অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – জলবায়ু অঞ্চল – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের ষষ্ঠ অধ্যায় ‘জলবায়ু অঞ্চল’ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক (চাকরির) পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - জলবায়ু অঞ্চল - পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

চারটি জলবায়ু অঞ্চলের প্রাকৃতিক ও আর্থ-সামাজিক পরিবেশের কার্যকারণ সম্পর্কে তোমার বিশ্লেষণ লিখে ফেলো।

অথবা, নিরক্ষীয় জলবায়ু, মৌসুমি জলবায়ু, ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু ও তুন্দ্রা জলবায়ুর তুলনামূলক আলোচনা করো।
অথবা, ভূমধ্যসাগরীয় ও মৌসুমি জলবায়ুর মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
অথবা, ভূমধ্যসাগরীয় ও মৌসুমি জলবায়ুর তুলনা করো।

চারটি জলবায়ু অঞ্চলের প্রাকৃতিক ও আর্থ-সামাজিক পরিবেশের কার্যকারণ সম্পর্কে বিশ্লেষণ –

বিষয়নিরক্ষীয় জলবায়ুমৌসুমি জলবায়ুভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুতুন্দ্রা জলবায়ু
অবস্থান0° থেকে 10° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত।10°-30° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত।30°-40° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত।60°-75° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত।
উষ্ণতাবার্ষিক গড় উষ্ণতা 27°C।গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা 30°C এবং শীতকালীন গড় তাপমাত্রা 25°C।গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা 21°C-27°C এবং শীতকালীন গড় তাপমাত্রা 5°C-10°C।গ্রীষ্মকালীন গড় উষ্ণতা 10°C এবং শীতকালীন গড় উষ্ণতা -20°C থেকে -80°C।
বৃষ্টিপাতবার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত 200-250 সেমি।বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত 100-150 সেমি।বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত 25-150 সেমি।বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত 20-30 সেমি।
ঋতুসারাবছর উষ্ণ আর্দ্র গ্রীষ্ম ঋতু বিরাজমান।গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত ও শরৎ চারটি ঋতু দেখা যায়। আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল এই জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।প্রধান ঋতু গ্রীষ্ম ও শীত। শুষ্ক গ্রীষ্মকাল এবং আর্দ্র শীতকাল এই জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।দীর্ঘ প্রায় 8-9 মাস শীতকাল এবং 2-3 মাস গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে।
স্বাভাবিক উদ্ভিদচিরসবুজ অরণ্য গড়ে উঠেছে।প্রধানত পর্ণমোচী অরণ্য দেখা যায়।চিরহরিৎ ও গুল্মজাতীয় বৃক্ষের মিশ্র অরণ্য দেখা যায়।মস, লাইকেন, শৈবাল ও গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ দেখা যায়।
উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য1. পাতা সারাবছর সবুজ থাকে।
2. অত্যধিক ঘন বনে সূর্যালোক মাটিতে পৌঁছতে পারে না।
3. গাছের পাতা উপরিস্তরে চাঁদোয়া তৈরি করে।
4. গাছের কাঠ শক্ত প্রকৃতির হয়।
1. শুষ্ক শীতকালে গাছের পাতা ঝরে যায়।
2. গাছগুলির উচ্চতা মাঝারি (12-15 মিটার)।
3. গাছের পাতাগুলি বড়ো থেকে মাঝারি ধরনের হয়।
1. অধিকাংশ গাছ চিরহরিৎ, শিকড় অনেক গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত।
2. পাতাগুলিতে মোমজাতীয় আস্তরণ থাকে।
3. গাছের ফলগুলি রসাল, টক-মিষ্টি প্রকৃতির হয়।
1. অত্যন্ত শীতল জলবায়ুতে গুল্ম, শৈবাল ও ক্ষুদ্রকায় ঝোপ জন্মায়।
2. গ্রীষ্মকালে বরফ গললে কিছু পুষ্পশোভিত উদ্ভিদ জন্মায়।
3. শীতকালে উদ্ভিদগুলি বরফে চাপা পড়ে নির্জীব থাকে।
বায়ুপ্রবাহউত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ুর মিলনস্থল। মূলত ঊর্ধ্বগামী উষ্ণ বায়ুর স্রোত দেখা যায়।গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। লু, আঁধি ইত্যাদি দেখা যায়।গ্রীষ্মকালে শুষ্ক আয়ন বায়ু এবং শীতকালে আর্দ্র পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয়। সিরক্কো, বোরা ইত্যাদি দেখা যায়।সারাবছর শীতল মেরু বায়ু প্রবাহিত হয়। অনেক সময় তুষার ঝড় দেখা যায়।
উদ্ভিদের উদাহরণরোজ উড, আয়রন উড, মেহগনি, রবার, কোকো, তাল ইত্যাদি।শাল, সেগুন, পলাশ, বাঁশ, শিশু, চন্দন ইত্যাদি।কর্ক, কারি, জলপাই, আঙুর, কমলালেবু ইত্যাদি।মস, লাইকেন, জুনিপার, বার্চ, অ্যালডার ইত্যাদি।
জনবসতিদুর্গম অরণ্য ও প্রতিকূল পরিবেশের জন্য জনবসতি কম।অনুকূল মনোরম জলবায়ু ও সম্পদের প্রাচুর্যের কারণে পৃথিবীর সর্বাধিক জনবহুল অঞ্চল।অনুকূল প্রাকৃতিক ও আর্থ-সামাজিক পরিবেশের কারণে জনবসতি অত্যন্ত ঘন।অত্যধিক শীতলতার কারণে এখানে জনবসতি খুবই কম।

