের অভাবে ক্যাকটাস, মালাগার ও লবণাম্বু ঝোপঝাড় দেখা যায়।
ওশিয়ানিয়া মহাদেশের ভৌগোলিক গুরুত্ব আলোচনা করো।
প্রায় 1000 দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত ক্ষুদ্রতম এই ওশিয়ানিয়া মহাদেশের ভৌগোলিক গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন –
- ভৌগোলিক অবস্থান – পৃথিবীর প্রায় কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং সমুদ্র মধ্যস্থ হওয়ায় ওশিয়ানিয়া জলপথ ও বিমানপথের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে।
- ক্ষেত্রমান – ওশিয়ানিয়া পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ (85 লক্ষ বর্গকিমি)।
- ভূপ্রকৃতি – প্রাচীন গন্ডোয়ানাল্যান্ডের অন্তর্ভুক্ত অসংখ্য দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জের অধিকাংশ ভূপ্রকৃতি বৈচিত্র্যপূর্ণ (ক্ষয়প্রাপ্ত তরঙ্গায়িত শিল্ড মালভূমি, ভঙ্গিল পর্বত, সমভূমি, নিম্নভূমি, আগ্নেয় ও প্রবাল দ্বীপ প্রভৃতি)। পাপুয়া নিউগিনির মাউন্ট উইলহেলম (4,509 মিটার) ওশিয়ানিয়া মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।
- নদনদী – মহাদেশের প্রধান নদী মারে এবং তার উপনদী ডার্লিং। নদী অববাহিকার উর্বর পলল মাটিতে কৃষিকাজ এবং নদীর জল পশুপালন ও শিল্পের কাজে ব্যবহৃত হয়।
- জলবায়ু – ওশিয়ানিয়ার উত্তরে ক্রান্তীয়, মধ্যভাগে নিরক্ষীয় এবং দক্ষিণে নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু বিরাজ করে।
- স্বাভাবিক উদ্ভিদ – ওশিয়ানিয়ার বনভূমি কম। দক্ষিণাংশে নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি ডাউনস্ অবস্থিত। এখানকার বনভূমি (ইউক্যালিপটাস, জারা, কারি পাইন, ব্লু-গাম, কৌরি পাইন, নারিকেল), ম্যানগ্রোভ বৃক্ষ ও তৃণভূমি অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপে সহায়তা করেছে।
- কৃষিকাজ – অস্ট্রেলিয়ার মারে-ডার্লিং অববাহিকা ও নিউজিল্যান্ডে গম, আখ, কলা, নারকেল, মিষ্টি আলু, কার্পাস, ধান, ভুট্টা, যব, আঙুর, আপেল, আনারস, জলপাই প্রভৃতি অর্থকরী ফসল জন্মায়।
- খনিজ সম্পদ – ওশিয়ানিয়া খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। এখান থেকে সোনা, বক্সাইট, লোহা, কয়লা, সিসা, দস্তা, ম্যাঙ্গানিজ, খনিজ তেল প্রভৃতি মূল্যবান খনিজ পদার্থ সংগৃহীত হয়।
- প্রাণীজ সম্পদ – অস্ট্রেলিয়ার ডাউনস্ তৃণভূমিতে পালিত পশু থেকে দুধ, মাংস, পশম পাওয়া যায়। সমুদ্র উপকূল ও অভ্যন্তরীণ নদনদী থেকে প্রচুর মাছ, প্রবাল ও সামুদ্রিক রত্ন সংগ্রহ করা হয়।
- শিল্প – অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড লৌহ-ইস্পাত, জাহাজ, কাগজ, পশম, চিনি, ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে উন্নত।
- জীবজন্তু – একমাত্র ওশিয়ানিয়া মহাদেশে সর্বাধিক সংখ্যায় বিচিত্র প্রাণী (ক্যাঙারু, কিউই, ওয়ালাবিস, প্লাটিপাস, এমু, কোয়ালা, ওম্ব্যাট্স, ডিঙ্গো, লয়ার, উট, উড়ন্ত কাঠবিড়ালি, পোসাম, ক্যাসেওয়ারি, কোলা প্রভৃতি) আছে।
- পর্যটন কেন্দ্র – সমুদ্র মধ্যস্থ হওয়ায় ওশিয়ানিয়ার অত্যন্ত মনোরম জলবায়ু ও অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এখানে এসে হাজির হয়।
- সামরিক ঘাঁটি – এখানকার বিভিন্ন দ্বীপগুলিতে পৃথিবীর শক্তিধর দেশগুলি তাদের নৌঘাঁটি ও বিমানঘাঁটি গড়ে তুলেছে।
- শিক্ষা ও দক্ষতা – প্রধানত অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, তাসমানিয়া, পাপুয়া নিউগিনির শিক্ষিত ও দক্ষ জনগণের সংখ্যা অধিক থাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ক্রিয়াকলাপে বিশেষ সহায়তা করেছে।
আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের একাদশ অধ্যায় ‘ওশিয়ানিয়া’ এর উপবিভাগ ‘ওশিয়ানিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ‘ থেকে কিছু ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য বা চাকরির পরীক্ষার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রশ্নগুলি অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা বা চাকরির পরীক্ষায় প্রায় দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে।
আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা হলে, আপনারা আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





Leave a Comment