অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের তৃতীয় অধ্যায় ‘শিলা’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। স্কুল পরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই অধ্যায়ের পার্থক্যধর্মী প্রশ্নগুলো বারবার আসে। নিচে সহজভাবে টেবিলের মাধ্যমে প্রধান পার্থক্যগুলো আলোচনা করা হলো।

শীলা (Rock) ও খনিজ (Mineral)-এর পার্থক্যগুলি লেখো।
শীলা (Rock) ও খনিজ (Mineral)-এর পার্থক্য –
| বিষয় | শিলা (Rock) | খনিজ (Mineral) |
| সংজ্ঞা | এক বা একাধিক খনিজের সমন্বয়ে গঠিত পদার্থ হল শিলা। | শিলার মধ্যে অবস্থিত রাসায়নিক সংযুক্তি ও পারমাণবিক গঠনযুক্ত কেলাসিত পদার্থই হল খনিজ। |
| প্রকৃতি | শিলা বিভিন্ন খনিজ পদার্থের সম্মিলিত যৌগ। | খনিজ মৌলিক বা যৌগিক উভয় ধরনের হয়। |
| গঠনগত উপাদান | শিলা বিভিন্ন জৈব ও অজৈব উপাদান দ্বারা গঠিত। | খনিজ প্রধানত বিভিন্ন অজৈব উপাদানে গঠিত। |
| রাসায়নিক সংযুক্তি | শিলায় রাসায়নিক সংযুক্তি দেখা যায় না। | খনিজের মধ্যে রাসায়নিক সংযুক্তি দেখা যায়। |
| পৃথকীকরণ | বিভিন্ন খনিজের সমন্বয়ে গঠিত শিলার উপাদানগুলি পরস্পর থেকে পৃথক করা যায় না। | খনিজ গঠনকারী উপাদানগুলি পরস্পর থেকে পৃথক করা যায়। |
| কেলাসন | শিলা কেলাসিত হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে। | খনিজ সাধারণত কেলাসিত পদার্থ। |
| উদাহরণ | গ্রানাইট, ব্যাসল্ট, চুনাপাথর প্রভৃতি। | কোয়ার্টজ, অভ্র, অ্যাম্ফিবোল প্রভৃতি। |
নিঃসারী (Extrusive) ও উদবেধী (Intrusive) শিলার পার্থক্যগুলি লেখো।
নিঃসারী (Extrusive) ও উদবেধী (Intrusive) শিলার পার্থক্য –
| বিষয় | নিঃসারী শিলা (Extrusive Rock) | উদ্ভেদী শিলা (Intrusive Rock) |
| সংজ্ঞা | ভূ-অভ্যন্তরীণ ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে লাভারূপে বেরিয়ে এসে শীতল ও জমাটবদ্ধ হয়ে যে আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি করে, তাকে নিঃসারী শিলা বলে। | ভূ-অভ্যন্তরে ম্যাগমা শীতল ও জমাটবদ্ধ হয়ে যে আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি করে, তাকে উদ্ভেদী শিলা বলে। |
| অবস্থান | ভূপৃষ্ঠে অবস্থান করে। | ভূগর্ভের অনেক নীচে বা ভূত্বকের সামান্য নীচে ফাটলের মধ্যে অবস্থান করে। |
| কণার আকার | দ্রুত শীতল ও জমাটবদ্ধ হয় বলে কণাগুলি সূক্ষ্ম হয়। | ধীরে ধীরে শীতল ও জমাটবদ্ধ হয় বলে কণাগুলি অপেক্ষাকৃত বড়ো হয়। |
| রং | শিলার রং গাঢ় হয়। | শিলার রং অপেক্ষাকৃত হালকা হয়। |
| আপেক্ষিক গুরুত্ব | আপেক্ষিক গুরুত্ব বেশি। | আপেক্ষিক গুরুত্ব অপেক্ষাকৃত কম। |
| শ্রেণিবিভাগ | 1. লাভা শিলা (ব্যাসল্ট), 2. পাইরোক্লাস্ট শিলা (টাফ)। | 1. পাতালিক শিলা – গ্রানাইট, 2. উপপাতালিক শিলা – ডোলেরাইট। |
| ভূমিরূপ | এই শিলা দ্বারা গঠিত ভূমিরূপ চ্যাপ্টা বা ষড়ভুজ প্রকৃতির হয়। | এই শিলা দ্বারা গঠিত ভূমিরূপ গোলাকার বা গম্বুজাকার প্রকৃতির হয়। |
| গুরুত্ব | মানবজীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। | মানবজীবনে গুরুত্ব কম। |
| উদাহরণ | ব্যাসল্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডেসাইট। | গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডোলেরাইট। |
পাতালিক (Plutonic) ও উপপাতালিক (Hypabyssal) শিলার পার্থক্যগুলি লেখো।
পাতালিক (Plutonic) ও উপপাতালিক (Hypabyssal) শিলার পার্থক্য –
| বিষয় | পাতালিক শিলা (Plutonic Rock) | উপপাতালিক শিলা (Hypabyssal Rock) |
| সংজ্ঞা | ভূ-অভ্যন্তরের অত্যন্ত গভীরে ম্যাগমা শীতল ও কঠিন হয়ে যে শিলার সৃষ্টি হয়, তাকে পাতালিক শিলা বলে। | ভূপৃষ্ঠের সামান্য নীচে ম্যাগমা শীতল ও কঠিন হয়ে যে শিলার সৃষ্টি হয়, তাকে উপপাতালিক শিলা বলে। |
| ঘনত্ব | পাতালিক শিলার আপেক্ষিক ঘনত্ব অপেক্ষাকৃত বেশি। | উপপাতালিক শিলার আপেক্ষিক ঘনত্ব অপেক্ষাকৃত কম। |
| সময় | পাতালিক শিলা অত্যন্ত ধীরে ধীরে বহু বছর ধরে জমাট বাঁধে। | উপপাতালিক শিলা তুলনামূলকভাবে দ্রুত গতিতে জমাট বাঁধে। |
| দানার আকৃতি | এই শিলার খনিজের দানাগুলি অপেক্ষাকৃত বড়ো হয়। | এই শিলার খনিজের দানাগুলি পাতালিক শিলার তুলনায় ছোটো হয়। |
| রং | পাতালিক শিলা হালকা রঙের হয়। | উপপাতালিক শিলা গাঢ় রঙের হয়। |
| উদাহরণ | গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডায়োরাইট ইত্যাদি। | ডোলেরাইট, পরফাইরি ইত্যাদি। |
গ্রানাইট (Granite) ও ব্যাসল্ট (Basalt)-এর পার্থক্য লেখো।
গ্রানাইট (Granite) ও ব্যাসল্ট (Basalt)-এর পার্থক্য –
| বিষয় | গ্রানাইট (Granite) | ব্যাসল্ট (Basalt) |
| প্রকৃতি | গ্রানাইট উদ্ভেদী পাতালিক শ্রেণির আম্লিক প্রকৃতির আগ্নেয় শিলা। | ব্যাসল্ট নিঃসারী লাভা শ্রেণির ক্ষারীয় প্রকৃতির আগ্নেয় শিলা। |
| অবস্থান | ভূগর্ভের অনেক নীচে দেখা যায়। | ভূপৃষ্ঠে দেখা যায়। |
| দানার আকার | দানাগুলি কিছুটা বড়ো (ব্যাস 3 মিমি -এর বেশি)। | দানাগুলি তুলনায় ছোটো (ব্যাস 1 মিমি -এর কম)। |
| সময় | ম্যাগমা ধীরে ধীরে জমাট বেঁধে সৃষ্টি হয়। | লাভা দ্রুত জমাট বেঁধে সৃষ্টি হয়। |
| প্রধান উপাদান | গ্রানাইটের প্রধান উপাদান কোয়ার্টজ (31%)। | ব্যাসল্টের প্রধান উপাদান ফেল্ডসপার (46%)। |
| ভূমিরূপ | গ্রানাইট শিলাগঠিত অঞ্চলে গোলাকৃতির টরজাতীয় ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়। | ব্যাসল্ট শিলাগঠিত অঞ্চলে চ্যাপ্টাকৃতির সিঁড়ির ধাপের ন্যায় ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়। |
| মৃত্তিকার ওপর প্রভাব | গ্রানাইট থেকে লোহিত মৃত্তিকার সৃষ্টি হয়। | ব্যাসল্ট থেকে কৃষ্ণ মৃত্তিকার সৃষ্টি হয়। |
সংঘাত (Clastic) ও অসংঘাত (Non-clastic) শিলার পার্থক্যগুলি লেখো।
সংঘাত (Clastic) ও অসংঘাত (Non-clastic) শিলার পার্থক্য –
| বিষয় | সংঘাত শিলা (Clastic Rock) | অসংঘাত শিলা (Non-clastic Rock) |
| সংজ্ঞা | যান্ত্রিক উপায়ে গঠিত পলল সঞ্চিত হয়ে সৃষ্ট পাললিক শিলাকে সংঘাত শিলা বলে। | জৈবিক বা রাসায়নিক উপায়ে গঠিত পলল সঞ্চিত হয়ে সৃষ্ট পাললিক শিলাকে অসংঘাত শিলা বলে। |
| দানার আকৃতি | এই শিলার দানাগুলি অপেক্ষাকৃত বড়ো হয়। | এই শিলার দানাগুলি তুলনামূলকভাবে ছোটো হয়। |
| কাঠিন্য | সংঘাত শিলার কাঠিন্য অপেক্ষাকৃত বেশি। | এই শিলা অপেক্ষাকৃত নরম। |
| মূল শিলার বৈশিষ্ট্য | এই শিলায় মূল শিলার বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে। | এই শিলায় মূল শিলার বৈশিষ্ট্য দেখা যায় না। |
| পরিবর্তন | মূল শিলার বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত থাকে। | মূল ব্লকের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়। |
| গুরুত্ব | কৃষিকার্যের জন্য উপযুক্ত। | শিল্পকার্যের জন্য উপযুক্ত। |
| উদাহরণ | বেলেপাথর, কাদাপাথর, কংগ্লোমারেট প্রভৃতি। | চুনাপাথর, ডলোমাইট, হেমাটাইট প্রভৃতি। |
প্রবেশ্যতা (Permeability) ও সচ্ছিদ্রতা (Porosity)-এর পার্থক্যগুলি লেখো।
প্রবেশ্যতা (Permeability) ও সচ্ছিদ্রতা (Porosity)-এর পার্থক্য –
| বিষয় | প্রবেশ্যতা (Permeability) | সচ্ছিদ্রতা (Porosity) |
| সংজ্ঞা | শিলার মধ্য দিয়ে জল ও বায়ু প্রবেশের ক্ষমতাকে প্রবেশ্যতা বলে। | শিলার আয়তন ও শিলার মধ্যের শূন্যস্থানের মোট আয়তনের অনুপাতকে সচ্ছিদ্রতা বলে। |
| জলধারণ ক্ষমতা | শিলার প্রবেশ্যতা বেশি হলে জলধারণ ক্ষমতা কমে। | শিলার সচ্ছিদ্রতা বেশি হলে জলধারণ ক্ষমতা বাড়ে। |
| নির্ভরতা | শিলার কাঠিন্য ও ঘনত্বের ওপর প্রবেশ্যতা নির্ভর করে। | শিলার গ্রথন ও গঠনের ওপর সচ্ছিদ্রতা নির্ভর করে। |
| উদাহরণ | বেলেপাথরের প্রবেশ্যতা বেশি। | কাদাপাথরের সচ্ছিদ্রতা বেশি। |
আগ্নেয় (Igneous), পাললিক (Sedimentary) ও রূপান্তরিত (Metamorphic) শিলার তুলনা করো।
অথবা, আগ্নেয় ও পাললিক শিলার মধ্যে পার্থক্য কী?
অথবা, পাললিক ও রূপান্তরিত শিলার তুলনা করো।
আগ্নেয় (Igneous), পাললিক (Sedimentary) ও রূপান্তরিত (Metamorphic) শিলার তুলনা –
| বিষয় | আগ্নেয় শিলা (Igneous Rock) | পাললিক শিলা (Sedimentary Rock) | রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rock) |
| সৃষ্টি | উত্তপ্ত গলিত ম্যাগমা জমে এই শিলা সৃষ্টি হয়। | সমুদ্রের তলদেশে পলি সঞ্চিত হয়ে এই শিলা সৃষ্টি হয়। | তাপ, চাপ ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা রূপান্তরিত হয়ে এই শিলা সৃষ্টি হয়। |
| শিলার প্রকৃতি | প্রাথমিক শিলা বলা হয়। | গৌণ শিলা বলা হয়। | গৌণ বা প্রগৌণ শিলা বলা হয়। |
| কাঠিন্য | খুব কঠিন ও ভারী হয়। | নরম ও হালকা উভয় প্রকৃতির হয়। | অন্য দুই প্রকার শিলার তুলনায় বেশি কঠিন ও ভারী হয়। |
| জীবাশ্ম | কোনো জীবাশ্ম নেই। | জীবাশ্ম দেখা যায়। | জীবাশ্ম পাওয়া যায় না। |
| স্তর | স্তরহীন। | স্তরায়ন তলযুক্ত। | অনেকসময় স্তর দেখা যায় (স্লেট)। |
| কেলাসের অস্তিত্ব | কেলাসিত ও স্ফটিকযুক্ত হয়। | কেলাস বা স্ফটিক থাকে না। | কেলাসিত ও স্ফটিকযুক্ত হয়। |
| ক্ষয়িষ্ণুতা | সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। | সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। | সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। |
| জলশোষণ ক্ষমতা | জল শোষণ করতে পারে গঠন না। অর্থাৎ, অপ্রবেশ্য শিলা। | শিলাস্তরে জল সঞ্চিত থাকে। অর্থাৎ, প্রবেশ্য শিলা। | জলশোষণ ক্ষমতাহীন অর্থাৎ, অপ্রবেশ্য। |
| খনিজের উপস্থিতি | বিভিন্ন প্রকার ধাতব খনিজ, যেমন – তামা, সোনা, লোহা, ম্যাঙ্গানিজ প্রভৃতি পাওয়া যায়। | প্রধানত জৈব জ্বালানি, যেমন – কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। | বিভিন্ন অধাতব খনিজ দ্রব্য, যেমন – অভ্র, মূল্যবান নানা পাথর ইত্যাদি পাওয়া যায়। |
| সৃষ্ট ভূমিরূপ | লাভা মালভূমি ও গোলাকার পাহাড় গঠনে সাহায্য করে। | ভঙ্গিল পর্বত, কার্স্ট ভূমিরূপ গঠনে সাহায্য করে। | বিভিন্ন প্রকার পর্বত ও উপত্যকা গঠনে সাহায্য করে। |
| উদাহরণ | গ্রানাইট, ব্যাসল্ট প্রভৃতি। | বেলেপাথর, চুনাপাথর প্রভৃতি। | মারবেল, অ্যাম্ফিবোলাইট প্রভৃতি। |
স্থানীয় রূপান্তর (Local Metamorphism) ও আঞ্চলিক রূপান্তর (Regional Metamorphism)-এর পার্থক্য লেখো।
স্থানীয় রূপান্তর (Local Metamorphism) ও আঞ্চলিক রূপান্তর (Regional Metamorphism)-এর পার্থক্য –
| বিষয় | স্থানীয় রূপান্তর (Local Metamorphism) | আঞ্চলিক রূপান্তর (Regional Metamorphism) |
| বিস্তার | স্বল্প অঞ্চল জুড়ে শিলার রূপান্তর ঘটে। | বিশাল অঞ্চল জুড়ে শিলার রূপান্তর ঘটে। |
| প্রভাব | তাপের প্রভাবে এই রূপান্তর হয়ে থাকে। | চাপের প্রভাবে এই রূপান্তর হয়ে থাকে। |
| অবস্থান | সাধারণত ভূপৃষ্ঠের ওপরে ও সামান্য নীচে এর রূপান্তর দেখা যায়। | সাধারণত ভূপৃষ্ঠের গভীরে এই রূপান্তর ঘটে। |
| পত্রায়ন | পত্রায়ন দেখা যায়। | পত্রায়ন দেখা যায় না। |
| স্পর্শ | উত্তপ্ত লাভার স্পর্শে রূপান্তর ঘটে বলে স্পর্শ সংযোগ রূপান্তর বলে। | এরূপ কোনো সংযোগ হয়বিধা না। |
| উদাহরণ | চুনাপাথর মারবেল পাথরে রূপান্তরিত হয়। | কাদাপাথর স্লেট পাথরে রূপান্তরিত হয়। |
আশা করি, অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের ‘শিলা’ অধ্যায়ের এই পার্থক্যগুলো আপনাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে অনেক সাহায্য করবে। নিয়মিত এমন শিক্ষামূলক কন্টেন্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করুন বা আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন। পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না!





Leave a Comment