নিরক্ষীয় চিরসুবজ (Equatorial Evergreen) অরণ্য এবং সরলবর্গীয় (Coniferous) অরণ্যের পার্থক্য দেখাও।

নিরক্ষীয় চিরসুবজ (Equatorial Evergreen) অরণ্য এবং সরলবর্গীয় (Coniferous) অরণ্যের পার্থক্য –

বিষয়নিরক্ষীয় চিরসবুজ অরণ্যসরলবর্গীয় বনভূমি
বৈশিষ্ট্যঘন চিরসবুজ, প্রচণ্ড শক্ত দীর্ঘকায় গাছ দেখা যায়।লম্বা, ডালপালা প্রায় থাকে না, নরম কাষ্ঠবিশিষ্ট গাছ দেখা যায়।
অবস্থানপ্রচণ্ড বৃষ্টিপাতযুক্ত এবং সারাবছর ধরে বৃষ্টি হয়, এমন স্থানে এটি দেখা যায়।পার্বত্য জলবায়ুতে ও নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতে এই অরণ্য দেখা যায়।
অপর নামএকে ‘সেলভা’ অরণ্য বলা হয়।একে ‘তৈগা’ বনভূমি বলা হয়।
ঘনত্বপৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ঘন, স্যাঁতসেঁতে, দুর্গম বনভূমি বলে পরিচিত।এই গাছগুলির ঘনত্ব অপেক্ষাকৃত কম থাকে।
সম্পদরূপে গণ্যতাঅধিকাংশ কাঠ শিল্প বা ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যবহার করা যায় না বা সংগ্রহ করা যায় না বলে একে সম্পদরূপে গণ্য করা হয় না।অধিকাংশ কাঠ নানান কাজে ব্যবহার করা চলে বলে এখানকার কাঠকে সম্পদ আখ্যা দেওয়া চলে।

আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের ষষ্ঠ অধ্যায় ‘জলবায়ু অঞ্চল’ থেকে কিছু ‘পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য বা চাকরির পরীক্ষার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রশ্নগুলি অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা বা চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে।

আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা হলে, আপনারা আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

জলবায়ু অঞ্চল - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - রচনাধর্মী  প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – জলবায়ু অঞ্চল – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

জলবায়ু অঞ্চল - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – জলবায়ু অঞ্চল – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর

জলবায়ু অঞ্চল - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - টীকা

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – জলবায়ু অঞ্চল – টীকা

About The Author

Souvick

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – জলবায়ু অঞ্চল – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – জলবায়ু অঞ্চল – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – জলবায়ু অঞ্চল – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – জলবায়ু অঞ্চল – টীকা

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – জলবায়ু অঞ্চল (ষষ্ঠ অধ্যায়) – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর