অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – অস্থিত পৃথিবী – ভূমিকম্প – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘অস্থিত পৃথিবী’-এর উপবিভাগ ‘ভূমিকম্প’ থেকে কিছু ‘সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Contents Show

ভূমিকম্প তরঙ্গের প্রকারভেদ ব্যাখ্যা করো।

ভূমিকম্প তরঙ্গ প্রধানত তিন প্রকার, যথা –

  1. প্রাথমিক তরঙ্গ,
  2. গৌণ তরঙ্গ ও
  3. পৃষ্ঠ তরঙ্গ।

প্রাথমিক তরঙ্গ বা ‘P’ তরঙ্গ (Primary wave) – ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে উৎপন্ন হয়ে সর্বপ্রথম যে তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠে এসে পৌঁছায়, তাকে প্রাথমিক তরঙ্গ বা ‘P’ তরঙ্গ বলে। এর গতিবেগ 6 কিমি/সেকেন্ড।

প্রাথমিক তরঙ্গ

গৌণ তরঙ্গ বা ‘S’ তরঙ্গ (Secondary wave) – ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে উৎপন্ন যে তরঙ্গ ‘P’ তরঙ্গের পর ভূপৃষ্ঠে পৌঁছায়, তাকে গৌণ তরঙ্গ বা ‘S’ তরঙ্গ বলে। এই তরঙ্গের গতিবেগ 3-5 কিমি/সেকেন্ড।

দ্বিতীয় পর্যায়ের তরঙ্গ

পৃষ্ঠ তরঙ্গ বা ‘L’ তরঙ্গ (Long wave) – যে তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠের চারদিকে ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে, তাকে পৃষ্ঠ তরঙ্গ বা ‘L’ তরঙ্গ বলে। এর গতিবেগ 3-4 কিমি/সেকেন্ড। পৃষ্ঠ তরঙ্গ বা ‘L’ তরঙ্গের দুটি ভাগ। যথা –

  • লাভ তরঙ্গ – যে তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠ বরাবর সম্পূর্ণ অনুভূমিকভাবে প্রসারিত হয়, তাকে লাভ তরঙ্গ বলে। বিজ্ঞানী A.E.H. Love প্রথম এই তরঙ্গ আবিষ্কার করায় এমন নামকরণ হয়েছে।
  • র‍্যালে তরঙ্গ – যেসব তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠের মধ্য দিয়ে কিছুটা উপবৃত্তাকার গতিতে অগ্রসর হয়, তাকে র‍্যালে তরঙ্গ বলে। ইংরেজ পদার্থবিদ লর্ড র‍্যালের নামানুসারে র‍্যালে তরঙ্গ নাম হয়েছে।
লাভ তরঙ্গ
র‍্যালে তরঙ্গ

হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে সেইরকম পরিস্থিতিতে তুমি কী করবে?

অথবা, ভূমিকম্প হঠাৎ শুরু হলে কী করা উচিত?

  • ভূমিকম্পের সময় ঘরের ভিতর থাকলে তৎক্ষণাৎ বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসা উচিত।
  • পাকা বাড়ির দেয়াল, সরু পথ, বড়ো গাছ ও বিদ্যুতের তার থেকে দূরে খোলা জায়গায় থাকা উচিত।
  • ভূমিকম্পের সময় কোনো বিল্ডিংয়ের উঁচু তলায় থাকলে দরজা বা জানালা দিয়ে লাফ না দিয়ে খোলা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থেকে সময়মতো বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে।
  • চলন্ত গাড়িতে থাকলে তাকে থামিয়ে কোনো ফাঁকা স্থানে আশ্রয় নিতে হবে।
  • দ্রুত ত্রাণের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • ভূমিকম্পের সময় ঘরের ভিতরের শক্ত টেবিল বা আসবাবের নিচে আশ্রয় নিতে হবে।
  • বহুতল বাড়ির লিফট ব্যবহার করা উচিত নয়।
  • বিদ্যুতের তারে হাত দেওয়া অনুচিত।
  • বাড়ির পোষা জন্তুদের বেঁধে রাখা উচিত নয়।

ভূমিকম্পজনিত বিপর্যয়ে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত? অথবা, ভূমিকম্পের প্রয়োজনীয় পরিকল্পনাগুলি লেখো।

