আমরা আমাদের এই আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের অষ্টম অধ্যায় ‘ভারতের প্রতিবেশী দেশসমূহ ও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক’ থেকে কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল স্কুল পরীক্ষার জন্য এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক।
অষ্টম শ্রেণির ভূগোল: ভারতের প্রতিবেশী দেশসমূহ ও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক (রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর)
নেপাল পর্যটন শিল্পে উন্নত কেন?
ভারতের উত্তরে স্থলবেষ্টিত দেশ (Land Locked Country) নেপাল পর্যটন শিল্পে অভাবনীয় উন্নতি করেছে, তার কারণগুলি হল –
- অপরূপ প্রাকৃতিক বা নৈসর্গিক সৌন্দর্য – পূর্ব হিমালয়ের কোলে অবস্থিত নেপাল একটি পর্বতময় রাষ্ট্র। বৈচিত্র্যময় স্বাভাবিক উদ্ভিদে আবৃত ভূপ্রকৃতির অপরূপ প্রাকৃতিক বা নৈসর্গিক সৌন্দর্য সমগ্র বিশ্ববাসীর কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। পৃথিবীর 10টি উঁচু পর্বতশৃঙ্গের মধ্যে 4টি নেপালে অবস্থিত। চিরতুষারাবৃত পর্বতশৃঙ্গগুলি সহ সমগ্র হিমালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতি মনোরম।
- ট্রেকিং বা পর্বতারোহণ – পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (8,848 মিটার) নেপালে অবস্থিত, যা সমগ্র পৃথিবীর পর্বতারোহীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। পর্বতশৃঙ্গ জয়ের আকর্ষণে পর্বতারোহীরা নেপালের বিভিন্ন পর্বতের বেসক্যাম্পে চলে আসে। এর ফলে বহু বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করা যায়।
- স্থাপত্য ও ভাস্কর্য – বহু প্রাচীনকাল থেকে নেপাল স্থাপত্য-ভাস্কর্য ও কারুকার্যে পৃথিবী বিখ্যাত। নেপালের কপিলাবস্তুর অট্টালিকা, পশুপতিনাথের মন্দির, গিরিমালা সুশোভিত অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় নেপালের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর পোখরা পাটন, লুম্বিনি, মুক্তিনাথ (তীর্থস্থান), পাটন-ভাটগাঁও (পুরাকীর্তি), জনকপুর, অন্নপূর্ণা, নাগারকোট, বীরগঞ্জ প্রভৃতি দর্শনীয় স্থানগুলির চোখধাঁধানো ভাস্কর্য দর্শকদের মুগ্ধ করে।
- রাজধানী হিসেবে কাঠমাণ্ডু – বাগমতী-বিষ্ণুমতী নদী তীরস্থ নেপালের রাজধানীর সুসজ্জিত নয়নাভিরাম উদ্যান, রাজপ্রাসাদ, রাজপথ, বৌদ্ধমন্দির, ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়, দক্ষিণাকালী, দরবার গৃহ, নতুন অত্যাধুনিক বাজারের টানে পর্যটকরা নেপালে ভিড় করেন।
- হোটেল ও রেস্টুরেন্ট – পর্যটকদের থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ও সর্বপ্রকার পরিষেবা দেওয়ার জন্য অসংখ্য বিভিন্ন মানের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে, যার জন্য পর্যটকরা আরো বেশি উৎসাহিত হয়।
- সরকারি আনুকূল্য – পর্যটন শিল্পের সর্বাঙ্গীন উন্নতির জন্য নেপাল সরকার অত্যন্ত আন্তরিক, তার ফলে নেপালে পর্যটন শিল্পের অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে।

ভুটানের বিভিন্ন শিল্পের বর্ণনা দাও।
ভুটানের প্রধান প্রধান শিল্পগুলি হল –
- সিমেন্ট শিল্প – উত্তোলিত ডলোমাইট ও চুনাপাথরের সাহায্যে গোমতু, পাসাখায় সিমেন্ট শিল্প গড়ে উঠেছে।
- ফল প্রক্রিয়াকরণ শিল্প – বর্তমানে ভুটানের বিভিন্ন অঞ্চলে আপেল, কমলালেবু, আনারস প্রভৃতি ফলের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এইসব ফল থেকে জ্যাম, জেলি, স্কোয়াশ, আচার তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে, যা সমগ্র পৃথিবীতে খ্যাতিলাভ করেছে। ভুটানের পারো উপত্যকা দেশে সর্বাধিক ফলসহ বিভিন্ন কৃষিজ ফসল উৎপাদন কেন্দ্র। উল্লেখ্য, ভুটানের ফুন্টশোলিং ও খামচি অঞ্চল ফল সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছে।
- বিভিন্ন প্রকার ক্ষুদ্র শিল্প ও কুটিরশিল্প – ভুটানে বেশ কয়েক ধরনের ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প গড়ে উঠেছে, যেমন – দেশলাই, বস্ত্র (সুতি, পশম, রেশম), চাদর, কম্বল, গহনা (সোনা, রূপা, ব্রোঞ্জ), কাষ্ঠশিল্প, বাঁশ, বেত, ফল প্রক্রিয়াকরণ ও বিভিন্ন প্রকার কারুশিল্প, প্রভৃতির বিকাশ ঘটেছে।
- অন্যান্য শিল্প – এ ছাড়া এখানে কাগজ, রাসায়নিক, মিশ্র ধাতু প্রস্তুত, নরম পানীয় উৎপাদন শিল্প গড়ে উঠেছে।

মায়ানমারের খনিজ সম্পদের পরিচয় দাও।
মায়ানমার খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। এদেশের মূল্যবান খনিজ সম্পদগুলি হল –
- খনিজ তেল – ইরাবতী নদীর মধ্য অববাহিকা এবং চিন্দুইন নদীর অববাহিকার অন্তর্গত ইয়েনাং-ইয়াং, মান, মিনবু, চক, ইলং, কান্নি প্রভৃতি অঞ্চলে খনিজ তেল বলয়গুলি অবস্থান করছে। কয়লা – এখানকার সাগাইং প্রদেশের কালেওয়া ও নাম্মা অঞ্চলে লিগনাইট কয়লা উত্তোলিত হয়।
- টিন – মায়ানমারের শান মালভূমির দক্ষিণে মাউচি, টেনামেরিম অঞ্চলের ট্যাভয় এবং কারাথুর অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে টিনের সঞ্চয় আছে।
- আকরিক লোহা – শান মালভূমির টোঙ্গু ও পটাগপেট অঞ্চল থেকে প্রচুর পরিমাণে আকরিক লৌহ সংগৃহীত হয়।
- সিসা ও দস্তা – শান মালভূমির বাওডাউন অঞ্চলটি সিসা ও দস্তা উত্তোলনে বিখ্যাত।
- অন্যান্য খনিজ – এ ছাড়া ইরাবতীর নিম্ন অববাহিকা অঞ্চল থেকে কয়লা, শান মালভূমি থেকে টাংস্টেন, বিভিন্ন মূল্যবান পাথর যেমন – চুনি, পদ্মরাগমণি, নীলকান্তমণি, রূপা, ম্যাঙ্গানিজ, নিকেল, তামা, জিপসাম প্রভৃতি উত্তোলিত হয়।

মায়ানমারের বনজ সম্পদের পরিচয় দাও।
মায়ানমারে অত্যধিক বৃষ্টিপাতের জন্য এদেশের প্রায় 60% ভূমি অরণ্যাবৃত, সেজন্য মায়ানমার বনজ সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এখানকার জলবায়ুর বৈচিত্র্যের জন্য এদের স্বাভাবিক উদ্ভিদের বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। সেগুলি হল –
- চিরহরিৎ বৃক্ষ – আরাকান ইয়োমা ও টেনামেরিম পর্বতের পশ্চিম ঢালে অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরসবুজ বা চিরহরিৎ বৃক্ষ জন্মায়। উদাহরণ – মেহগনি, গর্জন, চাপলাশ, পিনকোডা, ইন, পোমা, রবার, বাঁশ, বেত প্রভৃতি।
- সরলবর্গীয় বৃক্ষ – মায়ানমারের উত্তরে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের হিমশীতল আবহাওয়ার জন্য দীর্ঘ কাণ্ডযুক্ত, নরম-হালকা অথচ, টেকসই সরলবর্গীয় প্রকৃতির উদ্ভিদ জন্মায়। উদাহরণ-পাইন, ফার, শুক, রোডোডেনড্রন প্রভৃতি।
- পর্ণমোচী বৃক্ষ – মায়ানমারের উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল ও দক্ষিণের বৃষ্টিবহুল স্থান ব্যতীত অন্যান্য মাঝারি বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে পাতাঝরা বা পর্ণমোচী বৃক্ষ লক্ষ করা যায়। উদাহরণ – অর্জুন, শাল, সেগুন প্রভৃতি। উল্লেখ্য, মায়ানমারের সেগুন কাঠ বা ‘বার্মাটিক’ অত্যন্ত উচ্চ গুণমানযুক্ত হওয়ায়, এর বিশ্বব্যাপী চাহিদা ও সমাদর আছে।
- তৃণভূমি – মায়ানমারের পূর্বাংশে অপেক্ষাকৃত কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেখানে দীর্ঘ শক্ত কর্কশ জাতীয় ঢেউখেলানো সাভানা তৃণভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
- ম্যানগ্রোভ বনভূমি – মায়ানমারের সমুদ্রোপকূলবর্তী অঞ্চল ও বদ্বীপ অঞ্চলের লবণাক্ত মৃত্তিকা ও সামুদ্রিক আবহাওয়ার জন্য সেখানে ম্যানগ্রোভ জাতীয় উদ্ভিদ নারকেল, সুপারি প্রভৃতি গাছ অধিক পরিমাণে জন্মায়।
বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক শিল্পের পরিচয় দাও।
বাংলাদেশ একটি কৃষিভিত্তিক দেশ। খনিজ সম্পদ ও শক্তি সম্পদের অভাবে বাংলাদেশে খনিজভিত্তিক শিল্প তেমন গড়ে না উঠলেও এখানে কৃষিফসলের ওপর নির্ভর করে বহু শিল্প গড়ে উঠেছে। যেমন –
- পাট শিল্প – বাংলাদেশে উৎপন্ন উৎকৃষ্ট মানের পাটের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা পাট শিল্প বাংলাদেশের প্রধান শিল্প। প্রায় 40টির কাছাকাছি পাটকল ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা প্রভৃতি বিভিন্ন শহরে গড়ে উঠেছে।
- চা শিল্প – চট্টগ্রাম, সিলেট অঞ্চলে চা শিল্প গড়ে উঠেছে।
- চিনি শিল্প – দৌলতপুর, ঢাকা, রাজশাহী, যশোর অঞ্চলে গড়ে উঠেছে চিনি শিল্প।
- কার্পাস ও বস্ত্র শিল্প – ঢাকার মসলিন কাপড়, টাঙ্গাইলের তাঁত কাপড়, জামদানি প্রভৃতি বিখ্যাত বস্ত্রশিল্প গড়ে উঠেছে।
- কাগজ শিল্প – বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও শ্রীহট্ট এবং সুন্দরবন অঞ্চলের নরম কাঠ ও ঘাসের (হোগলা পাতা) সাহায্যে কাগজ শিল্পের উন্নতি ঘটেছে। কাগজ কলগুলি খুলনা, চন্দ্রকোনা, পাবনা, শ্রীহট্ট, রাঙামাটির চট্টগ্রাম ও পাকাশিতে কাগজের কল স্থাপিত হয়েছে।
- কুটিরশিল্প – বাংলাদেশ কুটিরশিল্পে খুবই উন্নত। এখানকার উল্লেখযোগ্য কৃষিভিত্তিক কুটিরশিল্পগুলি হল – মৃৎ শিল্প, বাঁশ, বেত, চিরুনি (যশোহর), শাঁখ, তাঁতবস্ত্র, দেশলাই, সিগারেট, মৎস্যশিল্প প্রভৃতি।
- অন্যান্য শিল্প – অন্যান্য কৃষিজ শিল্পগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – গমনির্ভর ময়দা শিল্প, তামাকনির্ভর কুটিরশিল্প, পশুপালন নির্ভর মাংস, দুগ্ধ শিল্প প্রভৃতি। এ ছাড়া সিমেন্ট, রাসায়নিক সার, জাহাজ মেরামতি শিল্পও এখানে গড়ে উঠেছে।

শ্রীলঙ্কার কৃষিকাজ সম্বন্ধে যা জান লেখো।
শ্রীলঙ্কার 1/5 অংশ ভূমি আবাদি হলেও অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা হল কৃষিকাজ। শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির প্রধান উৎস হল কৃষি। জাতীয় আয়ের প্রায় 20% আসে কৃষি থেকে এবং দেশের প্রায় 50% লোক কৃষির ওপর নির্ভরশীল। শ্রীলঙ্কার প্রধান প্রধান উৎপাদিত কৃষিজ ফসলগুলি হল –
- খাদ্যশস্য – শ্রীলঙ্কায় বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবং উষ্ণ-আর্দ্র জলবায়ু বিরাজ করায় বছরে দু-বার ধান চাষ করা হয়। নদী অববাহিকার সমতলভূমি, মধ্যভাগের উচ্চভূমি এবং সমুদ্র উপকূলবর্তী সমভূমিতে ধান চাষ করা হয়। শ্রীলঙ্কার অন্যান্য খাদ্যশস্যগুলি হল – ইক্ষু, ভুট্টা, মিলেট, ডাল, তৈলবীজ প্রভৃতি।
- বাগিচা ফসল – শ্রীলঙ্কার অনুকূল ভৌগোলিক বা প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য অনেক বাগিচা ফসলের চাষ ভালো হয়। যেমন – চা, কফি, রবার, নারকেল, সুপারি, সিঙ্কোনা, দারুচিনি, গোলমরিচ, লবঙ্গ, কোকো, এলাচ, জায়ফল প্রভৃতি। উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের উপকূলের বালুকামিশ্রিত ল্যাটেরাইট মৃত্তিকায় প্রচুর পরিমাণে দারুচিনি চাষ করা হয়, সেজন্য শ্রীলঙ্কাকে ‘দারুচিনি দ্বীপ’ বলা হয়।
- অন্যান্য ফসল – শ্রীলঙ্কায় উৎপাদিত অন্যান্য বিশেষ অর্থকরী ফসলগুলি হল – কার্পাস বা তুলো, কলা, শাকসবজি, তামাক (জাফনা উপদ্বীপ), ছোটো এলাচ প্রভৃতি।
উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কা পৃথিবীতে চা উৎপাদনে তৃতীয় এবং রপ্তানিতে প্রথম, রবার উৎপাদনে চতুর্থ, নারকেল উৎপাদনে তৃতীয় এবং বিভিন্ন প্রকার মশলা উৎপাদনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছে।

শ্রীলঙ্কার খনিজ সম্পদের বিবরণ দাও।
শ্রীলঙ্কা খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ নয়। কারণ-কয়লা, আকরিক লোহা, খনিজ তেলের মতো মূল্যবান খনিজ সম্পদ পাওয়া যায় না। তবে শ্রীলঙ্কার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদগুলি হল –
- গ্রাফাইট – শ্রীলঙ্কার একমাত্র মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদটি হল গ্রাফাইট। গ্রাফাইট উৎপাদনে শ্রীলঙ্কা পৃথিবীতে প্রথম স্থান অধিকার করে। শ্রীলঙ্কার মধ্যভাগের কুরুনেলগালা, বোগালা, কোলোনগাহা প্রভৃতি স্থানে উৎকৃষ্ট মানের গ্রাফাইট সঞ্চিত আছে। উল্লেখ্য, বোগালা পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রাফাইট খনি।
- মূল্যবান রত্ন – শ্রীলঙ্কায় বিভিন্ন প্রকার মূল্যবান রত্ন সঞ্চিত আছে। শ্রীলঙ্কায় উৎপাদিত মূল্যবান রত্নগুলি হল – নীলকান্তমণি, পদ্মরাগমণি, গোমেদ, বৈদুর্যমণি প্রভৃতি। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণে রত্নপুরার নিকটস্থ সবর গামুওয়া অঞ্চল এইসব রত্ন উত্তোলনে বিশ্ববিখ্যাত।
- অন্যান্য খনিজ সম্পদ – শ্রীলঙ্কায় উৎপাদিত অন্যান্য খনিজ সম্পদগুলি হল –
- চুনাপাথর (জাফনা উপদ্বীপ),
- বক্সাইট (মধ্যভাগের উচ্চভূমি),
- নিকৃষ্টমানের অভ্র (কান্ডি, বাদুল্লা জেলার পার্বত্য অঞ্চল),
- মোনাজাইট ও টাইটেনিয়াম (সমুদ্রোপকূলবর্তী অঞ্চল),
- ফেলস্পার,
- ডলোমাইট, প্রভৃতি।
পাকিস্তানের জলসেচ ব্যবস্থা ও কৃষিকাজ সম্পর্কে আলোচনা করো।
জলসেচের কারণ – পাকিস্তানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হওয়ায় সমগ্র দেশটি শুষ্ক মরুপ্রায় অঞ্চল, কিন্তু উন্নত সর্বাধুনিক জলসেচ ব্যবস্থার (খাল, বাঁধ, জলাশয়) কল্যাণে পাকিস্তান ‘পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ জলসেচ কার্যকরী দেশ’ হিসেবে খ্যাতিলাভ করেছে।
জলসেচ পদ্ধতি – পাকিস্তানে মূলত দুটি পদ্ধতিতে জলসেচ করা হয়। যথা –
- সেচখাল ও
- ক্যারেজ প্রথা (মাটির নীচে সুড়ঙ্গ কেটে কৃষিক্ষেত্রে জল সরবরাহ করা)।
- সেচখাল – পাকিস্তানে প্রায় 43টি সেচখাল আছে, যাদের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় 58 হাজার কিমি এবং যার সাহায্যে প্রায় 3.5 কোটি একর জমিতে সহজে জলসেচ করা সম্ভব হয়েছে। এ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সেচখালগুলি হল – ইরাবতীর নিম্ন বারিদোয়াব খাল, উচ্চ ও নিম্ন চন্দ্রভাগা খাল, উচ্চ ও নিম্ন বিতস্তা খাল, সিন্ধু খাল, প্রভৃতি বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
- ক্যারেজ প্রথা – পাকিস্তানের শুষ্ক অঞ্চল বালুচিস্তান প্রদেশসহ মরুপ্রায় অঞ্চলগুলিতে যাতে জল শুকিয়ে না যায়, সেজন্য মাটির নীচে কংক্রিটের সুড়ঙ্গ (ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ পথ) কেটে ‘ক্যারেজ প্রথায়’ জলসেচ করা হয়। এর ফলে জল বেশি পরিমাণে বাষ্পীভূত হতে পারে না। জলের অপচয় কম হয়। তা ছাড়া পাকিস্তানে স্থান বিশেষে পারস্যের চাকা (Persian Wheel)-র মাধ্যমেও জলসেচ করা হয়।
বাঁধ – পাকিস্তানের প্রধান নদী ও তার উপনদীগুলির (ঝিলাম, চন্দ্রভাগা, ইরাবতী, বিপাশা, শতদ্রু) ওপর অসংখ্য বাঁধ দিয়ে জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে। পাকিস্তানে জলসেচ তথা কৃষির প্রয়োজনে সিন্ধুনদের ওপর নির্মিত বাঁধগুলি হল –
- সুক্কুর বাঁধ,
- জিন্না বাঁধ,
- তারবেলা বাঁধ,
- কোটার বাঁধ,
- গুলাম-মহম্মদ বাঁধ।
ঝিলাম বা বিতস্তা নদীর ওপর মঙ্গলা, রাসুল; শতদ্রুর ওপর লেমান প্রভৃতি বাঁধ নির্মিত হয়েছে।
কৃষিকাজ – জলসেচ ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নতির জন্য পাকিস্তানের সিন্ধু উপত্যকায় ধান, গম, দীর্ঘ আঁশযুক্ত কার্পাস, ভুট্টা, ইক্ষু, তামাক, জোয়ার, বাজরা, তৈলবীজ এবং বালুচিস্তান মালভূমি ও উত্তর-পশ্চিম পার্বত্য অঞ্চলে বাদাম, আঙুর, খেজুর, পিচ, আপেল, খোবানি, বেদানা, পেস্তা, তরমুজ, আখরোট প্রভৃতি ফসলের চাষ হয়।

আমদানি ও রপ্তানি দ্রব্য বলতে কী বোঝো? ভারত থেকে প্রতিবেশী দেশগুলিতে যেসব দ্রব্য রপ্তানি করা হয় এবং প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে যেসব দ্রব্য আমদানি করা হয়, তার তালিকা তৈরি করো।
- আমদানি দ্রব্য – দেশের মানুষের চাহিদা মেটাতে প্রচুর অর্থের বিনিময়ে যে-সকল দ্রব্য অন্য কোনো দেশ থেকে আনা হয়, সেগুলিকে বলা হয় আমদানি দ্রব্য।
- রপ্তানি দ্রব্য – দেশের যে-সকল উদ্বৃত্ত দ্রব্য অন্য কোনো দেশে পাঠিয়ে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করা হয়, সেই সকল দ্রব্যকে রপ্তানি দ্রব্য বলা হয়।
| প্রতিবেশী দেশ | ভারতের রপ্তানি দ্রব্য | ভারতের আমদানি দ্রব্য |
| নেপাল | পেট্রোপণ্য, গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ, পোশাক, রাসায়নিক সার, তুলো। | কাঁচা পাট, তৈলবীজ, ডাল, চামড়া, কার্পেট। |
| ভুটান | ওষুধ, কাগজ, কয়লা, চিনি, ইস্পাত, নুন, যন্ত্রপাতি। | বড়ো এলাচ, বিভিন্ন ফল, জেলি, জ্যাম, পশম ও পশমজাত দ্রব্য। |
| বাংলাদেশ | মোটরগাড়ি, চিনি, ওষুধ, যন্ত্রপাতি, ইস্পাত, কয়লা, শস্যবীজ, ইমারতি দ্রব্য। | কাঁচা পাট, তামাক, কাগজ, সুপারি, চামড়া, প্রাকৃতিক গ্যাস, ইলিশ মাছ। |
| মায়ানমার | কয়লা, ইস্পাত, সুতিবস্ত্র, পাটজাত দ্রব্য, রাসায়নিক দ্রব্য, পরিবহণের সরঞ্জাম। | সেগুন ও শালকাঠ, টিন, রুপা, টাংস্টেন, মূল্যবান পাথর। |
| শ্রীলঙ্কা | ইস্পাত, চিনি, কয়লা, পাটজাত দ্রব্য, বস্ত্র, ওষুধ। | দারুচিনি, লবঙ্গ, গ্রাফাইট, মূল্যবান রত্ন, চামড়া, নারকেলজাত দ্রব্য। |
| পাকিস্তান | কয়লা, ইস্পাত, আকরিক লোহা, চা, ওষুধ, যন্ত্রপাতি। | উন্নত কার্পাস, শুকনো ফল, চামড়া, কার্পেট। |
আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের অষ্টম অধ্যায় ‘ভারতের প্রতিবেশী দেশসমূহ ও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক’ থেকে কিছু ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলি অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা বা চাকরির পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রায়শই পরীক্ষায় আসতে দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে।
আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা দ্রুত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া নিচের শেয়ার বাটনে ক্লিক করে পোস্টটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ!





Leave a Comment