ভূমিকম্পজনিত বিপর্যয় মোকাবিলায় নীচের ব্যবস্থাগুলি গ্রহণ করা উচিত। যথা –

ভূমিকম্পের পূর্ববর্তী পরিকল্পনা –

  • বাড়ির ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলি চিহ্নিত করা।
  • সকলে মিলে দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনা করা।
  • জরুরিকালীন জিনিসপত্র (পানীয় জল, খাবার, ওষুধ, টর্চ, টাকা, জরুরি কাগজপত্র ইত্যাদি) গুছিয়ে রাখা।
  • বাড়ির দুর্বল স্থান মেরামত করা। ভূমিকম্প চলাকালীন কোনো শক্ত আসবাবের (যেমন – টেবিল) তলায় আশ্রয় নেওয়া।

ভূমিকম্প পরবর্তী পদক্ষেপ –

  • কম্পন থেমে গেলে আঘাত ও ক্ষয়ক্ষতির অনুসন্ধান করা।
  • বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা, যেমন – ত্রাণ সরবরাহ, খাদ্য বিতরণ, পানীয় জল সরবরাহ প্রভৃতি পরিকল্পনা অনুসরণ করা।
ভূমিকম্পজনিত বিপর্যয়

সুনামি সতর্ক বার্তা সম্পর্কে লেখো। 

সুনামি সাধারণত দু-ভাবে চিহ্নিত করা যায়। যথা –

  • টাইডাল গজের সাহায্যে সমুদ্র উপকূলে জলের পরিমাপ করে সুনামির উৎপত্তি বোঝা যায়। এই যন্ত্রটির সেন্সর সুনামির উৎপত্তি বুঝলেও তা দ্রুত সুনামির আগাম বার্তা দিতে পারে না।
  • দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হল Deep Ocean Assessment and Reporting of Tsunami (DART)। এক্ষেত্রে সমুদ্র তলদেশে দুটি সেন্সর অবস্থান করে যা তাদের উপরিস্থিত জলের ভর নথিভুক্ত করে। যখনই তারা সুনামি তরঙ্গের বার্তা গ্রহণ করে তা উপগ্রহে প্রেরণ করে, মহাকাশে থাকা উপগ্রহের বিজ্ঞানীরা তখন তা পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশের ভূমিকম্প সতর্কবার্তা কেন্দ্রে প্রেরণ করে। এইভাবে সুনামির আগাম বার্তা দেওয়া হয়।
সুনামি সতর্ক বার্তা

আমাদের দেশের কোন্ অঞ্চল কতটা ভূমিকম্পপ্রবণ?

ভূমিকম্পের প্রবণতার বিচারে ভারতকে 5টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। যথা –

  • অঞ্চল-1 – অতি অল্প ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। জয়পুর, দণ্ডকারণ্য, যোধপুর, তামিলনাড়ু মালভূমি এই অঞ্চলের অন্তর্গত।
  • অঞ্চল-2 – অল্প ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ প্রভৃতি এর অন্তর্গত।
  • অঞ্চল-3 – মাঝারি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। লাক্ষাদ্বীপ, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ অংশ, পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল ইত্যাদি এর অন্তর্গত।
  • অঞ্চল-4 – অধিক ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। জম্মু ও কাশ্মীর, বিহার, উত্তরাখণ্ড, পশ্চিম হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল, কচ্ছ উপদ্বীপ ইত্যাদি এই অঞ্চলের অন্তর্গত।
  • অঞ্চল-5 – প্রবল ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। উত্তর-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চল, কচ্ছ উপদ্বীপ ইত্যাদি এই অঞ্চলের অন্তর্গত।
ভারতের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল

P, S ও L তরঙ্গের তুলনামূলক আলোচনা করো।

P, S ও L তরঙ্গের তুলনা –

বিষয়P তরঙ্গS তরঙ্গL তরঙ্গ
সংজ্ঞাযে ভূমিকম্প তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠে প্রথম ধরা পড়ে, তাকে প্রাথমিক বা P তরঙ্গ বলে।যে তরঙ্গ P তরঙ্গের পর ভূপৃষ্ঠে পৌঁছোয়, তাকে গৌণ বা S তরঙ্গ বলে।যে তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠ বরাবর চারদিকে ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে, তাকে পৃষ্ঠতরঙ্গ বা L তরঙ্গ বলে।
উৎপত্তিভূমিকম্পের কেন্দ্রে উৎপন্ন হয়।ভূমিকম্পের কেন্দ্রে উৎপন্ন হয়।ভূমিকম্পের উপকেন্দ্রে উৎপন্ন হয়।
প্রকৃতিএটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। মাধ্যমের কণাগুলি প্রবাহপথের দিকেই কাঁপতে থাকে।এটি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। মাধ্যমের কণাগুলি প্রবাহপথের সমকোণে কাঁপতে থাকে।এটি তির্যক তরঙ্গ। মাধ্যমের কণাগুলি প্রবাহপথে তির্যকভাবে ওঠানামা করে।
তরঙ্গদৈর্ঘ্যতরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে ছোটো।P তরঙ্গের তুলনায় তরঙ্গদৈর্ঘ্য বড়ো।এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বড়ো।
শক্তিসর্বাধিক শক্তিশালী তরঙ্গ।P তরঙ্গের থেকে কম শক্তিশালী।P ও S তরঙ্গের চেয়ে কম শক্তিশালী।
গতিবেগসবচেয়ে দ্রুতগামী তরঙ্গ। গতি 6 কিমি/সেকেন্ড।গতিবেগ মাঝারি। গতি 3-5 কিমি/সেকেন্ড।গতিবেগ সবচেয়ে কম। গতি 3-4 কিমি/সেকেন্ড।
মাধ্যমকঠিন ও তরল উভয় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যেতে পারে।কেবল কঠিন মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যায়।কেবল কঠিন ভূত্বকের মধ্য দিয়েই প্রবাহিত হয়।
ক্ষয়ক্ষতিক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম।ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তেমন নেই।সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি করে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্র (Centre) ও উপকেন্দ্রের (Epicentre) মধ্যে পার্থক্য লেখো।

ভূমিকম্পের কেন্দ্র (Centre) ও উপকেন্দ্রের (Epicentre) মধ্যে পার্থক্য –

বিষয়কেন্দ্র (Focus/Centre)উপকেন্দ্র (Epicentre)
সংজ্ঞাপৃথিবীর অভ্যন্তরে যে স্থানে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের কেন্দ্র বলে।ভূমিকম্পের কেন্দ্রের ঠিক সোজাসুজি ভূপৃষ্ঠের ওপরে অবস্থিত স্থানকে উপকেন্দ্র বলে।
অবস্থানকেন্দ্রের অবস্থান ভূ-অভ্যন্তরে।উপকেন্দ্রের অবস্থান ভূপৃষ্ঠে।
তরঙ্গের প্রকৃতিকেন্দ্র থেকে উপকেন্দ্রের দিকে তরঙ্গগুলি উল্লম্বভাবে এগিয়ে আসে।উপকেন্দ্র থেকে চারদিকে তরঙ্গ অনুভূমিকভাবে প্রসারিত হয়।
তীব্রতাকেন্দ্র থেকে উপকেন্দ্রের দিকে তরঙ্গের তীব্রতা ক্রমশ বাড়তে থাকে।উপকেন্দ্রের চারপাশে তরঙ্গের তীব্রতা ক্রমশ কমতে থাকে।
প্রভাবকেন্দ্রে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম, তবে ভূগঠনকে প্রভাবিত করে।ভূমিকম্পের প্রভাব এখানে সবচেয়ে বেশি। তাই ক্ষয়ক্ষতি হয় প্রচুর।
উদাহরণ2004 সালের সুনামি সৃষ্টিকারী ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভারত মহাসাগরের তলদেশে।ওই ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল সুমাত্রা ও জাভা।

ভূমিকম্পের উপকেন্দ্রে ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয় কেন? 

ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ – ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে উৎপন্ন P ও S তরঙ্গ উপকেন্দ্রে এসে জোরে ধাক্কা দেয়। বিশেষত তরঙ্গের গতি সবচেয়ে বেশি হওয়ায় তা প্রথমে উপকেন্দ্রে এসে খুব জোরে আঘাত করে। কেন্দ্র থেকে উপকেন্দ্রের দূরত্ব সবচেয়ে কম হওয়ায় এখানে P ও S তরঙ্গের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে। উপকেন্দ্রে যে পৃষ্ঠ তরঙ্গের সৃষ্টি হয়, তার গতি উপকেন্দ্রেই সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই উপকেন্দ্রে অবস্থিত অঞ্চল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অভিসারী পাত সীমানায় প্রায়শই ভূমিকম্প হয় কেন? 

অভিসারী পাত সীমানায় দুটি পাত পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসে। ফলে, দুটি পাতের মধ্যে যখন সংঘর্ষ হয়, তখন ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। আবার, হালকা পাতের নীচে ভারী পাতটি প্রবেশ করলে ঢুকে যাওয়া অংশটি অ্যাসথেনোস্ফিয়ারে গিয়ে গলে যায় এবং ম্যাগমায় পরিণত হয়ে চাপ বৃদ্ধি করে ও ফাটল বরাবর উঠে এসে অগ্ন্যুৎপাত ঘটানোর সময় ভূমিকম্প সৃষ্টি করে। যেমন – 2015 সালের 25 এপ্রিল ভারতীয় পাত ইউরেশীয় পাতের তলায় প্রবেশ করায় রিখটার স্কেলে 7.9 তীব্রতাযুক্ত ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়েছিল।

অভিসারী পাত সীমানা

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো ও লস এঞ্জেলস শহরে বসবাস করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ কেন? 

কারণ – আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের সানফ্রান্সিসকো এবং লস এঞ্জেলস শহর দুটি সান আন্দ্রেয়াস চ্যুতির প্রায় ওপরেই অবস্থিত। এখানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত, উত্তর আমেরিকান পাতের কিনারা ঘেঁষে উত্তর দিকে সরছে। ফলে, সংলগ্ন অঞ্চলটি ভূ-গাঠনিকভাবে অত্যন্ত অস্থির। প্রায়শই ভূ-আলোড়ন, ভূমিকম্প ঘটতে থাকে। যেমন – 1906 সালের শক্তিশালী ভূমিকম্পে সানফ্রান্সিসকো শহর প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

সান-আন্দ্রিজ চ্যুতি

পৃষ্ঠ তরঙ্গ সবচেয়ে বেশি ধ্বংসাত্মক কেন? 

পৃষ্ঠ তরঙ্গ বা L তরঙ্গ যেদিকে অগ্রসর হয় মাধ্যমের কণাগুলি সেদিকে তির্যকভাবে ওঠানামা করে। অর্থাৎ, কণাগুলি যেমন ওঠানামা করে, তেমন পাশের দিকেও সরে যায়, ফলে, ভূপৃষ্ঠে উল্লম্বভাবে অবস্থানরত বাড়িঘর গাছপালার সাপেক্ষে পৃষ্ঠ তরঙ্গ ভূমির সঙ্গে অনুভূমিকভাবে ক্রিয়া করে। পৃথিবীর পরিধি বরাবর এই তরঙ্গ কার্যকরী হওয়ায় কম শক্তিশালী হলেও ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি করে। এই কারণে পৃষ্ঠ তরঙ্গ সবচেয়ে বেশি ধ্বংসাত্মক তরঙ্গ।

নবীন ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ কেন? 

হিমালয়, আল্পস্, রকি, আন্দিজ প্রভৃতি নবীন ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চল অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ। কারণ –

  • ধারাবাহিক গঠন প্রক্রিয়া – নবীন ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চলগুলির গঠন প্রক্রিয়া আজও অব্যাহত। তাই অঞ্চলগুলিতে মাঝে মাঝে কম্পন সৃষ্টি হয়।
  • পাত সঞ্চালন – দুটি পাতের পারস্পরিক সংঘর্ষের দরুন নবীন ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।
  • প্রবল পার্শ্বচাপ – প্রবল পার্শ্বচাপে পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ার সময় শিলার স্থিতিস্থাপকতা বিনষ্ট হলে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।
  • চ্যুতি সৃষ্টি – প্রবল পার্শ্বচাপে পর্বতের শিলায় ফাটল ধরে চ্যুতি সৃষ্টির সময় ভূমিকম্প হয়।
  • ধস ও হিমানী সম্প্রপাত – সুউচ্চ পর্বতে ধস নামার সময় এবং হিমবাহ থেকে বরফের চাঁই খসে পড়ার সময় ভূমিকম্প ঘটে।
হিমালয় পর্বতের গঠন

আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘অস্থিত পৃথিবী’ এর উপবিভাগ ‘ভূমিকম্প’ থেকে কিছু ‘সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য বা চাকরির পরীক্ষার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রশ্নগুলি অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা বা চাকরির পরীক্ষায় প্রায় দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে।

আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা হলে, আপনারা আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

অস্থিত পৃথিবী - ভূমিকম্প - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – অস্থিত পৃথিবী – ভূমিকম্প – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অস্থিত পৃথিবী - ভূমিকম্প - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - টীকা

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – অস্থিত পৃথিবী – ভূমিকম্প – টীকা

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - অস্থিত পৃথিবী - ভূমিকম্প - সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – অস্থিত পৃথিবী – ভূমিকম্প – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Souvick

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – অস্থিত পৃথিবী – ভূমিকম্প – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – অস্থিত পৃথিবী – ভূমিকম্প – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – অস্থিত পৃথিবী – ভূমিকম্প – টীকা

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – অস্থিত পৃথিবী – ভূমিকম্প – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – অস্থিত পৃথিবী – ভূমিকম্প – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর